৩১ দফা, ইশতেহার, সংস্কার—কোনো ছকে নেই মন্ত্রিসভা

সহযোগীদের খবর

৩১ দফা, ইশতেহার, সংস্কার—কোনো ছকে নেই মন্ত্রিসভা

ফন্ট সাইজ:

সমকাল

দৈনিক সমকালের প্রধান শিরোনাম ‘৩১ দফা, ইশতেহার, সংস্কার—কোনো ছকে নেই মন্ত্রিসভা’। প্রতিবেদনে বলা হয়, বিএনপি এতদিন ছোট ও কার্যকর একটি মন্ত্রিসভা গঠনের কথা বলছিল। কিন্তু সরকার গঠনের ছয় মাসের মাথায় মন্ত্রিসভার আকার হয়ে উঠল দেশের দ্বিতীয় বৃহত্তম। ফলে বিএনপির ৩১ দফা অনুযায়ী ক্ষমতার ভারসাম্য এবং নির্বাচনী ইশতেহার অনুযায়ী মেধা ও যোগ্যতাকে অগ্রাধিকার দেওয়া বিষয়টিও গুরুত্ব পেয়েছে বলে মনে করেন না বিশ্লেষকরা। আর অন্তর্বর্তী সরকারের সময় গঠিত জনপ্রশাসন সংস্কার কমিশনের সুপারিশ গৌণই রয়ে গেছে।

জনপ্রশাসন বিশেষজ্ঞদের মতে, মন্ত্রিসভার আকার বড় হলে সিদ্ধান্ত গ্রহণে সমন্বয়হীনতা দেখা দেয়। আবার একাধিক বড় মন্ত্রণালয়ের দায়িত্ব একজন মন্ত্রীর ওপর দিলে কার্যকর নজরদারি সম্ভব হয় না। বিপরীতে ছোট মন্ত্রণালয়ে মন্ত্রী, প্রতিমন্ত্রী ও উপদেষ্টা দায়িত্বে থাকলে সমন্বয়ের অভাব হয় এবং কাজ পিছিয়ে যায়। এতে সময় ও অর্থের অপচয় হয়।

রাষ্ট্র পরিচালনায় দক্ষতা ও জবাবদিহি নিশ্চিত করতে মন্ত্রিসভার আকার ২০ থেকে ২২ মন্ত্রী এবং আট থেকে ১০ প্রতিমন্ত্রীর মধ্যে রাখা যৌক্তিক মনে করে অনেকে।

ছোট মন্ত্রণালয়ে মন্ত্রী, প্রতিমন্ত্রী ও উপদেষ্টা

ধর্ম, মুক্তিযুদ্ধ, পার্বত্য চট্টগ্রাম, দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণ, বস্ত্র ও পাট, মৎস্য ও প্রাণিসম্পদের মতো ছোট মন্ত্রণালয়ের দায়িত্বে আছেন একজন করে মন্ত্রী ও প্রতিমন্ত্রী। প্রাথমিক ও গণশিক্ষা; সংস্কৃতি, প্রবাসীকল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান, তথ্য ও সম্প্রচারের মতো মন্ত্রণালয়ে মন্ত্রী, প্রতিমন্ত্রী ও উপদেষ্টা দায়িত্ব পেয়েছেন। এর মধ্যে প্রাথমিক ও গণশিক্ষা, সংস্কৃতি, ধর্ম, মুক্তিযুদ্ধ, পার্বত্য চট্টগ্রাম এবং দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণ মন্ত্রণালয়ে অতীতে শুধু একজন মন্ত্রী বা প্রতিমন্ত্রী দায়িত্ব পালন করেছেন। ছোট মন্ত্রণালয়ে মন্ত্রী, প্রতিমন্ত্রী ও উপদেষ্টা দায়িত্বে থাকায় নিজেদের মধ্যে সমন্বয়হীনতার অভিযোগ আস্তে আস্তে সামনে আসছে।

এবার পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে প্রতিমন্ত্রী হয়েছেন দুজন। পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী শামা ওবায়েদ ইসলাম গত শনিবার রাজধানীর একটি হোটেলে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে বলেছেন, মন্ত্রণালয়ের কাজের পরিধি, ব্যস্ততা এবং গতি আগের যে কোনো সময়ের চেয়ে অনেক বেড়েছে। কাজের সুবিধার্থে সরকার এখানে দুজন প্রতিমন্ত্রী নিয়োগ দেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছে। উপদেষ্টা থেকে এই মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী হয়েছেন হুমায়ুন কবির।

সাবেক সচিব, জনপ্রশাসন সংস্কার ও জাতীয় ঐকমত্য কমিশনের সদস্য ড. মোহাম্মদ আইয়ুব মিয়া বলেন, মন্ত্রীদের কাছে সর্বোচ্চ ১০ শতাংশ ফাইল যায়। বাকি ফাইলগুলো নিচেই নিষ্পত্তি হয়। আইয়ুব মিয়া বলেন, বিএনপির ৩১ দফা ও নির্বাচনী ইশতেহারের সঙ্গে সরকারের কাঠামোর মিল পাওয়া যাচ্ছে না। মন্ত্রীদের মুখে সংস্কারের কথাও শোনা যায় না।

৩১ দফা ও নির্বাচনী ইশতেহার বাস্তবায়ন নিয়েও প্রশ্ন

বিএনপির ৩১ দফার চতুর্থ দফায় প্রধানমন্ত্রী ও মন্ত্রিসভার নির্বাহী ক্ষমতার মধ্যে যথাযথ ভারসাম্য প্রতিষ্ঠার কথা বলা হয়েছে। একই সঙ্গে নির্বাহী, আইন ও বিচার বিভাগের ক্ষমতা, দায়িত্ব ও কর্তব্য পুনর্বিন্যাস করে রাষ্ট্রীয় ক্ষমতায় ‘চেক অ্যান্ড ব্যালান্স’ প্রতিষ্ঠার অঙ্গীকার রয়েছে।

রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, এর অর্থ হলো, সরকার পরিচালনায় প্রধানমন্ত্রীর কাছে ক্ষমতা কেন্দ্রীভূত না রেখে মন্ত্রিসভাকে নীতিনির্ধারণ ও সিদ্ধান্ত গ্রহণে কার্যকর অংশীদার করা। সে ক্ষেত্রে মন্ত্রী নির্বাচন এবং মন্ত্রণালয় বণ্টনেও ব্যক্তিগত আনুগত্যের চেয়ে দক্ষতা ও সংশ্লিষ্ট বিষয়ে অভিজ্ঞতা গুরুত্ব পেতে পারে।

বিএনপির নির্বাচনী ইশতেহারের অন্যতম ঘোষণা ছিল ‘মেরিটোক্রেসি’ বা মেধাভিত্তিক বাংলাদেশ গঠন। রাষ্ট্র পরিচালনায় যোগ্যতা, দক্ষতা ও অভিজ্ঞতাকে গুরুত্ব দেওয়ার কথা বলা হয়েছে। ফলে নতুন মন্ত্রিসভায় রাজনৈতিক অভিজ্ঞতার পাশাপাশি সংশ্লিষ্ট বিষয়ে দক্ষতা, প্রশাসনিক সক্ষমতা এবং নীতিনির্ধারণের যোগ্যতাকে বিবেচনায় নেওয়ার প্রত্যাশা সৃষ্টি হয়েছে।

প্রশাসনিক সংস্কারের ক্ষেত্রেও বিএনপির প্রস্তাবে দেশপ্রেমে উদ্বুদ্ধ, যোগ্য ও দক্ষ জনপ্রশাসন গড়ে তোলার কথা রয়েছে। নিয়োগ, বদলি ও পদোন্নতিতে মেধা, সততা, সৃজনশীলতা, দক্ষতা, অভিজ্ঞতা ও প্রশিক্ষণকে যোগ্যতার প্রধান মাপকাঠি করার কথা বলা হয়েছে। প্রথম মন্ত্রিসভার বৈঠকে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান মন্ত্রীদের ইশতেহার অনুযায়ী দেশ পরিচালনার বিষয়ে দিকনির্দেশনা দিয়েছিলেন।

সুশাসনের জন্য নাগরিক (সুজন) সম্পাদক বদিউল আলম মজুমদার সমকালকে বলেন, মন্ত্রিসভার আকার ছোট ও কার্যকর রাখা গেলে সিদ্ধান্ত গ্রহণ দ্রুত হবে; জবাবদিহি বাড়বে এবং প্রশাসনের ওপর রাজনৈতিক নেতৃত্বের কার্যকর নজরদারি নিশ্চিত করা সহজ হবে। বড় মন্ত্রিসভা হলে অশুভ প্রতিযোগিতা বাড়ে। বিএনপি বলেছিল, তারা ছোট ও কার্যকর মন্ত্রিসভা গঠন করবে। কিন্তু বিএনপি এখন পুরোনো পথেই হাঁটছে।

সংস্কার প্রস্তাবে মন্ত্রিসভার আকার

জুলাই গণঅভ্যুত্থানের পর অন্তর্বর্তী সরকারের সময় গঠিত জনপ্রশাসন সংস্কার কমিশন নির্বাচিত সরকারের মন্ত্রিসভায় সর্বোচ্চ ২৩ জন মন্ত্রী এবং ১২ জন প্রতিমন্ত্রী রাখার সুপারিশ করেছিল। পাশাপাশি বিদ্যমান মন্ত্রণালয়ের সংখ্যা ৪৩ থেকে ২৫-এ নামিয়ে আনার সুপারিশ করা হয়। কমিশনের সুপারিশ ছিল, মন্ত্রণালয়গুলো থাকবে পাঁচটি গুচ্ছে। সংস্কার কমিশনের সুপারিশে প্রধানমন্ত্রীর হাতে থাকা মন্ত্রণালয়গুলোর নামও নির্দিষ্ট করে দেওয়া হয়।

কমিশনের সুপারিশে বলা হয়, রাষ্ট্রপতির সচিবালয়, প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয় বাদে মন্ত্রণালয় হবে ২৫টি। এতে দুজন টেকনোক্র্যাটসহ মন্ত্রী হবেন ২৩ জন। প্রতিমন্ত্রী বা উপমন্ত্রী হবেন ১২ জন। মন্ত্রিপরিষদ সচিব একজন, মুখ্য সচিব ১৭ জন ও সচিব থাকবেন ৪২ জন। একাধিক বিভাগসংবলিত মন্ত্রণালয়ে মন্ত্রীকে পরামর্শ দেওয়া এবং সমন্বয়ের জন্য একজন মুখ্য সচিব থাকবেন।

জনপ্রশাসন সংস্কার কমিশনের একাধিক সদস্য বলেন, কমিশন চিন্তাভাবনা করেই ৩৫ মন্ত্রী-প্রতিমন্ত্রীর প্রস্তাব রেখেছিল। দেশের আর্থিক বাস্তবতা বিবেচনায় মন্ত্রীর সংখ্যা যৌক্তিক পর্যায়ে রাখা উচিত। কারণ, ডিজিটাল যুগে একজন ব্যক্তি আগের তুলনায় অনেক বেশি কাজ করতে পারেন। তাই জনবল কমিয়ে সামাজিক নিরাপত্তাসহ জনকল্যাণমূলক খাতে বরাদ্দ বাড়ানোর সুযোগ রাখার চিন্তা করে মন্ত্রিসভার এমন কাঠামোর প্রস্তাব করা হয়েছিল।

কেমন ছিল আগের মন্ত্রিসভা

বিএনপির বর্তমান মন্ত্রিসভার সদস্য সংখ্যা ৫১। প্রধানমন্ত্রীর মন্ত্রী-প্রতিমন্ত্রী পদমর্যাদায় উপদেষ্টা ১০ জন এবং বিশেষ সহকারী ৩ জন। মোট ৬৪ জন।

এর আগে দ্বাদশ সংসদ নির্বাচনের মাধ্যমে গঠিত আওয়ামী লীগ সরকারের প্রধানমন্ত্রীসহ মোট ৩৭ জন মন্ত্রী-প্রতিমন্ত্রী ছিলেন। এর মধ্যে প্রধানমন্ত্রী ছাড়া ২৫ মন্ত্রী ও ১১ প্রতিমন্ত্রী ছিলেন। পরে সাতজন প্রতিমন্ত্রী যুক্ত হন। এতে মন্ত্রিসভার আকার হয় ৪৪। উপদেষ্টা ছিলেন সাতজন।

