বিশ্বজুড়ে পুরুষদের মধ্যে পুরুষাঙ্গের পরিধি বাড়াতে কৃত্রিম জেল বা বিশেষ ফিলার নেওয়ার প্রবণতা ক্রমেই বৃদ্ধি পাচ্ছে। শারীরিক সৌন্দর্য ও আত্মবিশ্বাস বাড়ানোর তাগিদে অনেকে এমনটা করছে বলে ধারণা করা হচ্ছে। চিকিৎসা বিজ্ঞানের স্পষ্ট সতর্কতা এবং স্থায়ী শারীরিক ক্ষতির আশঙ্কা থাকা সত্ত্বেও কেবল নান্দনিক কারণে ও সামাজিক চাপের মুখে এই ধরনের কৃত্রিম পদ্ধতির দ্বারস্থ হচ্ছেন অনেকে। এ খবর দিয়েছে অনলাইন বিবিসি।
চিকিৎসা বিজ্ঞান অনুযায়ী, এই পদ্ধতিতে কোনো বড় অস্ত্রোপচার ছাড়াই বিশেষ নলের মাধ্যমে মূলত হায়ালুরোনিক অ্যাসিড নামক জেল-সদৃশ উপাদান ত্বকের নিচে প্রয়োগ করা হয়। এটি মানুষের শরীরে প্রাকৃতিকভাবে তৈরি হওয়া একটি জৈব অণু, যা মূলত আর্দ্রতা ধরে রাখতে কার্যকর এবং ঠোঁটের কৃত্রিম সৌন্দর্যের কাজেও ব্যবহৃত হয়ে থাকে। চিকিৎসকদের মতে, এই জেল ব্যবহারের ফলে সাময়িকভাবে পুরুষাঙ্গের পরিধি ১০ থেকে ২০ ভাগ পর্যন্ত বৃদ্ধি পায়, যার স্থায়িত্ব থাকে সাধারণত ছয় থেকে নয় মাস। পরবর্তীতে এটি প্রাকৃতিকভাবে শরীরে দ্রবীভূত হয়ে মিশে যায়। তবে বিশেষজ্ঞরা সতর্ক করে জানান, সামান্য ভুলের কারণে এই প্রক্রিয়ায় মারাত্মক স্বাস্থ্য বিপর্যয় ঘটতে পারে।
ভুল জায়গায় বা ত্রুটিপূর্ণ উপাদানের ফিলার প্রয়োগের ফলে রক্ত সঞ্চালন বন্ধ হয়ে টিস্যু নেক্রোসিস বা কোষের পচন দেখা দিতে পারে, যার ফলে আক্রান্ত অংশের ত্বক কালো হয়ে খসে পড়ার ঝুঁকি থাকে। এছাড়া রক্তনালি ও অভ্যন্তরীণ সূক্ষ্ম কাঠামো ক্ষতিগ্রস্ত হয়ে দেখা দিতে পারে জটিল রক্ত সংবহনজনিত ত্রুটি, যা পুরুষের স্বাভাবিক উত্থানজনিত কার্যক্ষমতাকে স্থায়ীভাবে নষ্ট করে দিতে পারে।
এমনকি জেল সঠিকভাবে ছড়িয়ে না পড়লে ত্বকের নিচে অসম পিণ্ড সৃষ্টি এবং তীব্র ব্যাকটেরিয়া সংক্রমণের আশঙ্কাও থেকে যায়। ম্যানচেস্টারের একটি হাসপাতালের বিশিষ্ট অ্যান্ড্রোলজিস্ট ও ইউরোলজি সার্জন অধ্যাপক বৈভব মোদগিল জানান, দীর্ঘমেয়াদি স্বাস্থ্য সুরক্ষার পর্যাপ্ত চিকিৎসা তথ্যের অভাব থাকায় ব্রিটিশ ইউরোলজিক্যাল সার্জনদের সংগঠন এই পদ্ধতির বিরুদ্ধে স্পষ্ট দিকনির্দেশনা জারি করেছে। যথাযথ চিকিৎসা সনদ ছাড়াই অনেকে এই অননুমোদিত সেবা দেওয়ায় জটিলতা বহুগুণ বাড়ছে। বিশেষজ্ঞদের মতে, পুরুষত্ব সংক্রান্ত অবাস্তব সামাজিক ধারণা ও পর্নোগ্রাফির অতিরিক্ত প্রভাব থেকেই পুরুষরা এমন ঝুঁকিপূর্ণ পদ্ধতির দিকে ঝুঁকছেন।
