আট মাসে বিজিবির অভিযানে ৮৩০ কোটি টাকার চোরাচালান পণ্য জব্দ

আট মাসে বিজিবির অভিযানে ৮৩০ কোটি টাকার চোরাচালান পণ্য জব্দ

ফন্ট সাইজ:

সীমান্ত এলাকায় অভিযান চালিয়ে আট মাসে ৮৩০ কোটি ৪৮ লাখ ৮৯ হাজার ৪৭৭ টাকা মূল্যের বিভিন্ন ধরনের চোরাচালানপণ্য, মাদক ও অবৈধ মালামাল জব্দ করেছে বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ (বিজিবি)। একই সময়ে অস্ত্র, গোলাবারুদ ও বিস্ফোরকও উদ্ধার করেছে সরাইল রিজিয়নের দায়িত্বপূর্ণ চারটি সেক্টর। এই চারটি সেক্টর হলো-সিলেট সেক্টর, শ্রীমঙ্গল সেক্টর, কুমিল্লা সেক্টর,ময়মনসিংহ সেক্টর।

সোমবার (১৭ আগস্ট) বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ (বিজিবি), উত্তর-পূর্ব রিজিয়ন, রিজিয়ন সদর দপ্তর, সরাইলের পক্ষ থেকে শ্রীমঙ্গল ব্যাটালিয়ন (৪৬ বিজিবি) আয়োজিত মিডিয়া ব্রিফিংয়ে এসব তথ্য জানান ৪৬ বিজিবির অধিনায়ক লে. কর্নেল সরকার আসিফ মাহমুদ।

বিজিবি সূত্র জানায়, সরাইল রিজিয়নের দায়িত্বপূর্ণ ১ হাজার ২০৪ কিলোমিটার সীমান্তে ৪০টি সেক্টরের অধীনে ১৩টি ইউনিটের মোট ২২১টি বর্ডার অবজারভেশন পোস্ট (বিওপি) দায়িত্ব পালন করছে। এসব বিওপির মাধ্যমে সীমান্তে চোরাচালান প্রতিরোধ, মাদক ও অস্ত্রসহ বিভিন্ন অবৈধ পণ্যের প্রবেশ ঠেকাতে নিয়মিত টহল ও বিশেষ অভিযান পরিচালনা করা হচ্ছে।

বিজিবির দেয়া তথ্য অনুযায়ী, চলতি বছরের ১ জানুয়ারি থেকে ১০ আগস্ট পর্যন্ত নিয়মিত টহলের পাশাপাশি বিশেষ অভিযান চালিয়ে প্রায় ৮৩০ কোটি ৪৮ লাখ ৮৯ হাজার ৪৭৭ টাকা মূল্যের মাদক ও অন্যান্য অবৈধ মালামাল জব্দ করা হয়েছে। এসব অভিযানে সীমান্তপথে মাদক ও বিভিন্ন চোরাচালানপণ্য প্রবেশ ঠেকাতে বিজিবির তৎপরতার চিত্র উঠে এসেছে।

সীমান্ত নিরাপত্তা জোরদারের পাশাপাশি অস্ত্র চোরাচালান প্রতিরোধেও নিয়মিত অভিযান চালাচ্ছে বিজিবি। বিভিন্ন সময়ে গোয়েন্দা তথ্যের ভিত্তিতে পরিচালিত অভিযানে অস্ত্র, গোলাবারুদ ও বিস্ফোরক উদ্ধার করা হয়েছে। সাম্প্রতিক অভিযানে ৪টি পিস্তল, ৬টি এয়ারগান, ৫টি পাইপগান, ১টি ওয়ান শুটারগান, ৪০ রাউন্ড কার্তুজ, ১৮ দশমিক ৩৩ কেজি উচ্চ বিস্ফোরক, ১১৭টি ডেটোনেটর এবং ৩০ মিটার ডেটোনেটর তার উদ্ধারের তথ্য জানিয়েছে বিজিবি।

