রায়পুরা উপজেলার প্রত্যন্ত চরাঞ্চল চানপুর ইউনিয়নের সওদাগরকান্দি এলাকায় শান্তিশৃঙ্খলা বজায় রাখা এবং জানমালের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে অস্থায়ী পুলিশ ক্যাম্প স্থাপনের দাবি জানিয়েছেন সম্প্রতি নিহত মোমেন মিয়ার পরিবার। একইসঙ্গে নিরাপত্তাহীনতার কারণে এলাকাছাড়া পরিবার ও স্থানীয় ভুক্তভোগীদের নিরাপদে নিজ এলাকায় ফিরে যাওয়ার পরিবেশ তৈরিতে প্রশাসনের জরুরি হস্তক্ষেপ কামনা করা হয়েছে। বিকালে রায়পুরা প্রেস ক্লাবে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্যে এসব দাবি জানান নিহত মোমেন মিয়ার ছোট ভাই আমিন মিয়া।
লিখিত বক্তব্যে আমিন মিয়া বলেন, গত ২রা আগস্ট পূর্ববিরোধের জেরে ফরিদ গ্রুপের লোকজন তাদের বাড়িতে প্রবেশ করে তার বড় ভাই মোমেন মিয়াকে (৫৫) গুলি করে হত্যা করে। এ ঘটনায় পরদিন ৩রা আগস্ট তিনি বাদী হয়ে ৬৩ জনকে আসামি করে রায়পুরা থানায় একটি হত্যা মামলা দায়ের করেন। মামলা দায়েরের পর পরিস্থিতি আরও উত্তপ্ত হয়ে ওঠে বলে দাবি করেন আমিন মিয়া। তিনি বলেন, ওই রাতেই ফরিদ গ্রুপের প্রায় ১০০ থেকে ১৫০ জন লোক অস্ত্রশস্ত্র নিয়ে তাদের বাড়িতে হামলা চালায়। হামলার ভয়ে পরিবারের সদস্যরা বাড়িঘর ছেড়ে পালিয়ে যেতে বাধ্য হন। এরপর থেকে তারা এলাকাছাড়া হয়ে নিরাপত্তাহীন অবস্থায় দিন কাটাচ্ছেন।
আমিন মিয়া আরও অভিযোগ করেন, বাড়িঘর ভাঙচুর ও লুটপাটের খবর পেয়ে কয়েকজন ভুক্তভোগী গোপনে এলাকায় গেলে প্রতিপক্ষের লোকজন তাদের উপস্থিতি টের পেয়ে হামলা চালায়। এ ঘটনায় গুলিবিদ্ধসহ চারজন আহত হয়েছেন বলে জানান তিনি। আহতদের মধ্যে মৃত উসমান মিয়ার ছেলে বশির (৩০) গুলিবিদ্ধ হয়েছেন। গত ২রা আগস্ট নিহত মোমেন মিয়ার মেয়ে তানিয়া (২৪) গুলিবিদ্ধ হয়েছেন। তারা দু’জনই বর্তমানে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছেন। মৃত সিরাজুল হকের ছেলে সাইফুল হক (৪৭) ধারালো অস্ত্র দিয়ে শরীরের বিভিন্ন স্থানে কুপিয়ে গুরুতর আহত করেছে বলে অভিযোগ করা হয়। তিনি বর্তমানে নরসিংদী জেলা হাসপাতালে চিকিৎসাধীন। এ ছাড়া মোসলেম মিয়ার ছেলে সগির (৩২) হামলায় আহত হয়েছেন বলে সংবাদ সম্মেলনে জানানো হয়।
সংবাদ সম্মেলনে আমিন মিয়া বলেন, ‘হামলার শিকার হয়ে কোনো কুলকিনারা না পেয়ে আমরা সাংবাদিকদের দ্বারস্থ হয়েছি। গণমাধ্যমের মাধ্যমে আমাদের অসহায়ত্বের চিত্র প্রশাসন ও সংশ্লিষ্টদের নজরে আনতে চাই।’ এ সময় স্থানীয় সংসদ সদস্য ইঞ্জিনিয়ার আশরাফ উদ্দিন বকুলের দৃষ্টি আকর্ষণ করে আমিন মিয়া বলেন, ‘আপনি কোনো একটি গোষ্ঠীর একক নেতা নন, আপনি পুরো রায়পুরাবাসীর নেতা। আমরা ভুক্তভোগী মানুষ আপনার সুদৃষ্টি ও সহযোগিতা কামনা করছি।’ সংবাদ সম্মেলনে নিহত মোমেন মিয়ার পরিবারের সদস্যসহ স্থানীয় ভুক্তভোগীরা উপস্থিত ছিলেন।
