টেস্টের প্রথম দিন, প্রথম ইনিংস, মাত্র ৬৪ রানে অলআউট বাংলাদেশ। অস্ট্রেলিয়াকে প্রথম টেস্ট হারিয়ে ইতিহাস রচনার পর এমন পারফরম্যান্সকে বিভীষিকাই বলা যায়! তবে ম্যাকাইয়ের গ্রেট ব্যারিয়ার রিফ অ্যারেনায় গতকাল সিরিজের দ্বিতীয় টেস্টের প্রথম দিনে এমন লজ্জার ব্যাটিং অবশ্য ঢাকা পড়ে শরিফুল ইসলামের অসাধারণ বোলিংয়ে। এ টাইগার পেসার বল হাতে লড়াইয়ে ফেরান বাংলাদেশকে। টস হেরে শুরুতে ব্যাটিংয়ে নেমে প্রথম ইনিংসে ৬৪ রানে অলআউট হয় নাজমুল হোসেন শান্তর দল। এরপর স্বাগতিকদের আট উইকেট তুলে নিয়ে ম্যাচে ভারসাম্য ফেরায় সফরকারীরা। দিন শেষে অস্ট্রেলিয়ার সংগ্রহ আট উইকেটে ১৬৫ রান। প্রথম ইনিংসে ১০১ রানে পিছিয়ে থেকে দিনের খেলা শেষ করে বাংলাদেশ। টেস্ট ক্রিকেটের ইতিহাসে ম্যাচের প্রথম দিনে ১৮ বা তার বেশি উইকেট পতনের ১৪তম ঘটনা দেখলো অভিষেকেই এই ভেন্যু।
অস্ট্রেলিয়ার মাটিতে প্রথম দিনে এমন ঘটনা এটি পঞ্চম। সকালে অস্ট্রেলিয়ার পেসার মিচেল স্টার্কের তোপে সফরকারীদের প্রথম ছয় ব্যাটারের চারজন শূন্য রানে সাজঘরে ফেরেন। দলের বিপর্যয়ের দিনে শেষ ব্যাটার হিসেবে ১১ নম্বরে নেমে সর্বোচ্চ ১৪ রান করেন শরিফুল ইসলাম। এরপর তিনি বল হাতে ১১ ওভারে ৩৫ রান দিয়ে তুলে নেন স্বাগতিকদের ছয়টি উইকেট। টেস্ট ক্রিকেটের ইতিহাসে ১১ নম্বরে নেমে দলের পক্ষে সর্বোচ্চ রান করার পর ইনিংসে পাঁচ উইকেট শিকারের রেকর্ড একমাত্র শরিফুলের। তার এ দারুণ বোলিংয়ে রোমাঞ্চ নিয়ে শুরু হবে ম্যাকাই টেস্টের দ্বিতীয় দিন।
সকালে ব্যাটিং করতে নেমে ইনিংসের প্রথম বলেই উইকেট হারায় বাংলাদেশ। স্টার্কের বলে গালিতে ক্যাচ দিয়ে ফেরেন সাদমান ইসলাম। টেস্ট ম্যাচের প্রথম বলেই চারবার উইকেট নেয়ার কীর্তি গড়েন এই বোলার। দ্বিতীয় ওভারে তানজিদ হাসান স্লিপে ক্যাচ দেন। পরের বলে এলবিডব্লিউ হন অধিনায়ক শান্ত। আম্পায়ার্স কলে আউট হয়ে মাঠ ছাড়েন তিনি। এরপর মুমিনুল হক ক্যাচ দেন গালিতে। লিটন কুমার দাস শূন্য রানে বিদায় নিলে ২২ বলের মধ্যে পাঁচ উইকেট পূর্ণ করেন স্টার্ক। মুশফিকুর রহীম ৪২ বল খেলে করেন পাঁচ রান। তিনি প্যাট কামিন্সের বলে বোল্ড হলে ২১ রানে ছয় উইকেট হারায় দল। প্রথম সেশন শেষে