চলতি বছরের মার্চে উপসাগরীয় অঞ্চলে সংঘাত শুরুর পর কাতারের আকাশে ভূপাতিত হয়েছিল ইরানের দুটি সুখোই-২৪ যুদ্ধবিমান। ঘটনার দীর্ঘ ছয় মাস পার হলেও সেই অভিযানে অংশ নেওয়া তিন ইরানি পাইলটের ভাগ্য ঘিরে তৈরি হয়েছে চরম রহস্য ও কূটনৈতিক টানাপোড়েন। তেহরানের দাবি-বৈমানিকদের জীবিত বন্দি করে গোপন হেফাজতে রেখেছে কাতার। দোহার দাবি তাদের হাতে কোনো জীবিত পাইলট নেই। এই পাল্টাপাল্টি অবস্থানে অনিশ্চয়তায় দিন কাটছে নিখোঁজ পাইলটদের পরিবারের। এ খবর দিয়েছে অনলাইন বিবিসি ও আল জাজিরা।
ঘটনার সূত্রপাত গত ২ মার্চ, যখন কাতারের আল উদাইদ মার্কিন ঘাঁটির দিকে অগ্রসর হওয়ার সময় ইরানের দুটি বোমারু বিমান ভূপাতিত করা হয়। চারজন বৈমানিকের মধ্যে মজিদ কাজেমি নামের একজনের মরদেহ উদ্ধার করে আগেই তেহরানের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছিল। তবে বাকি তিন পাইলট-জাওয়াদ সালেহি, আব্দুল মজিদ দাশতিয়ান ও ওমরান বেহরুশিয়ানকে নিয়ে দেখা দিয়েছে বিতর্ক। আন্তর্জাতিক রেড ক্রস কমিটির (আইসিআরসি) প্রধান মির্জানা স্পোলজারিকের কাছে পাঠানো এক আনুষ্ঠানিক চিঠিতে ইরানের সশস্ত্র বাহিনীর ব্রিগেডিয়ার জেনারেল মোহাম্মদ বাঘেরজাদেহ অভিযোগ করেছেন, বিমান থেকে নিরাপদে বেরিয়ে আসা (ইজেক্ট) এই তিন সেনাকে কাতার ছয় মাস ধরে সম্পূর্ণ যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন অবস্থায় বন্দি করে রেখেছে। পরিবার কিংবা কোনো কূটনৈতিক প্রতিনিধির সাথে তাদের দেখা করতে না দেওয়াকে যুদ্ধবন্দি সংক্রান্ত আন্তর্জাতিক মানবিক আইনের চরম লঙ্ঘন বলে উল্লেখ করেছে তেহরান।
তবে ইরানের এই অভিযোগকে স্পষ্ট ভাষায় প্রত্যাখ্যান করেছে কাতার। শনিবার দেশটির পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র মাজেদ আল-আনসারি সামাজিক মাধ্যম এক্স-এ জানান, তাদের ভূখণ্ডে কোনো ইরানি পাইলট বন্দি নেই এবং তেহরানের এই বক্তব্য সম্পূর্ণ বিভ্রান্তিকর। দোহার পক্ষ থেকে জানানো হয়, সতর্কবার্তা উপেক্ষা করে আকাশসীমা লঙ্ঘনের কারণেই আইনি পদক্ষেপ হিসেবে বিমানগুলোতে আঘাত হানা হয়েছিল। পরবর্তীতে বিশেষ উদ্ধারকারী দল অনুসন্ধান চালিয়ে কেবল একজনের মরদেহই উদ্ধার করতে সক্ষম হয়। কাতার আরও উল্লেখ করে, উদ্ধার অভিযানের বিস্তারিত তথ্য খতিয়ে দেখার জন্য গত এপ্রিলেই ইরানি প্রতিনিধি দলকে দোহা সফরের আনুষ্ঠানিক আমন্ত্রণ জানানো হয়েছিল, যার কোনো উত্তর এখনও তেহরান দেয়নি।
মধ্যপ্রাচ্যে শান্তি আলোচনা ও যুদ্ধবিরতির কূটনৈতিক প্রচেষ্টায় যখন কাতার অন্যতম প্রধান মধ্যস্থতাকারীর ভূমিকা পালন করছে, ঠিক সেই সময়ে এই তিন পাইলটের পরিণতি ঘিরে নতুন করে উত্তাপ ছড়াচ্ছে। একদিকে তেহরানের বন্দি মুক্তির জোরালো দাবি, অন্যদিকে দোহার আনুষ্ঠানিক অস্বীকৃতি দুই দেশের এই বিপরীতমুখী অবস্থানে তিন বৈমানিকের জীবিত থাকা বা মৃত্যুর বিষয়টি আন্তর্জাতিক কূটনীতির এক অমীমাংসিত প্রশ্ন হিসেবেই ঝুলছে।
