ভারতের সঙ্গে নতুন সম্পর্কের আগে পুরনো হিসাব চায় ১১ দল

ফন্ট সাইজ:

ভারতের সঙ্গে নতুন সম্পর্কের আগে পুরনো সব বিষয়ের হিসাব চায় জামায়াতের নেতৃত্বাধীন ১১ দলীয় ঐক্য। পার্শ্ববর্তী এই দেশের সঙ্গে সম্পর্কের নতুন সমীকরণ নির্ধারণে বিদ্যমান অমীমাংসিত বিষয়গুলোর সুরাহা করার দাবি তাদের। বিশেষ করে আওয়ামী লীগকে দিল্লিতে রাজনৈতিক কর্মকাণ্ডের সুযোগ দেয়া, শেখ হাসিনার বিচার ও প্রত্যর্পণ, সীমান্ত হত্যা, নদীর পানি বণ্টন এবং পুশ-ইনসহ বিভিন্ন ইস্যুতে ভারতের সঙ্গে খোলামেলা আলোচনা করে নতুন পররাষ্ট্রনীতি প্রণয়নের দাবি জানিয়েছে জোটটি।

১১ দলীয় ঐক্যের নেতারা জানিয়েছেন, ভারত সফর নিয়ে সরকার জনগণকে কোনো সুস্পষ্ট বার্তা দিতে পারছে না। গত ৫ই আগস্ট দিল্লিতে আওয়ামী লীগকে প্রেস ব্রিফিং করার সুযোগ দেয়া হলেও এ বিষয়ে ভারত সরকারকে যথাযথ জবাবদিহির আওতায় আনতে সরকার ব্যর্থ হয়েছে। আওয়ামী লীগকে বাদ দিয়ে বাংলাদেশের সঙ্গে ভারতের সম্পর্কের নতুন কাঠামো তৈরি করতে হবে।

সূত্র জানায়, কোনো দেশের সঙ্গে বৈরিতা না। তবে মর্যাদা ও সমতার ভিত্তিতে সম্পর্ক হতে হবে। ভারত বাংলাদেশের প্রতিবেশী ও গুরুত্বপূর্ণ রাষ্ট্র। দুই দেশের স্বার্থসংশ্লিষ্ট বিষয়গুলো নিয়ে তাই খোলামেলা আলোচনা প্রয়োজন। এ ছাড়াও গঙ্গা চুক্তি, অন্যান্য নদীর পানি বণ্টন, সীমান্ত হত্যা ও পুশ-ইনসহ দীর্ঘদিনের অমীমাংসিত বিষয়গুলো সামনে এনে। এসব বিষয়কে অগ্রাধিকার দিয়ে আলোচনা করতে হবে ও পররাষ্ট্রনীতি প্রণয়ন করতে হবে।
গত রোববার ১১ দলের বৈঠক শেষে এনসিপি আহ্বায়ক নাহিদ বলেছেন, আওয়ামী লীগের বিষয়ে সুরাহা, শেখ হাসিনার বিচার এবং ওসমান হাদি হত্যাকাণ্ডের বিচার নিশ্চিত না হওয়া পর্যন্ত প্রধানমন্ত্রীর ভারত সফর জাতির জন্য কল্যাণকর হবে না।

জোটের পক্ষ থেকে বলা হয়, সরকারের পররাষ্ট্রনীতিতেও দৃশ্যমান আত্মবিশ্বাসের ঘাটতি রয়েছে। তাই ভারতের সঙ্গে সম্পর্কের ক্ষেত্রে অতীতের ধারাবাহিকতা অনুসরণ না করে নতুন বাস্তবতায় বাংলাদেশের জাতীয় স্বার্থ, সার্বভৌমত্ব ও সমতার ভিত্তিতে সম্পর্ক পুনর্নির্ধারণ করতে হবে।

গতকাল দুপুরে এনসিপি’র অস্থায়ী কার্যালয়ে এক সংবাদ সম্মেলনে বিএনপি সরকারের ১৮০ দিনের ব্যর্থতা তুলে ধরে নাহিদ ইসলাম বলেন, আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের রায়ে মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত শেখ হাসিনা গত ৫ই আগস্ট দিল্লিতে যে সংবাদ সম্মেলন করেছেন, সেটি ভারত সরকারের সহযোগিতা বা মদত ছাড়া সম্ভব ছিল না।
তিনি বলেন, আওয়ামী লীগকে কার্যক্রম করতে দেয়া, আবার একইসঙ্গে বাংলাদেশের সঙ্গে কূটনৈতিক সম্পর্ক স্থাপন রাখাÑ এটা আসলে সম্ভব নয়। এটা সাংঘর্ষিক ও দ্বিচারিতা।
ভারতের বিষয়ে বিরোধীদলীয় চিফ হুইপ বলেন, আওয়ামী লীগের কার্যক্রম পরিচালনা করতে দেবে না দিল্লি, শেখ হাসিনাকে সেখানে রাখবে না, বাংলাদেশের বিচারব্যবস্থা ও গণতন্ত্রের প্রতি ভারত সরকার শ্রদ্ধাশীল হবে, ওসমান হাদির খুনিদের ফেরত দেয়া হবেÑ এসব বিষয়ে নিশ্চয়তা পেলেই বিগত ১৫ বছরে ভারত-বাংলাদেশ সম্পর্ক নতুনভাবে পুনর্মূল্যায়ন করে নতুন সম্পর্ক স্থাপন করতে হবে।
এনসিপি আহ্বায়ক বলেন, এসব বিষয় শুরু হওয়ার আগে যেখানে শেখ হাসিনা রয়েছেন, সেই দিল্লিতে যদি আবার তারেক রহমান যান, তাহলে এটার অর্থ আসলে কী দাঁড়াবে? বাংলাদেশের জনগণ বা বিশ্ববাসী কীভাবে দেখবে? আমরা মনে করি, এটা শুধু তারেক রহমানের বিষয় নয়, বাংলাদেশের জন্য এটা একটা অবমাননাকর ঘটনা হবে। বাংলাদেশ যে স্বাধীনভাবে পররাষ্ট্রনীতি বা সার্বভৌমত্বের জায়গায় মাথা উঁচু করে দাঁড়াতে পারছে নাÑ এটাই বার্তা যাবে।