সমুদ্রের দিকে উত্তর কোরিয়া ফের প্রায় ১০টি স্বল্পপাল্লার ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র ছুড়েছে বলে জানিয়েছে দক্ষিণ কোরিয়ার সামরিক বাহিনী। এর একদিন আগে উত্তর কোরিয়া মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডনাল্ড ট্রাম্পের দক্ষিণ কোরিয়ার সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক মহড়া কমানোর নির্দেশকে প্রত্যাখ্যান করে। খবর দ্য গার্ডিয়ানের।
দক্ষিণ কোরিয়ার জয়েন্ট চিফস অব স্টাফ (জেসিএস) জানিয়েছে, বৃহস্পতিবার স্থানীয় সময় বিকেল ৫টার দিকে পিয়ংইয়ং অঞ্চল থেকে ক্ষেপণাস্ত্রগুলো উৎক্ষেপণ করা হয়। এগুলো উত্তর কোরিয়ার পূর্ব উপকূলের জলসীমার দিকে ছোড়া হয়।
দক্ষিণ কোরিয়ার সামরিক বাহিনী জানিয়েছে, তারা নজরদারি জোরদার করেছে এবং ক্ষেপণাস্ত্র উৎক্ষেপণের বিষয়ে যুক্তরাষ্ট্র ও জাপানের সঙ্গে ঘনিষ্ঠভাবে তথ্য সমন্বয় করছে।
দক্ষিণ কোরিয়ার প্রেসিডেন্টের জাতীয় নিরাপত্তা পরিষদ এ ঘটনায় জরুরি বৈঠক করেছে। বৈঠকের পর দেয়া বিবৃতিতে উত্তর কোরিয়াকে ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র উৎক্ষেপণ বন্ধ করার আহ্বান জানানো হয়।
জাতিসংঘ নিরাপত্তা পরিষদের একাধিক প্রস্তাবের অধীনে উত্তর কোরিয়ার এ ধরনের ক্ষেপণাস্ত্র উৎক্ষেপণ নিষিদ্ধ।
এর আগে জাপানের প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ও একটি সন্দেহভাজন ক্ষেপণাস্ত্র উৎক্ষেপণ শনাক্ত করার কথা জানিয়েছিল।
গত বুধবার দক্ষিণ কোরিয়া ও যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক বাহিনী জানায়, তারা ১১ দিনের ‘উলচি ফ্রিডম শিল্ড’ সামরিক মহড়ার পরিসর কমিয়ে আনছে। সোমবার মহড়া শুরুর ঠিক আগে ডনাল্ড ট্রাম্প পেন্টাগনকে মহড়াটি ‘উল্লেখযোগ্যভাবে কমিয়ে দেয়ার’ নির্দেশ দিয়েছিলেন।
কেন এমন সিদ্ধান্ত নেয়া হয়েছে, তার ব্যাখ্যায় মার্কিন প্রেসিডেন্ট উত্তর কোরিয়ার নেতা কিম জং উনের সঙ্গে তার ‘ভালো সম্পর্কের’ কথা উল্লেখ করেন। একই সঙ্গে ইরানের বিরুদ্ধে চলমান যুদ্ধে দক্ষিণ কোরিয়া তাকে সমর্থন না করার বিষয়টিও কারণ হিসেবে তুলে ধরেন ট্রাম্প।
তবে বুধবার উত্তর কোরিয়ার প্রভাবশালী নেতা কিম জং উনের বোন কিম ইয়ো জং ট্রাম্পের এই উদ্যোগকে প্রত্যাখ্যান করেন। তিনি বলেন, এ নিয়ে মন্তব্য করারও প্রয়োজন নেই।
তিনি বলেন, মহড়ার মেয়াদ ও আকার কমানো হলেও এর উসকানিমূলক ও আগ্রাসী চরিত্র বদলাবে না।
কিম ইয়ো জং আরও বলেন, যুক্তরাষ্ট্র যদি মনে করে, তাদের সাম্প্রতিক পদক্ষেপকে তথাকথিত সদিচ্ছার নিদর্শন হিসেবে প্রচার করা যাবে, তাহলে তারা কাঙ্ক্ষিত কোনো জবাব পাবে না।
