নুসরাত হত্যা মামলায় হাইকোর্টের রায় আজ

ফন্ট সাইজ:

ফেনীর সোনাগাজীর মাদ্রাসাছাত্রী নুসরাত জাহান রাফি হত্যা মামলায় মৃত্যুদণ্ডের ডেথ রেফারেন্স ও আসামিদের করা আপিলের ওপর আজ রায় ঘোষণা করবেন হাইকোর্ট। সোমবার বিচারপতি ভীষ্মদেব চক্রবর্তী ও বিচারপতি কে এম রাশেদুজ্জামান রাজার সমন্বয়ে গঠিত হাইকোর্ট বেঞ্চ এ রায় ঘোষণা করবেন। গত ২০শে আগস্ট রাষ্ট্রপক্ষ ও আসামিপক্ষের আইনজীবীদের ১৭ কার্যদিবসের দীর্ঘ শুনানি শেষে রায়ের জন্য ২৪শে আগস্ট দিন ধার্য করেন আদালত। মামলার নথি অনুযায়ী, ২০১৯ সালের ২৭শে মার্চ সোনাগাজী ইসলামিয়া ফাজিল মাদ্রাসার তৎকালীন অধ্যক্ষ এস এম সিরাজ-উদ্‌-দৌলার বিরুদ্ধে যৌন হয়রানির অভিযোগ করেন নুসরাত।

তার মা এ ঘটনায় মামলা করলে সিরাজ-উদ্‌-দৌলাকে গ্রেপ্তার করে কারাগারে পাঠানো হয়। অভিযোগ রয়েছে, মামলা প্রত্যাহার না করায় কারাগার থেকেই নুসরাতকে হত্যার পরিকল্পনা করেন সিরাজ। সেই পরিকল্পনা অনুযায়ী ২০১৯ সালের ৬ই এপ্রিল নুসরাতকে মাদ্রাসার ছাদে ডেকে নিয়ে তার গায়ে কেরোসিন ঢেলে আগুন ধরিয়ে দেয়া হয়। গুরুতর দগ্ধ অবস্থায় ঢাকায় চিকিৎসাধীন থাকার পর ১০ই এপ্রিল মারা যান নুসরাত। এ ঘটনায় দায়ের করা হত্যা মামলার তদন্ত ও বিচার দ্রুত শেষ হয়। ২০১৯ সালের ২৪শে অক্টোবর ফেনীর নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনাল মামলার ১৬ আসামির সবাইকে মৃত্যুদণ্ড দেন। দণ্ডপ্রাপ্তদের মধ্যে মাদ্রাসার অধ্যক্ষ সিরাজ-উদ্‌-দৌলা এবং স্থানীয় কয়েকজন রাজনৈতিক নেতাও ছিলেন।

ট্রাইব্যুনালের দেয়া মৃত্যুদণ্ড অনুমোদনের জন্য ফৌজদারি কার্যবিধির ৩৭৪ ধারা অনুযায়ী মামলার নথি ডেথ রেফারেন্স হিসেবে হাইকোর্টে পাঠানো হয়। এটি ১৪০/২০১৯ নম্বর ডেথ রেফারেন্স মামলা হিসেবে নথিভুক্ত হয়। একইসঙ্গে দণ্ডপ্রাপ্ত আসামিরা সাজা বাতিল ও খালাস চেয়ে হাইকোর্টে আপিল করেন। দীর্ঘদিন পর গত জুন মাসে ডেথ রেফারেন্স ও সংশ্লিষ্ট আপিলগুলো শুনানির জন্য হাইকোর্টের বিশেষ বেঞ্চে পাঠানো হয়। এরপর ১৭ কার্যদিবস ধরে রাষ্ট্রপক্ষ ও আসামিপক্ষের আইনজীবীরা যুক্তিতর্ক উপস্থাপন করেন।

শুনানিতে আসামিপক্ষের আইনজীবীরা তাদের মক্কেলদের খালাস দাবি করে বলেন, নথি ও সাক্ষ্য-প্রমাণে নুসরাত আত্মহত্যা করেছিলেন এমন বিষয় উঠে এসেছে। তাকে হত্যার অভিযোগ কিংবা কথিত ষড়যন্ত্রের সঙ্গে আপিলকারীদের সম্পৃক্ততার বিষয়টিও প্রমাণিত হয়নি বলে তারা দাবি করেন। অন্যদিকে রাষ্ট্রপক্ষ ট্রাইব্যুনালের রায়ের পক্ষে যুক্তি তুলে ধরে আদালতে উপস্থাপিত সাক্ষ্য, নথিপত্র ও সাক্ষীদের জবানবন্দির ভিত্তিতে ন্যায়বিচার নিশ্চিত করার আবেদন জানায়। এখন হাইকোর্টের রায়ের মধ্যদিয়ে নুসরাত হত্যা মামলার বহুল আলোচিত ডেথ রেফারেন্স ও আসামিদের আপিলের পরবর্তী আইনি অবস্থান নির্ধারিত হবে।