ইলিয়াস আলী গুম

উইং কমান্ডার সাইফুরকে কারাগারে প্রেরণ

ফন্ট সাইজ:

বিএনপি’র নেতা ও সাবেক এমপি ইলিয়াস আলীকে গুমের ঘটনায় করা মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় বিমান বাহিনীর উইং কমান্ডার সাইফুর রহমান সাইফকে গ্রেপ্তার দেখিয়ে কারাগারে পাঠানোর আদেশ দিয়েছেন ট্রাইব্যুনাল। একইসঙ্গে তদন্ত প্রতিবেদন দাখিলের জন্য আগামী ২৫শে অক্টোবর দিন ধার্য করা হয়েছে। গতকাল আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-১ এর চেয়ারম্যান বিচারপতি মো. গোলাম মর্তূজা মজুমদারের নেতৃত্বাধীন তিন সদস্যের বিচারিক প্যানেল এ আদেশ দেন। এদিন সকাল ৯টার পর তাকে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে হাজির করা হয়। এজলাসে উঠনোর পর আবার নামিয়ে ট্রাইব্যুনালের গারদে নিয়ে যাওয়া হয়।

পরে, প্রসিকিউটর ব্যারিস্টার এসএম মইনুল করিম মানবজমিনকে বলেন, এই মামলায় সাইফুর রহমানকে গ্রেপ্তার দেখিয়ে কারাগারে পাঠানোর জন্য বিচারকগণ খাস কামরা থেকে আদেশ প্রদান করেছেন। কিছুক্ষণ পরে আসামিপক্ষের আইনজীবী তাবারক হোসেন আসামির জামিন শুনানি করতে ট্রাইব্যুনালে আবেদন করেন। পরে বেলা ২টায় মামলার জামিন শুনানি শুরু হয়। শুনানির শুরুতে এ মামলায় গ্রেপ্তার দেখিয়ে কারাগারে পাঠানোর আবেদন করেন চিফ প্রসিকিউটর মো. আমিনুল ইসলাম। তিনি বলেন, গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারির সময় তদন্তকারী কর্মকর্তা যে প্রতিবেদন দিয়েছিলেন, তাতে সাইফুর রহমানের বিরুদ্ধে গুরুতর অভিযোগের তথ্য রয়েছে। তিনি র?্যাবে কর্মরত ছিলেন এবং জিয়াউল আহসানের অন্যতম সহযোগী হিসেবে বিভিন্ন হত্যাকাণ্ডে সরাসরি সম্পৃক্ত ছিলেন বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। এ ছাড়া জিয়াউল আহসানের মামলায় সাক্ষ্য দেয়া কয়েকজন সাক্ষীর জবানবন্দিতেও সাইফুর রহমানের নাম এসেছে। তিনি বলেন, ইলিয়াস আলীসহ আরও অনেক ভিকটিমকে গুমের ঘটনায় সাইফুর রহমানের বিরুদ্ধে প্রত্যক্ষ সাক্ষ্য-প্রমাণ রয়েছে। তবে তদন্ত চলমান থাকায় এ মুহূর্তে সব তথ্য-প্রমাণ প্রকাশের আইনগত সুযোগ নেই। অতএব তাকে গ্রেপ্তার দেখিয়ে কারাগারে পাঠানোর নিবেদন করছি আমরা।

এদিকে, সাইফুরের জামিন চেয়ে শুনানি করেন তার আইনজীবী তাবারক হোসেন। শুনানিতে তিনি বলেন, ২০০৩ সালে বিমান বাহিনীতে কমিশনপ্রাপ্ত হন সাইফুর রহমান। তিনি একজন চৌকস কর্মকর্তা। তার বিরুদ্ধে কোনো ধরনের অভিযোগ নেই। গুম কমিশনের প্রতিবেদনে সাইফুর রহমানের নাম নেই। এমনকি অনেক আসামি পালিয়ে গেলেও আইনের প্রতি শ্রদ্ধাশীল হয়ে ট্রাইব্যুনালের মুখোমুখি হয়েছেন তিনি। এই আইনজীবী আরও বলেন, এ মামলায় তদন্তের জন্য যখনই সাইফুর রহমানকে প্রয়োজন হবে, তখনই সহায়তা করা হবে। তদন্তে বাধা সৃষ্টি হলে জামিন বাতিল করতে পারেন। তাকে বিমান বাহিনীর হেফাজতে রেখে জামিনের সুযোগ দেয়া হোক। উভয়পক্ষের শুনানি শেষে সাইফকে গ্রেপ্তার দেখিয়ে কারাগারে পাঠানোর আদেশ দেন ট্রাইব্যুনাল। শুনানি শেষে চিফ প্রসিকিউটর সাংবাদিকদের বলেন, উইং কমান্ডার সাইফুর রহমান সাইফকে গ্রেপ্তার দেখিয়ে কারাগারে পাঠানোর আদেশ দিয়েছেন ট্রাইব্যুনাল। আসামি আগে সামরিক পুলিশ শাখার কাস্টডিতে ছিলেন। এখন ট্রাইব্যুনালের পূর্ণাঙ্গ আদেশ পাওয়ার পর তাকে কোথায় রাখা হবে, তা স্পষ্ট হবে। তবে প্রসিকিউশন তাকে কারাগারে রাখার আবেদন জানিয়েছিল এবং ট্রাইব্যুনাল সেই আবেদন মঞ্জুর করেছেন।

সম্পদ বাজেয়াপ্ত ও জরিমানা আদায়ে প্রচলিত আইন প্রয়োগের আবেদন: এদিকে এক প্রশ্নের জবাবে চিফ প্রসিকিউটর বলেন, মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় দেয়া রায়ে আসামিদের সম্পদ বাজেয়াপ্ত ও অর্থদণ্ড কার্যকরের প্রক্রিয়া নির্ধারণে প্রচলিত আইন প্রয়োগের সুযোগ চেয়েছে প্রসিকিউশন। আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদের, মাহবুবুল আলম হানিফ এবং যাত্রাবাড়ীর হত্যাকাণ্ডের মামলাসহ কয়েকটি মামলার রায় বর্তমানে অপেক্ষমাণ। এসব মামলায় সম্পদ বাজেয়াপ্ত ও অর্থদণ্ডের আদেশ হলে তা কীভাবে কার্যকর করা হবে, সে বিষয়ে ট্রাইব্যুনালের রুলস অব প্রসিডিউরে স্পষ্ট বিধান নেই।
এ কারণে পাবলিক ডিমান্ড রিকভারি অ্যাক্ট এবং ফৌজদারি কার্যবিধির ৩৫৬ ধারার বিধান সঁঃধঃরং সঁঃধহফরং প্রয়োগের সুযোগ দেয়ার জন্য ট্রাইব্যুনালের কাছে আবেদন করা হয়েছে বলে জানান তিনি।
চলতি মাসেই তিন মামলার রায়: জুলাই আন্দোলনে নিহত ও আহতদের মামলার বিচার দ্রুত শেষ করার উদ্যোগের কথাও জানান প্রসিকিউটর। তিনি বলেন, আগামী এক বছরের মধ্যে জুলাই আন্দোলনে শহীদ ও আহতদের মামলাগুলোর তদন্ত ও বিচার শেষ করার লক্ষ্যে প্রসিকিউশন ও তদন্তকারী সংস্থা কাজ করছে। অন্যদিকে অপেক্ষমাণ তিনটি রায় চলতি আগস্ট মাসের মধ্যেই হতে পারে বলে আশাবাদ ব্যক্ত করেন তিনি।