শুভেন্দুর সরকারকে দশ দিনের সময়সীমা তেলাপোকা পার্টির

শুভেন্দুর সরকারকে দশ দিনের সময়সীমা তেলাপোকা পার্টির

ফন্ট সাইজ:

তেলাপোকা জনতা পার্টির (সিজেপি) এক সমর্থকের পিতার মৃত্যুতে সরব হয়েছে দলের কেন্দ্রীয় নেতারা। কয়েক দিন আগে পশ্চিমবঙ্গের বাঁকুড়ার ইন্দাসের করিশুন্ডা গ্রামে সিজেপির স্বেচ্ছাসেবক শেখ আব্দুল হাফিজের বাড়িতে দুষ্কৃতকারীরা হামলা চালায়। এ সময় ঢাল হয়ে দাঁড়িয়ে ছেলেকে বাঁচিয়েছিলেন পিতা শেখ মাফিক। ছেলেকে বাঁচাতে পারলেও নিজেকে বাঁচাতে পারেননি পঞ্চাশোর্ধ্ব মাফিক। মারধরের জেরে রবিবার সকালে হাসপাতালে তার মৃত্যু হয়। এ মৃতুর ঘটনা নিয়ে রাজ্যে প্রবল সমালোচনার ঝড় উঠেছে।

হাফিজ সিজেপির আন্দোলনে যোগ দিয়ে দেশের শিক্ষাব্যবস্থা উন্নতির জন্য লড়াই করেন। পরে নিজের গ্রামে ফিরেও সেই লড়াই অব্যাহত রাখেন। এলাকার প্রাথমিক স্কুলের বেহাল দশা দেখে প্রধান শিক্ষক ও প্রশাসনিক স্তরে যোগাযোগ করে হাল ফেরাতে চেয়েছিলেন ইন্দাসের এই তরুণ হাফিজ। সিজেপির ‘স্কুল ঠিক করো’ প্রচারণার অংশ হিসেবে নিজের শৈশবের স্কুলের শোচনীয় অবস্থার ভিডিও ধারণ করে সোশ্যাল মিডিয়ায় আপলোড করার জন্য তিনি মারধরের শিকার হন। কথিত বিজেপি কর্মীরা তার মোবাইল ফোনটি ছিনিয়ে নিয়ে তাকে ভিডিওগুলো মুছে ফেলতে বাধ্য করে বলে অভিযোগ।

কিন্তু হাফিজকে এই উদ্যোগের মাশুল গুনতে হয়েছে তার পিতা মাফিককে হারিয়ে। সোমবার দিল্লি থেকে সিজেপির মুখপাত্র আশুতোষ রাঙ্কা, তার জ্যেষ্ঠ সহযোগী বিজয় মালঙ্গি, অঙ্কিত ভরদ্বাজ, আকাশ প্রেম এবং সুধীর সাংওয়ানকে সঙ্গে নিয়ে ইন্দাসের করিশুন্দা গ্রামে হাফিজের বাড়ি যান। এরপরেই বাঁকুড়া জেলায় সিজেপির স্বেচ্ছাসেবকের পিতার মৃত্যুর ঘটনায় জড়িত সকলকে গ্রেপ্তার করার জন্য শুভেন্দু অধিকারী সরকারকে ১০ দিনের সময়সীমা বেঁধে দিয়েছেন। ইন্দাস থানার পুলিশ কর্মীদের আচরণের বিষয়ে আদালতের পর্যবেক্ষণে তদন্তের দাবি জানিয়েছেন। সিজেপির পাশাপাশি হাফিজের বাড়ি গিয়েছিলেন সিপিআইএমের শতরূপ ঘোষ, এসএফআইয়ের সাবেক সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক ময়ূখ বিশ্বাসরা।

সিজেপির মুখপাত্র রাঙ্কা বলেছেন, পরিবারটি সরকারি ক্ষতিপূরণ প্রত্যাখ্যান করেছে এবং এর পরিবর্তে হাফিজ তার পিতার নামে একটি আন্তর্জাতিক মানের স্কুল নির্মাণের দাবি করেছেন। রাঙ্কা বলেন, আমরা পশ্চিমবঙ্গ সরকারের কাছে এই দাবি পূরণের আবেদন জানাচ্ছি। সিজেপি নেতাদের উপস্থিতিতে হাফিজ বলেন, এই ধরনের একটি স্কুল তার পিতার প্রতি যথাযথ শ্রদ্ধাঞ্জলি হবে এবং শিক্ষাকে কেন্দ্র করে জনসচেতনতা সৃষ্টির একটি নতুন মডেল হয়ে উঠতে পারে।
রাঙ্কা বলেন, যদি ১০ দিনের মধ্যে অভিযুক্তদের গ্রেপ্তার করা না হয় এবং আমাদের অন্যান্য দাবি পূরণ না করা হয়, তাহলে আমরা জেলা প্রশাসন কার্যালয় ঘেরাও করব এবং পরবর্তীতে আরও বড় আন্দোলন শুরু করব।

পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, রবিবার ইন্দাস থানায় মাফিকের স্ত্রী হাসিনা বেগমের দায়ের করা একটি লিখিত অভিযোগের ভিত্তিতে আটজনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তিনি পাঁচজনের নাম উল্লেখ করে অভিযোগ করেন যে, এই হামলায় আরও ১০-১৫ জন জড়িত ছিল।

বাঁকুড়ার পুলিশ প্রধান ভি. জি. সতীশ পশুমার্থী বলেন, অভিযোগে নাম থাকা আটজনকে আমরা ইতিমধ্যে গ্রেপ্তার করেছি। আরও গ্রেপ্তার করা হবে। তদন্ত চলছে। মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী অবশ্য বলেছেন, প্রয়োজনীয় সব ধরণের ব্যবস্থা নেয়া হবে।