২০১৮ সালে একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের পর গঠিত সরকারে ৪৮ জন মন্ত্রী, প্রতিমন্ত্রী ও উপমন্ত্রী ছিলেন। এতে প্রধানমন্ত্রীসহ ২৬ মন্ত্রী, ১৯ প্রতিমন্ত্রী ও ৩ জন উপমন্ত্রী ছিলেন। উপদেষ্টা ছিলেন সাতজন।

২০১৪ সালে দশম সংসদ নির্বাচনের পর মন্ত্রিসভার প্রাথমিক সদস্য ছিলেন প্রধানমন্ত্রীসহ ৪৯ জন। পরে মন্ত্রিসভার সদস্য সংখ্যা বৃদ্ধি পেয়ে হয়েছিল ৫৪। উপদেষ্টা ছিলেন সাতজন।

২০০৮ সালের ডিসেম্বরে নবম জাতীয় সংসদ নির্বাচনের পর ২০০৯ সালের জানুয়ারি মাসে শেখ হাসিনার নেতৃত্বে গঠিত নতুন মন্ত্রিসভার সদস্য সংখ্যা শুরুতে ছিল প্রধানমন্ত্রীসহ ৩২। পরে বিভিন্ন রদবদল ও সম্প্রসারণের মাধ্যমে এ সংখ্যা ৬১-তে দাঁড়ায়। উপদেষ্টা ছিলেন ৯ জন। সে হিসাবে মোট ৭০ জন।

এর আগে ২০০১ সালে অষ্টম সংসদ নির্বাচনের পর খালেদা জিয়ার নেতৃত্বে গঠিত বিএনপির মন্ত্রিসভার সদস্য ছিলেন ৬০ জন। এর মধ্যে ২৮ জন মন্ত্রী, ২৮ প্রতিমন্ত্রী এবং চারজন উপমন্ত্রী ছিলেন। উপদেষ্টা ছিলেন চারজন। মোট ৬৪ জন।

২০০৭ সালের জানুয়ারিতে গঠিত সেনাসমর্থিত তত্ত্বাবধায়ক সরকারের দুই বছরে প্রধান উপদেষ্টা ড. ফখরুদ্দীন আহমদের অধীনে ১৫ জন উপদেষ্টা এবং চারজন বিশেষ সহকারী দায়িত্ব পালন করেছিলেন।

চব্বিশের গণঅভ্যুত্থানের পর গঠিত অন্তর্বর্তী সরকারে প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূসের সঙ্গে মোট ২০ জন উপদেষ্টা এবং বিভিন্ন ধাপে ১৩ জন বিশেষ সহকারী দায়িত্ব পালন করেছেন।

প্রথম আলো

‘বছরে ১৫ হাজারের বেশি আত্মহত্যা’-এটি দৈনিক প্রথম আলোর প্রধান শিরোনাম। খবরে বলা হয়, আত্মহত্যা দেশে বড় ধরনের জনস্বাস্থ্য সমস্যা হিসেবে দেখা দিয়েছে। পুলিশের নথি অনুযায়ী, ২০২০ থেকে ২০২৪ সাল পর্যন্ত পাঁচ বছরে আত্মহত্যা করেছেন ৭৬ হাজার ৩৬১ জন। অর্থাৎ বছরে গড়ে ১৫ হাজারের বেশি মানুষ আত্মহত্যা করছেন। এ সংখ্যা বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার ২০২১ সালের অনুমিত হিসাবের তিন গুণের বেশি।

আত্মহত্যার ঝুঁকি তুলনামূলকভাবে বেশি তরুণদের মধ্যে। পারিবারিক ও সম্পর্কের দ্বন্দ্ব, মানসিক চাপ, বিষণ্নতা, বেকারত্ব, পড়াশোনা, পরীক্ষার চাপসহ বিভিন্ন সামাজিক, অর্থনৈতিক ও মানসিক স্বাস্থ্যগত বিষয় এ ঝুঁকি বাড়াতে পারে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, আত্মহত্যা প্রতিরোধে নির্ভরযোগ্য তথ্য সংগ্রহ, মানসিক স্বাস্থ্যসেবা সহজলভ্য করা ও কীটনাশকের মতো প্রাণঘাতী উপকরণের সহজলভ্যতা নিয়ন্ত্রণ করা জরুরি।

গতকাল রোববার রাজধানীর আন্তর্জাতিক উদরাময় গবেষণা কেন্দ্র, বাংলাদেশের (আইসিডিডিআরবি) আত্মহত্যা প্রতিরোধবিষয়ক এক সভায় এসব তথ্য তুলে ধরা হয়। বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার আত্মহত্যা প্রতিরোধবিষয়ক প্রকল্প ‘লাইভ লাইফ: সুইসাইড প্রিভেনশন ইন বাংলাদেশ’–এর আওতায় জাতীয় মানসিক স্বাস্থ্য ইনস্টিটিউট ও হাসপাতাল, বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা ও আইসিডিডিআরবি

যৌথভাবে সভাটির আয়োজন করে। অনুষ্ঠানে মানসিক স্বাস্থ্যবিশেষজ্ঞ, মনোরোগ–বিশেষজ্ঞ, গবেষক, পুলিশ কর্মকর্তাসহ বিভিন্ন মন্ত্রণালয়ের প্রতিনিধিরা অংশ নেন। সভায় আত্মহত্যার চেষ্টাকে অপরাধ হিসেবে গণ্য করার বিধান বাতিল বা সংস্কারেরও সুপারিশ করা হয়। বক্তাদের অনেকে বলেন, আত্মহত্যার চেষ্টা করা ব্যক্তি সাধারণত গভীর সংকটের মধ্যে থাকেন। তাঁর শাস্তি নয়, প্রয়োজন চিকিৎসা, সহায়তা ও সহানুভূতি।

সমস্যা বড় গভীর

অনুষ্ঠানের প্রথম উপস্থাপনায় আইসিডিডিআরবির মা ও শিশুস্বাস্থ্য বিভাগের ডেপুটি প্রজেক্ট কো–অর্ডিনেটর মোহাম্মদ সোহেল শমীক সমস্যার ব্যাপকতা তুলে ধরে বলেন, আত্মহত্যা বিষয়ে বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার অনুমিত সংখ্যার চেয়ে বাংলাদেশ পুলিশের নথিভুক্ত ঘটনা অনেক বেশি। বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার সর্বশেষ (২০২১ সাল) অনুমিত হিসাবে দেশে বছরে ৪ হাজার ৭১৪ জন আত্মহত্যা করেন। অন্যদিকে পুলিশের রেকর্ড বলছে, বছরে ১৪ থেকে ১৫ হাজার আত্মহত্যার ঘটনা ঘটে।

বাংলাদেশ জাতীয় আত্মহত্যা প্রতিরোধ পরিকল্পনা ২০২৬-২০৩০ (খসড়া) অনুষ্ঠানে অংশগ্রহণকারীদের দেওয়া হয়। এতে ২০২০ থেকে ২০২৪ সাল পর্যন্ত এবং ২০২৫ সালের জানুয়ারি থেকে অক্টোবর পর্যন্ত দেশে আত্মহত্যার পরিসংখ্যান দেওয়া হয়েছে। এতে দেখা যায়, আত্মহত্যা সবচেয়ে কম ২০২৪ সালে, ১৩ হাজার ৯৭৫টি। সবচেয়ে বেশি ছিল ২০২২ সালে, ১৬ হাজার ৮৮৬টি। আর ২০২১ সালে ছিল ১৫ হাজার ৭৭৪টি, যা বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার দেওয়া সংখ্যার চেয়ে তিন গুণের বেশি। আত্মহত্যার এসব ঘটনা সংশ্লিষ্ট থানায় অস্বাভাবিক মৃত্যু হিসেবে নথিভুক্ত হয় এবং মামলা হয়।

পুলিশের তথ্য অনুযায়ী, আত্মহত্যার ঘটনা বেশি যশোর জেলায়। এ জেলায় ২০২২ থেকে ২০২৫ সালের মধ্যে আত্মহত্যার ঘটনায় মামলা হয়েছে ১ হাজার ৪৫৪টি। যশোরের পর অন্য যে ৯টি জেলায় আত্মহত্যা বেশি হয় সেই তালিকায় আছে ঢাকা, কুমিল্লা, দিনাজপুর, বগুড়া, ময়মনসিংহ, কুষ্টিয়া, পাবনা, ঝিনাইদহ ও নওগাঁ।

মোহাম্মদ সোহেল শমীকসহ অনুষ্ঠানের একাধিক অংশগ্রহণকারী বলেন, আত্মহত্যা বা আত্মহত্যার চেষ্টার সব ঘটনা প্রকাশ পায় না, নথিভুক্তও হয় না। আবার হত্যাকে আত্মহত্যা বলার নজিরও আছে।

দণ্ডবিধির ৩০৯ ধারা অনুযায়ী, আত্মহত্যার চেষ্টা শাস্তিযোগ্য অপরাধ। এর সর্বোচ্চ সাজা এক বছরের বিনাশ্রম কারাদণ্ড বা অর্থদণ্ড অথবা উভয় দণ্ড। আত্মহত্যায় মৃত্যু হলে ফৌজদারি কার্যবিধির ১৭৪ ধারা অনুযায়ী, পুলিশ অপমৃত্যুর তদন্ত করে। আর কাউকে আত্মহত্যায় প্ররোচনা বা সহায়তার প্রমাণ পাওয়া গেলে দণ্ডবিধির ৩০৬ ধারায় সর্বোচ্চ ১০ বছরের কারাদণ্ড ও অর্থদণ্ডের বিধান রয়েছে।

অনুষ্ঠানের দ্বিতীয় উপস্থাপক আইসিডিডিআরবির মা ও শিশুস্বাস্থ্য বিভাগের সহযোগী বিজ্ঞানী আনীকা তাসনিম হোসেন বলেন, আত্মহত্যা বা আত্মহত্যার চেষ্টার ঘটনা কম প্রকাশ পাওয়ার কারণ ভয় বা স্টিগমা। তিনি বলেন, ‘আত্মহত্যা বললে আইনি ঝামেলা পোহাতে হয়। তাই কেউ পানিতে ঝাঁপ দিয়ে আত্মহত্যা করলে বলা হয় পানিতে ডুবে মরা গেছে।’

আনীকা তাসনিম হোসেন বলেন, আত্মহত্যা ও আত্মহত্যাচেষ্টার তথ্যের জন্য তিনটি উৎসের ওপর নির্ভর করা যেতে পারে। এগুলো হলো হাসপাতাল ও ক্লিনিক, থানা এবং কমিউনিটি। তিনি বলেন, কমিউনিটির মানুষই এ বিষয়ে সবচেয়ে ভালো জানেন। এলাকার শিক্ষক, ইমাম, গ্রাম পুলিশ, ওষুধের দোকানি, কৃষি সম্প্রসারণ কর্মকর্তা—তাঁরা তথ্যের গুরুত্বপূর্ণ উৎস হতে পারেন। এই তিনটি উৎস থেকে পাওয়া তথ্যের সমন্বয় করলে সঠিক চিত্র পাওয়া যাবে।

আইসিডিডিআরবির এই বিজ্ঞানী জানান, বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার প্রকল্পের আওতায় দেশের চারটি উপজেলায় এ বিষয়ে পাইলট প্রকল্প বাস্তবায়িত হচ্ছে। উপজেলাগুলো হলো চাঁপাইনবাবগঞ্জের শিবগঞ্জ উপজেলা, সিলেটের গোয়াইনঘাট উপজেলা, যশোরের অভয়নগর উপজেলা এবং ঝিনাইদহের শৈলকুপা উপজেলা।

শাস্তির বদলে সহানুভূতি

অনুষ্ঠানের প্রধান অতিথি স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের অতিরিক্ত মহাপরিচালক (উন্নয়ন ও গবেষণা) অধ্যাপক ফোয়ারা তাসমিম বলেন, ‘আত্মহত্যার চেষ্টাকে অপরাধের তালিকা থেকে বাদ দেওয়া যায় কি না, সে বিষয়ে গুরুত্ব দিয়ে চিন্তাভাবনা করতে হবে। বাদ যদি না–ও দেওয়া সম্ভব হয়, তাহলে আইন সংস্কার করতে হবে।’

