একাদশে ভর্তিতে থাকছে না মাইগ্রেশন, রেকর্ড খাতা চ্যালেঞ্জ

ফন্ট সাইজ:

একাদশ শ্রেণিতে ভর্তির প্রচলিত ব্যবস্থায় বড় ধরনের পরিবর্তন আনতে যাচ্ছে সরকার। এবার ভর্তিতে একবারই আবেদন করার সুযোগ পাবেন শিক্ষার্থীরা। ফলে আগের মতো পছন্দের কলেজ পরিবর্তনের জন্য মাইগ্রেশনের সুযোগ থাকছে না। তবে ফল পুনর্নিরীক্ষার পর নম্বর বা ফল পরিবর্তন হলে সংশ্লিষ্ট শিক্ষার্থীদের জন্য নতুন করে আবেদনের সুযোগ রাখা হচ্ছে। এবার রেকর্ড সংখ্যক প্রায় ১৩ লাখ শিক্ষার্থী এসএসসি-সমমান পরীক্ষার খাতা পুনর্মূল্যায়নের আবেদন করেছেন। দীর্ঘদিনের সেশনজট কাটিয়ে দ্রুত উচ্চ মাধ্যমিকের একাডেমিক কার্যক্রম শুরু করতে এবার ভর্তি প্রক্রিয়াও এগিয়ে আনার উদ্যোগ নেয়া হয়েছে। সেপ্টেম্বরের শুরুতেই অনলাইনে আবেদন গ্রহণের পরিকল্পনা করা হচ্ছে। আর সেপ্টেম্বরের তৃতীয় সপ্তাহেই একাদশের ক্লাস শুরুর লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়েছে।

শিক্ষা মন্ত্রণালয়, শিক্ষা বোর্ড এবং বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয়ের (বুয়েট) প্রতিনিধিদের সমন্বয়ে গঠিত একাদশ শ্রেণির ভর্তি নীতিমালা কমিটির বৈঠকে এসব বিষয়ে আলোচনা হয়েছে। শিগগিরই ভর্তি নীতিমালা চূড়ান্ত হওয়ার কথা রয়েছে। এরপর মন্ত্রণালয় তা আনুষ্ঠানিকভাবে জারি করবে। এতদিন একাদশ শ্রেণিতে ভর্তির জন্য শিক্ষার্থীরা কয়েক ধাপে আবেদন করার সুযোগ পেতেন। একটি কলেজে মনোনীত হওয়ার পর মাইগ্রেশনের মাধ্যমে পছন্দের তালিকার উপরের দিকে থাকা কলেজে যাওয়ার সুযোগও ছিল। এবার সেই ব্যবস্থা বাদ দেয়ার সিদ্ধান্ত হয়েছে। নতুন ব্যবস্থায় শিক্ষার্থীরা প্রথম ধাপেই পছন্দের কলেজ বেছে আবেদন করবেন।

ন্যূনতম পাঁচটি এবং সর্বোচ্চ ১০টি কলেজ পছন্দ করা যাবে। জিপিএ ও পছন্দের ভিত্তিতে আন্তঃশিক্ষা বোর্ড সমন্বয় কমিটি কলেজ নির্ধারণ করবে। তবে এতে পুনর্নিরীক্ষার ফল নিয়ে তৈরি হতে পারে নতুন পরিস্থিতি। এ কারণে ফল পুনর্নিরীক্ষার পর পরিবর্তিত ফল পাওয়া শিক্ষার্থীদের জন্য দ্বিতীয়বার আবেদনের সুযোগ রাখার পরিকল্পনা করা হয়েছে। প্রথম ধাপে যারা আবেদন করেননি, কোনো কারণে যাদের কলেজ নির্ধারণ হয়নি কিংবা কলেজ পাওয়ার পরও নির্ধারিত সময়ে নিশ্চয়ন করেননি। তারাও ওই দ্বিতীয় সুযোগ কাজে লাগাতে পারবেন। সবচেয়ে বড় বিষয় হলো, এবার শুধু নম্বর পুনর্গণনা নয়, খাতা নতুন করে মূল্যায়নের উদ্যোগ নেয়া হয়েছে। ফলে বিপুলসংখ্যক খাতা যাচাই করতে স্বাভাবিক সময়ের তুলনায় বেশি সময় লাগার আশঙ্কা রয়েছে।

