বছরে ১ লাখ ‘বাংলা কিউআর’ মার্চেন্ট যুক্ত করার লক্ষ্য রূপালী ব্যাংকের

বছরে ১ লাখ ‘বাংলা কিউআর’ মার্চেন্ট যুক্ত করার লক্ষ্য রূপালী ব্যাংকের

ফন্ট সাইজ:

ক্যাশলেস বাংলাদেশ গড়ার পথে সর্বজনীন ডিজিটাল পেমেন্ট ব্যবস্থা ‘বাংলা কিউআর’ অত্যন্ত কার্যকর ও যুগান্তকারী ভূমিকা রাখছে বলে মন্তব্য করেছেন রূপালী ব্যাংক পিএলসি-এর ব্যবস্থাপনা পরিচালক কাজী মো. ওয়াহিদুল ইসলাম। এই সুবিধার কাঙ্ক্ষিত প্রসারে আগামী এক বছরের মধ্যে ১ লাখ নতুন মার্চেন্ট যুক্ত করার লক্ষ্য নির্ধারণ করেছে রাষ্ট্রায়ত্ত এই ব্যাংকটি।

সমপ্রতি বাংলা কিউআরের সম্ভাবনা ও চ্যালেঞ্জ নিয়ে আলাপকালে তিনি জানান, আন্তঃসংযোগ সুবিধার কারণে বাংলা কিউআরের মাধ্যমে ব্যাংক, এমএফএস ও পেমেন্ট সেবাদাতারা একই ছাতার নিচে এসেছে। এটি ক্যাশলেস অর্থনীতির প্রসার ঘটানোর পাশাপাশি দেশের আর্থিক অন্তর্ভুক্তিকে আরও ত্বরান্বিত করবে। সঠিক অঙ্কের পেমেন্ট নিয়ে তিনি বলেন, বাজারে খুচরা টাকার অভাব থাকলে গ্রাহক বা বিক্রেতাকে ১ থেকে ৫ টাকা কম-বেশি লেনদেনের ক্ষতি সইতে হয়। বাংলা কিউআর’র মাধ্যমে পণ্যের সমপরিমাণ নিখুঁত অর্থ পরিশোধ করা যায়।

ঋণ প্রাপ্তি নিয়ে তিনি বলেন, ডিজিটাল লেনদেনের মাধ্যমে প্রান্তিক ও ক্ষুদ্র ব্যবসায়ীদের একটি আনুষ্ঠানিক আর্থিক প্রোফাইল তৈরি হয়। এই ডিজিটাল ট্রানজেকশন রেকর্ড পর্যালোচনা করে ব্যাংকগুলো জামানত ছাড়াই তাদের সহজ শর্তে ঋণ দিতে পারবে। রূপালী ব্যাংক ইতিমধ্যে তাদের মোবাইল ফাইন্যান্সিয়াল সার্ভিস ‘রূপালীক্যাশ’ এবং ইন্টারনেট ব্যাংকিং অ্যাপ ‘রূপালী ইব্যাংক’-এ বাংলা কিউআর সুবিধা যুক্ত করেছে।

কাজী মো. ওয়াহিদুল ইসলাম জানান, ইতিমধ্যে ব্যাংকটির শাখা পর্যায়ে মার্চেন্ট অনবোর্ডিংয়ের কাজ অগ্রাধিকার ভিত্তিতে শুরু হয়েছে। আগামী এক বছরে ক্ষুদ্র ও মাঝারি ব্যবসায়ী, কাঁচাবাজার, ফুটপাতের দোকান, ফার্মেসি, রেস্তরাঁ ও পরিবহন খাতে ১ লাখ নতুন মার্চেন্ট যুক্ত করার মাধ্যমে বাংলা কিউআর সেবা তৃণমূল পর্যায়ে ছড়িয়ে দেয়া হবে।

ব্যবসায়ীদের জন্য সুবিধা নিয়ে তিনি বলেন, একটি কিউআর-ই যথেষ্ট: একাধিক ব্যাংক-এর আলাদা কিউআর প্রদর্শনের প্রয়োজন হবে না, ফলে পরিচালনা সহজ হবে।

বৃহত্তর গ্রাহকভিত্তি: যেকোনো অংশগ্রহণকারী ব্যাংক-এর গ্রাহক সহজেই যেকোনো কিউআর দিয়েই পেমেন্ট করতে পারবেন, ফলে বিক্রয় বাড়ার সম্ভাবনা থাকবে।

