সংখ্যায় ম্যাকাই টেস্টের প্রথম দিন

সংখ্যায় ম্যাকাই টেস্টের প্রথম দিন

ফন্ট সাইজ:

ম্যাকাই টেস্টের প্রথম দিনে মাত্র ৮.৫ ওভারেই ৫ উইকেট পূর্ণ করেন শরিফুল ইসলাম। যা বাংলাদেশের পক্ষে দ্বিতীয় দ্রুততম। প্রথম দিনে হওয়া কিছু পরিসংখ্যান মানবজমিন পাঠকদের জন্য তুলে ধরা হলো। ৪: টেস্টে চতুর্থ জুটি হিসেবে ইনিংসে ছয় উইকেট নেয়ার অনন্য কীর্তি গড়েন মিচেল স্টার্ক (৬/১২) ও শরিফুল ইসলাম (৬/৩৫)। ১৯০২ সালে মেলবোর্নে সিডনি বার্নস ও মন্টি নোবেল, ১৯০৭ সালে লিডসে অব্রে ফকনার ও কলিন ব্লাইথ এবং ১৯৫১ সালে অ্যাডিলেডে ফ্রাঙ্ক ওরেল ও বিল জনস্টনের এ কীর্তি রয়েছে।
৩: একই টেস্টে দুই বাঁহাতি পেসারের ছয় উইকেট নেয়ার তৃতীয় ঘটনার স্বাক্ষী হলো ম্যাকাই। স্টার্ক এবং শরিফুলের আগে ১৯৫৮-৫৯ সালে মেলবোর্নে অ্যালান ডেভিডসন এবং ব্রায়ান স্ট্যাথাম এই কৃতিত্ব অর্জন করেছিলেন। ১৯৫১ সালে প্রথম এ কীর্তিতে নাম লেখান ওরেল এবং জনস্টন।

৪: প্রথম ক্রিকেটার হিসেবে টেস্টে চারবার প্রথম বলে উইকেট নেয়ার নজির গড়েন স্টার্ক। এর মাধ্যমে ছাড়িয়ে গেছেন পেদ্রো কলিন্সকে। যিনি তিনবার এ কৃতিত্ব দেখান। এছাড়া টেস্ট ইনিংসের একেবারে প্রথম বলে পাঁচবার উইকেট নেয়ার কৃতিত্ব স্টার্কের। রিচার্ড হ্যাডলি ছয়বার টেস্ট ইনিংসে প্রথম বলে উইকেট নিয়েছেন।

২২: বলের হিসেবে টেস্ট ক্রিকেটে ষষ্ঠ দ্রুততম পাঁচ উইকেট পূর্ণ করেছেন স্টার্ক। এ রেকর্ড গড়তে নিয়েছেন ২২ বল। গত বছর ওয়েস্ট ইন্ডিজের বিপক্ষে মাত্র ১৫ বলে পাঁচ উইকেট নিয়ে সর্বকালের দ্রুততম পাঁচ উইকেটের রেকর্ড গড়েন স্টার্ক। বাংলাদেশের হয়ে ৫৩ বলে ৫ উইকেট পূর্ণ করেন শরিফুল। যা টাইগারদের হয়ে দ্বিতীয় দ্রুততম। এর আগে ২০১৮ সালে ওয়েস্ট ইন্ডিজের বিপক্ষে তাইজুল ইসলাম ৩৫ বলে পাঁচ উইকেট নেন।

