খাসিয়ামারায় বালু উত্তোলন ভাঙনের মুখে বসতভিটা-রাস্তাঘাট

খাসিয়ামারায় বালু উত্তোলন ভাঙনের মুখে বসতভিটা-রাস্তাঘাট

ফন্ট সাইজ:

সুনামগঞ্জের দোয়ারাবাজার উপজেলার খাসিয়ামারা নদীতে ইজারার শর্ত তোয়াক্কা না করে দিনরাত অবৈধ ড্রেজার ও সেইভ মেশিন দিয়ে বালু উত্তোলনের অভিযোগ উঠেছে। নদীর তলদেশ ও তীর ঘেঁষে নির্বিচারে বালু উত্তোলনের ফলে নদীর দুই তীরে দেখা দিয়েছে তীব্র ভাঙন। এতে বসতভিটা, রাস্তাঘাট, ফসলি জমি, রাবার ড্যামসহ গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনা হুমকির মুখে পড়েছে। ইতিমধ্যে নদীগর্ভে বিলীন হয়েছে বেশ কিছু বসতভিটা। পাশাপাশি ড্রেজারের বিকট শব্দে অতিষ্ঠ হয়ে পড়েছেন নদীপাড়ের মানুষ।

জানা যায়, উপজেলার নোয়াপাড়া গ্রামের পাশ দিয়ে বয়ে যাওয়া খাসিয়ামারা নদীতে ভোর থেকে গভীর রাত পর্যন্ত ড্রেজার ও সেইভ মেশিন দিয়ে বালু উত্তোলন করা হচ্ছে। নদীর তলদেশ ও তীর ঘেঁষে বালু তোলায় বিভিন্ন স্থানে ভাঙন দেখা দিয়েছে। নোয়াপাড়া গ্রামের পাশে রাবার ড্যাম থাকায় নদীর ওই অংশে নৌকা চলাচল সীমিত। এই সুযোগে নদীর একপাশ থেকে ড্রেজারের মাধ্যমে বালু তুলে পাইপের সাহায্যে পাশের বাল্কহেডে নেয়া হচ্ছে।

সরজমিন গিয়ে দেখা যায়, ড্রেজিংয়ের শুরুতে ড্রেজারের পাশে ছোট ছোট বারকি নৌকা দিয়ে সামান্য পরিমাণ বালু নদীতে ফেলা হয়। পরে ওই বালু উত্তোলনের কথা বলে নদীর তলদেশ থেকে কয়েকগুণ বেশি বালু তোলা হচ্ছে। দিনরাত ড্রেজার চলায় এর বিকট শব্দে স্থানীয়দের স্বাভাবিক জীবনযাত্রা ব্যাহত হচ্ছে। স্থানীয়রা জানান, উপজেলার সুরমা ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান ও বিএনপি নেতা হারুন-অর-রশিদ খাসিয়ামারা নদী ইজারা এনেছেন। এরপর থেকে প্রভাব খাটিয়ে ড্রেজারের মাধ্যমে বালু উত্তোলন করছে চেয়ারম্যানের লোকজন। তার এহেন কর্মকাণ্ডে প্রকাশ্যে কেউ মুখ খুলতে সাহস পাচ্ছে না। নদীপাড়ের কয়েকজন জানান, ড্রেজারের বিকট শব্দে শিশু, শিক্ষার্থী ও বয়স্কদের দুর্ভোগ বাড়ছে। শিক্ষার্থীদের পড়াশোনায় ব্যাঘাত ঘটছে। পাশাপাশি নদীভাঙনের কারণে বসতভিটা হারানোর আতঙ্কে দিন কাটাচ্ছেন তারা। নোয়াপাড়া গ্রামের মানিক মিয়া বলেন, ‘নদীতে দিনরাত ৫০-৬০টি ড্রেজার চলছে। শত শত নৌকা দ্রুতগতিতে চলাচল করছে। একদিকে ঢেউ, অন্যদিকে ড্রেজারের তাণ্ডব। এতে আমাদের বসতঘর ঝুঁকির মধ্যে পড়েছে। যেকোনো সময় ঘর নদীতে বিলীন হয়ে যেতে পারে। ইতিমধ্যে রান্নাঘর ভেঙে গেছে। টিউবওয়েলের পাকা অংশে ফাটল দেখা দিয়েছে। আমরা চাই, নদী তীরবর্তী গ্রামগুলো রক্ষায় ড্রেজার বন্ধ করা হোক।

ইজারাদার ও সুরমা ইউপি চেয়ারম্যান হারুন-অর-রশিদ বলেন, প্রশাসনের মৌখিক অনুমতি রয়েছে। আমরা এলাকাবাসীর সঙ্গে কথা বলেই ড্রেজার চালাচ্ছি। রাবার ড্যামের ক্ষতি এড়াতেই ড্রেজারের মাধ্যমে বালু পরিবহন করা হচ্ছে। দোয়ারাবাজার থানার অফিসার ইনচার্জ তরিকুল ইসলাম বলেন, উপজেলা প্রশাসন ইজারা দিয়েছে। এগুলো দেখভালের দায়িত্ব তাদের। পুলিশের সহযোগিতা প্রয়োজন হলেÑ আমাদের জানালে আমরা যাবো। আমরা একাধিকবার ঘটনাস্থলে গিয়ে দেখে এসেছি। দোয়ারাবাজার উপজেলা নির্বাহী অফিসার অরূপ রতন সিংহ ফোন রিসিভ না করায় বক্তব্য নেয়া সম্ভব হয়নি। সুনামগঞ্জের অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (রাজস্ব) তাপস শীল বলেন, এমন একটি অভিযোগ আমাদের কাছেও এসেছে। বিষয়টি খতিয়ে দেখে ব্যবস্থা নেয়া হবে।