দ্রুত অর্থপ্রাপ্তি ও সহজ হিসাবরক্ষণ: ডিজিটাল লেনদেনের ফলে বিক্রির তথ্য স্বয়ংক্রিয়ভাবে সংরক্ষিত হবে, যা হিসাব ও অডিট সহজ করবে।

স্বচ্ছতা ও আনুষ্ঠানিক আর্থিক পরিচিতি: ডিজিটাল লেনদেনের ইতিহাস ব্যবসায়ীদের ব্যাংকিং সুবিধা, ঋণ গ্রহণ এবং আর্থিক পরিকল্পনায় সহায়ক হবে।

সমপরিমান অর্থ গ্রহণ: অনেক সময় খুচরা টাকা না থাকায় গ্রাহকের নিকট থেকে ১/২/৩/৪টাকা কম গ্রহণ করতে হয়। কিন্তু ইধহমষধ ছজ দিয়ে পণ্যের সমপরিমাণ অর্থ গ্রহণ করা যায়।

বাংলা কিউআর বাস্তবায়নের বর্তমান অগ্রগতি নিয়ে এমডি বলেন, বাংলা কিউআর বাস্তবায়নের কার্যক্রম বাংলাদেশ ব্যাংকের নির্দেশনা ও নির্ধারিত রোডম্যাপ অনুযায়ী অগ্রাধিকার ভিত্তিতে এগিয়ে চলছে। ইতিমধ্যে প্রয়োজনীয় প্রযুক্তিগত অবকাঠামো, সিস্টেম ইন্টিগ্রেশন এবং পরীক্ষামূলক কার্যক্রম সম্পন্ন করে গ্রাহকসেবা, মার্চেন্ট অনবোর্ডিং, সংশ্লিষ্ট জনবলকে প্রয়োজনীয় প্রশিক্ষণ প্রদান করাসহ অন্যান্য কাজ চলমান রয়েছে।

ইতিমধ্যে আমাদের গ্রাহকগণ মোবাইল ফাইন্যান্সিয়াল সার্ভিস ‘রূপালীক্যাশ’ ও ইন্টারনেট ব্যাংকিং প্ল্যাটফর্ম মোবাইল এপস ‘রূপালী ইব্যাংক’ এর মাধ্যমে বাংলা কিউআর দিয়ে পেমেন্ট করতে এবং মার্চেন্টরাও বাংলা কিউআর-এর মাধ্যমে লেনদেন করতে পারছেন।

আমাদের লক্ষ্য হলো খুব শিগগিরই দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে ধাপে ধাপে বাংলা কিউআর সেবা সমপ্রসারণের মাধ্যমে অধিকসংখ্যক গ্রাহক ও ব্যবসায়ীকে এই একীভূত ডিজিটাল পেমেন্ট ব্যবস্থার আওতায় নিয়ে আসার পাশাপাশি গ্রাহক সচেতনতা বৃদ্ধি করা।

তিনি বলেন, বাংলা কিউআরকে প্রধান ডিজিটাল পেমেন্ট মাধ্যম হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করা। এ লক্ষ্যে আমরা প্রযুক্তিগত সক্ষমতা বৃদ্ধি, মার্চেন্ট নেটওয়ার্ক সমপ্রসারণ এবং গ্রাহক সচেতনতা বৃদ্ধির ওপর বিশেষ গুরুত্ব দিচ্ছি।

প্রথমত, সারা দেশে অধিকসংখ্যক মার্চেন্ট অনবোর্ডিং করা হবে, বিশেষ করে ক্ষুদ্র ও মাঝারি ব্যবসায়ী, খুচরা দোকান, সুপারশপ, রেস্টুরেন্ট, হাসপাতাল, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান এবং পরিবহন খাতে বাংলা কিউআর-এর ব্যবহার বৃদ্ধি করা হবে।

দ্বিতীয়ত, গ্রাহকদের বাংলা কিউআর ব্যবহারে উৎসাহিত করতে বিভিন্ন সচেতনতামূলক প্রচারণা, ক্যাশব্যাক, ডিসকাউন্ট এবং অন্যান্য প্রণোদনামূলক কর্মসূচি গ্রহণ করা হবে। পাশাপাশি, সাইবার নিরাপত্তা, জালিয়াতি প্রতিরোধ, ট্রানজেকশন মনিটরিং এবং গ্রাহক সহায়তা ব্যবস্থা আরও শক্তিশালী করা হবে, যাতে ব্যবহারকারীরা সর্বোচ্চ আস্থা ও নিরাপত্তার সঙ্গে সেবা গ্রহণ করতে পারেন।

