প্রেসিডেন্টের সঙ্গে প্রধান বিচারপতি ও সৌদি রাষ্ট্রদূতের সাক্ষাৎ

ফন্ট সাইজ:

প্রেসিডেন্ট মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরের সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাৎ করেছেন প্রধান বিচারপতি জুবায়ের রহমান চৌধুরী ও ঢাকায় নিযুক্ত সৌদি আরবের রাষ্ট্রদূত ড. আব্দুল্লাহ জাফর এইচ বিন আবিয়া। সোমবার বঙ্গভবনে প্রেসিডেন্টের সঙ্গে পৃথক এ সাক্ষাৎ অনুষ্ঠিত হয় বলে জানিয়েছেন প্রেস সচিব মো. সরওয়ার আলম। গতকাল বিকালে প্রেসিডেন্টের সঙ্গে সাক্ষাৎ করেন প্রধান বিচারপতি। এ সময় তিনি মির্জা ফখরুল ইসলামকে প্রেসিডেন্ট হিসেবে দায়িত্ব গ্রহণ করায় আন্তরিক অভিনন্দন জানান।

সাক্ষাতে তিনি সুপ্রিম কোর্টের বিভিন্ন কার্যক্রম, আদালত পরিচালনার বিষয়াদি ও বিদ্যমান চ্যালেঞ্জ সম্পর্কে প্রেসিডেন্টকে অবহিত করেন। প্রধান বিচারপতি এ সময় প্রেসিডেন্টের কাছে অতিরিক্ত মামলা জট, প্রয়োজনীয় দক্ষ জনবলের ঘাটতি ও কাঠামোগত সংকটসহ বিচারাঙ্গনে বিদ্যমান বিভিন্ন সমস্যা তুলে ধরেন এবং এ বিষয়ে প্রেসিডেন্টের সহযোগিতা কামনা করেন। তিনি বলেন, প্রতিদিন যে পরিমাণ মামলা নিষ্পত্তি হচ্ছে, তার চেয়েও বেশি মামলা দায়ের হচ্ছে। ফলে মামলার জট নিরসন প্রায় অসম্ভব হয়ে পড়ছে।
এসময় প্রেসিডেন্ট মামলার জট নিরসনে সালিশি নিষ্পত্তি ও গ্রাম আদালত ব্যবস্থার আরও প্রসার এবং কার্যকর করার ওপর গুরুত্ব আরোপ করেন। তিনি বিদ্যমান অন্যান্য সমস্যা সমাধানে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেয়ারও আশ্বাস দেন। এসময় প্রেসিডেন্টের সচিব, সামরিক সচিব ও প্রেস সচিব উপস্থিত ছিলেন।
এর আগে দুপুরে প্রেসিডেন্ট মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরের সঙ্গে সাক্ষাৎ করেন ঢাকায় নিযুক্ত সৌদি আরবের রাষ্ট্রদূত ড. আব্দুল্লাহ জাফর এইচ বিন আবিয়া। সাক্ষাতে রাষ্ট্রদূত সৌদি বাদশাহ সালমান বিন আব্দুল আজিজ ও ক্রাউন প্রিন্স মোহাম্মাদ বিন সালমানের পক্ষ থেকে মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরকে প্রেসিডেন্ট হিসেবে দায়িত্ব গ্রহণের জন্য অভিনন্দন জানান।

সৌদি রাষ্ট্রদূতকে স্বাগত জানিয়ে প্রেসিডেন্ট বর্তমান বৈশ্বিক জ্বালানি সংকট পরিস্থিতিতে দেশটিকে বাংলাদেশের পাশে থেকে সহযোগিতার আহ্বান জানান। একইসঙ্গে তিনি দু’দেশের সরকারি ও বেসরকারি পর্যায়ে বাণিজ্য ও বিনিয়োগ বাড়ানোর ওপরও গুরুত্ব আরোপ করেন।

এ সময় প্রেসিডেন্ট বাংলাদেশি হজযাত্রীদের সফর আরও সুগম এবং হাজীদের কষ্ট লাঘবের জন্য, বিশেষ করে মিনায় গোসলখানা ও শৌচাগার সুবিধা উন্নয়নের আহ্বান জানান। এ বিষয়ে সৌদি রাষ্ট্রদূত যথাযথ ব্যবস্থা নেয়ার আশ্বাস দেন।
সৌদি আরবে ৩৫ লাখেরও বেশি বাংলাদেশি শ্রমিক কাজ করছেন উল্লেখ করে প্রেসিডেন্ট দেশটির প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন। একইসঙ্গে তিনি ভবিষ্যতেও বাংলাদেশ থেকে অগ্রাধিকার ভিত্তিতে জনশক্তি নেয়ারও আহ্বান জানান। এসময় প্রেসিডেন্ট সৌদি রাষ্ট্রদূতের মাধ্যমে সৌদি বাদশাহ সালমান বিন আব্দুল আজিজ ও ক্রাউন প্রিন্স মোহাম্মাদ বিন সালমানকে সুবিধাজনক সময়ে বাংলাদেশ সফরের আমন্ত্রণ জানান।
সাক্ষাতে প্রেসিডেন্ট সৌদি আরবের সঙ্গে বাংলাদেশের সম্পর্ক অত্যন্ত চমৎকার উল্লেখ করে দ্বিপক্ষীয় সম্পর্ক ও সহযোগিতা আরও জোরদারের ওপর গুরুত্ব আরোপ করেন। মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর সৌদি বাদশাহ ও ক্রাউন প্রিন্সের নেতৃত্বের প্রশংসা করে মুসলিম উম্মাহ’র কল্যাণে তাদের নেতৃত্বের জন্য শুভেচ্ছা জানান এবং সৌদি আরবের প্রতি সংহতি প্রকাশ করেন।
এসময় সৌদি রাষ্ট্রদূত জ্বালানি, সহায়তা ও বিনিয়োগ অব্যাহত রাখার আশ্বাস দেন। উল্লেখ্য, মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর প্রেসিডেন্ট হিসেবে দায়িত্ব গ্রহণের পর এটিই প্রথম কোনো বিদেশি কূটনীতিকের সঙ্গে সাক্ষাৎ।
এ সময় প্রেসিডেন্টের সচিব, সামরিক সচিব, প্রেস সচিব এবং পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের ঊর্ধ্বতন সরকারি কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।