এদিকে সীমান্ত নিরাপত্তার পাশাপাশি পরিবেশ ও প্রাকৃতিক সম্পদ রক্ষায়ও নজরদারি বাড়িয়েছে বিজিবি। অবৈধভাবে পাহাড় ও বালু উত্তোলনের বিরুদ্ধে স্থানীয় প্রশাসনের সঙ্গে সমন্বয় করে নিয়মিত অভিযান পরিচালনা করা হচ্ছে। বিশেষ করে সিলেট অঞ্চলের কানাইঘাট, গোয়াইনঘাট, কোম্পানীগঞ্জ, জৈন্তাপুর, পিয়াইন নদী, বাল্লাঘাট ও জাফলং এলাকায় অবৈধভাবে পাথর ও বালু উত্তোলনের প্রবণতা থাকায় এসব এলাকায় নজরদারি জোরদার করা হয়েছে।

বিজিবির সরাইল রিজিয়নের দায়িত্বপূর্ণ ইউনিটগুলোর অভিযানে এ সময়ের মধ্যে অবৈধভাবে উত্তোলন করা ২ হাজার ১২১ ঘনফুট বালু এবং ৭ হাজার ৪৬৫ ঘনফুট পাথর জব্দ করা হয়েছে।

সীমান্ত পাহারার পাশাপাশি প্রাকৃতিক দুর্যোগ মোকাবিলাতেও প্রস্তুত রয়েছে বিজিবি। বন্যা, ঘূর্ণিঝড়সহ বিভিন্ন দুর্যোগে জনসম্পদ রক্ষা, উদ্ধার তৎপরতা ও ত্রাণ বিতরণে কাজ করছে বাহিনীটি। দুর্যোগকালীন সময়ে দ্রুত প্রতিক্রিয়া নিশ্চিত করার পাশাপাশি ক্ষতিগ্রস্তদের চিকিৎসাসেবা, নিরাপদ আশ্রয়ের ব্যবস্থা এবং উদ্ধার-পরবর্তী পুনর্বাসন কার্যক্রমে সরকারের নির্দেশনা ও স্থানীয় প্রশাসনের সঙ্গে সমন্বয় করে দায়িত্ব পালন করছে বিজিবি।

দুর্গম ও হাওরাঞ্চলে সাধারণ মানুষের কাছে ত্রাণ পৌঁছে দিতে নেওয়া হয়েছে ব্যতিক্রমী উদ্যোগ। কোথাও কোথাও ড্রোনের মাধ্যমে বন্যাকবলিত অসহায় মানুষের কাছে ত্রাণ ও খাদ্যসামগ্রী পৌঁছে দেওয়ার উদ্যোগও নেওয়া হয়েছে বলে বিজিবির পক্ষ থেকে জানানো হয়।

সীমান্তে চোরাচালান প্রতিরোধ, মাদক ও অস্ত্র উদ্ধারে অভিযান, প্রাকৃতিক সম্পদ রক্ষা এবং দুর্যোগকালে মানবিক সহায়তা—বিজিবির সাম্প্রতিক কর্মকাণ্ডে দায়িত্বের পরিধি যে কেবল সীমান্ত পাহারায় সীমাবদ্ধ নয়, তা স্পষ্ট হয়েছে।

৪৬ বিজিবির অধিনায়ক লে. কর্নেল সরকার আসিফ মাহমুদ বলেন, ‘সীমান্তে শান্তিশৃঙ্খলা বজায় রাখা, চোরাচালান ও অস্ত্র-গোলাবারুদ পাচার প্রতিরোধ, প্রাকৃতিক সম্পদ সংরক্ষণ এবং মাদকমুক্ত সমাজ গঠনে বিজিবি অঙ্গীকারবদ্ধ। পাশাপাশি প্রাকৃতিক দুর্যোগে ক্ষতিগ্রস্ত মানুষের পাশে দাঁড়ানোসহ আইনশৃঙ্খলা রক্ষায় স্থানীয় প্রশাসনের সঙ্গে সমন্বয় করে বিজিবির কার্যক্রম অব্যাহত থাকবে।’