আত্মহত্যাকারীর বিরুদ্ধে কোনো আইনি ব্যবস্থা নেওয়ার সুযোগ নেই। অনুষ্ঠানে বলা হয়, আত্মহত্যার চেষ্টা করে ব্যর্থ হওয়া ব্যক্তির বিরুদ্ধে আইনে শাস্তির বিধান আছে। এই আইন করেছিল ব্রিটিশ সরকার। ব্রিটেনে আইনটি বাতিল হয়েছে, কিন্তু এ দেশে রয়ে গেছে। বিশ্বের অধিকাংশ দেশে আইনটি নেই।

অনুষ্ঠানে বেশ কয়েকজন মনোরোগ–বিশেষজ্ঞ ও মানসিক স্বাস্থ্যবিশেষজ্ঞ উপস্থিত ছিলেন। তাঁদের অধিকাংশ বলেছেন, মানসিক স্বাস্থ্য সমস্যা আত্মহত্যা বা আত্মহত্যার চেষ্টার ঝুঁকি বাড়ায়। মানসিক স্বাস্থ্য সমস্যাকে অপরাধ বিবেচনা করা ঠিক নয়। আত্মহত্যার চেষ্টা করে যাঁরা ব্যর্থ হন তাঁদের আইনের আওতায় এনে শাস্তি না নিয়ে চিকিৎসা করা উচিত, তাঁদের প্রতি সহানুভূতিশীল হওয়া উচিত।

শাস্তির বিধান কিছুটা রাখার পক্ষে মত দেন জাতীয় মানসিক স্বাস্থ্য ইনস্টিটিউট ও হাসপাতালের দুজন চিকিৎসক। তাঁরা বলেন, ব্ল্যাকমেল করার জন্য বা কাউকে চাপে ফেলার জন্য আত্মহত্যার হুমকির বিষয়গুলো খেয়াল রাখা দরকার।

পুলিশের অতিরিক্ত উপমহাপরিদর্শক (ক্রাইম মেট্রো) মো. আশরাফুল ইসলাম বলেন, আইনটি থাকার কারণে অনেকে আত্মহত্যার চেষ্টা থেকে বিরত থাকেন। তিনি দাবি করেন, সরকারি কর্মকর্তা–কর্মচারীদের মধ্যে আত্মহত্যার প্রবণতা কম হওয়ার একটি কারণ এই আইনের উপস্থিতি। সরকারি কর্মকর্তা–কর্মচারীরা জানেন, আত্মহত্যার চেষ্টা করলে এক বছরের জেল হবে, এতে তাঁর চাকরিজীবনের বড় ক্ষতি হবে।

অনুষ্ঠানে জানানো হয়, ১৭১টি দেশে পরিচালিত এক গবেষণায় দেখা গেছে, আত্মহত্যার চেষ্টাকে অপরাধ বিবেচনা করলে আত্মহত্যার প্রবণতা বেড়ে যায়। অপরাধ বিবেচনা থেকে সরে আসায় শ্রীলঙ্কা ও সিঙ্গাপুরে আত্মহত্যা কমেছে।

কীটনাশক থেকে সাবধান

দেশে আত্মহত্যার একটি বড় মাধ্যম কীটনাশক, বালাইনাশক বা আগাছানাশক। এর অধিকাংশ ব্যবহার করা হয় কৃষিকাজে। কিন্তু এর ব্যবহারে বিশেষ কোনো নিয়ন্ত্রণ নেই, নজরদারি নেই। এসব সহজে কিনতে পাওয়া যায়। জমিতে ব্যবহারের পর মানুষ তা অরক্ষিত অবস্থায় রেখে দেয়, যা মানসিক চাপে থাকা মানুষের জন্য ঝুঁকি তৈরি করে।

অনুষ্ঠানে বলা হয়, শ্রীলঙ্কা, দক্ষিণ কোরিয়ায় কিছু কীটনাশক ও আগাছানাশক নিষিদ্ধ করে আত্মহত্যা কমানো সম্ভব হয়েছে। আইসিডিডিআরবির মা ও শিশুস্বাস্থ্য বিভাগের ডেপুটি প্রজেক্ট কো–অর্ডিনেটর মোহাম্মদ সোহেল শমীক বলেন, ভারতের কিছু অঞ্চলে কৃষক সরাসরি কীটনাশক হাতে পান না। সমবায়ের ভিত্তিতে কীটনাশক সংগ্রহ ও ব্যবহার হয়। গ্রাম পঞ্চায়েতের নিয়ন্ত্রণ ও নজরদারি থাকে কীটনাশক ব্যবহারের ওপর। এতে কৃষকদের মধ্যে আত্মহত্যা কমেছে।

অনুষ্ঠানে সূচনা বক্তব্য দেন আইসিডিডিআরবির মা ও শিশুস্বাস্থ্য বিভাগের সিনিয়র ডিরেক্টর মো. আনিসুর রহমান। এরপর বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার ন্যাশনাল প্রফেশনাল অফিসার হাসিনা মমতাজ বলেন, তরুণ–তরুণীদের মধ্যে আত্মহত্যার ঝুঁকি বেশি দেখা যাচ্ছে। তাঁদের ঝুঁকিটা বুঝতে হবে। এসব ক্ষেত্রে গণমাধ্যমের দায়িত্বশীল ভূমিকা অপরিহার্য।

সমাপনী বক্তব্যে অনুষ্ঠানের সভাপতি জাতীয় মানসিক স্বাস্থ্য ইনস্টিটিউটের পরিচালক অধ্যাপক সাফিউন নাহার বলেন, নীতি সংস্কার প্রয়োজন, কাজটি কঠিন; কিন্তু কীটনাশক নিয়ন্ত্রণ করা তো সম্ভব। দেখতে হবে সবার হাতে যেন কীটনাশক না পৌঁছায়।

যুগান্তর

দৈনিক যুগান্তরের প্রধান শিরোনাম ‘ভিসি নিয়োগে তেলেসমাতি’। প্রতিবেদনে বলা হয়, বিশ্ববিদ্যালয়ের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ প্রশাসনিক পদ উপাচার্য (ভিসি)। শিক্ষা ও গবেষণার মানোন্নয়ন, একাডেমিক পরিবেশ নিশ্চিত করা, শিক্ষক-শিক্ষার্থীদের অধিকার রক্ষা এবং বিশ্ববিদ্যালয়ের দীর্ঘমেয়াদি নানা পরিকল্পনা বাস্তবায়নে ভিসির ভূমিকা সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ। অথচ দেশের পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়গুলোতে এই পদে নিয়োগ ঘিরে বিতর্ক পিছু ছাড়ছে না। নিয়োগের কয়েক ঘণ্টার মধ্যে প্রজ্ঞাপন বাতিল, মাসের মধ্যে ভিসিকে সরিয়ে দেওয়ার মতো ঘটনাও ঘটেছে।

বিজ্ঞান ও তথ্যপ্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের মতো বিশেষায়িত বিশ্ববিদ্যালয়ে আইন লঙ্ঘন করে পছন্দের প্রার্থীকে ভিসি পদে বসানো হয়েছে। এ ছাড়াও বড় বড় বিশ্ববিদ্যালয়ের ভিসি নিয়োগে ক্ষেত্রে মেধা, যোগ্যতা, দক্ষতা, গবেষণা ও একাডেমিক ডিগ্রিকে খুব বেশি প্রাধান্য দেওয়া হয়নি। নিয়োগ পাওয়া এসব ভিসির অনেককে ঘিরে রয়েছে নানা বিতর্ক।

শিক্ষা মন্ত্রণালয় সূত্রে জানা গেছে, দেশে ৫৭টি পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়ের মধ্যে বর্তমান সরকার দায়িত্ব নেওয়ার পর প্রায় ৩০টি পদে ভিসি নিয়োগ দেওয়া হয়েছে। এসব নিয়োগের ক্ষেত্রে রাজনৈতিক পরিচয়, ব্যক্তিগত পছন্দ, দলীয় ঘনিষ্ঠতা, সুপারিশ ও তদবিরের অভিযোগ রয়েছে। কোনো কোনো নিয়োগের ক্ষেত্রে আর্থিক লেনদেনের অভিযোগও রয়েছে, যা টাকার অঙ্কে ৫ কোটি পর্যন্ত। দেশের একটি বড় বিশ্ববিদ্যালয়ের রাজনৈতিক দলের শিক্ষক সিন্ডিকেট এসব নিয়োগে সক্রিয় ছিল বলে সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে।

শিক্ষাসংশ্লিষ্ট বিশেষজ্ঞরা বলছেন, জুলাই গণ-অভ্যুত্থানের পর মানুষের প্রত্যাশা ছিল, দলীয় পরিচয় বা কোটায় নয়-মেধা ও যোগ্যতার ভিত্তিতে ভিসি নিয়োগ অগ্রাধিকার পাবে। কিন্তু ঘটেছে উলটো। দলীয় আনুগত্য ও বিষয়ভিত্তিক-একাডেমিক দক্ষতার ঘাটতি থাকা ব্যক্তিদেরও এ পদে প্রাধান্য দেওয়া হয়েছে।

বিশেষজ্ঞরা বলছেন, সরকার পরিবর্তন হলেই দলীয় শিক্ষকরা ভিসির মতো গুরুত্বপূর্ণ পদে বসতে মরিয়া হয়ে ওঠেন। এজন্য যা যা করা দরকার তারা সব ধরনের চেষ্টাই করেন। এভাবে কেন তারা নিয়োগ পেতে মরিয়া হয়ে উঠেন-এমন প্রশ্নেরও জবাব রয়েছে। প্রতিটি বিশ্ববিদ্যালয়ে প্রকল্প বাস্তবায়ন, উন্নয়ন ও সংস্কার কাজ, টেন্ডার, শিক্ষক-কর্মচারী নিয়োগ এসব কাজে বিপুল অঙ্কের অর্থের লেনদেনের ঘটনা ঘটে। ফলে ভিসি পদটি হয়ে উঠেছে লোভনীয়। আর এসব উচ্চ শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে এভাবেই নিয়োগ প্রক্রিয়া চালু থাকায় বিশ্ববিদ্যালয়ের মূল কাজ গবেষণার মাধ্যমে নতুন নতুন উদ্ভাবনী শক্তির বিকাশ ঘটানোর কাজটি ব্যাহত হচ্ছে। ফলে আন্তর্জাতিক র‌্যাংকিং থেকে ছিটকে পড়েছে সরকারি বিশ্ববিদ্যালয়গুলো।

আইন লঙ্ঘন করে নিয়োগ: গাজীপুর ইউনিভার্সিটি অব ফ্রন্টিয়ার টেকনোলজি বাংলাদেশের (ইউএফটিবি) ভিসি হিসাবে নিয়োগ পেয়েছেন অধ্যাপক ড. মো. মোক্তার আলী। তিনি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের মার্কেটিং বিভাগের অধ্যাপক। অথচ বিশ্ববিদ্যালয়ের আইনে রয়েছে, তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তিতে খ্যাতিসম্পন্ন ও প্রশাসনিক কাজে অভিজ্ঞ ব্যক্তিকে ভিসি হিসাবে নিয়োগ দিতে হবে। সুনামগঞ্জ বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের ভিসি হিসাবে নিয়োগ পান অধ্যাপক ড. মো. জাকির হুসাইন। তিনি ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ের আল-হাদিস অ্যান্ড ইসলামিক স্টাডিজ বিভাগের অধ্যাপক। বিজ্ঞান ও প্রযুক্তির ক্ষেত্রে স্বনামধন্য একজন শিক্ষাবিদকে এ বিশ্ববিদ্যালয়ে ভিসি পদে নিয়োগ প্রদান করতে হবে-আইনে এমনটিই বলা আছে। নোয়াখালী বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের (নোবিপ্রবি) উপাচার্য অধ্যাপক ড. গোলাম রব্বানী ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সমাজকল্যাণ ও গবেষণা ইনস্টিটিউটের অধ্যাপক। বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি ক্ষেত্রে বিশেষজ্ঞ এমন একজনকে ভিসি নিয়োগ দেওয়ার ক্ষেত্রে বিশ্ববিদ্যালয়ের আইন মানা হয়নি। একই ভাবে মাওলানা ভাসানী বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের ভিসি করা হয়েছে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের মার্কেটিং বিভাগের অধ্যাপক ড. এবিএম শহিদুল ইসলামকে। বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি ক্ষেত্রে বিশেষজ্ঞ এমন একজন ব্যক্তিকে উপাচার্য পদে নিয়োগ প্রদান করার আইনটি এখানেও উপেক্ষিত।

