সমপ্রতি গাইবান্ধার বোনারপাড়ায় দু’টি হত্যাকাণ্ডের ঘটনা ঘটেছে। একজন চলমান শিবির নেতা, অন্যজন সাবেক শিবির নেতা। সেই হত্যাকাণ্ডের আড়ালে অনেক ঘটনা এখনো লুকিয়ে আছে। খোদ জামায়াতের দু’-একজন ঊর্ধ্বতন নেতার পক্ষ থেকে মূল ঘটনাকে আড়াল করার চেষ্টা করা হচ্ছে প্রাণপণে।
সন্ত্রাসীদের হাতে খুন হওয়া সালাউদ্দিনের পরিবারের সঙ্গে চলতি মাসের ১০ তারিখে আমীরে জামায়াত সাক্ষাৎ করতে এসেছিলেন। একান্তে কথা বলেন তিনি সালাউদ্দিনের পরিবারের সাথে। কী কথা হয়েছিল, সেই কথা জানার জন্য সাঘাটা উপজেলা জামায়াতের সাংগঠনিক সম্পাদক ও যুব জামায়াতের সভাপতি এনামুল হক সরকার তার দু’জন সহযোগী যুব জামায়াতের বোনারপাড়া ইউনিয়ন সেক্রেটারি শাহজাহান আলী ও যুব জামায়াতের কর্মী শিহাবকে এনএসআই সাজিয়ে ব্ল্যাকমেইল করার ঘৃণ্যতম কাজ করেন।
ফোনে শহীদ সালাহউদ্দিনের মামা আতাউর রহমানের সঙ্গে এনএসআই পরিচয় দিয়ে আমীরের সঙ্গে একান্তে কী কথা হয়েছে তা জানার জন্য চাপ প্রয়োগ করেন। না বললে তুলে নিয়ে যাওয়ার হুমকি দেয় ভুয়া এনএসআই সদস্যরা।
এই ভুয়া এনএসআই’র মাধ্যমে শহীদ পরিবারকে ব্ল্যাকমেইল করার মাস্টারমাইন্ড যুব জামায়াতের সাঘাটা উপজেলা সভাপতি ও উপজেলা জামায়াতের সাংগঠনিক সম্পাদক এনামুল হক সরকার। তিনি নিজেই তার তৈরি ভুয়া এনএসআইকে শহীদ পরিবারের সদস্যের ফোন নম্বর সরবরাহ করেন। আরেকটি ফোন আলাপে পুরো নাটকের পরিচালক যে এনামুল, তা পরিষ্কার হয়ে যায়। এসব ফোন আলাপ সোশ্যাল মিডিয়ায় ভাইরাল হলে এনামুলের সহযোগী ভুয়া এনএসআই সাংবাদিকদের ফোনকলে ক্ষমা চান। তাদের এমন ঘৃণ্য কর্মকাণ্ড করা ঠিক হয়নি বলে অনুশোচনা প্রকাশ করেন।
তবে একাধিক ফোন কল রেকর্ড ভাইরাল হওয়ার পর সাঘাটা জামায়াতের অনুসারীদের মধ্যে মিশ্র প্রতিক্রিয়া দেখা দিয়েছে। তাদের বড় একটি অংশ এনামুলের এমন অপকর্মের শাস্তি চাইলেও জামায়াত বিষয়টি নিয়ে নীরব ভূমিকায় আছে। তারা কোনো প্রকার প্রতিক্রিয়া এখন পর্যন্ত জানায়নি।
নিহত সালাহউদ্দিনের বড় ভাই সাদেকুর রহমান জানান, জামায়াত কর্মী হত্যায় জামায়াতে ইসলামীর উপজেলার সাংগঠনিক সম্পাদক এনামুল হক ভুয়া এনএসআই টিম সাজিয়ে আমার মামাকে ফোন দিয়ে আমীরের সঙ্গে আমার বাবার সাক্ষাৎ বিষয়ে যে গোপন তথ্য চেয়েছেন, এটি জামায়াতে ইসলামীর কোনো নিয়মে আছে? কেন্দ্রীয় আমীর কী বললেন সেটা জানার এত আগ্রহ কেন? এই হত্যায় জামায়াতের ওই নেতার ইন্ধন আছে। এই বিষয়ে জানতে যুব জামায়াতের সাধারণ সম্পাদক আপেল ও গোলাম রাব্বীকে ফোন দিলেও তাদের পাওয়া যায়নি।
এই বিষয়ে অভিযুক্ত যুব জামায়াতের বোনারপাড়া ইউনিয়ন সম্পাদক শাহজাহান আলী ও যুব জামায়াতের কর্মী শিহাব সাংবাদিকদের বলেন, এটি মোটেও ঠিক করা হয়নি। আমরা বুঝতে পারিনি। সাঘাটা উপজেলা জামায়াতের আমীর মাওলানা ইব্রাহীম হোসেন জানান, বিষয়টি জানার পরে আমরা জেলা জামায়াতকে অবগত করেছি। পরে দলের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া হবে। সাঘাটা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা পবিত্র কুমার জানান, ভুয়া এনএসআইয়ের বিষয়টি শুনেছি।
এ বিষয়ে অভিযোগ পেলে অ্যাকশনে যাওয়া হবে।
উল্লেখ্য, এনামুল আওয়ামী ফ্যাসিবাদের আমলে অনেকটা দুধে-ভাতেই ছিলেন তার শ্বশুর উপজেলা আওয়ামী লীগের সাবেক সাধারণ সম্পাদক প্রয়াত আব্দুল হামিদ বাবুর আশীর্বাদে। এবার সাঘাটায় জামায়া ে তর সাংসদ নির্বাচিত হওয়ার পর তিনি হয়ে ওঠেন পুরো উপজেলার কান্ডারী। সরকারের টিআর-কাবিখার বরাদ্দ, বিশেষ বরাদ্দ, টেন্ডার, হাটবাজার দখল, ঠিকাদারি, সবই এখন তার কব্জায়। সমপ্রতি দুইজন শিবিরনেতা হত্যাকাণ্ডের বিষয়ে এক আওয়ামী লীগ সন্ত্রাসীর নাম উঠে এসেছে। সেই আওয়ামী সন্ত্রাসীর সাথে হাত মিলিয়ে এনামুল আঙ্গুুল ফুলে কলাগাছ বনে গেছেন। জামায়াতের এমপি বীর মুক্তিযোদ্ধা আব্দুল ওয়ারেছ আকন্দ এনামুলকে বুকের মধ্যে আগলে রেখে তার সব কর্মকাণ্ডকে বৈধতা দিয়ে যাচ্ছেন। এই এমপি নিজেও সেই আওয়ামী সন্ত্রাসীর বাড়িতে গিয়ে মাঝে মধ্যেই খোশআড্ডায় মেতে উঠছেন। সোশ্যাল মিডিয়ায় তাদের বিতর্কিত কার্যক্রম একের পর এক ভাইরাল হলেও তাদের বোধোদয় হচ্ছে না। সাধারণ মানুষ এখন তাদের প্রকাশ্যে ঘৃণায় ভাসিয়ে দিচ্ছেন।