এই বাস্তবতায় পুনর্নিরীক্ষার ফলের জন্য অপেক্ষা না করে আগেই একাদশে ভর্তির আবেদন নেয়ার পরিকল্পনা করা হয়েছে। প্রথম ধাপে ভর্তি সম্পন্ন হওয়ার পর পুনর্নিরীক্ষার ফল প্রকাশ হলে যেসব শিক্ষার্থীর ফল পরিবর্তন হবে, তাদের আবার আবেদনের সুযোগ দেয়া হবে। বিশেষ করে ফল ভালো হওয়ার পর আগের বরাদ্দ পাওয়া কলেজ পরিবর্তন করতে চাইলে তারা নতুন করে পছন্দ দিতে পারবেন। এ ক্ষেত্রে একটি গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্তও নেয়া হয়েছে। পুনর্নিরীক্ষার পর ফল পরিবর্তিত শিক্ষার্থীরা যাতে আসন সংকটে পড়ে পছন্দের কলেজে ভর্তি থেকে বঞ্চিত না হন, সে জন্য প্রয়োজন অনুযায়ী সংশ্লিষ্ট কলেজের আসন বাড়ানো হবে। এমনকি কোনো শিক্ষার্থী প্রথম ধাপে একটি কলেজে ভর্তি হয়ে পরে ফল পরিবর্তনের কারণে অন্য কলেজে যাওয়ার সুযোগ পেলে আগের কলেজকে তার কাছ থেকে নেয়া ভর্তি বাবদ অর্থ ফেরত দিতে হবে। দেশে একাদশ শ্রেণিতে ভর্তির জন্য মোট আসনের কোনো বড় সংকট নেই। সাধারণ কলেজ, মাদ্রাসা ও কারিগরি প্রতিষ্ঠান মিলিয়ে উচ্চ মাধ্যমিক পর্যায়ে আসন রয়েছে প্রায় সাড়ে ২৭ লাখ। বিপরীতে এসএসসি ও সমমান পরীক্ষায় উত্তীর্ণ শিক্ষার্থীর সংখ্যা ১১ লাখের কিছু বেশি।

তবে সংকট তৈরি হয় পছন্দের প্রতিষ্ঠানগুলোতে। এবার মাইগ্রেশন বন্ধ থাকায় এই প্রতিযোগিতার গুরুত্ব আরও বাড়তে পারে। প্রথম ধাপেই কলেজ পছন্দের ক্ষেত্রে ভুল হলে পরবর্তী সময়ে তা সংশোধনের সুযোগ সীমিত থাকবে। শুধু পুনর্নিরীক্ষার ফল পরিবর্তন, আবেদন না করা, নিশ্চয়ন না করা কিংবা কলেজ না পাওয়ার মতো বিশেষ পরিস্থিতিতেই দ্বিতীয়বার আবেদনের সুযোগ মিলবে। এ ব্যাপারে আন্তঃশিক্ষা বোর্ডের সমন্বয়ক ও ঢাকা শিক্ষা বোর্ডের চেয়ারম্যান অধ্যাপক সৈয়দ আকতারুজ্জামান বলেন, নতুন পদ্ধতিতে উত্তরপত্র মূল্যায়ন একটা চ্যালেঞ্জ। আমরা প্রয়োজনীয় লোকবল নিয়োগ দেয়ায় প্রক্রিয়ায় আছি। আশা করি, দ্রুত সময়ে এসব খাতা পুনর্নিরীক্ষণ করে ফলাফল প্রকাশ করা হবে। তিনি আরও বলেন, একাদশ শ্রেণি ভর্তিতে বেশকিছু পরিবর্তন নিয়ে আলোচনা হয়েছে। খুব শিগগিরই বিষয়গুলো চূড়ান্ত করে প্রকাশ করা হবে।