অপরদিকে, কয়েকটি বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের ভিসি নিয়োগে বিশেষ যোগ্যতার উল্লেখ না থাকার সুযোগ নিয়েছে নিয়োগ কমিটি। সিলেট শাহজালাল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের (শাবিপ্রবি) ভিসি পদে নিয়োগ দেওয়া হয় একই বিশ্ববিদ্যালয়ের ব্যবসা প্রশাসন বিভাগের অধ্যাপক ড. মো. খাইরুল ইসলামকে। পিরোজপুর বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের ভিসি হয়েছেন ড. মোহাম্মদ ছবিরুল ইসলাম হাওলাদার। তিনি রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের আরবি বিভাগের অধ্যাপক। যদিও বিশ্ববিদ্যালয় আইনে স্বনামধন্য একজন শিক্ষাবিদকে নিয়োগের বিধান রাখা হয়েছে। এ সুযোগ থাকায় একাডেমিক অভিজ্ঞতাকে পাশ কাটিয়ে ভিসি নিয়োগ দেওয়া হয়েছে বলে মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা।

বিজ্ঞান ও প্রযুক্তিভিত্তিক বিশ্ববিদ্যালয়ের সর্বোচ্চ প্রশাসনিক পদে ব্যবসা প্রশাসন বা মানবিক বিভাগের শিক্ষককে নিয়োগ দেওয়ায় বিশ্ববিদ্যালয়ের একাডেমিক কার্যক্রম পরিচালনা সক্ষমতা নিয়ে প্রশ্ন তোলেন তারা।

নিয়োগ দিয়ে ফের বাতিল: নিয়োগের অসঙ্গতির বড় দৃষ্টান্ত বেগম রোকেয়া ও জামালপুর বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ে ভিসি নিয়োগ ও বাতিলের ঘটনা। ১৪ মে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের মার্কেটিং বিভাগের অধ্যাপক ড. আনিসুর রহমানকে চার বছরের জন্য বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয়ে উপাচার্য নিয়োগ দিয়ে প্রজ্ঞাপন জারি করা হয়। রাজনৈতিক সংশ্লিষ্টতার অভিযোগ ওঠার কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই সেই নিয়োগ বাতিল করা হয়। পরে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ফলিত গণিত বিভাগের অধ্যাপক মো. শওকত আলীকে ভিসি নিয়োগ দেওয়া হয়। একই দিনে জামালপুর বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের ভিসি নিয়োগ পান জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের পরিবেশ বিজ্ঞান বিভাগের অধ্যাপক মোহাম্মদ আমির হোসেন ভূঁইয়া। দায়িত্ব গ্রহণের ২৩ দিনের মাথায় ৬ জুন তাকে ভিসি পদ থেকে অব্যাহতি দেওয়া হয়। পরে বাংলাদেশ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের কৌলিতত্ত্ব ও উদ্ভিদ প্রজনন বিভাগের অধ্যাপক মো. আমির হোসেনকে ওই বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য নিয়োগ দেওয়া হয়। এসব নিয়োগের ক্ষেত্রে যথাযথ যাচাই-বাছাইও করা হয়নি বলে জানা যায়।

কালের কণ্ঠ

‘অত্যাবশ্যকীয় ১১৭ ওষুধের ৫৭টির সরবরাহ বন্ধ’-এটি দৈনিক কালের কণ্ঠের প্রধান শিরোনাম। খবরে বলা হয়, তিন দশক আগের অত্যাবশ্যকীয় ওষুধনীতিতে ফিরেছে সরকার। কিন্তু ওই তালিকায় থাকা ১১৭টি ওষুধের মধ্যে বর্তমানে বাজারে সরবরাহ আছে মাত্র ৬০টি।

সরবরাহ বন্ধ ৫৭টির। এতে নিম্ন আয়ের মানুষ ও দীর্ঘমেয়াদি রোগে আক্রান্ত রোগীদের চিকিৎসা ব্যয় আরো বেড়েছে। গত ১০ থেকে ২০ আগস্ট পর্যন্ত রাজধানীর মিডফোর্ট, কলাবাগান, গুলশান ও শাহবাগ এলাকার মোট আটটি ফার্মেসির কাছে এই ১১৭টি ওষুধের তথ্য চাওয়া হয়। ফার্মেসির কাছ থেকে পাওয়া তথ্য বিশ্লেষণে দেখা গেছে, এসব ওষুধের মধ্যে দীর্ঘদিন ধরে ৫৭টি ওষুধ বাজারে সরবরাহ নেই।

অর্থাৎ সরকার যেসব ওষুধকে মানুষের জন্য ‘অত্যাবশ্যকীয়’ বলছে, তার প্রায় অর্ধেক রোগীর নাগালের বাইরে। উদ্বেগের বিষয়, অনুপস্থিত এসব ওষুধের মধ্যে রয়েছে তীব্র ব্যথা নিয়ন্ত্রণের পেথিডিন, ম্যালেরিয়ার ক্লোরোকুইন ও কুইনাইন, যক্ষ্মার ইথামবিউটল ও আইসোনিয়াজিড, ডায়াবেটিসের গ্লিবেনক্লামাইড, উচ্চ রক্তচাপের নিফেডিপিন ও মেথাইলডোপা, একাধিক অ্যান্টিবায়োটিক, প্রসবকালীন জরুরি ওষুধ, সাপের কামড়ের অ্যান্টিভেনম এবং কয়েক ধরনের টিকা।

১৯৯৪ সালের গেজেট অনুযায়ী, ওষুধ উৎপাদনকারী প্রতিষ্ঠানগুলোর ৩০ শতাংশ অত্যাবশ্যকীয় ওষুধ উৎপাদনের আইনি বাধ্যবাধকতা রয়েছে। কিন্তু সংশ্লিষ্টদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, এই বাধ্যবাধকতা কখনো কার্যকরভাবে বাস্তবায়ন করা হয়নি।

ঔষধ প্রশাসন অধিদপ্তরের পরিচালক মো. আকতার হোসেন কালের কণ্ঠকে বলেন, ‘এই বাধ্যবাধকতা অতীতে কখনোই মানা হয়নি। হাইটেক ওষুধের বাহবা চললেও সাধারণ মানুষের প্রয়োজনীয় ওষুধ উৎপাদনে চরম অবহেলা দৃশ্যমান। কেবল কমিটি গঠনে আটকে না থেকে প্রশাসন ও মন্ত্রণালয়ের এখনই কঠোর তদারকি করা উচিত।’

অত্যাবশ্যকীয় ওষুধের কতগুলো বর্তমানে বাজারে পাওয়া যাচ্ছে—এমন প্রশ্নে তিনি বলেন, ‘এর সঠিক তথ্য ঔষধ প্রশাসনের কাছে নেই। তবে ৫০ শতাংশের বেশি নেই।

অনেক ওষুধ কার্যকারিতা হারিয়েছে এবং কিছু ক্ষেত্রে আরো উন্নত ওষুধ বাজারে এসেছে।’

নাম প্রকাশ না করার শর্তে ঔষধ প্রশাসন অধিদপ্তরের এক কর্মকর্তা জানান, দেশে অনুমোদিত অ্যালোপ্যাথিক ওষুধ প্রস্তুতকারক প্রতিষ্ঠান ৩০১টি। তবে বর্তমানে নিয়মিত ওষুধ উৎপাদন করে ১৫০ থেকে ২০০টি প্রতিষ্ঠান। এর মধ্যে ৫০ থেকে ৬০টি ওষুধ বিভিন্ন কম্পানি উৎপাদন করে না। আবার অনেক ওষুধ ভিন্ন নামে বাজারজাত করা হচ্ছে। ফলে সরকারি তালিকায় একটি জেনেরিক নাম থাকলেও রোগীর জন্য সেটি খুঁজে পাওয়া কঠিন।

যেসব ওষুধ বাজারে নেই

বাজারে না থাকা ওষুধের তালিকাটি বিশ্লেষণে সংকটের ব্যাপ্তি আরো স্পষ্ট হয়। তীব্র ব্যথা নিয়ন্ত্রণে ব্যবহৃত পেথিডিন, মানসিক রোগের চিকিৎসায় ক্লোরপ্রোমাজিন ও প্রোক্লোরপেরাজিনও বাজারে পাওয়া যাচ্ছে না। ম্যালেরিয়ার চিকিৎসায় ব্যবহৃত ক্লোরোকুইন, কুইনাইন, মেফ্লোকুইন, পাইরিমেথামিন-সালফাডক্সিন এবং মেফ্লোকুইন-পাইরিমেথামিন-সালফাডক্সিনের মতো ওষুধও বাজারে সরবরাহ নেই। এ তালিকায় রয়েছে যক্ষ্মার চিকিৎসায় গুরুত্বপূর্ণ ইথামবিউটল ও আইসোনিয়াজিড এবং কুষ্ঠ রোগের চিকিৎসায় ব্যবহৃত ক্লোফাজিমিন ও ড্যাপসোন।

অসংক্রামক রোগের ক্ষেত্রেও একই চিত্র। টাইপ-২ ডায়াবেটিসের চিকিৎসায় ব্যবহৃত গ্লিবেনক্লামাইড বাজারে সরবরাহ নেই। এ ছাড়া উচ্চ রক্তচাপ ও হৃদরোগের চিকিৎসায় ব্যবহৃত নিফেডিপিন, মেথাইলডোপা, বেন্ড্রোফ্লুয়াজাইড ও আইসোসরবাইড ডাইনাইট্রেট/মনোনাইট্রেটও বাজারে নেই।

অ্যান্টিবায়োটিকের ক্ষেত্রে ক্লক্সাসিলিন, অ্যামক্সিসিলিন, অ্যাম্পিসিলিন, ক্লোরামফেনিকল, বেঞ্জাথিন পেনিসিলিন, বেঞ্জিল পেনিসিলিন ও প্রোকেইন বেঞ্জিল পেনিসিলিনের মতো ওষুধ বাজারে সরবরাহ নেই।

প্রাথমিক স্বাস্থ্যকেন্দ্রে সংক্রমণের চিকিৎসায় প্রয়োজনীয় অ্যান্টিবায়োটিকের সরবরাহ অনিশ্চিত হলে রোগীর চিকিৎসা ব্যাহত হওয়ার পাশাপাশি অ্যান্টিমাইক্রোবিয়াল রেজিস্ট্যান্স নিয়েও প্রশ্ন তৈরি হয়।

সবচেয়ে উদ্বেগজনক ওষুধগুলোর একটি পলিভ্যালেন্ট অ্যান্টিভেনম। বিষধর সাপের কামড়ে জীবনরক্ষাকারী চিকিৎসার গুরুত্বপূর্ণ এই অ্যান্টিভেনমও বাজারে সরবরাহ নেই।

প্রসবকালীন জরুরি চিকিৎসায় ব্যবহৃত অক্সিটোসিন ও এরগোমেট্রিনও বাজারে সরবরাহ নেই। প্রসবের পর অতিরিক্ত রক্তপাত নিয়ন্ত্রণে এসব ওষুধ গুরুত্বপূর্ণ। প্রসব-পরবর্তী অতিরিক্ত রক্তপাত মাতৃমৃত্যুর অন্যতম কারণ হওয়ায় জরুরি প্রসূতি সেবায় এসব ওষুধের নিরবচ্ছিন্ন সরবরাহ অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।

সংকট শুধু ওষুধে সীমাবদ্ধ নয়। ডিপথেরিয়া-পারটুসিস-টিটেনাস, ডিপথেরিয়া-টিটেনাস, হাম, পোলিও, ইয়েলো ফিভার ও মেনিনজোকক্কাল টিকাও তালিকায় থাকলেও বাজারে সরবরাহ বন্ধ রয়েছে।

এ ছাড়া টিউবারকিউলিন যা যক্ষ্মা শনাক্তের ত্বক পরীক্ষায় ব্যবহৃত হয়, বিভিন্ন ইমেজিং পরীক্ষায় ব্যবহৃত মেগলুমিন আয়োগ্লাইকামেট, সোডিয়াম ডায়াট্রিজোয়েট ও সোডিয়াম আইওথালামেটের মতো কনট্রাস্ট এজেন্টও বাজারে পাওয়া যাচ্ছে না।

