সুনামগঞ্জের মধ্যনগর উপজেলার মধ্যনগর ইউনিয়ন ভূমি অফিসের উপসহকারী ভূমি কর্মকর্তা গোলাম সারোয়ারের বিরুদ্ধে নামজারি করে দেয়ার বিনিময়ে ৫০ হাজার টাকা ঘুষ দাবির অভিযোগ উঠেছে। টাকা দিতে রাজি না হওয়ায় নামজারি আবেদনে নেতিবাচক প্রতিবেদন দেওয়া, আবেদন নামঞ্জুর এবং এর পরদিনই ভূমি হোল্ডিং আবেদন বাতিলের অভিযোগ করেছেন চামারদানী ইউনিয়নের সুলেমানপুর গ্রামের কৃষিজীবী বিশ্বজিৎ সরকার।
এ ঘটনায় ধর্মপাশা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার কাছে লিখিত অভিযোগ দিয়ে নিরপেক্ষ তদন্ত ও আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানিয়েছেন তিনি। তবে ঘুষ দাবির অভিযোগ অস্বীকার করেছেন অভিযুক্ত কর্মকর্তা গোলাম সারোয়ার। অভিযোগ প্রমাণ করতে না পারলে অভিযোগকারীর বিরুদ্ধে মানহানি মামলা করার কথাও জানিয়েছেন তিনি।
অভিযোগপত্র সূত্রে জানা যায়, গত ১লা আগস্ট তিনটি ক্রয় দলিল ও সহোদর ভাইদের সঙ্গে সম্পাদিত বণ্টননামা দলিলের মাধ্যমে পাওয়া মোট ২৭৫ শতাংশ জমি নিজ নামে নামজারির জন্য সহকারী কমিশনার (ভূমি), ধর্মপাশা বরাবর আবেদন করেন বিশ্বজিৎ সরকার। আবেদনের নম্বর ৪২৩৯৮৩৮। তদন্তের জন্য আবেদনটি গোলাম সারোয়ারের কাছে পাঠানো হয়।
বিশ্বজিৎ সরকারের অভিযোগ, তদন্তের বিষয়ে গোলাম সারোয়ার মোবাইল ফোনে একাধিকবার যোগাযোগ করে তাকে অফিসে ও অফিসের সামনের রাস্তায় দেখা করতে বলেন। পরে সাক্ষাৎকালে নামজারি করে দেওয়ার বিনিময়ে ৫০ হাজার টাকা দাবি করা হয়। তিনি টাকা দিতে পারবেন না জানিয়ে কম টাকা দেয়ার প্রস্তাব দিলেও কর্মকর্তা রাজি হননি। টাকা না দিলে নেতিবাচক প্রতিবেদন দেওয়া হবে বলেও জানানো হয় বলে অভিযোগে উল্লেখ করা হয়েছে।
অভিযোগকারীর দাবি, টাকা না দেয়ায় নামজারি আবেদনে নেতিবাচক প্রতিবেদন দেয়া হয় এবং ১৭ই আগস্ট আবেদনটি নামঞ্জুর হয়। পরে যোগাযোগ করলে তাকে বলা হয়, “টাকা ছাড়া নামজারি হবে না।”
অভিযোগ অস্বীকার করে গোলাম সারোয়ার বলেন, ঘুষ দাবির তথ্য মিথ্যা। ওই ব্যক্তি যদি প্রমাণ করতে না পারে, আমি তার বিরুদ্ধে মানহানি মামলা করব।”
একই বণ্টননামায় ভাইয়ের নামজারি নিয়ে প্রশ্ন
বিশ্বজিৎ সরকারের অভিযোগ, ভূমি উন্নয়ন কর পরিশোধ না করার বিষয়টি দেখিয়ে তার নামজারি সম্ভব নয় বলা হলেও একই বণ্টননামার ভিত্তিতে তার এক ভাইয়ের অংশ ইতোমধ্যে নামজারি হয়েছে এবং পরে তা হস্তান্তরও করা হয়েছে।
এ বিষয়ে গোলাম সারোয়ার বলেন, “বাটোয়ারা দলিলটি সম্প্রতি হওয়ায় আমি ধরে নিয়েছিলাম উক্ত জায়গার খাজনা পরিশোধ করা হয়েছে এবং সরলমনে তা মঞ্জুর করে ভুল করে ফেলেছি।”
বাদশাগঞ্জ সাব-রেজিস্ট্রার পলাশ তালুকদার জানান, সম্পত্তি হস্তান্তর আইন, ১৮৮২ অনুযায়ী বণ্টননামা হস্তান্তর দলিল নয়। তাই বণ্টননামা দলিল সম্পাদনের ক্ষেত্রে ভূমি উন্নয়ন করের রশিদ বাধ্যতামূলক নয়। ভূমি উন্নয়ন কর আইন, ২০২৩-এর ৬(২) ও ৬(৩) ধারার বিষয়টিও তিনি উল্লেখ করেন।
পরদিনই হোল্ডিং আবেদন বাতিল
১৭ আগস্ট নিজের নামীয় বি.আর.এস. খতিয়ান নম্বর-১২০-এর জমির ভূমি উন্নয়ন কর পরিশোধের জন্য হোল্ডিং অনুমোদনের আবেদন করেন বিশ্বজিৎ। অভিযোগ অনুযায়ী, পরদিন ১৮ আগস্ট আবেদনটি বাতিল করা হয়। নামজারি নিয়ে বিরোধের পরপরই হোল্ডিং আবেদন বাতিল হওয়ায় বিষয়টি তদন্তের দাবি জানিয়েছেন তিনি।
এদিকে একই এলাকার মেহেদী হাসান মুকুট (৩৮) খারিজের বিষয়ে তাকে ভয়ভীতি প্রদর্শনের অভিযোগ করেছেন। তার দাবি, তাকে “গাছের সঙ্গে বেঁধে পেটাবে” বলে হুমকি দেওয়া হয়েছে। তবে এ অভিযোগও অস্বীকার করেছেন গোলাম সারোয়ার।
অভিযোগকারী নামজারি আবেদন, তদন্ত প্রতিবেদন, হোল্ডিং আবেদন, খতিয়ান, জমাবন্দি, দলিল, ভাইয়ের নামজারি ও ভূমি উন্নয়ন করের রেকর্ডসহ সংশ্লিষ্ট নথি যাচাই এবং প্রয়োজনে মোবাইল যোগাযোগের তথ্য ও সরকারি দাখিলা নিরীক্ষার দাবি জানিয়েছেন।
অভিযোগগুলোর সত্যতা এখনো তদন্তে প্রমাণিত হয়নি। এ বিষয়ে ধর্মপাশা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা জনি রায় বলেন, “অভিযোগের বিষয় খতিয়ে দেখে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”