ক্ষুদ্র ও মাঝারি ব্যবসায়ী, ফুটপাথের দোকান কিংবা গ্রামীণ উদ্যোক্তাদের মধ্যে বাংলা কিউআর কতটা জনপ্রিয় করা সম্ভব বলে মনে করেন? এর জবাবে তিনি বলেন, বাংলা কিউআর ক্ষুদ্র ও মাঝারি ব্যবসায়ী, ফুটপাথের দোকান এবং গ্রামীণ উদ্যোক্তাদের মধ্যে অত্যন্ত জনপ্রিয় হওয়ার যথেষ্ট সম্ভাবনা রয়েছে। কারণ এটি একটি সহজ, স্বল্প ব্যয়সম্পন্ন একাট ডিজিটাল পেমেন্ট ব্যবস্থা। একটি মাত্র ছজ কোডের মাধ্যমে বিভিন্ন ব্যাংক ও মোবাইল ফাইন্যান্সিয়াল সার্ভিসের গ্রাহকদের কাছ থেকে পেমেন্ট গ্রহণ করা সম্ভব হবে, ফলে ব্যবসায়ীদের আলাদা আলাদা কিউআর ব্যবহারের প্রয়োজন থাকবে না।

বিশেষ করে ক্ষুদ্র ব্যবসায়ীদের জন্য এটি নগদ অর্থ ব্যবস্থাপনার ঝামেলা কমাবে, লেনদেনকে আরও নিরাপদ ও স্বচ্ছ করবে এবং বিক্রয়ের ডিজিটাল রেকর্ড সংরক্ষণে সহায়তা করবে। অন্যদিকে গ্রাহকরাও সহজে ও দ্রুত যেকোনো ব্যাংক অ্যাপ থেকে অর্থ পরিশোধ করতে পারবেন।

তবে জনপ্রিয়তা বৃদ্ধির জন্য শুধু প্রযুক্তি চালু করাই যথেষ্ট নয়। মার্চেন্ট অনবোর্ডিং সহজ করা, গ্রাহক ও ব্যবসায়ীদের সচেতনতা বৃদ্ধি, প্রয়োজনীয় প্রশিক্ষণ, নির্ভরযোগ্য ইন্টারনেট সংযোগ এবং আকর্ষণীয় প্রণোদনা (যেমন- ক্যাশব্যাক বা ডিসকাউন্ট) নিশ্চিত করা গুরুত্বপূর্ণ।

যদি বাংলাদেশ ব্যাংক এবং অন্যান্য অংশীজন সমন্বিতভাবে কাজ করে, তাহলে আগামী কয়েক বছরের মধ্যেই বাংলা কিউআর দেশের ক্ষুদ্র ব্যবসা ও গ্রামীণ অর্থনীতিতে ডিজিটাল পেমেন্টের অন্যতম প্রধান মাধ্যম হিসেবে প্রতিষ্ঠিত হতে পারবে। এটি আর্থিক অন্তর্ভুক্তি বৃদ্ধি, ক্যাশলেস লেনদেনের প্রসার এবং স্মার্ট বাংলাদেশের লক্ষ্য বাস্তবায়নে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।

নগদ টাকার ওপর নির্ভরশীলতা কমাতে বাংলা কিউআর কতটা কার্যকর ভূমিকা রাখতে পারে? এ বিষয়ে তিনি বলেন, নগদ টাকার ওপর নির্ভরশীলতা কমাতে বাংলা কিউআর অত্যন্ত কার্যকর ভূমিকা রাখতে পারে। কারণ এটি একটি আন্ত ডিজিটাল পেমেন্ট ব্যবস্থা, যেখানে একটি কিউআর কোডের মাধ্যমেই বিভিন্ন ব্যাংক ও মোবাইল ফাইন্যান্সিয়াল সার্ভিসের গ্রাহকরা সহজে লেনদেন করতে পারেন। ফলে নগদ অর্থ বহন ও লেনদেনের প্রয়োজন উল্লেখযোগ্যভাবে কমে আসবে।

