দেশব্যাপী ‘বাংলা কিউআর’ প্রসারে ব্র্যাক ব্যাংকের সমন্বিত উদ্যোগ

মানবজমিনের সঙ্গে একান্ত সাক্ষাৎকার

দেশব্যাপী ‘বাংলা কিউআর’ প্রসারে ব্র্যাক ব্যাংকের সমন্বিত উদ্যোগ

ফন্ট সাইজ:

‘বাংলা কিউআর’ লেনদেন নিয়ে ব্র্যাক ব্যাংক পিএলসি-এর ডেপুটি ম্যানেজিং ডিরেক্টর অ্যান্ড হেড অব রিটেইল ব্যাংকিং মো. মাহীয়ুল ইসলাম বলেছেন, ‘বাংলা কিউআর’ দিয়ে লেনদেন প্রসারে ব্র্যাক ব্যাংক সমন্বিত উদ্যোগ গ্রহণ করেছে। সম্প্রতি এক সাক্ষাৎকারের তিনি এই তথ্য জানান।

ঝুঁকি হ্রাস নিয়ে তিনি বলেন, ছেঁড়া বা জাল নোটের ভয় থাকে না এবং নগদ টাকা বহনের ঝুঁকি কমে। পাশাপাশি খুচরা টাকা না থাকার কারণে বাধ্য হয়ে গ্রাহককে ছাড় দেয়ার সমস্যা দূর হয়। এছাড়া ডিজিটাল লেনদেনের নির্ভরযোগ্য রেকর্ড তৈরি হয়, যা পর্যালোচনা করে ব্যাংকগুলো সহজেই ক্ষুদ্র ব্যবসায়ীদের ঋণ দিতে পারে।
মাহীয়ুল ইসলাম বলেন, মাসে ২৫ হাজার কোটি টাকার বেশি লেনদেন হওয়া ‘আস্থা’ অ্যাপকে আরও বেশি ‘বাংলা কিউআর’ বান্ধব করে গড়ে তোলা হচ্ছে। নতুন এসএমই অ্যাকাউন্ট খোলার ক্ষেত্রে ‘বাংলা কিউআর’ গ্রহণ বাধ্যতামূলক করা হয়েছে।

সমন্বিত পদক্ষেপ নেয়া হয়েছে উল্লেখ করে তিনি বলেন, শীর্ষ ফার্মাসিউটিক্যাল কোম্পানিগুলোর সঙ্গে চুক্তির মাধ্যমে ফার্মেসিগুলোতে কিউআর পেমেন্ট নিশ্চিত করা হচ্ছে। ব্যবসায়ীদের অ্যাকাউন্টে তাৎক্ষণিক পেমেন্ট ট্রান্সফারের সুবিধা দেয়া হচ্ছে। পাশাপাশি ডেবিট ও ক্রেডিট কার্ড দিয়ে কিউআর পেমেন্ট করলে রিওয়ার্ড পয়েন্ট দেওয়া হচ্ছে, যা দিয়ে কার্ডের বাৎসরিক ফি মওকুফ করা সম্ভব।

তবে তিনি জানান, খুচরা ব্যবসায়ীদের ডিজিটাল লেনদেনে অভ্যস্ত করা এবং লেনদেনের ফি নিয়ে ভীতি দূর করা একটি বড় চ্যালেঞ্জ। এর সমাধানে সরকারি প্রণোদনা বা ভর্তুকির পাশাপাশি ব্যাংকগুলোকেও এগিয়ে আসতে হবে। প্রান্তিক পর্যায়ে স্মার্টফোনের সহজলভ্যতা ও নিরবচ্ছিন্ন ইন্টারনেট সংযোগ নিশ্চিত করা জরুরি।

ক্যাশলেস অর্থনীতির সম্ভাবনা নিয়ে মাহীয়ুল ইসলাম বলেন, ২০২৭ সালের মধ্যে মোট লেনদেনের ৭৫ শতাংশ ক্যাশলেস করার লক্ষ্যমাত্রায় ‘বাংলা কিউআর’ সবচেয়ে বড় ভূমিকা রাখবে। এর ফলে ক্যাশের ওপর নির্ভরতা কমবে, ব্যাংকের পরিচালন ব্যয় হ্রাস পাবে এবং প্রথাগত ব্যাংকিংয়ের বাইরে থাকা অলস টাকা মূল অর্থনীতিতে যুক্ত হয়ে দেশের অর্থনীতিকে আরও গতিশীল করবে।


মো. মাহীয়ুল ইসলাম
ডেপুটি ম্যানেজিং ডিরেক্টর অ্যান্ড হেড অব রিটেইল ব্যাংকিং
ব্র্যাক ব্যাংক পিএলসি