যুক্তরাষ্ট্রের গ্র্যান্ড ক্যানিয়নে আকস্মিক বন্যা, নিখোঁজ কমপক্ষে ২০

যুক্তরাষ্ট্রের গ্র্যান্ড ক্যানিয়নে আকস্মিক বন্যা, নিখোঁজ কমপক্ষে ২০

ফন্ট সাইজ:

যুক্তরাষ্ট্রের অ্যারিজোনা অঙ্গরাজ্যের গ্র্যান্ড ক্যানিয়ন ন্যাশনাল পার্কে আকস্মিক বন্যায় ২০ জনের বেশি মানুষ নিখোঁজ হয়েছেন। প্রবল স্রোতে বড় বড় পাথর, ধাতব কাঠামো ও নানা ধরনের ধ্বংসাবশেষ ভেসে কলোরাডো নদীতে গিয়ে পড়েছে। বন্যার ভয়াবহতার বিভিন্ন ভিডিওতে ব্যাপক ধ্বংসযজ্ঞের চিত্র দেখা গেছে। এ খবর দিয়েছে অনলাইন এনডিটিভি।

ন্যাশনাল পার্ক সার্ভিস জানিয়েছে, শনিবার দুপুরে গ্র্যান্ড ক্যানিয়নের ব্রাইট অ্যানজেল ক্যানিয়ন ও ফ্যান্টম র‌্যাঞ্চ এলাকায় আকস্মিক বন্যা আঘাত হানে। স্থানীয় কর্তৃপক্ষের সঙ্গে সমন্বয় করে ক্ষতিগ্রস্ত এলাকায় থাকা মানুষদের সরিয়ে নেয়া এবং নিখোঁজদের সন্ধান ও পরিচয় শনাক্তের কাজ চলছে। নিখোঁজ ব্যক্তি কিংবা ওই এলাকায় অবস্থান করা কোনো হাইকার সম্পর্কে তথ্য থাকলে তা জানানোর জন্যও জনসাধারণের প্রতি আহ্বান জানানো হয়েছে।

পার্ক কর্তৃপক্ষের তথ্য অনুযায়ী, স্থানীয় সময় শনিবার দুপুর আড়াইটার দিকে ব্রাইট অ্যানজেল ক্রিকে আকস্মিক বন্যা শুরু হয়। প্রবল পানির স্রোতে খালের ওপর থাকা কয়েকটি পায়ে হাঁটার সেতু ভেসে যায়। বন্যার ফলে এলাকার ভূপ্রকৃতিতেও বড় ধরনের পরিবর্তন হয়েছে। ভিডিওতে দেখা যায়, পানির প্রবল স্রোতে খালের তলদেশ আরও প্রশস্ত হয়েছে এবং সেখানে নতুন একটি জলপ্রপাত বা দ্রুতগতির স্রোতধারা তৈরি হয়েছে।

ইউটা স্টেট ইউনিভার্সিটির সেন্টার ফর কলোরাডো রিভার স্টাডিজের পরিচালক জ্যাক শ্মিট বলেন, গ্র্যান্ড ক্যানিয়নের ভূপ্রকৃতি যে কতটা পরিবর্তনশীল ও সক্রিয়, এই ঘটনা তারই একটি প্রমাণ। বন্যার সময় ব্রাইট অ্যানজেল ক্যাম্পগ্রাউন্ডে ছিলেন এরিকা ভিওলা। তিনি বার্তা সংস্থা এপি’কে জানান, শনিবার বিকেলে বৃষ্টি শুরু হওয়ার পর তিনি এবং প্রায় ৫০ জন হাইকার খালের পানির উচ্চতা দ্রুত বাড়তে দেখেন। এরপর পানির সঙ্গে বিভিন্ন ধ্বংসাবশেষ ভেসে আসতে শুরু করে। এমনকি একটি আবাসিক ভবনের মতো কাঠামোকেও পানিতে ভেসে যেতে দেখা যায়।

পরে হেলিকপ্টারে করে তাদের নিরাপদ স্থানে সরিয়ে নেয়া হয়। ফলে নির্ধারিত সময়ের দুই দিন আগেই তার গ্র্যান্ড ক্যানিয়ন ভ্রমণ শেষ করতে হয়। ন্যাশনাল ওয়েদার সার্ভিসের ফ্ল্যাগস্টাফ কার্যালয়ের আবহাওয়াবিদ জাস্টিন জনড্রো জানান, ওই পাথুরে এলাকায় মাত্র ৩০ মিনিটে প্রায় আধা ইঞ্চি থেকে ১ ইঞ্চি (১ থেকে ২.৫ সেন্টিমিটার) বৃষ্টিপাত হয়েছে। খাড়া ঢালু ভূপ্রকৃতির কারণে বৃষ্টির পানি দ্রুত নিচে নেমে যায়। তিনি জানান, গ্র্যান্ড ক্যানিয়নের উত্তর পাশে ব্রাইট অ্যানজেল ক্রিক নর্থ রিম থেকে নেমে কলোরাডো নদীতে গিয়ে মিশেছে। এ পথে পানিকে প্রায় ৬ হাজার ফুট বা ১ হাজার ৮২৮ মিটার উচ্চতা অতিক্রম করতে হয়। ফলে অল্প সময়ে বিপুল পরিমাণ পানি নিচের দিকে প্রবাহিত হয়ে আকস্মিক বন্যার সৃষ্টি করে।
রোববার সকাল পর্যন্ত ফ্যান্টম র‌্যাঞ্চ থেকে ৬২ জনকে নিরাপদে সরিয়ে নেয়া হয়েছে। ঐতিহাসিক এ স্থানে একটি ক্যান্টিন ও থাকার ব্যবস্থা রয়েছে। কলোরাডো নদীতে চলাচলকারী রাফটারদের ওঠানামার জন্য এটি একটি পরিচিত স্থান। আরও কয়েকজনকে সরিয়ে নেয়ার প্রস্তুতি চলছিল। এ পর্যন্ত বন্যায় কোনো হতাহতের খবর পাওয়া যায়নি।

তবে ন্যাশনাল পার্ক সার্ভিস সতর্ক করেছে, সোমবার পর্যন্ত আরও বজ্রঝড় ও ভারী বৃষ্টিপাত হতে পারে। এতে নতুন করে আকস্মিক বন্যা, ধস, পাথর পড়া এবং ট্রেইল ও নদীপথের পরিস্থিতিতে পরিবর্তন ঘটতে পারে। ক্ষয়ক্ষতি পর্যালোচনার জন্য রোববারও ব্রাইট অ্যানজেল ক্যাম্পগ্রাউন্ড, ফ্যান্টম র‌্যাঞ্চ এবং নর্থ কাইবাব ট্রেইলের কিছু অংশ বন্ধ রাখা হয়েছে। পরিস্থিতি স্বাভাবিক না হওয়া পর্যন্ত কলোরাডো নদীতে রাফটিং কার্যক্রমও বন্ধ রাখা হয়েছে।