হুইলচেয়ারে বসে পরীক্ষা দিয়ে জিপিএ-৫ পেলো ইয়াসার

হুইলচেয়ারে বসে পরীক্ষা দিয়ে জিপিএ-৫ পেলো ইয়াসার

ফন্ট সাইজ:

বাবা-মা’র প্রথম সন্তান ইয়াসার। জন্ম থেকেই শারীরিক প্রতিবন্ধী। কৃষক বাবা সিরাজুল ছেলের পড়ার আগ্রহ দেখে বই কিনে এনে দিতেন। শিশু শ্রেণিতে ভর্তি করে কোলে করে স্কুলে পৌঁছে দিতেন পিতা। কিছুদিন পর স্কুল থেকে একটি হুইলচেয়ার দেয়া হয়। এখন সেই হুইলচেয়ারে বসেই এসএসসি পরীক্ষায় জিপিএ-৫ পেলো ইয়াসার। পঞ্চম শ্রেণি পাস করার পর পলাশতলী আমিরাবাদ উচ্চ বিদ্যালয়ে ষষ্ঠ শ্রেণিতে ভর্তি হয় ইয়াসার।

বাড়ি থেকে বিদ্যালয় বেশ দূরে। তাই সিরাজুল পৈতৃক ভিটে আরেক ভাইয়ের কাছে বিক্রি করে বিদ্যালয়ের কাছে বাড়ি বানান। ঘটনাটি ফুলবাড়ীয়া উপজেলার রাধাকানাই ইউনিয়নের পলাশতলী গ্রামের। কৃষক সিরাজুলের এক ছেলে দুই মেয়ে। ছেলে ইয়াসার ইসলাম নিরব সবার বড়। মেয়ে ফারজানা সপ্তম শ্রেণিতে পড়ে। আর সবার ছোট সাদিকা আক্তার শিশু শ্রেণিতে লেখাপড়া করে। শারীরিক প্রতিবন্ধকতাকে জয় করে চিকিৎসক হওয়ার স্বপ্ন ইয়াসারের। অদম্য ইচ্ছাশক্তি আর পড়াশোনার প্রতি ভালোবাসায় একের পর এক বাধা পেরিয়ে এগিয়ে চলেছেন তিনি। বাড়ি থেকে মাত্র ২০০ গজ দূরের বিদ্যালয়ে যেতেও প্রতিদিন বাবার সহযোগিতা নিতে হয় ইয়াসারকে। কখনো বাবার কাঁধে, কখনো হুইলচেয়ারে, আবার কখনো বন্ধুদের কাঁধে ভর করে বিদ্যালয়ে যেতে হয়েছে। অদম্য মেধাবী ইয়াসার বলেন, সব সময় আব্বু আমাকে স্কুলে নিয়ে যেতেন। মাঝে মধ্যে সহপাঠীরাও বাড়ি থেকে স্কুলে নিয়ে এবং দিয়ে যেতো। আমার সফলতার পেছনে তাদেরও হাত রয়েছে। আমি উঠে বসতে পারতাম না, বিছানায় শুয়ে লেখাপড়া করতে পছন্দ করতাম।

পরীক্ষার আগে আব্বু বললো, বসে বসে পড়ার চেষ্টা করো, কেননা পরীক্ষায় শুয়ে লেখার কোনো সিস্টেম নেই। এরপর আমি চেষ্টা করতে থাকি। দুই মাস চেষ্টা করে সফল হই। তবে শুয়ে আমার লেখার গতি অনেক বেশি থাকে। আমি ডান হাতে লিখতে পারি না। আবার হাতের আঙ্গুলগুলোও স্বাভাবিক না। মুষ্টিবদ্ধ অবস্থায় বাম হাতে লিখি। তবে আমি আশাবাদী ছিলাম আমি গোল্ডেন এ প্লাস পাবো। তবে বিজ্ঞান বিভাগ থেকে জিপিএ-৫ পেয়েছি। তিনি বলেন, আমি কখনো প্রাইভেট পড়িনি। আমার পড়ালেখার যত অর্জন সকল কিছুর ভাগিদার আমার সম্মানিত শিক্ষকরা। যদি কখনো সুযোগ পাই তাহলে তাদের সর্বোচ্চটা দেয়ার চেষ্টা করবো। ইয়াসার বলেন, আমার স্বপ্ন বড় কলেজে পড়বো। এইচএসসি শেষ করে মেডিকেলে ভর্তির জন্য চেষ্টা করবো। প্রধানমন্ত্রীর কাছে একটাই চাওয়া, আমি যেন আমার লেখাপড়াটা চালিয়ে যেতে পারি, সেই ব্যবস্থাটা তিনি করবেন। তাহলেই আমি আমার লক্ষ্যে পৌঁছাতে পারবো। উপজেলা নির্বাহী অফিসার শহীদুল ইসলাম সোহাগ বলেন, তার এই সাফল্য নিঃসন্দেহে গর্বের। ভবিষ্যতের সফলতা অর্জনে কোনো বাধাই থাকবে না। লিখিত আবেদন করলে সরকারি পৃষ্ঠপোষকতা ছাড়াও ব্যক্তিগতভাবে আমরা সহযোগিতা করবো।