কুষ্টিয়ার দৌলতপুরে বুক ও পেট জোড়া লাগা যমজ শিশু জয়নব ও উম্মে কুলসুমকে বাঁচানো গেল না। চিকিৎসকদের সকল চেষ্টা ব্যর্থ করে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় গত বুধবার সন্ধ্যায় তারা মারা গেছে। এদিকে বৃহস্পতিবার সকাল ৯টায় জানাজা শেষে নিজ গ্রামের স্থানীয় কবরস্থানে দুই বোনকে একই কবরে দাফন করা হয়েছে। তাদের মৃত্যুতে পরিবারসহ এলাকাবাসীর মাঝে শোকের ছায়া নেমে এসেছে। অশ্রুসিক্ত চোখে তাদের শেষ বিদায় জানিয়েছেন গ্রামের লোকজন। নিহত শিশুদের বাবা নাহিদ হাসান বলেন, প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশে স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় চিকিৎসার সব দায়িত্ব নিয়েছিল এবং চিকিৎসকেরাও চেষ্টা করেছিলেন। আমরা বুকভরা আশা নিয়ে ঢাকায় গিয়েছিলাম। কিন্তু আল্লাহ আমার দুই সন্তানকে তুলে নিয়েছেন।
উপজেলার প্রাগপুর ইউনিয়নের সীমান্ত সংলগ্ন বিলগাথুয়া মধ্যপাড়া গ্রামের নাহিদ হাসান (২৬) ও সানজিদা ইয়াছমিন মুক্তা (২২) দম্পতির ঘরে গত ৪ঠা মে ঢাকার বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়ে (বিএসএমএমইউ) সিজারিয়ান অস্ত্রোপচারের মাধ্যমে জন্ম নেয় জয়নব ও উম্মে কুলসুম। জন্মের পর থেকেই বুক থেকে পেট পর্যন্ত পরস্পরের সঙ্গে যুক্ত ছিল। দরিদ্র পরিবারে জন্ম নেয়া শিশু দু’টির চিকিৎসা নিয়ে বিভিন্ন গণমাধ্যমে সংবাদ প্রকাশের পর বিষয়টি স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের নজরে আসে। পরে সরকার তাদের চিকিৎসার ব্যয় বহনের সিদ্ধান্ত নেয়। সরকারের উদ্যোগে গত সোমবার তাদের ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেয়া হয়। সেখানে চিকিৎসা চলছিল।
পরিবারের সদস্য জাহিদ হোসেন বলেন, গত বুধবার দুপুরের পর হঠাৎ শিশু দুটির শারীরিক অবস্থার অবনতি হয়। পরে তাদের আইসিইউতে নেয়া হলে সন্ধ্যার দিকে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তাদের মৃত্যু হয়। প্রাগপুর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান আশরাফুজ্জামান মুকুল সরকার বলেন, স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের নির্দেশনা পাওয়ার পর শিশু দু’টিকে চিকিৎসার জন্য ঢাকায় নেয়া হয়েছিল। চিকিৎসাধীন অবস্থায় তাদের মৃত্যু হয়েছে। বৃহস্পতিবার সকালে তাদের দাফন সম্পন্ন হয়েছে।