ইত্তেফাক

‘ভারতীয় বিদ্যুৎ আমদানিতে যুক্ত হচ্ছে নতুন চার্জ’-এটি দৈনিক ইত্তেফাকের প্রধান শিরোনাম। খবরে বলা হয়, ভারত থেকে বিদ্যুত্ আমদানির ক্ষেত্রে নতুন একটি চার্জ দিতে হবে বাংলাদেশকে। ‘সেটেলমেন্ট নোডাল এজেন্সি (এসএনএ) চার্জ’ নামে এ খাতে প্রতি ইউনিট বিদ্যুতের জন্য ভারতীয় আধা পয়সা পরিশোধের প্রস্তাব করা হয়েছে। বিদ্যুতের বিদ্যমান মূল্যহারের সঙ্গে এ চার্জ আলাদাভাবে যুক্ত হবে। ফলে বছরে প্রায় ৬ কোটি টাকা খরচ বাড়বে বাংলাদেশ বিদ্যুত্ উন্নয়ন বোর্ডের (পিডিবি)।

পিডিবি সূত্র জানায়, ভারতের রাষ্ট্রায়ত্ত বিদ্যুত্ বাণিজ্য প্রতিষ্ঠান এনটিপিসি বিদ্যুত্ ব্যাপার নিগম লিমিটেড (এনভিভিএন) এবং পিডিবি ইতিমধ্যে এসএনএ চুক্তি সইয়ের প্রক্রিয়া শুরু করেছে। বিদ্যুৎ সরবরাহের শিডিউলিং, মিটারিং, এনার্জি অ্যাকাউন্টিং এবং আর্থিক নিষ্পত্তির ব্যয় এসএনএ চার্জে যুক্ত করেছে এনভিভিএন। প্রস্তাবিত চুক্তির বিষয়ে মতামত চেয়ে গত ১৮ আগস্ট অর্থ বিভাগে চিঠি দিয়েছে বিদ্যুত্ বিভাগ। ভারত প্রথমে প্রতি ইউনিট বিদ্যুতের জন্য এক ভারতীয় পয়সা এসএনএ চার্জ প্রস্তাব করেছিল। পরে দরকষাকষি করে পিডিবি তা অর্ধেকে অর্থাত্ আধা পয়সায় নামিয়ে আনতে সক্ষম হয়েছে।

এনভিভিএন পিডিবিকে জানিয়েছে, এসএনএ চার্জ বিদ্যুতের মূল ট্যারিফের অংশ নয়। আন্তঃদেশীয় বিদ্যুত্ বাণিজ্যে গ্রিড পরিচালনা ও আর্থিক নিষ্পত্তি সংক্রান্ত বিভিন্ন সেবার ব্যয় মেটাতে এ মাশুল নেওয়া হয়। প্রতিবেশী দেশগুলোর সঙ্গে বিদ্যুত্ বাণিজ্যের ক্ষেত্রে গ্রিড-সংশ্লিষ্ট মাশুল নিষ্পত্তির জন্য এসএনএ ব্যবস্থা চালু করেছে ভারতের জ্বালানি খাতের নিয়ন্ত্রক সংস্থা সিইআরসি।

সিইআরসির বিধিমালা অনুযায়ী, গ্রিড পরিচালনা, বিদ্যুত্ সরবরাহের শিডিউল তৈরি, মিটারিং, এনার্জি অ্যাকাউন্টিং এবং নির্ধারিত শিডিউল ও প্রকৃত বিদ্যুত্ সরবরাহের মধ্যে পার্থক্যের কারণে সৃষ্ট আর্থিক দায় নিষ্পত্তিসহ গ্রিড-সংশ্লিষ্ট অন্যান্য অর্থ পরিশোধের দায়িত্ব পালন করে এসএনএ।

পিডিবির এক কর্মকর্তা জানান, ভারতের বিদ্যুত্ খাতের বিধিবিধান অনুযায়ী এ চুক্তি করা প্রয়োজন। চুক্তি সইয়ে বিলম্ব হলে ভারত থেকে বাংলাদেশের ১,১৬০ মেগাওয়াট বিদ্যুত্ আমদানিতে বিঘ্ন ঘটার ঝুঁকি রয়েছে। প্রতি ইউনিটে মাশুলের পরিমাণ আপাতত কম মনে হলেও বাংলাদেশ দীর্ঘমেয়াদে বিপুল পরিমাণ বিদ্যুৎ আমদানি করায় সামগ্রিক আর্থিক প্রভাব উল্লেখযোগ্য হবে।

বিদ্যুৎ বিভাগের এক কর্মকর্তা জানান, ভুটান ও নেপালের সঙ্গে ভারতের ইতিমধ্যে এসএনএ চুক্তি রয়েছে। ভারত বর্তমানে ভুটান ও নেপালের সঙ্গে বিদ্যুত্ বাণিজ্যে যে হারে এসএনএ মাশুল নেয়, বাংলাদেশের ক্ষেত্রেও সেই হার বিবেচনায় নিতে প্রস্তাব করে পিডিবি। বাংলাদেশ চুক্তির আওতাভুক্ত পুরো ১,১৬০ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ একটানা আমদানি করলে প্রতি ঘণ্টায় বিদ্যুৎ আসবে ১১ লাখ ৬০ হাজার ইউনিট। প্রতি ইউনিটে আধা পয়সা হিসাবে এসএনএ চার্জ দাঁড়াবে ঘণ্টায় ৫,৮০০ ভারতীয় রুপি।

ভারতের বিদ্যুৎ গ্রিড ব্যবস্থায় বাংলাদেশকে পৃথক ‘কন্ট্রোল এরিয়া’ হিসেবে বিবেচনা করা হয়। ফলে বাংলাদেশে বিদ্যুৎ রপ্তানির ক্ষেত্রে মিটারিং, এনার্জি অ্যাকাউন্টিং এবং লেনদেন নিষ্পত্তির জন্য পৃথক ব্যবস্থা রয়েছে। এসব কার্যক্রমের ব্যয় বিদ্যুতের মূল দামের সঙ্গে অন্তর্ভুক্ত না করে আলাদা এসএনএ চার্জ হিসেবে আদায় করবে তারা।

ছয়টি পৃথক চুক্তির আওতায় বর্তমানে ভারত থেকে সর্বোচ্চ ২,৬৫৬ মেগাওয়াট বিদ্যুত্ আমদানি করা হয়। এর মধ্যে এনভিভিএনের মাধ্যমে এনটিপিসির একটি কেন্দ্র থেকে ২৫০ মেগাওয়াট, দামোদর ভ্যালি করপোরেশন থেকে ৩০০ মেগাওয়াট, ত্রিপুরা স্টেট ইলেকট্রিসিটি করপোরেশন থেকে ১৬০ মেগাওয়াট, পিটিসি ইন্ডিয়ার মাধ্যমে সেম্বকর্প এনার্জি ইন্ডিয়ার একটি কেন্দ্র থেকে ২০০ মেগাওয়াট এবং সেম্বকর্প এনার্জি ইন্ডিয়া থেকে আরো ২৫০ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ আমদানির ব্যবস্থা রয়েছে। এই পাঁচটি চুক্তির আওতায় মোট ১,১৬০ মেগাওয়াট বিদ্যুত্ সরবরাহের ক্ষেত্রেই নতুন এসএনএ চুক্তি প্রযোজ্য হবে। এর বাইরে ঝাড়খন্ডের গোড্ডায় আদানি পাওয়ারের বিদ্যুেকন্দ্র থেকে ১,৪৯৬ মেগাওয়াট বিদ্যুত্ আমদানির জন্য পিডিবির পৃথক চুক্তি রয়েছে। বিদ্যুত্ বিভাগের একজন কর্মকর্তা জানান, আদানি পাওয়ারের সঙ্গে করা চুক্তির মধ্যেই এসএনএ চার্জ অন্তর্ভুক্ত রয়েছে। ফলে ঐ ১,৪৯৬ মেগাওয়াট বিদ্যুতের জন্য নতুন করে আলাদা এসএনএ চুক্তি করতে হবে না।

দেশীয় গ্যাসের ঘাটতি, আমদানি করা জ্বালানির উচ্চমূল্য এবং স্থানীয় বিদ্যুেকন্দ্রগুলোর উত্পাদন সীমাবদ্ধতার কারণে চাহিদা সামাল দিতে ভারতীয় বিদ্যুতের ওপর নির্ভরতা বেড়েছে। নতুন এসএনএ চুক্তি কার্যকর হলে বিদ্যুতের মূল ট্যারিফের পাশাপাশি প্রতি ইউনিট আমদানির বিপরীতে ভারতীয় আধা পয়সা অতিরিক্ত ব্যয় যোগ হবে। ঐ পাঁচটি কেন্দ্র থেকে বাংলাদেশ বছরে যে পরিমাণ বিদ্যুত্ আমদানি করে তাতে বছরে প্রায় ৬ কোটি টাকা খরচ বাড়বে

নয়া দিগন্ত

দৈনিক নয়া দিগন্তের প্রধান শিরোনাম ‘রোহিঙ্গাদের ফেরা অনিশ্চিত’। প্রতিবেদনে বলা হয়, বাংলাদেশের আশ্রয়শিবিরে ১২ লাখের বেশি রোহিঙ্গা নিরাপদে নিজভূমিতে ফেরার আশায় থাকলেও দীর্ঘ ৯ বছরে তাদের অপেক্ষার প্রহর কাটেনি। রোহিঙ্গাদের নিজভূমিতে ফেরার প্রত্যাশা এখনো অধরাই। ২০১৭ সালের আগস্টে মিয়ানমার থেকে রোহিঙ্গাদের বাংলাদেশে আশ্রয় নেয়ার নয় বছর পূর্তি উপলক্ষে আগামিকাল ক্যাম্পের ভেতর মিলাদ মাহফিলসহ বিভিন্ন আয়োজন করা হয়েছে।

একদিকে মিয়ানমারের চলমান সঙ্ঘাত ও অস্থিতিশীলতা, অন্যদিকে আন্তর্জাতিক সহায়তা কমে আসার কারণে রোহিঙ্গা সঙ্কট নতুন করে জটিল হয়ে উঠছে। এমন বাস্তবতায় দিন যতই যাচ্ছে দেশে ফেরার অনিশ্চতায় হতাশায় ভূগছেন রোহিঙ্গারা। তবে দেশে ফেরা না হলেও এর নেপথ্যে আছে এক ভয়ঙ্কর তৎপরতা। ক্যাম্পে আধিপত্য, মাদক কারবার পরিচালনা, অপহরণ, অস্ত্র ব্যবসা থেকে শুরু করে সব ধরনের অপরাধ বেড়েই চলছে। আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর তথ্য অনুযায়ী গত ৯ বছরে রোহিঙ্গা ক্যাম্পে প্রায় ৩০০ জনের মতো খুন হয়েছেন। ক্যাম্পে প্রায় ১০টির বেশি সশস্ত্র ও অপরাধী চক্র সক্রিয় রয়েছে। যারা বিভিন্ন ধরনের অপরাধমূলক কার্যকলাপে জড়িত। অস্ত্র-মাদক কারবার, অপহরণ, আধিপত্য বিস্তার এবং চাঁদাবাজিতে দিন দিন অস্থিরতা বেড়েই চলছে। অপরাধ দমনে পুলিশ ও আর্মড পুলিশ ব্যাটালিয়ন (এপিবিএন) নিয়মিত অভিযান চালালেও ক্যাম্পের নিরাপত্তা পরিস্থিতি একটি বড় চ্যালেঞ্জ হিসেবে রয়ে গেছে।

রোহিঙ্গা সঙ্কটের টেকসই সমাধান নিশ্চিত করতে এবং বাংলাদেশের প্রতি সমর্থন বাড়াতে আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়কে সমন্বিত ও দীর্ঘমেয়াদি পদক্ষেপ নেয়ার আহ্বান জানিয়েছেন বিশেষজ্ঞ ও সরকারি কর্মকর্তারা।

সরকারি তথ্যানুযায়ী বর্তমানে কক্সবাজারের উখিয়া ও টেকনাফের ৩২টি আশ্রয়শিবিরে বসবাস করছে ১২ লাখেরও বেশি রোহিঙ্গা। ২০১৭ সালের ২৫ আগস্ট মিয়ানমারের সামরিক বাহিনীর দমন-পীড়নের মুখে মাত্র কয়েক সপ্তাহে প্রায় সাড়ে সাত লাখ রোহিঙ্গা বাংলাদেশে আশ্রয় নেয়। পরবর্তী সময়ে মিয়ানমারের অভ্যন্তরীণ সশস্ত্র যুদ্ধের কারণে নতুন করে রোহিঙ্গা সীমান্ত পেরিয়ে এ দেশে প্রবেশ করেছে আরো সাড়ে চার লাখ।

