ভারত-বাংলাদেশ গঙ্গা পানি বন্টন চুক্তির মেয়াদ এ বছরের ডিসেম্বরে শেষ হয়ে যাচ্ছে। চুক্তি নবায়নের তোড়জোড় শুরু হবে কিছু দিনের মধ্যে। তবে এবার বিহারের মতো পশ্চিমবঙ্গও ভারত সরকারের কাছে রাজ্যের স্বার্থ দেখার দাবি জানিয়েছে। চুক্তি নবায়নের প্রক্রিয়ায় যেন পশ্চিমবঙ্গের ভৌগোলিক ও অর্থনৈতিক স্বার্থ কোনওভাবেই ক্ষুণ্ন না হয়, সে বিষয়ে কেন্দ্রের দৃষ্টি আকর্ষণ করা হয়েছে। সম্প্রতি কেন্দ্রীয় পানি শক্তি মন্ত্রণালয়ের একটি অভ্যন্তরীণ কমিটির বৈঠকে পশ্চিমবঙ্গ সরকারের প্রতিনিধিরা এ বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে উত্থাপন করেছেন। বৈঠকে রাজ্যের তরফে একটি বিস্তারিত প্রতিবেদন পেশ করা হয়, যেখানে পশ্চিমবঙ্গবাসীর পানীয় জল, সেচ এবং শিল্পের জন্য ভবিষ্যৎ পানির চাহিদার খতিয়ান তুলে ধরা হয়েছে। সূত্রের খবর, পশ্চিমবঙ্গ সরকারের সংশ্লিষ্ট দফতরের এক শীর্ষ কর্মকর্তা বলেছেন, খরা মৌসুমে ফারাক্কা ব্যারেজ থেকে ভাগীরথী-হুগলি নদী ব্যবস্থায় পর্যাপ্ত পানি প্রবাহ বজায় রাখা পশ্চিমবঙ্গের জন্য অত্যন্ত জরুরি। গত কয়েক দশকে দেখা গেছে, খরা মৌশুমে ভাটিতে পানির পরিমাণ আশঙ্কাজনকভাবে কমে যায়। এর ফলে হুগলি নদীর স্বাভাবিক পরিবেশ ও নাব্যতা বজায় রাখা কঠিন হয়ে পড়ছে।
তিনি নদীতে পলি জমার সমস্যার বিষয়টি তুলে ধরেছেন। তিনি বলেছেন, নদীতে পানির স্বাভাবিক প্রবাহ বজায় না থাকায় নদীর স্বতঃস্ফূর্ত পলি নিষ্কাশন প্রক্রিয়া ব্যাহত হচ্ছে। ফলে কলকাতা বন্দরে বড় জাহাজ প্রবেশের ক্ষেত্রে প্রায়শই সমস্যা তৈরি হচ্ছে, যা আন্তর্জাতিক বাণিজ্য এবং রাজ্যের অর্থনীতির জন্য একটি বড় উদ্বেগ হয়ে দাঁড়িয়েছে। পশ্চিমবঙ্গ সরকারের তরফে কেন্দ্রকে জানানো হয়েছে, ফারাক্কা ব্যারেজের কারণে এবং অতিরিক্ত পলি জমা হওয়ার ফলে মালদা, মুর্শিদাবাদ এবং নদিয়া জেলার বিস্তীর্ণ এলাকায় প্রতি বছর নদীর তীব্র ভাঙন ও আকস্মিক বন্যার প্রবণতা উত্তরোত্তর বৃদ্ধি পাচ্ছে। নতুন কোনও জলবণ্টন চুক্তি করার আগে সেইসব বিষয়গুলি মাথায় রাখতে হবে বলে জানানো হয়েছে।
এদিকে,গঙ্গা পানি চুক্তি নবায়ন নিয়ে বিহারেও তীব্র রাজনৈতিক বিতর্ক ও প্রতিবাদ শুরু হয়েছে। বিহারের শাসকদল জেডি (ইউ) অভিয়োগ করেছে, ১৯৯৬ সালে যখন এই চুক্তি স্বাক্ষরিত হয়, তখন বিহারের বর্তমান ও ভবিষ্যৎ পানি সংকট কিংবা অর্থনৈতিক প্রয়োজনের কথা বিবেচনা করা হয়নি। বিহার সরকারের আরো অভিযোগ, ফারাক্কা ব্যারেজের কারণে গঙ্গার তলদেশে অতিরিক্ত পলি জমে নদীগর্ভ উঁচু হয়ে গেছে। এর ফলে ব্যাকওয়াটার এফেক্ট ও পানি স্তর বৃদ্ধি পেয়ে প্রতি বছর মারাত্মক বন্যা দেখা দিচ্ছে। আবার খরা মৌসুমে পর্যাপ্ত পানি না পাওয়ার ফলে সেচ ও শিল্পায়ন ব্যাহত হচ্ছে।
জেডিইউর জাতীয় কার্যকরি সভাপতি সঞ্জয় কুমার ঝা এবং বিহারের উপমুখ্যমন্ত্রী বিজয় কুমার চৌধুরী চুক্তির বর্তমান কাঠামোর তীব্র বিরোধিতা করে তারা কেন্দ্রের কাছে দাবি জানিয়েছেন যে, চুক্তি নবায়নের আগে বিহারের স্বার্থ ও উদ্বেগগুলোকে যেন গুরুত্ব সহকারে বিবেচনা করা হয়। বিহারের নেতাদের সঙ্গে এক বৈঠকে পররাষ্ট্রমন্ত্রী এস জয়শঙ্কর রাজ্যটির মতামতকে আমলে নেয়ার আশ্বাস দিয়েছেন। ফলে বাংলাদেশের সঙ্গে গঙ্গা চুক্তি নিয়ে আলোচনার আগে ভারতে দুটি রাজ্য থেকে যে ভাবে স্বার্থ রক্ষার দাবি তোলা হয়েছে তাতে দুই দেশের মধ্যে আলোচনায় জটিলতা তৈরি হওয়ার সম্ভাবনা প্রকট হতে চলেছে।
গঙ্গা পানি চুক্তি নবায়নের আগে বিহারের মতো পশ্চিমবঙ্গও স্বার্থ দেখার আর্জি জানিয়েছে
নিজস্ব প্রতিনিধি, কলকাতা
ভারত
১ ঘন্টা আগে
৩১ আগস্ট (সোমবার), ২০২৬, ১২ঃ৪২ (অপরাহ্ণ)
লিংক কপি হয়েছে!
ফন্ট সাইজ:
100%
