মালয়েশিয়ার অর্থনীতি ও উচ্চশিক্ষা খাতে বড় ধরনের সাফল্য ও গতির সঞ্চার করেছে আন্তর্জাতিক শিক্ষার্থীরা। দেশটির বিভিন্ন সরকারি ও বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ে অধ্যয়নরত বিদেশী শিক্ষার্থীরা শুধু শিক্ষাক্ষেত্রেই অবদান রাখছেন না, বরং মালয়েশিয়ার জাতীয় অর্থনীতিতে বার্ষিক বিপুল অঙ্কের রাজস্ব যোগ করছেন।
দেশটির জাতীয় সংবাদ মাধ্যম "বারনামা" জানিয়েছে, বর্তমানে মালয়েশিয়ায় অবস্থানরত প্রায় ১ লাখ ৬৭ হাজার আন্তর্জাতিক শিক্ষার্থী টিউশন ফি ও জীবনযাত্রার ব্যয়ের মাধ্যমে দেশের অর্থনীতিতে প্রতি বছর প্রায় ২০ বিলিয়ন রিঙ্গিত (মালয়েশিয়ান রিংগিত) অবদান রাখছেন। এডুকেশন মালয়েশিয়া গ্লোবাল সার্ভিসেস (ইএমজিএস)-এর প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা (সিইও) নোভি তাজুদ্দিন সম্প্রতি এক বিশেষ অনুষ্ঠানে এই গুরুত্বপূর্ণ তথ্য প্রকাশ করেন।
ইএমজিএস এর করা একটি সাম্প্রতিক জরিপ ও গবেষণার তথ্য উদ্ধৃত করে নোভি তাজুদ্দিন জানিয়েছেন, মালয়েশিয়ায় অধ্যয়নরত প্রতিটি আন্তর্জাতিক শিক্ষার্থী তাঁদের অবস্থানকালে টিউশন ফি, বাসস্থান, খাদ্য ও অন্যান্য দৈনন্দিন খরচ বাবদ প্রতি মাসে গড়ে প্রায় ১০ হাজার রিঙ্গিত ব্যয় করে থাকেন। এই বিপুল পরিমাণ অর্থ সরাসরি মালয়েশিয়ার স্থানীয় বাজারে প্রবেশ করছে, যা জাতীয় ও আঞ্চলিক অর্থনীতিকে শক্তিশালী করছে।
তিনি আরও উল্লেখ করেছেন, আন্তর্জাতিক শিক্ষার্থীদের আগমন কেবল রাজধানী কুয়ালালামপুর বা বড় শহরগুলোর উচ্চশিক্ষা প্রতিষ্ঠানসমূহকেই সমৃদ্ধ করছে না, বরং দেশটির প্রত্যন্ত অঞ্চলের বিশ্ববিদ্যালয়গুলো যেমন—তেরেংগানুর 'ইউনিভার্সিটি সুলতান জয়নাল আবেদিন'এবং 'ইউনিভার্সিটি মালয়েশিয়া তেরেংগানু এর আশেপাশের সামাজিক ও অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ডেও ব্যাপক ইতিবাচক প্রভাব ফেলছে। বিদেশী শিক্ষার্থীদের খরচের কারণে স্থানীয় খাদ্য ব্যবসা, আবাসন, পরিবহন ও অন্যান্য সেবা খাত নতুন জীবন পাচ্ছে।
ইএমজিএস সিইও আরও বলেছেন, মালয়েশিয়া এখন বিশ্বের শীর্ষ ১৪টি আন্তর্জাতিক উচ্চশিক্ষা গন্তব্যের তালিকায় স্থান করে নিয়েছে। যুক্তরাজ্য, যুক্তরাষ্ট্র, অস্ট্রেলিয়া ও কানাডার মতো ঐতিহ্যবাহী পরাশক্তিগুলোর পাশাপাশি মালয়েশিয়াও এখন বৈশ্বিক শিক্ষাক্ষেত্রে শক্তিশালী প্রতিদ্বন্দ্বী হিসেবে আত্মপ্রকাশ করেছে।
বিগত তিন বছরে মালয়েশিয়ায় বিদেশী শিক্ষার্থীর সংখ্যা প্রায় ২৩ শতাংশ বৃদ্ধি পেয়েছে। বর্তমানে মালয়েশিয়ায় শিক্ষার্থী পাঠানো শীর্ষ পাঁচটি দেশের মধ্যে রয়েছে চীন, ইন্দোনেশিয়া, বাংলাদেশ, ভারত এবং পাকিস্তান। বাংলাদেশ অবস্থান করছে এ তালিকার তৃতীয় শীর্ষে।
এসব শিক্ষার্থীদের একটি বড় অংশই বিশ্ববিদ্যালয়ের স্নাতকোত্তর (পোস্টগ্রাজুয়েট) ও উচ্চতর গবেষণা পর্যায়ে অধ্যয়নরত।
বারনামা আরও লিখেছে, মালয়েশিয়া সরকারের ১০ বছর মেয়াদী 'মালয়েশিয়া হায়ার এডুকেশন ব্লুপ্রিন্ট'-এর কথা উল্লেখ করে নোভি তাজুদ্দিন জানিয়েছেন, ২০৩৫ সালের মধ্যে দেশে ৫ লাখ আন্তর্জাতিক শিক্ষার্থী আকর্ষণের মহাপরিকল্পনা গ্রহণ করা হয়েছে। এই লক্ষ্য অর্জনে ইএমজিএস বিশ্বের সাত থেকে আটটি প্রধান অঞ্চলে সরাসরি প্রচারণা ও রোডশো পরিচালনা করবে।
