হরমুজ প্রণালিতে নিয়ন্ত্রণ বজায় রাখার বিষয়ে অনড় অবস্থানে রয়েছে ইরান। অন্যদিকে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডনাল্ড ট্রাম্প ইরানকে ‘অত্যন্ত ক্ষতিকর অশুভ রাষ্ট্র’ আখ্যা দিয়ে মার্কিন নাগরিকদের আরও কিছুদিন চড়া মূল্যে জ্বালানি তেল কেনার জন্য প্রস্তুত থাকার আহ্বান জানান। যুদ্ধবিরতি আলোচনা ও আন্তর্জাতিক তেলবাহী জাহাজের চলাচল সম্পূর্ণ স্থবির হয়ে পড়ার মধ্যে শনিবার উভয় পক্ষ থেকে এমন পাল্টাপাল্টি কঠোর বার্তা এসেছে। এ খবর দিয়েছে বার্তা সংস্থা রয়টার্স।
ইরানের উপ-পররাষ্ট্রমন্ত্রী কাজেম ঘারিবাবাদি সামাজিক মাধ্যম এক্সে জানান, এই প্রণালি খোলা বা বন্ধ রাখা সম্পূর্ণভাবে ইরানের সিদ্ধান্তের ওপর নির্ভর করছে এবং ওয়াশিংটন পরাজয়ের বাস্তবতা মেনে না নেয়া পর্যন্ত এই অবরোধ বহাল থাকবে। তিনি জোর দিয়ে বলেন, কোনো টুইট বা বিমানবাহী রণতরী পাঠিয়ে কিংবা নির্বাচনী বক্তৃতা দিয়ে হরমুজ প্রণালি দখল করা সম্ভব নয়। অপরদিকে নিউ ইয়র্কের গার্ডেন সিটিতে এক রাজনৈতিক সমাবেশে ট্রাম্প বলেন, একটি দেশকে পরমাণু অস্ত্রের অধিকারী হওয়া থেকে বিরত রাখতে গিয়ে জ্বালানি তেলে সামান্য বেশি খরচ করা কোনো বড় বিষয় নয়। ইরানকে পরাজিত করার পর হরমুজ প্রণালিকে যুক্তরাষ্ট্রের ভূখণ্ড হিসেবে ঘোষণা করার ইঙ্গিতও দেন তিনি।
এদিকে মার্কিন অটোমোবাইল অ্যাসোসিয়েশনের তথ্যমতে, যুক্তরাষ্ট্রে প্রতি গ্যালন গ্যাসের গড় দাম ৪.০৮ ডলারে গিয়ে পৌঁছেছে, যা গত বছরের তুলনায় প্রায় ২৯ ভাগ বেশি। এই জ্বালানি মূল্যবৃদ্ধি আসন্ন মার্কিন কংগ্রেসের মধ্যবর্তী নির্বাচনে ট্রাম্প প্রশাসনের জন্য বড় রাজনৈতিক চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়িয়েছে। অন্যদিকে ইরানের প্রেসিডেন্ট মাসুদ পেজেশকিয়ান দেশটির রাষ্ট্রীয় টেলিভিশনে জানান, মার্কিন অর্থনৈতিক অবরোধ এবং তেল রপ্তানিতে নিষেধাজ্ঞার ফলে ইরানেও তীব্র মূল্যস্ফীতি দেখা দিয়েছে।
শুক্রবার মাত্র দুটি জাহাজ হরমুজ প্রণালি অতিক্রম করেছে এবং এর মধ্যে কোনো অপরিশোধিত তেলের চালান ছিল না। সংযুক্ত আরব আমিরাতের রাষ্ট্রীয় তেল কোম্পানির জাহাজে পুনরায় ড্রোন ও ক্ষেপণাস্ত্র হামলা এবং ইয়েমেনের হুতি বিদ্রোহীদের ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র হামলায় লোহিত সাগরের বন্দর এলাকায় চারজন নিহত হওয়ার ঘটনায় সংঘাত আরও ছড়িয়ে পড়ার আশঙ্কা দেখা দিয়েছে।