শরণার্থী ত্রাণ ও প্রত্যাবাসন কমিশনার (আরআরআরসি) অতিরিক্ত সচিব মো: মিজানুর রহমান বলেন, আন্তর্জাতিক সহায়তা কমে যাওয়ায় মানবিক কার্যক্রম পরিচালনা ক্রমেই কঠিন হয়ে পড়ছে। তবুও বাংলাদেশ সরকার রোহিঙ্গাদের ন্যূনতম মানবিক সেবা নিশ্চিত করতে কাজ করছে। একইসাথে নিরাপদ, স্বেচ্ছায় এবং মর্যাদাপূর্ণ প্রত্যাবাসনের জন্য কূটনৈতিক প্রচেষ্টাও অব্যাহত রয়েছে।

বাংলাদেশে স্থায়ীভাবে থাকতে চান না রোহিঙ্গারা: রোহিঙ্গা কমিউনিটি নেতা মাস্টার জুবায়ের হোসেন বলেন, বাংলাদেশ সরকার ও জনগণের প্রতি আমরা কৃতজ্ঞ। কিন্তু আমাদের চূড়ান্ত লক্ষ্য নিজ দেশে ফিরে যাওয়া। নিরাপত্তা, নাগরিকত্ব এবং মৌলিক অধিকার নিশ্চিত করা হলে আমরা স্বেচ্ছায় মিয়ানমারে ফিরে যেতে প্রস্তুত।

উখিয়ার কুতুপালং রোহিঙ্গা ক্যাম্পের বাসিন্দা মোহাম্মদ ইসমাইল বলেন, আমাদের সন্তানদের অনেকেই মিয়ানমার দেখেনি। আমরা বাংলাদেশে নিরাপদে আছি, কিন্তু এটি আমাদের দেশ নয়। আমরা নিজের ভিটেমাটিতে ফিরতে চাই। তবে, ফিরে গিয়ে যদি আবার নির্যাতন, সহিংসতা কিংবা বৈষম্যের শিকার হতে হয়, তাহলে সেই প্রত্যাবাসনের কোনো অর্থ থাকবে না। আমাদের নাগরিকত্বের স্বীকৃতি, নিরাপত্তা এবং স্বাধীনভাবে বসবাসের অধিকার নিশ্চিত করতে হবে।

টেকনাফের নয়াপাড়া ক্যাম্পের যুবক আবদুন নবী বলেন, শরণার্থী শিবিরে শিক্ষা, কর্মসংস্থান ও ভবিষ্যৎ নিয়ে অনিশ্চয়তা সবসময় তাড়া করে। তরুণ প্রজন্মের অনেকেই হতাশায় ভুগছে।

উখিয়ার জামতলী ক্যাম্পের জমিলা খাতুন বলেন, নারীরা সবচেয়ে বেশি কষ্টের মধ্যে আছে। অনেকেই স্বজন হারিয়েছেন, অনেকের পরিবার বিচ্ছিন্ন হয়ে গেছে। তবু আমরা আশা ছাড়িনি। আমরা আমাদের গ্রাম, আমাদের স্মৃতি, আমাদের শেকড়ে ফিরে যেতে চাই। সেই ফেরাটা হতে হবে নিরাপদ ও মর্যাদাপূর্ণ। শুধু সীমান্ত পার করে পাঠিয়ে দিলে সমস্যার সমাধান হবে না।

চাপ বাড়ছে স্থানীয় জনপদে: স্থানীয়দের অভিযোগ, বিপুলসংখ্যক রোহিঙ্গার উপস্থিতিতে বনভূমি উজাড়, পরিবেশের ভারসাম্যহানি, শ্রমবাজারে মজুরি কমে যাওয়া এবং আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে। যদিও মানবিক দৃষ্টিকোণ থেকে তারা রোহিঙ্গাদের আশ্রয়ের বিষয়টি সমর্থন করেন, তবুও সঙ্কটের দ্রুত ও টেকসই সমাধান দেখতে চান।

মানবাধিকার কর্মী জেসমিন আক্তার বলেন, আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি আগের তুলনায় উন্নত হলেও স্থানীয় মানুষের মধ্যে এখনো উদ্বেগ রয়েছে। মাদক, মানবপাচার ও অপরাধচক্রের তৎপরতা নিয়ে আশঙ্কা পুরোপুরি দূর হয়নি। নিরাপত্তা জোরদারের পাশাপাশি সঙ্কটের রাজনৈতিক সমাধান জরুরি।

নারী ও কিশোরীদের ঝুঁকি: মানবিক সংস্থাগুলোর তথ্যমতে, দীর্ঘস্থায়ী অনিশ্চয়তা, দারিদ্র্য ও সীমিত সুযোগের কারণে বাল্যবিবাহ, মানবপাচার, নিরাপত্তাহীনতা এবং শিক্ষা থেকে ঝরে পড়ার মতো সমস্যা উদ্বেগজনকভাবে বিদ্যমান। বিশেষ করে কিশোরীদের ভবিষ্যৎ নিয়ে শঙ্কা বাড়ছে পরিবারগুলোর মধ্যে।

নয়াপাড়া ক্যাম্পের বাসিন্দা মোহাম্মদ উল্লাহ বলেন, দালালচক্র এখনো নানাভাবে সক্রিয়। উন্নত জীবনের স্বপ্ন দেখিয়ে অনেক নারী ও তরুণকে পাচারের চেষ্টা করা হয়। সচেতনতা বাড়লেও ঝুঁকি পুরোপুরি কমেনি। এই বিষয়টিতে কঠোর নজরদারি দরকার। তিনি বলেন, সম্প্রতি উন্নত জীবনের স্বপ্ন দেখিয়ে মানবপাচারকারী চক্রের ফাঁদে পরে জীবন দিয়েছেন শতশত নারী-পুরুষ।

বণিক বার্তা

‘দুই কোটি শিশুর ভঙ্গুর ও দুর্বল প্রাথমিক শিক্ষা ব্যবস্থা বাংলাদেশে’-এটি দৈনিক বণিক বার্তার প্রধান শিরোনাম। খবরে বলা হয়, দেশের প্রাথমিক শিক্ষাস্তরে প্রাক-প্রাথমিক থেকে পঞ্চম শ্রেণী পর্যন্ত অধ্যয়নরত মোট শিক্ষার্থীর সংখ্যা ২ কোটি ১ লাখ ৮৩ হাজার ৪৮।

বিশ্বব্যাংকের মতে, বর্তমানে বাংলাদেশে বিশ্বের অন্যতম বৃহৎ প্রাথমিক শিক্ষা ব্যবস্থা চালু রয়েছে। তবে সংস্থাটির বিশ্লেষণ এবং বিভিন্ন শিক্ষা মূল্যায়ন প্রতিবেদনে দেখা যায়, এ ব্যবস্থার ভঙ্গুরতাও তীব্র। দেশের প্রাথমিক শিক্ষা বড় ধরনের লার্নিং ক্রাইসিসে (শিখন ঘাটতি) রয়েছে। ১০ বছর বয়সী শিশু শিক্ষার্থীদের ৫১ শতাংশই তাদের বয়স উপযোগী সাধারণ বাংলা-ইংরেজি লেখা পড়তে ও বুঝতে পারে না। পাশাপাশি তারা শ্রেণী উপযোগী গাণিতিক দক্ষতাও অর্জন করতে পারছে না।

বাংলাদেশের প্রাথমিক শিক্ষা বিশালতা ও ভঙ্গুরতার এক দ্বৈত বাস্তবতার মুখোমুখি। এটি বিশ্বের অন্যতম বৃহৎ প্রাথমিক শিক্ষা ব্যবস্থার একটি হলেও নানা ধরনের প্রাতিষ্ঠানিক ও কাঠামোগত সীমাবদ্ধতার মুখোমুখি। বিপুলসংখ্যক শিশু প্রাথমিক শিক্ষার আওতায় রয়েছে। শহর থেকে চর, হাওর, পাহাড়ি ও উপকূলীয় এলাকা পর্যন্ত এ রাষ্ট্রীয় শিক্ষার সুযোগ রয়েছে। প্রাথমিকের এ ব্যাপক বিস্তার বাংলাদেশের একটি বড় সাফল্য।

বিশ্বব্যাংকের ‘লার্নিং এনহ্যান্সমেন্ট অ্যান্ড অ্যাক্সিলারেশন ইন প্রাইমারি এডুকেশন ইন বাংলাদেশ’ শীর্ষক প্রোগ্রাম ইনফরমেশন ডকুমেন্টে প্রাথমিকের শিক্ষার্থীদের বাংলা, ইংরেজি ও গণিতে দক্ষতায় ঘাটতির চিত্র উঠে এসেছে। চলতি বছর প্রকাশিত এ প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, বাংলাদেশ গত দুই দশকে প্রাথমিকে সর্বজনীন সুযোগ সৃষ্টি, শিক্ষা সমাপ্তির হার বৃদ্ধি এবং জেন্ডার সমতা অর্জনে ধারাবাহিক অগ্রগতি দেখিয়েছে। তবে প্রাথমিকের পরিধি বিস্তৃত হলেও শিক্ষার্থীদের শ্রেণী উপযোগী দক্ষতা নিশ্চিতে বড় ধরনের ঘাটতি আছে।

বার্ষিক প্রাথমিক বিদ্যালয় পরিসংখ্যান ২০২৪ অনুযায়ী, দেশের প্রাথমিক স্তরে সরকারি ও বেসরকারি বিভিন্ন ধরনের প্রতিষ্ঠান মিলিয়ে ১ লাখ ১৮ হাজার ৬০৭ শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে অধ্যয়নরত ২ কোটি ১ লাখ ৮৩ হাজারের বেশি শিশু। সরকারি ৬৫ হাজার ৫৬৭টি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে অধ্যয়নরত ১ কোটি ৬ লাখ ১৭ হাজার ৯৬২ জন, যা মোট শিক্ষার্থীর ৫২ দশমিক ৬০ শতাংশ। তবে এ প্রতিবেদনে কওমি ধারার শিক্ষার্থীদের তথ্য অন্তর্ভুক্ত নয়।

প্রাথমিক স্তরে শিখন ঘাটতির পেছনে বেশকিছু কাঠামোগত ও প্রাতিষ্ঠানিক বিষয় চিহ্নিত করা হয়েছে। এর মধ্যে রয়েছে দুর্বল পাঠদান পদ্ধতি, স্কুল নেতৃত্বের ঘাটতি, অপর্যাপ্ত অবকাঠামো, জলবায়ুজনিত বিঘ্ন ও শিক্ষায় কম অর্থায়ন।

শিক্ষাবিদরা বলছেন, এসব সমস্যা জীবনমুখী মৌলিক দক্ষতা বিকাশে বাধা দেয়, যা শিক্ষার্থীদের ভবিষ্যৎ শিক্ষাগ্রাহ্যতা ও কর্মসংস্থানের জন্য অত্যন্ত জরুরি। শিক্ষা সংস্কারের পরবর্তী ধাপের প্রস্তুতিতে পরিবর্তনশীল কর্মসংস্থান ও সমাজের চাহিদার সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে শিক্ষার্থীর জন্য সমতাভিত্তিক ও গুণগত শিখন নিশ্চিত করার ওপর জরুরি ভিত্তিতে মনোযোগ দেয়া প্রয়োজন।

প্রাথমিক শিক্ষাসংশ্লিষ্টরা বলছেন, শিখন ঘাটতির পেছনে করোনার প্রভাব, বারবার পাঠ্যক্রম পরিবর্তন, শিক্ষায় পর্যাপ্ত বাজেট ও পরিকল্পনার অভাব বড় ভূমিকা রেখেছে। বাংলাদেশ প্রাথমিক শিক্ষক সমিতির সাধারণ সম্পাদক মোস্তাফিজুর রহমান শাহীন বণিক বার্তাকে বলেন, ‘করোনার সময়ে দেশের প্রাথমিক বিদ্যালয়গুলো প্রায় দুই বছর বন্ধ ছিল। ওই সময়ে শিক্ষার্থীদের মধ্যে একটি বড় ধরনের শিখন ঘাটতি হয়েছে। এ ঘাটতি কাটিয়ে উঠতে নানা ধরনের পরিকল্পনার কথা বলা হলেও সেগুলো খুব একটা কার্যকর হয়নি। এছাড়া শিক্ষার্থীদের মধ্যেও করোনা-পরবর্তী সময়ে পড়ালেখার প্রতি উদাসীনতা-অমনোযোগিতা বেড়েছে। পাশাপাশি বর্তমানে শিক্ষকদের একটি বড় অংশ পেশাগত সুযোগ-সুবিধা নিয়ে হতাশ। বেতন-ভাতা ও সুযোগ-সুবিধায় পিছিয়ে থাকায় মেধাবীরা এ পেশায় আসতে কম আগ্রহী হচ্ছেন।’