বাংলা কিউআর-এর ব্যাপক ব্যবহার নিশ্চিত হলে দৈনন্দিন ছোট-বড় সব ধরনের লেনদেন যেমন দোকান, রেস্টুরেন্ট, পরিবহন, হাসপাতাল এবং ক্ষুদ্র ব্যবসায়ীদের কাছে ডিজিটালভাবে সম্পন্ন করা সম্ভব হবে। এতে লেনদেন আরও দ্রুত, নিরাপদ ও স্বচ্ছ হবে এবং নগদ অর্থ ব্যবস্থাপনার খরচ ও ঝুঁকিও কমবে। পাঠকদের প্রতি আমার আহ্বান আসুন, আমরা সবাই বাংলা কিউআর ব্যবহার করে নিরাপদ, সহজ ও ক্যাশলেস ডিজিটাল লেনদেনের সংস্কৃতি গড়ে তুলি। বাংলা কিউআর শুধু একটি নতুন পেমেন্ট পদ্ধতি নয়, এটি বাংলাদেশের ডিজিটাল অর্থনীতিকে আরও অন্তর্ভুক্তিমূলক, আধুনিক করার একটি গুরুত্বপূর্ণ উদ্যোগ।

বাংলাদেশ ব্যাংকের নেতৃত্বে এবং ব্যাংক, মোবাইল ফাইন্যান্সিয়াল সার্ভিস, পেমেন্ট সেবাদাতা ও সরকারের সম্মিলিত প্রচেষ্টায় বাংলা কিউআর দেশের ডিজিটাল পেমেন্ট ব্যবস্থায় নতুন মাত্রা যোগ করবে। আমাদের সবার সক্রিয় অংশগ্রহণই এই উদ্যোগকে সফল করবে।

তিনি বলেন, বাংলা কিউআরকে প্রধান ডিজিটাল পেমেন্ট মাধ্যম হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করা। এ লক্ষ্যে আমরা প্রযুক্তিগত সক্ষমতা বৃদ্ধি, মার্চেন্ট নেটওয়ার্ক সম্প্রসারণ এবং গ্রাহক সচেতনতা বৃদ্ধির ওপর বিশেষ গুরুত্ব দিচ্ছি।
প্রথমত, সারা দেশে অধিক সংখ্যক মার্চেন্ট অনবোর্ডিং করা হবে, বিশেষ করে ক্ষুদ্র ও মাঝারি ব্যবসায়ী, খুচরা দোকান, সুপারশপ, রেস্টুরেন্ট, হাসপাতাল, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান এবং পরিবহন খাতে বাংলা কিউআর-এর ব্যবহার বৃদ্ধি করা হবে।

দ্বিতীয়ত, গ্রাহকদের বাংলা কিউআর ব্যবহারে উৎসাহিত করতে বিভিন্ন সচেতনতামূলক প্রচারণা, ক্যাশব্যাক, ডিসকাউন্ট এবং অন্যান্য প্রণোদনামূলক কর্মসূচি গ্রহণ করা হবে। পাশাপাশি, সাইবার নিরাপত্তা, জালিয়াতি প্রতিরোধ, ট্রানজেকশন মনিটরিং এবং গ্রাহক সহায়তা ব্যবস্থা আরও শক্তিশালী করা হবে, যাতে ব্যবহারকারীরা সর্বোচ্চ আস্থা ও নিরাপত্তার সঙ্গে সেবা গ্রহণ করতে পারেন।

ক্ষুদ্র ও মাঝারি ব্যবসায়ী, ফুটপাথের দোকান কিংবা গ্রামীণ উদ্যোক্তাদের মধ্যে বাংলা কিউআর কতোটা জনপ্রিয় করা সম্ভব বলে মনে করেন? এর জবাবে তিনি বলেন, বাংলা কিউআর ক্ষুদ্র ও মাঝারি ব্যবসায়ী, ফুটপাথের দোকান এবং গ্রামীণ উদ্যোক্তাদের মধ্যে অত্যন্ত জনপ্রিয় হওয়ার যথেষ্ট সম্ভাবনা রয়েছে। কারণ এটি একটি সহজ, স্বল্প ব্যয়সম্পন্ন একটি ডিজিটাল পেমেন্ট ব্যবস্থা। একটি মাত্র ছজ কোডের মাধ্যমে বিভিন্ন ব্যাংক ও মোবাইল ফাইন্যান্সিয়াল সার্ভিসের গ্রাহকদের কাছ থেকে পেমেন্ট গ্রহণ করা সম্ভব হবে, ফলে ব্যবসায়ীদের আলাদা আলাদা কিউআর ব্যবহারের প্রয়োজন থাকবে না।

