বিশ্বকাপ শেষ হতেই ক্রিশ্চিয়ানো রোনালদোর বিয়ে নিয়ে ফুটবল বিশ্বে তুমুল আলোড়ন। এমনকি বিশ্বকাপের সময় রোনালদো নিজেই বলেন, বিশ্বকাপ হাতে বিয়ে করবেন। দল বিশ্বকাপ জিততে না পারলেও বিয়ে আটকায়নি এই মহাতারকার। অবশেষে সমস্ত জল্পনার অবসান ঘটিয়ে দীর্ঘদিনের প্রেমিকা জর্জিনা রদ্রিগেজকে স্ত্রীর মর্যাদা দিলেন পর্তুগিজ ফুটবল তারকা। ২০২৬ সালের আগস্টের শুরুতে পরিবার ও ঘনিষ্ঠ বন্ধুদের উপস্থিতিতে এক ঘরোয়া অনুষ্ঠানে জর্জিনার সঙ্গে বিবাহ বন্ধনে আবদ্ধ হন তিনি। মঙ্গলবার মধ্যরাতে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে আংটি পরিহিত জোড়া হাতের ছবি পোস্ট করে নিজেদের বিয়ের আনুষ্ঠানিক ঘোষণা দেন তারা। এর মাধ্যমে দীর্ঘ এক দশকের প্রেমের রঙিন অধ্যায় পূর্ণতা পেল।
প্রথম দেখাতেই চোখ ধাঁধানো আকর্ষণ
গল্পের শুরু ২০১৬ সালে। স্পেনের মাদ্রিদে এক অভিজাত ব্র্যান্ডের দোকানে সাধারণ একজন সাহায্যকারী হিসেবে কাজ করতেন জর্জিনা। পাশাপাশি নাচ শেখাতেন ও মডেলিং করতেন। সেখানে কেনাকাটা করতে এসে জর্জিনাকে দেখে মন হারিয়ে বসেন তৎকালীন রিয়াল মাদ্রিদ তারকা রোনালদো। জর্জিনাও পরবর্তী সময়ে নেটফ্লিক্সে তার রিয়্যালিটি শো ‘আই অ্যাম জর্জিনা’-তে স্বীকার করেন, প্রথম দেখাতেই তাদের দু’জনের মধ্যে এক অমোঘ আকর্ষণ তৈরি হয়। এর কিছুদিন পর এক অনুষ্ঠানে কাজের বাইরে নিভৃতে কথা বলার সুযোগ পান তারা। সেখান থেকেই শুরু হয় গোপন অভিসার। উন্মত্ত প্রেম খুব বেশি গোপন করার চেষ্টা করেনি এই জুটি। রোনালদোর সঙ্গে বিভিন্ন স্থানে ঘুরে বেড়াতে দেখা যায় জর্জিনাকে।
প্যারিসের ডিজনিল্যান্ড থেকে ফিফার লাল গালিচা
২০১৬ সালের শেষের দিকে প্যারিসের ডিজনিল্যান্ডে রোনালদো ও জর্জিনাকে গোপনে ঘুরতে দেখা যায়। ভক্তদের নজর এড়াতে রোনালদো সেখানে পরচুল ও কালো সানগ্লাস পরে নিজেকে আড়াল করার চেষ্টা করেন। কিন্তু শেষ রক্ষা হয়নি। তবে তারা এই সম্পর্ক বেশিদিন লুকিয়ে রাখার চেষ্টা করেননি। ২০১৭ সালে ‘দ্য বেস্ট ফিফা ফুটবল অ্যাওয়ার্ডস’-এর লাল গালিচায় হাত ধরে হেঁটে বিশ্ববাসীর সামনে নিজেদের ভালোবাসার কথা আনুষ্ঠানিকভাবে জানান তারা। এরপর থেকে ফুটবল মাঠের আঙিনায় বা রোনালদোর জীবনের প্রতিটি চড়াই-উতরাইয়ে জর্জিনাকে ছায়ার মতো পাশে দেখা গেছে।
বিতর্ক
মাঠের বাইরে রোনালদোর রঙিন জীবন নিয়ে কৌতূহলের শেষ নেই, আর জর্জিনাও নিজের ব্যক্তিগত জীবন নিয়ে কখনো লুকোছাপা করেননি। একবার সমুদ্রতটে বেড়াতে গিয়ে এক ফাঁকা জাহাজে দু’জনের উন্মত্ত মেলামেশার স্মৃতি খোলাখুলি ভাগ করে নেন জর্জিনা। তিনি জানান, সমুদ্রের নোনা জলে শরীর মেলাতে চেয়েছিলেন রোনালদো। কিন্তু হাতে নতুন ট্যাটু করানোর কারণে জর্জিনা নোনা জলে নামতে চাননি। অগত্যা কাছেই দাঁড়িয়ে থাকা একটি ফাঁকা জাহাজে উঠে দু’জন মেতে ওঠেন উত্তাল সম্পর্কে। এছাড়া রোনালদোর বিরুদ্ধে এক মডেলের তোলা যৌন হেনস্তার অভিযোগ কিংবা নানা বিতর্কের সময়েও জর্জিনা শক্ত হাতে আগলে রেখেছেন রোনালদোকে। বলেছেন সব বিতর্ক পিছনে ফেলে এগিয়ে যেতে হবে।
পাঁচ সন্তানের সংসার ও স্থায়ী বাসস্থান
সম্পর্কের শুরু থেকেই রোনালদোর আগের তিন সন্তান ক্রিশ্চিয়ানো জুনিয়র, ইভা এবং মাতেওকে (সারোগেসির মাধ্যমে জন্ম) নিজের মাতৃস্নেহে বড় করে তোলেন জর্জিনা। ২০১৭ সালে তাদের কোল আলো করে আসে কন্যাসন্তান আলানা মার্তিনা। পরবর্তীতে ২০২২ সালে আবারও গর্ভবতী হন জর্জিনা। তবে যমজ সন্তান জন্মদানের সময় ঘটে এক করুণ দুর্ঘটনা। পুত্রসন্তানটি মারা যায় এবং কন্যা বেলা এসমেরালদা বেঁচে থাকে। এই গভীর ট্রমা কাটিয়ে উঠে সন্তানদের নিয়ে সংসার বাঁধেন তারা। মাদ্রিদ থেকে ইতালির তুরিন, বৃটেনের ম্যানচেস্টার হয়ে বর্তমানে সৌদি আরবের রিয়াদে আল-নাসর ক্লাবের হয়ে খেলা রোনালদোর সঙ্গে পাঁচ সন্তানকে নিয়ে স্থায়ীভাবে বসবাস করছেন জর্জিনা। আগস্টের শুরুতে বাগদানের এক বছরের মাথায় সব গুঞ্জন উড়িয়ে রাজকীয় এই সম্পর্কের পরিণতি পূর্ণতা পায়।