আজকের পত্রিকা

দৈনিক আজকের পত্রিকার প্রথম পাতার খবর ‘অর্থবছরের প্রথম মাস: ব্যাংক থেকে সরকারের ঋণ ১ মাসে ৫৬ হাজার কোটি’। প্রতিবেদনে বলা হয়, চলতি ২০২৬-২৭ অর্থবছরের প্রথম মাস জুলাইয়ে বাণিজ্যিক ব্যাংকগুলো থেকে ৫৬ হাজার কোটি টাকা ঋণ নিয়েছে সরকার। একই সময়ে বাংলাদেশ ব্যাংক থেকে নেওয়া আগের ঋণ পরিশোধ করেছে সাড়ে ৪৮ হাজার কোটি টাকা। ফলে সরকারের নিট ব্যাংকঋণ দাঁড়িয়েছে ৭ হাজার ৫০০ কোটি টাকা। বাংলাদেশ ব্যাংকের হালনাগাদ এক প্রতিবেদনে এ তথ্য জানা গেছে।

বিশ্বব্যাংকের ঢাকা অফিসের সাবেক প্রধান অর্থনীতিবিদ ড. জাহিদ হোসেন আজকের পত্রিকাকে বলেন, সরকারের আয়ের সক্ষমতার তুলনায় ব্যয় অনেক বেশি বলেই বেশি ঋণ নিতে হচ্ছে। আবার নতুন বেতনকাঠামোও চলতি অর্থবছরে বাস্তবায়নের ঘোষণা দিয়েছে সরকার। যদিও রাজস্ব আদায় বাড়ানোর তেমন পদক্ষেপ নেই। ফলে সামনে সরকারের ব্যয় আরও বাড়বে। উচ্চ সুদহারের কারণে ঋণের ব্যয়ও বাড়ছে।

প্রতিবেদন অনুযায়ী, জুলাইয়ে সরকারি ট্রেজারি বিলের চারটি নিলামের মাধ্যমে বাজার থেকে মোট ৪৪ হাজার কোটি টাকা তোলা হয়েছে, যা আগের মাসের তুলনায় ৬ হাজার কোটি টাকা বা ১৫ দশমিক ৭৯ শতাংশ বেশি। বিপরীতে একই মেয়াদি বিলের ৩৯ হাজার কোটি টাকা পরিশোধ করা হয়েছে। ফলে ট্রেজারি বিল থেকে সরকারের নিট ঋণ দাঁড়িয়েছে ৫ হাজার কোটি টাকা।

অন্যদিকে ২ থেকে ২০ বছর মেয়াদি ট্রেজারি বন্ডের তিনটি নিলামের মাধ্যমে সরকার জুলাইয়ে ১২ হাজার কোটি টাকা ঋণ নিয়েছে। একই সময়ে পরিশোধ করেছে ৯ হাজার ৫০০ কোটি টাকা। এতে বন্ডে নিট ঋণ দাঁড়িয়েছে ২ হাজার ৫০০ কোটি টাকা। বিল ও বন্ড মিলিয়ে মোট নিট ঋণ ৭ হাজার ৫০০ কোটি টাকা।

অপর এক প্রতিবেদনে দেখা গেছে, গত জুন শেষে বেসরকারি খাতে ঋণ প্রবৃদ্ধির পরিমাণ ছিল ৪ দশমিক ৪৭ শতাংশ, যা ইতিহাসের সর্বনিম্ন। এ পরিস্থিতিতে বেসরকারি খাতের ঋণপ্রবাহ বাড়াতে ৬০ হাজার কোটি টাকার প্রণোদনা প্যাকেজ ঘোষণা করা হলেও এর বাস্তবায়ন এখনো শুরু হয়নি।

ব্যাংকাররা বলছেন, এই মুহূর্তে অনেক ব্যাংকেই অলস টাকা পড়ে আছে। কিন্তু বেসরকারি খাতে ঋণের চাহিদা নেই। তাই ব্যাংকগুলো বাধ্য হয়ে ট্রেজারি বিল-বন্ডে বিনিয়োগ বাড়াচ্ছে।

অ্যাসোসিয়েশন অব ব্যাংকার্স, বাংলাদেশের (এবিবি) সাবেক চেয়ারম্যান ও মিউচুয়াল ট্রাস্ট ব্যাংকের ব্যবস্থাপনা পরিচালক সৈয়দ মাহবুবুর রহমান আজকের পত্রিকাকে বলেন, বেসরকারি খাতে ঋণ না বাড়িয়ে শুধু সরকারি সিকিউরিটিজে বিনিয়োগ বাড়ানো অর্থনীতি ও কর্মসংস্থানের জন্য ইতিবাচক নয়। ব্যাংকগুলো বেসরকারি খাতে বিনিয়োগ করতে প্রস্তুত। চাহিদা বাড়লেই ব্যাংকগুলো বিনিয়োগ করতে পারবে।

সদ্য বিদায়ী ২০২৫-২৬ অর্থবছরে ব্যাংক খাত থেকে ১ লাখ ৪ হাজার কোটি টাকা ঋণের লক্ষ্য নির্ধারণ করা হলেও সংশোধিত বাজেটে তা বাড়িয়ে ১ লাখ ১৮ হাজার কোটি টাকা করা হয়। শেষ পর্যন্ত সংশোধিত লক্ষ্যের চেয়েও ৩৪ দশমিক ৫ শতাংশের বেশি ঋণ নেয় সরকার। চলতি ২০২৬-২৭ অর্থবছরে ব্যাংক থেকে ১ লাখ ১২ হাজার কোটি টাকা ঋণের লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়েছে। ঋণের সঙ্গে বাড়ছে সুদের ব্যয়ও। ২০২৬-২৭ অর্থবছরে সুদ পরিশোধে সরকারের ব্যয় হতে পারে ১ লাখ ২৭ হাজার ৫০০ কোটি টাকা।

জানতে চাইলে বাংলাদেশ ব্যাংকের নির্বাহী পরিচালক ও মুখপাত্র আরিফ হোসেন খান বলেন, সরকারের চাহিদা অনুযায়ী ট্রেজারি বিল-বন্ডের মাধ্যমে ঋণের জোগান দেওয়া বাংলাদেশ ব্যাংকের দায়িত্ব। তবে এ ঋণ কীভাবে পরিশোধ করা হবে, সেটি সরকারকেই ভাবতে হবে। রাজস্ব প্রত্যাশা অনুযায়ী না আসায় ঋণের ওপর নির্ভরতা বাড়ছে বলেও জানান তিনি।

দেশ রূপান্তর

‘আধিপত্যের রাজনীতি ফিরছে ক্যাম্পাসে’-এটি দৈনিক দেশ রূপান্তরের প্রধান শিরোনাম। খবরে বলা হয়, জুলাই আন্দোলনে সবার লক্ষ্য ছিল এক- ফ্যাসিবাদী সরকারের পতন। আন্দোলনে ছাত্রদল ও ছাত্রশিবিরসহ বিভিন্ন রাজনৈতিক ও অরাজনৈতিক মতের শিক্ষার্থীরা পাশাপাশি দাঁড়িয়েছিলেন। কিন্তু সরকার পতনের পর বদলে গেছে রাজনৈতিক সমীকরণ। বিশেষ করে জাতীয় নির্বাচনের পর দেশের বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে ছাত্রদল ও ছাত্রশিবিরের মধ্যে দূরত্ব বাড়ছে। কোথাও পাল্টাপাল্টি কর্মসূচি, কোথাও সংঘর্ষ, আবার কোথাও প্রকাশ্য আধিপত্যের লড়াই। ফলে জুলাই-পরবর্তী ক্যাম্পাস রাজনীতি নিয়ে তৈরি হয়েছে নতুন প্রশ্ন যে আধিপত্যের রাজনীতির বিরুদ্ধে শিক্ষার্থীরা রাস্তায় নেমেছিল, সেই রাজনীতিই কি নতুন পরিচয়ে আবার ক্যাম্পাসে ফিরে আসছে?

বিশ্লেষকদের মতে, দীর্ঘদিন ক্যাম্পাসগুলোতে ছাত্রলীগের আধিপত্য থাকার পর নতুন রাজনৈতিক বাস্তবতায় ছাত্রদল ও ছাত্রশিবির দুই সংগঠনই নিজেদের সাংগঠনিক অবস্থান শক্ত করার চেষ্টা করছে। অনেক ক্ষেত্রেই আদর্শিক মতপার্থক্যের পাশাপাশি কে ক্যাম্পাসে কতটা প্রভাব বিস্তার করবে, কে আবাসিক হল বা সাংগঠনিক কর্মকাণ্ড নিয়ন্ত্রণ প্রতিষ্ঠা করবে এসব প্রশ্ন বিবেচনায় আসছে। শুধু তাই নয়, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদ ডাকসুসহ বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র সংসদ নির্বাচনে ছাত্রশিবিরের নিরঙ্কুশ বিজয় এবং জুলাই পরবর্তী সময়ে দলীয় পরিচয়ের বাইরেও বিভিন্ন সংগঠনের ব্যানারে ছাত্রশিবির যে শক্ত অবস্থান গড়েছে তাকে জাতীয় নির্বাচনের পর থেকে শক্তভাবে মোকাবিলা করার চেষ্টা করছে ছাত্রদল।

ছাত্রদল ও ছাত্রশিবিরের নেতাকর্মীদের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, জুলাই আন্দোলনের সময় রাজনৈতিক পরিচয়ের চেয়ে আন্দোলনের অভিন্ন লক্ষ্যই বড় হয়ে উঠেছিল তাদের কাছে। কিন্তু এখন সেই ঐক্যের জায়গায় ধীরে ধীরে ফিরে এসেছে সাংগঠনিক পরিচয়, রাজনৈতিক প্রতিযোগিতা ও ক্যাম্পাস নিয়ন্ত্রণের প্রশ্ন। উভয় পক্ষই নিজেদের সুষ্ঠু ধারার রাজনীতির বাহক দাবি করে অন্যকে ক্যাম্পাসের সুষ্ঠু পরিবেশ নষ্টের জন্য দায়ী করছে। ছাত্রদল মনে করে, ছাত্রশিবির স্বাধীনতাবিরোধী শক্তিকে নর্মালাইজ করার চেষ্টা করছে এবং নিজেদের ধর্মীয় ভাবনা পুঁজি করে শিক্ষার্থীদের মধ্যে বিভেদ উসকে দিচ্ছে। জুলাই পরবর্তী সময়ে প্রশাসনে জামাত-শিবির ঘরানার আধিপত্য থাকার ফায়দা নিয়ে শিবির ক্যাম্পাসে শক্ত অবস্থান নিয়েছিল। ফলে অনেকটা কোণঠাসা থেকে রাজনীতি করতে হয়েছিল ছাত্রদলকে। অপরদিকে ছাত্রশিবির মনে করে, ছাত্রদল দখলদারিত্ব ও চাঁদাবাজির রাজত্ব কায়েম করতে চায়। তারা সরকারি দলের সহযোগী সংগঠন হওয়ার কারণে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন এবং পুলিশের সহযোগিতা পাচ্ছে।

খোঁজ নিয়ে জানা যায়, ৫ আগস্টের পরে বিশ্ববিদ্যালয়গুলো ‘এককভাবে’ নিয়ন্ত্রণে নেয় ছাত্রশিবির। ২০২৫ সালের ছাত্রসংসদ নির্বাচনগুলোর মাধ্যমে সেই নিয়ন্ত্রণ আরও পাকাপোক্ত হয়। ঢাকা, রাজশাহী, চট্টগ্রাম, জাহাঙ্গীরনগর ও জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ে ছাত্র সংসদ নির্বাচনে একক আধিপত্য দেখিয়েছে তারা। তারা চায় ছাত্র সংসদকে কাজে লাগিয়ে এ আধিপত্য ধরে রাখতে। তারা মনে করে, এতে তারা জাতীয় রাজনীতিতেও চাপ সৃষ্টি করতে পারবে। অপরদিকে, ১২ ফেব্রুয়ারির জাতীয় নির্বাচনে নিরঙ্কুশ সংখ্যাগরিষ্ঠতা পেয়ে বিএনপি সরকার গঠনের পর শিক্ষাঙ্গনে ছাত্রদল নিজেদের অবস্থান তৈরির চেষ্টা চালাচ্ছে। তারা যেকোনো উপায়ে ক্যাম্পাসগুলোতে নিজেদের অবস্থান পুনরুদ্ধার করতে চায়। ফলে প্রশ্ন উঠছে, ছাত্রলীগের পুরনো আধিপত্যের জায়গায় যদি ছাত্রদল বা ছাত্রশিবিরের একক আধিপত্য প্রতিষ্ঠিত হয়, তাহলে কি ক্যাম্পাসের রাজনৈতিক সংস্কৃতির মৌলিক কোনো পরিবর্তন হবে? নাকি শুধু আধিপত্যকারী সংগঠনের নাম বদলাবে?

