প্রেসিডেন্ট নির্বাচনের ফলাফল ঘোষণার সঙ্গে সঙ্গে মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরকে লাল গোলাপ দিয়ে অভিনন্দন জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী। বৃহস্পতিবার বিকাল ৫টা ২০ মিনিটে নির্বাচনী কর্তা ও প্রধান নির্বাচন কমিশনার এএমএম নাসির উদ্দীন ভোটের ফলাফল ঘোষণা করেন। এএসএম নাসির উদ্দীন বলেন, মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর ভোট পেয়েছেন ২৫৫ ভোট। আমি ঘোষণা করছি যে, সর্বোচ্চসংখ্যাক ভোট পাওয়ায় প্রেসিডেন্ট হিসেবে তিনি যথাযথভাবে নির্বাচিত হয়েছেন। এই ঘোষণার সঙ্গে সঙ্গে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান দাঁড়িয়ে নবনির্বাচিত প্রেসিডেন্ট মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরকে প্রথম করমর্দন করেন এবং তাকে লাল গোলাপের একটি স্টিক হাতে দেন।
এ সময়ে পুরো সংসদ কক্ষের সংসদ সদস্যরা টেবিল চাপড়িয়ে নতুন প্রেসিডেন্টকে অভিনন্দন জানান। এরপর নতুন প্রেসিডেন্ট হাত তুলে সকল সংসদ সদস্যদের উদ্দেশ্যে সালাম জানান। সংসদ সদস্যরা তখনো টেবিল চাপাড়াচ্ছিলেন।
বিরোধীদলীয় নেতা শফিকুর রহমান ও বিরোধী উপনেতা সৈয়দ আবদুল্লাহ মোহাম্মদ তাহেরসহ বিরোধী সংসদ সদস্যরা ট্রেজারি বেঞ্চের কাছে আসলে নতুন প্রেসিডেন্ট নিজের আসন থেকে বেরিয়ে বিরোধী দলের নেতার সঙ্গে কোলাকুলি করেন। এরপর প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানও নিজের আসন থেকে এসে নতুন প্রেসিডেন্টের সঙ্গে কোলাকুলি করেন। এরপর প্রধানমন্ত্রী বিরোধীদলীয় নেতার সঙ্গেও কোলাকুলি করেন। পুরো সংসদ কক্ষের সংসদ সদস্য সকলে নিজ নিজ আসন থেকে এসে নতুন প্রেসিডেন্টের সঙ্গে করমর্দন করেন। এ সময় নতুন প্রেসিডেন্ট একপর্যায়ে নির্বাচন পরিচালনাকারী প্রধান নির্বাচন কমিশনার এএমএম নাসির উদ্দীনের সঙ্গে করমর্দন করেন এবং অন্যান্য কর্মকর্তাদের সালাম জানান।
পবিত্র কোরআন তেলোয়াতের মধ্যদিয়ে বেলা ২টায় দিকে প্রেসিডেন্ট নির্বাচনে ভোট গ্রহণ শুরু হয়। শেষ হয় বিকাল ৫টায়। প্রেসিডেন্ট পদে দুইজন প্রার্থী প্রতিদ্বন্দ্বিতা করেন। তারা হলেন-ক্ষমতাসীন দল বিএনপি’র মনোনীত প্রার্থী মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর এবং জামায়াত নেতৃত্বাধীন ১১ দলীয় ঐক্য প্রার্থী কর্নেল (অব.) অলি আহমদ। এরমধ্যে অলি আহমদ সংসদ সদস্য নন। এজন্য ভোটের সময় সংসদের সভাকক্ষে তাকে দেখা যায়নি। তিনি ভোটও দিতে পারেননি। সংসদ সদস্য হওয়ায় বিএনপি’র প্রেসিডেন্ট প্রার্থী মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর ভোট দেন।
দুপুর ২টা ১০ মিনিটে প্রধানমন্ত্রী নিজের আসন থেকে উঠে পাশে বসা দলের প্রার্থী মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরকে সঙ্গে নিয়ে ভোট দেন। ঘড়ির কাঁটা যখন ২টা ১১ মিনিট, প্রধানমন্ত্রী ব্যালট পেপার নিয়ে ভোট বাক্সের কাছে যান এবং নিজের ব্যালট পেপারটা ব্যালট বাক্সে ফেলেন। এ সময়ে সংসদ সদস্যরা টেবিল চাপড়িয়ে প্রধানমন্ত্রীকে শুভেচ্ছা জানান। এরপরই ভোট বাক্সে ব্যালট পেপার ফেলেন প্রেসিডেন্ট পদে বিএনপি’র প্রার্থী মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। এই সময়ে সরকারি দলের সদস্যরা টেবিল চাপড়িয়ে শুভেচ্ছা জানান। এরপর প্রেসিডেন্ট প্রার্থী উপস্থিত সংসদ সদস্যদের সঙ্গে করমর্দন করেন। পরে বিরোধী দলের নেতা শফিকুর রহমান ও বিরোধী উপনেতা সৈয়দ আবদুল্লাহ মোহাম্মদ তাহের কাছে গিয়ে শুভেচ্ছা বিনিময় করেন মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর।
সংসদে একঘণ্টা প্রধানমন্ত্রী: ভোট শুরু থেকে একঘণ্টার অধিক সময়ে সংসদ কক্ষে নিজের আসনে বসেছিলেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। পাশের আসনে ছিলেন মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর, এরপর অর্থমন্ত্রী আমীর খসরু মাহমুদ চৌধুরী এবং স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ, প্রবীণ সংসদ সদস্য ড. খন্দকার মোশাররফ হোসেন। প্রধানমন্ত্রী নিজের আসনে বসেছিলেন তখন সংসদ সদস্যরা সামনে থেকে ভিড় করে দাঁড়িয়ে ছিলেন। প্রধানমন্ত্রী হাসিমুখে সংসদ সদস্যদের সঙ্গে কথা বলেন এবং তাদের খোঁজখবর নেন।
প্রধানমন্ত্রী বিকাল ৩টা ১৩ মিনিটে সংসদ কক্ষ ছেড়ে নিজের কার্যালয়ে যান। দলের প্রার্থী মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরকে সঙ্গে নেন। পরে ৪টা ৪১ মিনিটে প্রার্থীকে নিয়ে সংসদ কক্ষে ফিরে আসেন সরকারপ্রধান। প্রধানমন্ত্রীর প্রেস সচিব সালেহ শিবলী, অতিরিক্ত প্রেস সচিব আতিকুর রহমান রুমন, উপ প্রেস সচিব জাহিদুল ইসলাম রনি, মো. সুজাদ্দৌলা, সহকারী প্রেস সচিব একেএম নাজমুল হক প্রমুখ কর্মকর্তারা সাংবাদিক গ্যালারিতে গিয়ে ভোটগ্রহণ প্রক্রিয়া অবলোকন করেন এবং সাংবাদিকদের সঙ্গে কুশল বিনিময় করেন। সাংবাদিক দুইটি গ্যালারি ছাড়া সবগুলো গ্যালারি বন্ধ ছিল।
