মাদ্রাসা শিক্ষার্থীদের কর্মসংস্থান নিশ্চিত করা, দক্ষতা উন্নয়ন এবং দেশে-বিদেশে কর্মক্ষেত্র তৈরির লক্ষ্যে মাদ্রাসা শিক্ষার কারিকুলাম যুগোপযোগী ও কর্মবাজারমুখী করার উদ্যোগ নেয়া হয়েছে বলে জানিয়েছেন বাংলাদেশ বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরী কমিশনের (ইউজিসি) সদস্য অধ্যাপক ড. আব্দুল্লাহ-আল-মামুন।
এ বিষয়ে চলতি মাসের মধ্যেই একটি কর্মপরিকল্পনা চূড়ান্ত করে বাস্তবায়নের ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে বলে তিনি জানান। সোমবার মাদ্রাসা শিক্ষার গুণগত মানোন্নয়ন ও কর্মসংস্থান নিয়ে ইসলামি আরবি বিশ্ববিদ্যালয়ের উদ্যোগে ‘মাদ্রাসায় উচ্চশিক্ষার গুণগত মানোন্নয়ন ও কর্মসংস্থান’ শীর্ষক কর্মশালা প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ কথা বলেন।
ইউজিসি’র পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয় ম্যানেজমেন্ট বিভাগের দায়িত্বপ্রাপ্ত সদস্য অধ্যাপক মামুন বলেন, মাদ্রাসা শিক্ষার্থীদের জন্য সরকারের নেয়া বিভিন্ন পদক্ষেপের অন্যতম লক্ষ্য হচ্ছে কারিকুলামকে কর্মবাজারমুখী করা, কর্মসংস্থান নিশ্চিত করা এবং শিক্ষার্থীদের দক্ষতা উন্নয়ন করা। এর মাধ্যমে দেশের পাশাপাশি বিদেশেও মাদ্রাসা শিক্ষার্থীদের কর্মক্ষেত্র তৈরির সুযোগ সৃষ্টি করতে চায় সরকার।
ড. মামুন বলেন, সরকারের উন্নয়ন ভাবনার বড় একটি অংশজুড়ে মাদ্রাসা শিক্ষার্থীরা রয়েছে। আগের সরকার অবকাঠামোগত উন্নয়নে গুরুত্ব দিয়েছে। বর্তমান সরকার মানবসম্পদ উন্নয়নে গুরুত্ব দিচ্ছে। মাদ্রাসা শিক্ষার্থীদের উন্নয়ন ও তাদের ভাগ্য পরিবর্তন করা সরকারের নির্বাচনী প্রতিশ্রুতির অংশ।
তিনি বলেন, অন্যান্য শিক্ষা ধারার শিক্ষার্থীদের সঙ্গে মাদ্রাসা শিক্ষার্থীদের যে ধরনের দক্ষতা ও সুযোগের ব্যবধান তৈরি হয়েছে, তা কমিয়ে আনতে চায় সরকার। মাদ্রাসা শিক্ষার্থীদের দক্ষতা উন্নয়ন ও কর্মসংস্থানের সুযোগ তৈরির মাধ্যমে তাদের জাতি গঠন ও অর্থনৈতিক উন্নয়নে ভূমিকা রাখার সুযোগ তৈরি করাই এ উদ্যোগের অন্যতম লক্ষ্য।
কারিকুলাম যুগোপযোগী করার ক্ষেত্রে ‘বটম-আপ অ্যাপ্রোচ’ নেয়া হয়েছে জানিয়ে ইউজিসির এই সদস্য বলেন, ওপর থেকে সিদ্ধান্ত না নিয়ে মাদ্রাসার শিক্ষক ও শিক্ষার্থীদের সঙ্গে নিয়ে কারিকুলাম প্রণয়নের উদ্যোগ নেয়া হয়েছে।
তিনি বলেন, আলোচনার ভিত্তিতে চলতি মাসের মধ্যেই একটি কর্মপরিকল্পনা চূড়ান্ত করা হবে। পরে তা শিক্ষা মন্ত্রণালয় ও প্রধানমন্ত্রীর কাছে উপস্থাপন করা হবে।
কর্মশালায় মাদ্রাসা শিক্ষার্থীদের তৃতীয় ভাষা শেখার সুযোগ এবং ইউজিসির উদ্যোগে দক্ষতা উন্নয়ন প্রশিক্ষণ কর্মসূচিতে তাদের যুক্ত করার বিষয়েও আলোচনা করা হয়।
এ ছাড়া সরকারের বিভিন্ন সুযোগ-সুবিধা মাদ্রাসা শিক্ষার্থীরা কীভাবে কাজে লাগাতে পারেন, সে বিষয়েও আলোচনা হয়। শিক্ষার্থীদের উদ্যোক্তা হিসেবে গড়ে তোলা, স্টার্টআপসহ বিভিন্ন সুযোগ কাজে লাগানো এবং দেশে ও বিদেশে কর্মসংস্থানের সুযোগ তৈরির বিষয়গুলো কর্মশালার আলোচনায় গুরুত্ব পায়।
এতে সভাপতিত্ব করেন ইসলামি আরবি বিশ্ববিদ্যালয়ের ভাইস চ্যান্সেলর অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ আবু জাফর খান। বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য দেন বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রো-ভিসি (একাডেমিক) অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ শহীদুল ইসলাম, প্রো-ভিসি (প্রশাসন) অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ ইলিয়াস ছিদ্দিকী এবং কোষাধ্যক্ষ শাহীনুল ইসলাম। কর্মশালায় ৩০০ জন শিক্ষক-শিক্ষার্থী অংশগ্রহণ করেন।