বাংলাদেশ প্রতিদিন

দৈনিক বাংলাদেশ প্রতিদিনের প্রথম পাতার খবর ‘মালয়েশিয়ার শ্রমবাজারে নতুন সিন্ডিকেট’। প্রতিবেদনে বলা হয়, দীর্ঘদিন বন্ধ থাকার পর বাংলাদেশি কর্মীদের জন্য মালয়েশিয়ার শ্রমবাজার পুনরায় চালুর প্রক্রিয়ায় আবারও ‘সিন্ডিকেট’ নিয়ে শঙ্কা দেখা দিয়েছে। মালয়েশিয়া ফরেন ওয়ার্কার্স সেন্ট্রালাইজড ম্যানেজমেন্ট সিস্টেম (এফডব্লিউসিএমএস) বাংলাদেশি ২৫টি রিক্রুটিং এজেন্সির তালিকা প্রকাশের পর তৈরি হয়েছে নতুন বিতর্ক। অখ্যাত এজেন্সির নামে নেপথ্যে শ্রমবাজার নিয়ন্ত্রণে নিয়েছে নতুন একটি প্রভাবশালী চক্র। ফলে আশঙ্কা তৈরি হয়েছে আগের মতোই বিশাল অভিবাসন ব্যয়ের।

নতুন ব্যবস্থায় এসব এজেন্সি কীভাবে কর্মী নিয়োগ করবে, কারা চাকরির চাহিদাপত্র পাবে এবং কর্মী পাঠানোর ক্ষেত্রে অন্য বৈধ এজেন্সিগুলোর সুযোগ থাকবে কি না, এসব বিষয়ে এখনো নেই কোনো স্পষ্টতা। আবার ‘নতুন সিন্ডিকেট’কে কর্মী পাঠানোর দায়িত্ব দিলে তা হবে দেশের সর্বোচ্চ আদালতের রায়কে অবমাননা করা। শনিবার মালয়েশিয়ার এফডব্লিউসিএমএসের পক্ষ থেকে দেওয়া তালিকায় থাকা ২৫ এজেন্সি হলো- বাংলাদেশ ওয়ান ওভারসিজ লিমিটেড, বেঙ্গল হিউম্যান রিসোর্সেস ডেভেলপমেন্ট, জেনারেল ট্রেডিং কোম্পানি, মেসার্স ইউনাইটেড গালফ সার্ভিসেস, অ্যানেসা এয়ার ইন্টারন্যাশনাল, আত-তাকওয়া ওভারসিজ লিমিটেড, আর্থ-স্মার্ট বাংলাদেশ লিমিটেড, খানজাহান আলী ওভারসিজ, মেসার্স আল-সুপ্ত ওভারসিজ, মাদারল্যান্ড ওভারসিজ লিমিটেড, রিফা ইন্টারন্যাশনাল, ভেলি ট্রেড ইন্টারন্যাশনাল, এ-প্লাস ইন্টারন্যাশনাল, আল-হায়াত ওভারসিজ, ভালুকা ওভারসিজ, ব্রাদার্স ট্রেডিং অ্যান্ড কন্ট্রাক্টিং লিমিটেড, চাঁদপুর ইন্টারন্যাশনাল, কান্ট্রি এমপ্লয়মেন্ট এজেন্সি, গুডনেস সার্ভিসেস লিমিটেড, জুয়েল রিঙ্কু এন্টারপ্রাইজ, মেসার্স সাতক্ষীরা ইন্টারন্যাশনাল, ম্যানগ্রোভ ক্যারিয়ার লিঙ্ক, নেবারস অ্যাসোসিয়েটস লিমিটেড, তানিয়া ট্রেড ইন্টারন্যাশনাল ও অ্যাঙ্কর কেয়ার গ্লোবাল মাইগ্রেশন। জনশক্তি রপ্তানিকারকদের সূত্রগুলো বলছে, তালিকায় থাকা এজেন্সি সর্বশেষ সিন্ডিকেটের বিভিন্ন রিক্রুটিং এজেন্সির প্রতিনিধিত্ব করছে। এর মধ্যে বাংলাদেশ ওয়ান ওভারসিজ লিমিটেড আগের সিন্ডিকেটের আমিন ট্যুরসের, বেঙ্গল হিউম্যান রিসোর্সেস ডেভেলপমেন্ট আগের সিন্ডিকেটের ক্যাথারসিস ইন্টারন্যাশনালের, ইউনাইটেড গালফ সার্ভিসেস আগের সিন্ডিকেটের গ্রিনল্যান্ড ওভারসিজের, অ্যানেসা এয়ার ইন্টারন্যাশনাল আগের সিন্ডিকেটের কমফোর্ট ওভারসিজের, মাদারল্যান্ড ওভারসিজ লিমিটেড আগের সিন্ডিকেটের আল ফালা’হর, এ-প্লাস ইন্টারন্যাশনাল আগের সিন্ডিকেটের মুস্তাফিজের, আল-হায়াত ওভারসিজ আগের সিন্ডিকেটের ক্যাথারসিস ইন্টারন্যাশনালের, চাঁদপুর ইন্টারন্যাশনাল আগের সিন্ডিকেটের শাহিন মুবিন এয়ারের, কান্ট্রি এমপ্লয়মেন্ট এজেন্সি ও গুডনেস সার্ভিসেস লিমিটেড আগের সিন্ডিকেটের ক্যাথারসিস ইন্টারন্যাশনালের এবং আগের সিন্ডিকেটের হুমায়ূন সুপার ইস্টার্নের তানিয়া ট্রেড ইন্টারন্যাশনালের প্রতিনিধি হিসেবে এবারের সিন্ডিকেটে রয়েছে। এ ছাড়া মালয়েশিয়া বিএনপির সেক্রেটারির রেফারেন্সে খানজাহান আলী ওভারসিজ, সাবেক এমপি গফুর ভ্ইূয়ার রেফারেন্সে আল-সুপ্ত ওভারসিজ এবং আলী আজগর লবী এমপির রেফারেন্সে ভেলি ট্রেড ইন্টারন্যাশনাল রয়েছে নতুন সিন্ডিকেটে। তালিকা বিশ্লেষণে দেখা যায়, এ তালিকায় স্থান পাওয়া এজেন্সিগুলোর বেশির ভাগই অখ্যাত এজেন্সি। এদের বেশির ভাগেরই বড় সংখ্যায় জনশক্তি পাঠানোর রেকর্ড নেই। এসব এজেন্সির পেছনে রেফারেন্সে থাকা প্রতিষ্ঠানগুলোই কাজ করছে। যেসব লাইসেন্স ব্যবহার করা হচ্ছে তাদের পাসপোর্ট প্রতি নির্দিষ্ট কমিশন দেওয়ার প্রতিশ্রুতিতে তালিকায় যুক্ত করা হয়েছে।

দীর্ঘদিন সিন্ডিকেটের বিরুদ্ধে আন্দোলন করা বাংলাদেশ অ্যাসোসিয়েশন অব ইন্টারন্যাশনাল রিক্রুটিং এজেন্সিস-বায়রার সাবেক যুগ্ম মহাসচিব ফখরুল ইসলাম বাংলাদেশ প্রতিদিনকে বলেন, বর্তমান সরকারের দায়িত্বশীল ব্যক্তিরা বিভিন্ন সময়ে প্রকাশ্যে সিন্ডিকেটের বিরুদ্ধে কঠোর অবস্থানের কথা বলেছেন। মন্ত্রী, প্রতিমন্ত্রী ও সংশ্লিষ্ট উপদেষ্টাদের বক্তব্য আমাদের আশাবাদী করেছিল। আমরাও নীতিনির্ধারকদের কাছে বারবার অনুরোধ জানিয়েছি-মালয়েশিয়া শ্রমবাজার সব বৈধ রিক্রুটিং এজেন্সির জন্য উন্মুক্ত করার। কিন্তু আবারও মাত্র ২৫টি এজেন্সিকে কেন্দ্র করে একচেটিয়া নিয়োগব্যবস্থা তৈরির চেষ্টা চলছে। তালিকায় অন্তর্ভুক্তির জন্য ৫ মিলিয়ন রিঙ্গিত বা প্রায় ১৭ কোটি টাকা দাবি করা হচ্ছে বলে অভিযোগ রয়েছে। কর্মীপ্রতি ৫ হাজার রিঙ্গিত সিন্ডিকেট ফি আদায়ের পরিকল্পনার অভিযোগও উঠেছে। আমরা এসব গুরুতর অভিযোগের নিরপেক্ষ ও সুষ্ঠু তদন্ত দাবি করছি। সর্বশেষ ২৫ সিন্ডিকেটের নেতৃত্ব দেওয়ার অভিযোগে লাইসেন্স বাতিল হওয়া ক্যাথারসিস ইন্টারন্যাশনালের রুহুল আমিন স্বপন বাংলাদেশ প্রতিদিনকে জানান, আমার বিষয়ে বিভিন্ন মাধ্যমে বলা হলেও এবার মালয়েশিয়ায় শ্রমবাজারের কোনো কিছুতেই আমি বা আমার প্রতিষ্ঠানের সংশ্লিষ্টতা নেই।

ব্র্যাক মাইগ্রেশন প্রোগ্রামের প্রধান শরিফুল হাসান বাংলাদেশ প্রতিদিনকে বলেন, মালয়েশিয়ার কর্মী নিয়োগে এফডব্লিউসিএমএস নিয়ন্ত্রিত সিন্ডিকেটব্যবস্থা মূলত একটি একচ্ছত্র মনোপলি প্রতিষ্ঠা করেছে। যেখানে সরকারি নির্ধারিত ফি ৩৩ হাজার থেকে ১ লাখ টাকা হলেও বাস্তবে কর্মীদের কাছ থেকে ৫ থেকে ৮ লাখ টাকা হাতিয়ে নিয়ে হাজার কোটি টাকার দুর্নীতি ও অর্থ পাচার করা হচ্ছে। ২০১৬-১৭ সালের ১০ জনের সিন্ডিকেটের মাধ্যমে সৃষ্ট ব্যাপক মানব পাচার ও প্রায় ৫ হাজার কোটি টাকার দুর্নীতির অভিযোগে ২০১৮ সালে মাহাথির মোহাম্মদের সরকার এ ব্যবস্থা বন্ধ করলেও ২০২২ সালের পর তা আবার ২৫ জনের বর্ধিত সিন্ডিকেটে রূপান্তরিত হয়ে ফিরে আসে। এর পেছনে দুই দেশের প্রভাবশালী রাজনৈতিক ব্যক্তি ও সাবেক মন্ত্রীদের সংশ্লিষ্টতা ছিল। শরিফুল হাসান বলেন, আইন, বিচারব্যবস্থা ও সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়কে উপেক্ষা করে ব্যক্তিবিশেষের দুর্নীতিকে প্রতিষ্ঠিত করার এ প্রক্রিয়া দুই দেশের জন্যই চরম লজ্জাজনক। নেপাল যেভাবে সিন্ডিকেটের বিরুদ্ধে দৃঢ় অবস্থান নিয়ে তা প্রত্যাখ্যান করেছে, বাংলাদেশেরও উচিত একই শক্তিশালী বার্তা দেওয়া। কারণ সিন্ডিকেটের মাধ্যমে কর্মী পাঠালে শ্রমিকের শোষণ ও অর্থ পাচার ছাড়া দেশ বা জনগণের কোনো কল্যাণ সাধিত হয় না।