সাতক্ষীরা-৪ আসনের সংসদ সদস্য জামায়াত থেকে বহিষ্কৃত নেতা গাজী নজরুল ইসলামের (৭৫) অনৈতিক সম্পর্কের কথা জেনে ফেলার পর অর্থ এবং চাকরি দেয়ার প্রলোভন দেখানো হয়েছিল বলে দাবি করেছেন তার গাড়িচালক। শনিবার রাজধানীর সেগুনবাগিচায় ক্রাইম রিপোর্টার্স এসোসিয়েশন অব বাংলাদেশ (ক্র্যাব) কার্যালয়ে এক সংবাদ সম্মেলনে এসব দাবি করেন গাজী নজরুলের গাড়িচালক ওবায়দুর রহমান। তিনি বলেন, তরুণীর সঙ্গে গাজী নজরুলের অনৈতিক সম্পর্কের বিষয়টি জানার পর তিনি এর প্রতিবাদ করেন। তখন গাজী নজরুল তাকে প্রথমে অর্থ দেয়ার প্রস্তাব দেন। পরে ব্যক্তিগত সহকারী হিসেবে কাজ করার সুযোগ দেয়ার পাশাপাশি গাড়িচালক হিসেবে চাকরির প্রস্তাবও দেন। তিনি অর্থের প্রস্তাব গ্রহণ না করলেও তরুণীর নিরাপত্তা ও অভিযোগের প্রমাণ সংগ্রহের কথা বিবেচনা করে গাড়িচালকের কাজ নেন। গত ৬ থেকে ১৩ই জুলাই তিনি গাজী নজরুলের সঙ্গে ছিলেন।
এ সময় তিনি গাজী নজরুলের বিভিন্ন কর্মকাণ্ডের বিষয়ে তথ্য ও প্রমাণ সংগ্রহের চেষ্টা করেন। সংবাদ সম্মেলনে ওবায়দুর রহমান বলেন, গত ১৮ই জুন তিনি প্রথম তরুণীর সঙ্গে গাজী নজরুলের সম্পর্কের বিষয়টি বুঝতে পারেন। পরদিন তরুণীর সঙ্গে কথা বললে সে সম্পর্কের কথা স্বীকার করে। পরে ২০শে জুন তরুণীকে সঙ্গে নিয়ে তিনি এমপি হোস্টেলে গিয়ে গাজী নজরুলের সঙ্গে সরাসরি কথা বলেন। তখন গাজী নজরুল সম্পর্কের বিষয়টি স্বীকার করেন এবং গাজী নজরুল তরুণীর মাধ্যমে তাকে কিছু টাকা দেয়ার প্রস্তাব দেন। পাশাপাশি তাকে ব্যক্তিগত সহকারী ও গাড়িচালক হিসেবে কাজ করার সুযোগ দেয়ার কথা বলেন। কিন্তু তিনি টাকা নেননি। সংবাদ সম্মেলনে তিনি আরও দাবি করেন, গত ২২শে জুন মেট্রোরেলের পল্লবী স্টেশনের একটি কফিশপে এবং ৯ই জুলাই মিরপুর-১২ এলাকার একটি প্রশিক্ষণকেন্দ্রে গাজী নজরুল ও ওই তরুণীকে আপত্তিকর অবস্থায় দেখেছেন।
এসব ঘটনার সিসিটিভি ফুটেজ রয়েছে বলেও দাবি করেন তিনি। গত ১৩ই জুলাই মগবাজারের একটি রেস্টহাউজে গাজী নজরুল ও ওই তরুণীর অবস্থানের বিষয়ে তথ্য সংগ্রহের চেষ্টা করেন। পরে ওই রাতেই তরুণীকে নিয়ে তিনি ঢাকার বাইরে চলে যান। পরদিন ঢাকায় ফেরার পথে গাজী নজরুলের সঙ্গে যোগাযোগ করলে তার কথামতো খিলক্ষেত এলাকায় তরুণীর বাবা ও আমিনুর নামের এক ব্যক্তির সঙ্গে তাদের দেখা হয়। ওবায়দুরের অভিযোগ, ওই রাতে বাসায় ফেরার পর তরুণীর বাবা ও আমিনুর তার ওপর হামলা চালান এবং গলা টিপে হত্যার চেষ্টা করেন। গুরুতর আহত অবস্থায় রাত ১২টা ৩৮ মিনিটে তিনি কুর্মিটোলা জেনারেল হাসপাতালের জরুরি বিভাগে ভর্তি হয়ে চিকিৎসা নেন। ওবায়দুর জানান, ওই ঘটনার পর ২১শে জুলাই পল্লবী থানায় কয়েকজনের নাম উল্লেখ করে এবং আরও কয়েকজনকে অজ্ঞাতনামা আসামি করে মামলা করেন তিনি। পরে মামলাটি ঢাকা মহানগর গোয়েন্দা পুলিশের (ডিবি) কাছে হস্তান্তর করা হয়। মামলায় কয়েকজন আসামি গ্রেপ্তার হলেও পরে আদালত তাদের জামিন দেন।
এরই মধ্যে গত ২রা আগস্ট তার বিরুদ্ধে নারী অপহরণ, নারী পাচার ও মুক্তিপণ আদায়ের অভিযোগে মামলা করেন তার বোন ও ওই তরুণীর মা। মামলাটি বর্তমানে পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশনের (পিবিআই) তদন্তাধীন বলে সংবাদ সম্মেলনে জানান ওবায়দুর।
তিনি আরও অভিযোগ করেন, মামলা তুলে নেয়ার জন্য তাকে বিভিন্নভাবে হুমকি দেয়া হচ্ছে। তার মা ও পরিবারের সদস্যদের বাড়ি ছেড়ে অন্যত্র থাকতে হচ্ছে। এসব ঘটনায় ২০শে আগস্ট পল্লবী থানায় সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করেছেন। এ ঘটনার সুষ্ঠু বিচার চান তিনি।
উল্লেখ্য, গাজী নজরুল ইসলামের ‘ব্যক্তিগত মুহূর্তের’ একটি ভিডিও সম্প্রতি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ার পর ব্যাপক আলোচনা তৈরি হয়। ভিডিওতে তার সঙ্গে এক তরুণীকে দেখা যায়। আলোচনায় ওঠার পর গাজী নজরুল জানান, ওই তরুণী তার দ্বিতীয় স্ত্রী। গাজী নজরুল সে সময় অভিযোগ করেছিলেন, ১৩ই জুলাই ওই তরুণীর বাবার অফিসে তাকে জিম্মি করে ১ লাখ টাকা হাতিয়ে নিয়েছিলেন ওবায়দুর রহমান। ভিডিও ফাঁসও তিনিই করেছেন।