সফরকারীদের রান দাঁড়ায় ছয় উইকেটে ৩৫। লাঞ্চের পর মিরাজ ও হাসান মাহমুদের বিদায়ের পর ৩৯ রানে পড়ে নবম উইকেট। শেষ উইকেটে তাইজুল ইসলামের সঙ্গে ২৫ রানের জুটি গড়েন শরিফুল। তাইজুল অপরাজিত থাকেন ১১ রানে। স্টার্কের বলে শরিফুল আউট হলে ৩৪ ওভারে ৬৪ রানে শেষ হয় সফরকারীদের প্রথম ইনিংস। স্টার্ক ১২ রানে নেন ছয় উইকেট। এছাড়া কামিন্স তিনটি ও হ্যাজলউড এক উইকেট পান।
জবাবে প্রথম ইনিংসে ব্যাটিংয়ে নামা অস্ট্রেলিয়াকে শুরুতেই ধাক্কা দেন তাসকিন আহমেদ। তিনি আট রান করা ম্যাট রেনশ’কে ক্যাচ বানান স্লিপে। এরপর আক্রমণে এসে ২২ রান করা ট্রাভিস হেডকে বোল্ড করেন শরিফুল। একই ওভারে চার রান করা মার্নাস লাবুশেনকেও বোল্ড করে সাজঘরে পাঠান তিনি। এরপর দলের হাল ধরে স্টিভেন স্মিথ ও ক্যামেরন গ্রিন গড়েন ৭৭ রানের জুটি। দলীয় ১০০ রান পার হওয়ার পর স্মিথকে এলবিডব্লিউ করে এই জুটি ভাঙেন শরিফুল। স্মিথ করেন ৪২ রান। এরপর পাঁচ রান করা অ্যালেক্স ক্যারিকে ফেরান অফ স্পিনার মিরাজ। এক ওভারে বো ওয়েবস্টার ও কামিন্সকে শূন্য রানে আউট করেন শরিফুল। পরের ওভারে স্টার্কের স্টাম্প ভেঙে পূর্ণ করেন ইনিংসে নিজের ছয় উইকেট। দিনের খেলা শেষে গ্রিন ৫১ ও ন্যাথান লায়ন ১০ রানে অপরাজিত থেকে মাঠ ছাড়েন। অস্ট্রেলিয়া ৪০ ওভার খেলে তোলে আট উইকেটে ১৬৫ রান। ধারাভাষ্যকার ক্যারি ও’কিফ বলেন, ‘কেউই ভাবতে পারেনি, মিচেল স্টার্কের মতো কিছু করে ফেলবে শরিফুল ইসলাম। যদিও গতি কম, তবে কার্যকারিতায় একই রকম।’ আগের ১৩ টেস্টে কখনো ইনিংসে তিনটির বেশি উইকেট পাননি শরিফুল।
গতকাল তিনি এক দিনেই তুলে নিলেন অস্ট্রেলিয়ার ছয় ব্যাটারের উইকেট। দিনের শেষ সেশনে ৩০ রানের মধ্যে স্বাগতিকদের পাঁচটি উইকেট তুলে নিয়ে ম্যাচে উত্তেজনা ধরে রাখে বাংলাদেশ দল। মাঠে ফিল্ডিং ও বোলিংয়ের সমন্বয়ে দিন শেষে নতুন লড়াইয়ের পথ খুঁজে পায় সফরকারীরা। প্রথম ইনিংসে স্বাগতিকদের লিড থাকলেও স্বস্তিতে নেই অস্ট্রেলিয়া। দিনের খেলা শেষে ধারাভাষ্যকার মাইক হাসি বলেন, ‘অস্ট্রেলিয়া অনেকটাই এগিয়ে, তবে হতাশ হবে তারা বাংলাদেশকে ম্যাচ থেকে ছিটকে দিতে না পেরে। ব্যাটিং ব্যর্থতার পরও খুশি মনেই মাঠ ছাড়বে বাংলাদেশ।’
