সাভারের হেমায়েতপুর তেঁতুলঝোড়া এলাকার দক্ষিণ শ্যামপুর আব্দুল জলিলের বাড়িতে ভুয়া পরিচয়ে দিয়ে ভাড়া নেয়া বাড়িতে অভিযান চালিয়ে বিপুল পরিমাণ বোমাসহ একজন জেএমবি সদস্যকে গ্রেপ্তার করেছে। এঘটনায় ৬ জনের নাম উল্লেখ করে অজ্ঞাতনামা আরও ৬-৭ জনের বিরুদ্ধে সন্ত্রাসবিরোধী আইনে একটি মামলা করা হয়েছে। মামলায় মোহাম্মদ আরিফ ওরফে ইমরানকে (২৬) গ্রেপ্তার দেখানো হয়েছে বলে নিশ্চিত করেছেন সাভার মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) সাইফুল আলম।
এর আগে বুধবার রাতে কাউন্টার টেরোরিজম ইনভেস্টিগেশন বিভাগ (সিটিটিসি) এর উপ-পরিদর্শক মো. আলমগীর হোসেন বাদী হয়ে মামলাটি দায়ের করেন। মামলায় এজাহার নামীয় আসামিরা হলেন- কিশোরগঞ্জ জেলার কটিয়াদী থানার ফেকামারা এলাকার মো. হানিফের ছেলে মোহাম্মদ আরিফ ওরফে ইমরান (২৬), সাভার শ্যামপুরের মৃত ইসমাইলের ছেলে মো. নাজমুল হাসান মামুন (৩২), পাবনার সুজানগর থানার দুর্গাপুর এলাকার মো. আমিন উদ্দিন খানের ছেলে মো. আক্কাস আলী (৩০), আশুলিয়ার দিয়াখালী এলাকার কামাল হোসেন ডাক্তার (৪৫), রাখী (৩০) ও রাকিব (৩০)।
জানা যায়, গত ১১ই আগস্ট রাতে সাভারের ট্যানারি এস্টেটের পশ্চিম দেয়াল সংলগ্ন বেড়িবাঁধ এলাকায় নব্য জেএমবি উল্লিখিত আসামিরা নাশকতার উদ্দেশ্যে গোপন বৈঠকে মিলিত হয়। সিটিটিসি’র দল অভিযান চালিয়ে ঘটনাস্থল থেকে আরিফকে গ্রেপ্তার করলেও বাকি আসামিরা কৌশলে পালিয়ে যায়। পরে আরিফের দেয়া তথ্যে সাভারের দক্ষিণ শ্যামপুর এলাকার ভাড়া বাসায় অভিযান চালিয়ে সালফিউরিক অ্যাসিড, নাইট্রিক অ্যাসিড, পটাশিয়াম নাইট্রেট পাউডার, আইইডি বোমা তৈরির ডেটোনেটর, রিমোট কন্ট্রোলার, ভোল্ট মিটার ও জিপার ভর্তি বিয়ারিং বলসহ প্রায় আড়াই ডজন আলামত জব্দ করা হয়। পাশাপাশি বাসাবাড়ি থেকে উদ্ধার হওয়া ১০টি তৈরি তাজা পাইপ বোমা (আইইডি) জননিরাপত্তার স্বার্থে বোম্ব ডিসপোজাল ইউনিট কর্তৃক ঘটনাস্থলেই ধ্বংস করা হয়। মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা সাভার মডেল থানার উপ-পরিদর্শক নূর মোহাম্মদ জানান, গ্রেপ্তারকৃত আসামি আরিফকে বর্তমানে থানা হেফাজতে রাখা হয়েছে। তাকে অধিকতর জিজ্ঞাসাবাদের জন্য ১০ দিনের রিমান্ডের আবেদন জানিয়ে আদালতে পাঠানো হবে। সাভার মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) সাইফুল আলম মামলার বিষয়টি নিশ্চিত করে জানান, শ্যামপুরের ঘটনায় এজাহারনামীয় ৬ জনসহ অজ্ঞাতনামা আরও ৬ থেকে ৭ জন অর্থাৎ মোট ১২ থেকে ১৩ জনের বিরুদ্ধে মামলাটি রুজু করা হয়েছে। অন্যদিকে বুধবার বনগাঁও গোপেরবাড়ি এলাকা থেকে প্রেসার কুকার বোমা উদ্ধারের ঘটনায় ৬-৭জন অজ্ঞাতনামা আসামি করে আরও একটি মামলা দায়ের হয়েছে বলেও জানানÑ এই পুলিশ কর্মকর্তা।
