স্লিপার বাসের বৈধতা চেয়ে সড়ক অবরোধ মালিকদের

ফন্ট সাইজ:

স্লিপার বাসে ঘটা কয়েকটি সড়ক দুর্ঘটনার পর দাপিয়ে বেড়ানো স্লিপার কোচ বাস হঠাৎ আলোচনায় এসেছে। অবৈধ এই বাস সড়ক থেকে সরিয়ে দেয়ার দাবি তুলেছেন যাত্রীদের অনেকেই। এই পরিস্থিতিতে রোববার রাজধানীর বনানীতে অবস্থিত বাংলাদেশ রোড ট্রান্সপোর্ট অথরিটি (বিআরটিএ) ভবনের সামনে অবস্থান নেন বাস মালিকরা। এতে বিমানবন্দর সড়কে তীব্র যানজট সৃষ্টি হয়। স্লিপার বাসের বিরুদ্ধে চলমান অভিযানে পরিবহন খাতের প্রায় ২ হাজার কোটি টাকার বিনিয়োগ এবং আড়াই লাখ মানুষের কর্মসংস্থান ঝুঁকির মুখে পড়বে বলে দাবি করেছে বাংলাদেশ স্লিপার এসি বাস মালিক সমিতি। একইসঙ্গে তাদের অভিযোগ, একটি স্বার্থান্বেষী মহলের প্রভাবে স্লিপার বাসের বিরুদ্ধে অভিযান চালানো হচ্ছে।

সমিতির নেতারা বলেন, তারা আইন ও সরকারি নিয়মকানুন মেনে চলতে প্রস্তুত। তবে আধুনিক এ পরিবহনসেবা বন্ধ না করে সংশ্লিষ্ট অংশীজন ও বিশেষজ্ঞদের সঙ্গে আলোচনা করে একটি কার্যকর নিয়ন্ত্রক কাঠামো তৈরি করতে হবে। এ সময় স্লিপার বাস মালিক সমিতির নেতারা একগুচ্ছ দাবি তোলেন। আদালতের চূড়ান্ত নিষ্পত্তির আগে স্লিপার বাসের বিরুদ্ধে কোনো বলপ্রয়োগ বা নিষেধাজ্ঞা আরোপ না করা, এ খাতে বিনিয়োগ ও শ্রমিকদের কর্মসংস্থান সুরক্ষা করা, আন্তর্জাতিক মানদণ্ডের সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে স্লিপার বাস পরিচালনায় সুনির্দিষ্ট নীতিমালা প্রণয়ন, ফিটনেস ও রুট পারমিট সংক্রান্ত জটিলতা দ্রুত সমাধান, আইনি প্রক্রিয়া চলাকালে অযৌক্তিক জরিমানা, তল্লাশি ও গাড়ি আটক বন্ধ এবং সড়ক নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে বিআরটিএ’র সঙ্গে সমন্বয়ের মাধ্যমে স্লিপার বাসকে একটি কার্যকর নিয়ন্ত্রক কাঠামোর আওতায় আনার দাবি তোলেন মালিকরা।

বাংলাদেশ স্লিপার এসি বাস মালিক সমিতির সাধারণ সম্পাদক তৌহিদুল ইসলাম বাবু বলেন, ২০১০ সাল থেকে দেশের মহাসড়কে স্লিপার বাস চলাচল করছে। বর্তমানে সারা দেশে প্রায় এক হাজার স্লিপার বাস চলাচল করছে এবং এ খাতে প্রায় ২ হাজার কোটি টাকার বিনিয়োগ রয়েছে। চালক, হেলপার, সুপারভাইজারসহ প্রায় দুই থেকে আড়াই লাখ মানুষের কর্মসংস্থান এ খাতের সঙ্গে জড়িত। দেশের পর্যটনকেন্দ্র ও দূরপাল্লার বিভিন্ন রুটে যাত্রীরা আরামদায়ক ও নিরাপদ ভ্রমণের জন্য স্লিপার বাস ব্যবহার করছেন। মহাসড়কে স্লিপার বাসের দুর্ঘটনার হারও তুলনামূলক কম। তিনি অভিযোগ করেন, একটি সংঘবদ্ধ মহল ব্যবসায়িক স্বার্থে স্লিপার বাসের বিরুদ্ধে অপপ্রচার চালাচ্ছে এবং প্রশাসনের ওপর প্রভাব বিস্তার করে অভিযান পরিচালনা করাচ্ছে। অথচ এসব বাসের টিকিট বিক্রি, ভ্যাট-ট্যাক্স ও অন্যান্য খাত থেকে সরকার নিয়মিত রাজস্ব পাচ্ছে।

ওদিকে, সড়ক নিরাপত্তা সংশ্লিষ্টদের অভিযোগ, একতলা বাসের চেসিসের ওপর অতিরিক্ত কাঠামো বসিয়ে আট শতাধিক দোতলা স্লিপার কোচ মহাসড়কে চলছে। এসব বাসের অনেকগুলোই অনুমোদন ছাড়াই তৈরি বা পরিবর্তন করা হচ্ছে। যাত্রীদের জন্য পর্যাপ্ত নিরাপত্তাব্যবস্থাও নেই। ফলে দুর্ঘটনা ঘটলে যাত্রীদের দ্রুত বের হয়ে আসার সুযোগ কম থাকে। এতে বড় ধরনের প্রাণহানির আশঙ্কা তৈরি হচ্ছে। দূরপাল্লার সড়কে এ ধরনের বাস তাই ‘চলন্ত মৃত্যুফাঁদে’ পরিণত হওয়ার ঝুঁকি তৈরি করেছে বলে মনে করছেন কেউ কেউ।