খায়রুল হকের দেশত্যাগে আদালতের অনুমতি বাধ্যতামূলক, দীপু মনির ৫ মামলায় জামিনে রুল

খায়রুল হকের দেশত্যাগে আদালতের অনুমতি বাধ্যতামূলক, দীপু মনির ৫ মামলায় জামিনে রুল

ফন্ট সাইজ:

সাবেক প্রধান বিচারপতি এ বি এম খায়রুল হক আদালতের অনুমতি ছাড়া দেশত্যাগ করতে পারবেন না বলে আদেশ দিয়েছেন আপিল বিভাগ। একই দিনে সাবেক মন্ত্রী ও কার্যক্রম নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক ডা. দীপু মনির বিরুদ্ধে দায়ের করা পাঁচটি হত্যা ও হত্যাচেষ্টা মামলায় জামিন কেন দেয়া হবে না, তা জানতে চেয়ে রুল জারি করেছেন হাইকোর্ট।

আদালতের অনুমতি ছাড়া দেশ ছাড়তে পারবেন না খায়রুল হক: সোমবার প্রধান বিচারপতির নেতৃত্বাধীন আপিল বিভাগ সাবেক প্রধান বিচারপতি এ বি এম খায়রুল হকের দেশত্যাগে নিষেধাজ্ঞার আদেশ দেন। তবে তার আইনজীবী অ্যাডভোকেট মোতাহার হোসেন সাজু জানিয়েছেন, যেকোনো সময় তিনি কারামুক্ত হতে পারেন। এদিকে সর্বশেষ দায়ের হওয়া বনানী থানার হত্যা-চেষ্টা মামলাতেও খায়রুল হকের জামিন বহাল রেখেছেন চেম্বার আদালত। এর আগে বিচারপতি কে এম জাহিদ সারওয়ার ও বিচারপতি শেখ আবু তাহেরের হাইকোর্ট বেঞ্চ ওই মামলায় তাকে জামিন দেন।

গত ২রা জুলাই রাজধানীর যাত্রাবাড়ী থানায় দায়ের করা খোয়াইব হত্যা মামলায় খায়রুল হকের জামিন বহাল রাখেন চেম্বার আদালত। পরে বনানী থানার মামলায় তাকে শ্যোন অ্যারেস্ট দেখানো হয়। এর আগে গত ৩০ জুন খোয়াইব হত্যা মামলায় তাকে জামিন দেন হাইকোর্ট। গত ২৩ মে পৃথক সাত মামলায় জামিন পাওয়ার পর খায়রুল হককে নতুন করে যাত্রাবাড়ী থানায় দায়ের করা খোয়াইব হত্যা মামলায় গ্রেপ্তার দেখানো হয়। ঢাকার মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট সারাহ্ ফারজানা হকের আদালত এ আদেশ দেন। এর আগে ১৬ই মে যাত্রাবাড়ী থানার উপপরিদর্শক মো. ইব্রাহিম খলিল এ মামলায় খায়রুল হককে গ্রেপ্তার দেখানোর আবেদন করেন।
দীপু মনির ৫ মামলায় জামিনে হাইকোর্টের রুল: অন্যদিকে সাবেক মন্ত্রী ডা. দীপু মনির বিরুদ্ধে হত্যা ও হত্যাচেষ্টার অভিযোগে দায়ের করা পাঁচটি মামলায় কেন তাকে জামিন দেওয়া হবে না, তা জানতে চেয়ে রুল জারি করেছেন হাইকোর্ট। সোমবার বিচারপতি মো. খায়েরুল আলম ও বিচারপতি মো. রাফিজুল ইসলামের হাইকোর্ট বেঞ্চ এ রুল জারি করেন।

আদালতে জামিন আবেদনের পক্ষে ছিলেন জ্যেষ্ঠ আইনজীবী রমজান আলী শিকদার ও আইনজীবী গাজী ফয়সাল ইসলাম। রাষ্ট্রপক্ষে ছিলেন ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেল মাসুদুল আলম দোহা। আইনজীবী গাজী ফয়সাল ইসলাম জানান, পাঁচটি মামলা হয়েছে রাজধানীর আদাবর, বাড্ডা, গাজীপুরের গাছা ও শাহবাগ থানায়। এর মধ্যে শাহবাগ থানায় দায়ের হয়েছে দুটি মামলা। এ ছাড়া দীপু মনির বিরুদ্ধে আগের ১৬টি মামলায় জারি করা রুলও শুনানির জন্য ধার্য করা হয়েছে। আইনজীবী রমজান আলী শিকদার জানান, এখন পর্যন্ত দীপু মনির বিরুদ্ধে ৩৮টি মামলার তথ্য পাওয়া গেছে। এর মধ্যে দুটি মামলা আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে রয়েছে।

ডা. দীপু মনি কার্যক্রম নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক। আওয়ামী লীগ সরকারের টানা ১৫ বছরের শাসনামলে তিনি পররাষ্ট্রমন্ত্রী, শিক্ষামন্ত্রী ও সমাজকল্যাণমন্ত্রীর দায়িত্ব পালন করেন। ২০২৪ সালের ৫ই আগস্ট আওয়ামী লীগ সরকারের পতনের পর ১৯ আগস্ট রাতে রাজধানীর বারিধারা এলাকা থেকে তাকে গ্রেপ্তার করে পুলিশ। তার বিরুদ্ধে হত্যা, মানবতাবিরোধী অপরাধ, দুর্নীতি এবং সহিংসতায় উসকানি বা নির্দেশ দেওয়ার অভিযোগে ৩৮টিরও বেশি মামলা রয়েছে।