নেছারাবাদে প্রবাসীর বাড়িতে ডাকাতি করতে গিয়ে ৩ জনকে কুপিয়ে জখম

ফন্ট সাইজ:

নেছারাবাদে প্রবাসীর বাড়িতে দিনদুপুরে ডাকাতি করতে গিয়ে প্রবাসীর স্ত্রী, তার নয় বছরের শিশুকন্যা ও এক কলেজছাত্রকে কুপিয়ে জখম করেছে মো. নাঈম (২৫) নামে এক যুবক। গতকাল সকালে উপজেলার জগৎপট্টি গ্রামে এ ঘটনা ঘটে। নাঈম একই গ্রামের মো. রফিকুল হাওলাদারের ছেলে। ঘটনার পর প্রতিবেশীর একটি ঘর থেকে তাকে গ্রেপ্তার করে পুলিশ। আহতরা হলেন- প্রবাসী ইলিয়াস হোসেনের স্ত্রী নাজমা আক্তার (৩০), তার নয় বছরের মেয়ে মুন ও প্রতিবেশী কলেজছাত্র মো. মুইন (১৯)।

আহতদের উদ্ধার করে নেছারাবাদ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নেয়া হয়। সেখানে নাজমা আক্তার ও তার শিশুকন্যা মুনকে ভর্তি রেখে চিকিৎসা দেয়া হচ্ছে। আর মুইনের হাতে সেলাই দিয়ে প্রাথমিক চিকিৎসা শেষে তাকে ছেড়ে দেয়া হয়েছে। প্রবাসী ইলিয়াস হোসেনের স্ত্রী নাজমা আক্তার দুই মেয়েকে নিয়ে বাড়িতে থাকেন। ঘটনার সময় নাঈম বাড়ির পাশে থাকা একটি সুপারি গাছ বেয়ে ঘরে প্রবেশ করে। ঘরে ঢুকেই ছুরি দেখিয়ে টাকা-পয়সা দাবি করে। এ সময় নাজমা চিৎকার শুরু করেন এবং মোবাইল ফোনে স্বজনদের বিষয়টি জানানোর চেষ্টা করেন। ফোনে কথা বলতে বাধা দিয়ে নাঈম নাজমাকে এলোপাতাড়ি কোপাতে শুরু করে। তার চিৎকার শুনে প্রতিবেশী সাহিদা বেগম ও তার কলেজপড়ুয়া ছেলে মুইন ছুটে এসে নাঈমকে থামানোর চেষ্টা করেন।

এ সময় মুইনকেও ছুরি দিয়ে আঘাত করে নাইম। একপর্যায়ে নাজমার ছোট মেয়েকেও কুপিয়ে আহত করে। চিৎকার শুনে স্থানীয়রা এগিয়ে এলে নাঈম পালিয়ে যায়। পরে খবর পেয়ে পুলিশ অভিযান চালিয়ে প্রতিবেশীর একটি ঘর থেকে তাকে গ্রেপ্তার করে। হাসপাতালে চিকিৎসাধীন নাজমা আক্তার বলেন, ঘরে কাজ করার সময় হঠাৎ দেখি নাঈম ঘরের ভেতরে। আমি মোবাইলে স্বজনদের বিষয়টি জানানোর চেষ্টা করলে সে বাধা দেয়। পরে চিৎকার করলে ছুরি দিয়ে আমাকে আঘাত করতে থাকে। আমার মেয়ে ও প্রতিবেশী মুইন এগিয়ে এলে তাদেরও আহত করা হয়। প্রত্যক্ষদর্শী ও প্রতিবেশী সাহিদা বেগম বলেন, সকালে নাজমার ছোট মেয়ে গালে রক্তাক্ত অবস্থায় তাদের বাড়ির সামনে এসে চিৎকার করে বাঁচানোর জন্য সাহায্য চায়।

পরে তিনি ও তার ছেলে মুইন ছুটে গিয়ে নাজমাকে ঘরের ভেতরে দেখতে পান। এ সময় নাঈম নাজমাকে ছুরি দিয়ে কোপাচ্ছিল। মুইন তাকে ধরতে গেলে তার হাতেও কোপ দেয়। ছেলেকে বাঁচাতে গেলে সাহিদা বেগমের হাতেও আঘাত লাগে বলে জানান তিনি। স্থানীয়দের অভিযোগ, নাঈম এলাকায় চুরির সঙ্গে জড়িত হিসেবে পরিচিত। এবার সে দিনদুপুরে ডাকাতির চেষ্টা করেছে। নেছারাবাদ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. মেহেদী হাসান জানান, এ ঘটনায় নাঈমকে আসামি করে থানায় মামলা হয়েছে। মামলার পরপরই তাকে গ্রেপ্তার করা হয়। পরে আদালতের মাধ্যমে তাকে পিরোজপুর জেলা কারাগারে পাঠানো হয়েছে।