বিশেষ করে ক্ষুদ্র ব্যবসায়ীদের জন্য এটি নগদ অর্থ ব্যবস্থাপনার ঝামেলা কমাবে, লেনদেনকে আরও নিরাপদ ও স্বচ্ছ করবে এবং বিক্রয়ের ডিজিটাল রেকর্ড সংরক্ষণে সহায়তা করবে। অন্যদিকে গ্রাহকরাও সহজে ও দ্রুত যেকোনো ব্যাংক অ্যাপ থেকে অর্থ পরিশোধ করতে পারবেন। তবে জনপ্রিয়তা বৃদ্ধির জন্য শুধু প্রযুক্তি চালু করাই যথেষ্ট নয়। মার্চেন্ট অনবোর্ডিং সহজ করা, গ্রাহক ও ব্যবসায়ীদের সচেতনতা বৃদ্ধি, প্রয়োজনীয় প্রশিক্ষণ, নির্ভরযোগ্য ইন্টারনেট সংযোগ এবং আকর্ষণীয় প্রণোদনা (যেমন ক্যাশব্যাক বা ডিসকাউন্ট) নিশ্চিত করা গুরুত্বপূর্ণ।

যদি বাংলাদেশ ব্যাংক এবং অন্যান্য অংশীজন সমন্বিতভাবে কাজ করে, তাহলে আগামী কয়েক বছরের মধ্যেই বাংলা কিউআর দেশের ক্ষুদ্র ব্যবসা ও গ্রামীণ অর্থনীতিতে ডিজিটাল পেমেন্টের অন্যতম প্রধান মাধ্যম হিসেবে প্রতিষ্ঠিত হতে পারবে। এটি আর্থিক অন্তর্ভুক্তি বৃদ্ধি, ক্যাশলেস লেনদেনের প্রসার এবং স্মার্ট বাংলাদেশের লক্ষ্য বাস্তবায়নে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।

নগদ টাকার ওপর নির্ভরশীলতা কমাতে বাংলা কিউআর কতোটা কার্যকর ভূমিকা রাখতে পারে? এ বিষয়ে তিনি বলেন, নগদ টাকার ওপর নির্ভরশীলতা কমাতে বাংলা কিউআর অত্যন্ত কার্যকর ভূমিকা রাখতে পারে। কারণ এটি একটি আন্তঃডিজিটাল পেমেন্ট ব্যবস্থা, যেখানে একটি কিউআর কোডের মাধ্যমেই বিভিন্ন ব্যাংক ও মোবাইল ফাইন্যান্সিয়াল সার্ভিসের গ্রাহকরা সহজে লেনদেন করতে পারেন। ফলে নগদ অর্থ বহন ও লেনদেনের প্রয়োজন উল্লেখযোগ্যভাবে কমে আসবে।

বাংলা কিউআর-এর ব্যাপক ব্যবহার নিশ্চিত হলে দৈনন্দিন ছোট-বড় সব ধরনের লেনদেন যেমন দোকান, রেস্টুরেন্ট, পরিবহন, হাসপাতাল এবং ক্ষুদ্র ব্যবসায়ীদের কাছে ডিজিটালভাবে সম্পন্ন করা সম্ভব হবে। এতে লেনদেন আরও দ্রুত, নিরাপদ ও স্বচ্ছ হবে এবং নগদ অর্থ ব্যবস্থাপনার খরচ ও ঝুঁকিও কমবে। পাঠকদের প্রতি আমার আহ্বান আসুন, আমরা সবাই বাংলা কিউআর ব্যবহার করে নিরাপদ, সহজ ও ক্যাশলেস ডিজিটাল লেনদেনের সংস্কৃতি গড়ে তুলি। বাংলা কিউআর শুধু একটি নতুন পেমেন্ট পদ্ধতি নয়, এটি বাংলাদেশের ডিজিটাল অর্থনীতিকে আরও অন্তর্ভুক্তিমূলক, আধুনিক করার একটি গুরুত্বপূর্ণ উদ্যোগ।

বাংলাদেশ ব্যাংকের নেতৃত্বে এবং ব্যাংক, মোবাইল ফাইন্যান্সিয়াল সার্ভিস, পেমেন্ট সেবাদাতা ও সরকারের সম্মিলিত প্রচেষ্টায় বাংলা কিউআর দেশের ডিজিটাল পেমেন্ট ব্যবস্থায় নতুন মাত্রা যোগ করবে। আমাদের সবার সক্রিয় অংশগ্রহণই এই উদ্যোগকে সফল করবে।


কাজী মো. ওয়াহিদুল ইসলাম
ব্যবস্থাপনা পরিচালক
রূপালী ব্যাংক