নেপালে পরিচয়হীন ও বেওয়ারিশ মৃতদেহ দাফন শুরু, পরে ডিএনএ মিলিয়ে স্বজনদের কাছে হস্তান্তর

নেপালে পরিচয়হীন ও বেওয়ারিশ মৃতদেহ দাফন শুরু, পরে ডিএনএ মিলিয়ে স্বজনদের কাছে হস্তান্তর

ফন্ট সাইজ:

ভয়াবহ আকস্মিক বন্যায় উদ্ধার হওয়া পরিচয়হীন ও বেওয়ারিশ লাশ মাটিতে দাফন শুরু করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে নেপাল। মৃতদেহগুলো দ্রুত পচে যাওয়ায় দুর্গন্ধ ও সংক্রমণের ঝুঁকি বাড়ছে। এ কারণে স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞদের পরামর্শে কর্তৃপক্ষ এ সিদ্ধান্ত নিয়েছে। বুধবার সকালে পানির সঙ্গে কাদা ও ধ্বংসাবশেষের প্রবল স্রোতে নেপালের বিভিন্ন শহর ও গ্রাম তছনছ হয়। এরপর এ রিপোর্ট লেখা পর্যন্ত কমপক্ষে ৭৫০টি মৃতদেহ উদ্ধার করা হয়েছে। এর মধ্যে ভারতের সীমান্তবর্তী দক্ষিণাঞ্চলীয় জেলা চিতওয়ানেই উদ্ধার হয়েছে সবচেয়ে বেশি লাশ। এ সংখ্যা ২৩৩। এ খবর দিয়েছে অনলাইন এনডিটিভি।

এতে আরও বলা হয়, মৃতদেহ সংরক্ষণের পর্যাপ্ত জায়গা ও হাসপাতাল সুবিধা না থাকায় চিতওয়ানে পরিস্থিতি জটিল হয়ে উঠেছে। শনিবার স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞরা সতর্ক করেন, অস্থায়ীভাবে রাখা মৃতদেহগুলো দ্রুত পচে যাওয়ায় দুর্গন্ধের পাশাপাশি সংক্রমণের ঝুঁকিও বাড়তে পারে। এরপরই মৃতদেহগুলোকে শেষ বিদায় জানানোর সিদ্ধান্ত নেয় জেলা প্রশাসন। এক কর্মকর্তা বলেন, মৃতদেহের সংখ্যা বাড়তে থাকায় আমরা একটি বাড়িকে অস্থায়ী শীতলীকরণ কেন্দ্র হিসেবে ব্যবহার করে সেখানে সেগুলো রাখছিলাম। তিনি বলেন, সেই বাড়িতেও জায়গা শেষ হয়ে যাওয়ায় মৃতদেহ দাফন করা ছাড়া আমাদের আর কোনো বিকল্প নেই। তবে পরিচয়হীন মৃতদেহগুলো সমাধিস্থ করা হলেও ভবিষ্যতে যেন স্বজনদের কাছে সেগুলো শনাক্ত করে হস্তান্তর করা যায়, সে ব্যবস্থা রাখা হচ্ছে।

দাফনের আগে প্রতিটি মৃতদেহ থেকে ডিএনএ নমুনা সংগ্রহ করছেন কর্মকর্তারা। একই সঙ্গে প্রতিটি মৃতদেহকে একটি স্বতন্ত্র শনাক্তকরণ বা রেফারেন্স নম্বর দেয়া হচ্ছে এবং মৃতদেহ উদ্ধারের স্থানও নথিভুক্ত করা হচ্ছে। কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, ডিএনএ পরীক্ষায় কোনো মৃতদেহের পরিচয় শনাক্ত হলে সংশ্লিষ্ট স্বজনরা সেই মৃতদেহ উত্তোলনের সুযোগ পাবেন। শনিবার বিকেল পর্যন্ত ১০০টির বেশি মৃতদেহের ডিএনএ প্রোফাইল তৈরি করা হয়েছে। এগুলো দাফনের জন্য প্রস্তুত করা হয়েছে। পরবর্তী সময়ে সহজে মৃতদেহ উত্তোলনের সুযোগ রাখতে দাফনের জন্য প্রায় দেড় মিটার গভীর গর্ত খোঁড়া হচ্ছে। প্রতিটি মৃতদেহের মধ্যে প্রায় ৪০ সেন্টিমিটার দূরত্ব রাখা হচ্ছে, যাতে ডিএনএ পরীক্ষার মাধ্যমে শনাক্ত হওয়া নির্দিষ্ট মৃতদেহটি আলাদাভাবে উত্তোলন করা যায়।

প্রতিটি মৃতদেহ নম্বরযুক্ত ব্যাগে রাখা হচ্ছে। পাশাপাশি প্রতিটি দাফনস্থলে একটি কংক্রিটের প্ল্যাটফর্ম তৈরি করে সেখানে মৃতদেহের শনাক্তকরণ নম্বর উল্লেখ করে সাইনবোর্ড বসানো হচ্ছে। দাফন প্রক্রিয়ার ভিডিও ও ছবি সংরক্ষণের পাশাপাশি প্রতিটি কবরের অবস্থান জিও-ট্যাগ করার পরিকল্পনাও নেয়া হয়েছে। নিখোঁজ স্বজনদের খুঁজছেন এমন ব্যক্তিদের দেশের বিভিন্ন হাসপাতাল ও নির্ধারিত কেন্দ্রে ডিএনএ নমুনা দিতে হবে। পরীক্ষার ফল পাওয়ার পর নেপালের স্বাস্থ্য বিভাগ নিখোঁজ ব্যক্তির স্বজনদের ডিএনএর সঙ্গে মৃতদেহের সংরক্ষিত ডিএনএ মিলিয়ে দেখবে। ডিএনএ মিলে গেলে মৃতদেহের শনাক্তকরণ নম্বরের মাধ্যমে পুলিশ তাদের রেকর্ড থেকে সংশ্লিষ্ট মৃতদেহটি কোথায় দাফন করা হয়েছে তা শনাক্ত করবে।

এরপর মৃতদেহটি কবর থেকে উত্তোলন করে স্বজনদের কাছে হস্তান্তর করা হবে। পরিচয়হীন ও বেওয়ারিশ মৃতদেহগুলোর তথ্য একটি ওয়েবসাইটেও প্রকাশ করেছে নেপাল পুলিশ। কর্মকর্তাদের হিসাবে, নেপালে এখনো প্রায় ২ হাজার ৫০০ মানুষ নিখোঁজ রয়েছেন। তাদের মধ্যে কয়েকশ বিদেশি নাগরিকও রয়েছেন।