হরমুজ প্রণালিকে ফের ‘নতুন মার্কিন ভূখণ্ড’ (নিউ ইউএস টেরিটরি) হিসেবে দাবি করেছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডনাল্ড ট্রাম্প। তার এই দাবির পর ওয়াশিংটন ও তেহরানের মধ্যকার উত্তেজনা চরম আকার ধারণ করেছে। তবে যুক্তরাষ্ট্রের এমন দাবি প্রত্যাখ্যান করেছে ইরান। দেশটি সাফ জানিয়ে দিয়েছে, ওয়াশিংটন তাদের নীতি পরিবর্তন না করা পর্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ এই আন্তর্জাতিক সমুদ্রপথ কোনোভাবেই উন্মুক্ত করা হবে না। এ খবর দিয়েছে অনলাইন গাল্ফ নিউজ।
রোববার নিজের ট্রুথ সোশ্যালে একটি ছবি শেয়ার করে হরমুজ প্রণালিকে যুক্তরাষ্ট্রের ভূখণ্ড হিসেবে চিহ্নিত করেন ট্রাম্প। এর আগে গত ১৮ আগস্টও তিনি একই ধরণের ছবি পোস্ট করেছিলেন এবং লং আইল্যান্ডে দেয়া এক বক্তব্যে খুব শিগগিরই হরমুজ প্রণালিকে মার্কিন অঞ্চল ঘোষণার হুমকি দিয়েছিলেন। ট্রাম্পের এ বক্তব্যের তীব্র প্রতিক্রিয়া জানিয়ে ইরানের সুপ্রিম ন্যাশনাল সিকিউরিটি কাউন্সিলের সচিব মোহসেন রেজাই বলেন, হরমুজ প্রণালি উন্মুক্ত করতে না পারা এবং এর মালিকানা দাবির মধ্যকার ব্যবধান ওয়াশিংটন থেকে এই প্রণালির ৭ হাজার মাইলের দূরত্বের চেয়েও বেশি। এদিকে তেহরানের ওপর ইতিহাসের ‘কঠিনতম নিষেধাজ্ঞা’ আরোপের প্রস্তুতি নিচ্ছে মার্কিন অর্থ মন্ত্রণালয়, যার আওতায় ইরানের তেলের প্রধান ক্রেতা চীনের ওপরও চাপ সৃষ্টির পরিকল্পনা রয়েছে।
আসন্ন এই নিষেধাজ্ঞাকে আন্তর্জাতিক আইনবহির্ভূত পদক্ষেপ হিসেবে আখ্যা দিয়ে ইরানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, তারা জাতীয় স্বার্থ ও মর্যাদা অক্ষুন্ন রেখেই যেকোনো পদক্ষেপের জবাব দেবে। একই সাথে মধ্যপ্রাচ্যের প্রতিবেশী দেশগুলোকে সতর্ক করে ইরান জানিয়েছে, ওয়াশিংটনের এই অর্থনৈতিক যুদ্ধে কোনো দেশ যুক্তরাষ্ট্রকে সহায়তা করলে তাদের ‘শত্রু’ হিসেবে গণ্য করা হবে।