২৮: টেস্টে প্রতিপক্ষের ইনিংসের প্রথম ওভারে স্টার্কের মোট উইকেটের সংখ্যা এখন ২৮টি। এই ফরম্যাটে এটি যেকোনো বোলারের দ্বিতীয় সর্বোচ্চ রেকর্ড। জেমস অ্যান্ডারসনের (২৯) চেয়ে এক উইকেট কম।
৬.৪: ম্যাকাইয়ে ৬.৪ ওভারের মধ্যে স্টার্ক তার পাঁচ উইকেট পূর্ণ করেন। টেস্টের ইতিহাসে এটি দ্বিতীয় দ্রুততম সময়ে কোনো বোলারের পাঁচ উইকেট শিকারের রেকর্ড। এর আগে ২০১৫ সালে নটিংহ্যাম টেস্টে অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে মাত্র ৬.১ ওভারে পাঁচ উইকেট পূর্ণ করেছিলেন স্টুয়ার্ট ব্রড। এটি টেস্ট ইনিংসে যেকোনো বোলারের তৃতীয় দ্রুততম সময়ে পাঁচ উইকেট পাওয়ার রেকর্ড। সবচেয়ে কম ওভারে পাঁচ উইকেট নেয়ার রেকর্ডটিও স্টার্কের, গত বছর ওয়েস্ট ইন্ডিজের বিপক্ষে ৪.৩ ওভারে এ রেকর্ড গড়েন স্টার্ক।
৮: সাদা পোশাকে আটটি দেশের বিপক্ষে ফাইফারের কীর্তি হলো স্টার্কের। অস্ট্রেলিয়ার খেলোয়াড়দের মধ্যে শেন ওয়ার্ন এবং নাথান লায়নেরও আটটি ভিন্ন প্রতিপক্ষের বিপক্ষে পাঁচ উইকেট নেয়ার রেকর্ড রয়েছে। স্টার্কের সাতটি ভিন্ন প্রতিপক্ষের বিপক্ষে টেস্ট ইনিংসে ছয় বা তার বেশি উইকেট নেয়ার রেকর্ড রয়েছে। টেস্টে সাত বা তার বেশি ভিন্ন প্রতিপক্ষের বিপক্ষে ইনিংসে ছয় উইকেট নেয়া বোলার আছেন মাত্র পাঁচজন। তারা সবাই এশিয়ার স্পিনার-মুত্তিয়া মুরালিধরন (নয়), রঙ্গনা হেরাথ (নয়), অনিল কুম্বলে (সাত), হরভজন সিং (সাত) এবং রবিচন্দ্রন অশ্বিন (সাত)।

৪: বাংলাদেশের শীর্ষ ছয় ব্যাটারের চারজন শূন্য রানে আউট হয়েছেন। সবাইকেই আউট করেন স্টার্ক। টেস্ট ইনিংসে শীর্ষ ছয় ব্যাটারের চারজনকে শূন্য রানে আউট করার এটি দ্বিতীয় ঘটনা। এর আগে গত মে মাসে আয়ারল্যান্ডের বিপক্ষে নাথান স্মিথ এই কৃতিত্ব অর্জন করেন।
৬৪: প্রথম ইনিংসে ৬৪ রানে অলআউট বাংলাদেশ। এটি টেস্ট ক্রিকেটে টাইগারদের চতুর্থ সর্বনিম্ন স্কোর এবং অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে সর্বনিম্ন।

১৪: প্রথম ইনিংসে বাংলাদেশের পক্ষে সর্বোচ্চ ১৪ রান করেন শরিফুল। টেস্ট ইনিংসে ১১ নম্বর ব্যাটারের সর্বোচ্চ রান করার এটি ত্রয়োদশ ঘটনা। ২০০৪ সালে ভারতের বিপক্ষে তালহা জুবায়েরের পর বাংলাদেশের জন্য এটি দ্বিতীয় ঘটনা। ১১ নম্বর ব্যাটার হিসেবে ইনিংসে সর্বোচ্চ রান করার ক্ষেত্রে সর্বনিম্ন রানের রেকর্ডে লায়নকে ছুঁয়ে ফেলেন শরিফুল। ২০১১ সালে কেপ টাউনে অস্ট্রেলিয়ার ৪৭ অলআউট হয়ার ম্যাচে নাথান লায়নও ১৪ রান করেন।