নারায়ণগঞ্জের রূপগঞ্জে ছানাউল্লাহ সরকার হত্যা মামলায় প্রধান আসামি আক্তার সরকারকে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড দিয়েছেন আদালত। একইসঙ্গে তাকে ২০ হাজার টাকা অর্থদণ্ড, অনাদায়ে আরও কারাভোগের আদেশ দেয়া হয়েছে। তবে অভিযোগ প্রমাণিত না হওয়ায় মামলার অপর দুই আসামিকে খালাস দিয়েছেন আদালত। বৃহস্পতিবার দুপুরে নারায়ণগঞ্জের অতিরিক্ত জেলা ও দায়রা জজ প্রথম আদালতের বিচারক নাজমুন নাহার সুমি এ রায় ঘোষণা করেন। বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন নারায়ণগঞ্জ কোর্ট পুলিশ পরিদর্শক আব্দুস সামাদ।
যাবজ্জীবন দণ্ডপ্রাপ্ত আক্তার সরকার (৪৫) রূপগঞ্জ উপজেলার দিগুলিয়ারটেক এলাকার বাসিন্দা। তিনি মৃত আব্দুল লতিফ সরকারের ছেলে। মামলার এজাহার সূত্রে জানা যায়, ২০২০ সালের ১৭ই অক্টোবর রাত ৮টার দিকে পারিবারিক বিরোধের জেরে ছানাউল্লাহ সরকারকে এজাহারভুক্ত আসামিরা বাঁশের লাঠি ও টেঁটা দিয়ে এলোপাতাড়ি মারধর করেন। এতে তিনি গুরুতর আহত হন। পরে স্থানীয়রা তাকে সিএনজিযোগে রূপগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে গেলে কর্তব্যরত চিকিৎসক মৃত ঘোষণা করেন। এ ঘটনায় নিহতের স্ত্রী রূপগঞ্জ থানায় হত্যা মামলা করেন। তদন্ত শেষে মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা ২০২১ সালের ৩০শে এপ্রিল তিন আসামির বিরুদ্ধে আদালতে অভিযোগপত্র দাখিল করেন। দীর্ঘ বিচারিক কার্যক্রম শেষে আদালত প্রধান আসামি আক্তার সরকারের বিরুদ্ধে অভিযোগ প্রমাণিত হওয়ায় পেনাল কোডের ৩০২ ধারায় তাকে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড ও ২০ হাজার টাকা অর্থদণ্ড দেন। অর্থদণ্ড অনাদায়ে তাকে আরও কারাভোগ করতে হবে।
একইসঙ্গে অভিযোগ প্রমাণিত না হওয়ায় মামলার অপর দুই আসামি মাকসুদা বেগম ও শামীমাকে খালাস দেয়া হয়েছে। কোর্ট পুলিশ পরিদর্শক আব্দুস সামাদ বলেন, সাক্ষ্যপ্রমাণ পর্যালোচনা শেষে আদালত প্রধান আসামি আক্তার সরকারকে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড ও অর্থদণ্ড দিয়েছেন। অপর দুই আসামির বিরুদ্ধে অভিযোগ প্রমাণিত না হওয়ায় তাদের খালাস দেয়া হয়েছে।
