আদিত্য পাঞ্চোলির সঙ্গে কৈশোরের শেষ দিকের সম্পর্ককে ‘খুবই অস্থির এক অধ্যায়’ বলে বর্ণনা করেছেন অভিনেত্রী পূজা বেদি। ভিকি লালওয়ানির পডকাস্টে কথা বলার সময় তিনি জানিয়েছেন, সম্পর্কটি যখন শুরু হয়েছিল, তখন তার বয়স সবে ১৮ বছর। সে সময়ই তিনি যুক্তরাষ্ট্র থেকে ভারতে ফিরে এসে চলচ্চিত্রে পা রাখেন। ওই প্রেমের সম্পর্ক নিয়ে পূজা বেদি বলেন, এটা খুবই বড় একটা অভিজ্ঞতা ছিল। আপাতত এটুকুই থাক।
এ বিষয়টি নিয়ে অনলাইন এনডিটিভি একটি রিপোর্ট প্রকাশ করেছে। এতে বলা হয়, ১৯৯০-এর দশকে আদিত্য পাঞ্চোলি ও পূজা বেদির সম্পর্ক নিয়ে ব্যাপক আলোচনা হয়েছিল। সে সময় পাঞ্চোলি অভিনেত্রী জরিনা ওয়াহাবকে বিয়ে করেন। বহু বছর পর পূজা তার সঙ্গে সম্পর্ককে আবেগে তীব্র হলেও তা শেষ হওয়ার আগেই ভেঙে যাওয়া একটি সম্পর্ক হিসেবে বর্ণনা করেন। তাদের বিচ্ছেদের পর বিতর্ক তৈরি হয়। তখন পূজার অপ্রাপ্তবয়স্ক এক গৃহকর্মী পাঞ্চোলির বিরুদ্ধে অভিযোগ তোলেন। বিভিন্ন প্রতিবেদনে বলা হয়, পূজা পুলিশের কাছে অভিযোগ করেছিলেন।
সম্পর্কটি নিয়ে আর বিস্তারিত জানাতে চাননি পূজা। তার যুক্তি, পাঞ্চোলির সন্তানদের বারবার তাদের বাবার অতীতের এসব ঘটনা নিয়ে প্রশ্নের মুখোমুখি হওয়া উচিত নয়। তিনি বলেন, তার দুটি চমৎকার সন্তান আছে, যারা এখন বড় হয়ে গেছে। আমার মনে হয়, বারবার এসব বিষয় নিয়ে কথা বলা মোটেও রুচিসম্মত নয়। মানুষ যদি এ সম্পর্কে পড়তে চায়, তারা গুগলে খুঁজে দেখতে পারে। কিন্তু সন্তানদের জন্য একই বিষয় বারবার সামনে আনা ন্যায্য নয়।
এখন তিনি ওই অভিজ্ঞতাকে জীবনের একটি শিক্ষা হিসেবে দেখেন। পূজা বলেন, জীবনের সবকিছুই একটি স্মৃতি। প্রতিটি ঘটনাই আপনাকে কিছু শেখায়। দিন শেষে এসব অভিজ্ঞতাই মানুষকে আরও শক্তিশালী ও জ্ঞানী করে তোলে। পূজা জানান, চলচ্চিত্রজগতের বিভিন্ন অনুষ্ঠানে এখনও মাঝেমধ্যে পাঞ্চোলির সঙ্গে তার দেখা হয়ে যায়। তবে দু’জনের মধ্যে সৌজন্য বিনিময়ও হয় না। তিনি বলেন, মাঝেমধ্যে তার সঙ্গে আমার দেখা হয়ে যায়। কিন্তু আমরা একই শিল্পজগতের মানুষ। কোনো না কোনো সময় কোনো অনুষ্ঠান বা আয়োজনে কারও সঙ্গে দেখা হয়ে যেতেই পারে।
এমন পরিস্থিতিতে তিনি কী করেন- জানতে চাইলে পূজা বলেন, ভদ্র থাকা যায়, মুখ ফিরিয়ে নেয়া যায় এবং সেখান থেকে চলে যাওয়া যায়। আলোচনায় পূজার বাবা-মা কবীর বেদি ও প্রতিমা বেদির প্রসঙ্গও উঠে আসে। বিশেষ করে তার বাবা কবীর বেদির সঙ্গে অভিনেত্রী পারভিন বাবি’র সম্পর্ক নিয়ে কথা হয়। পূজার মতে, কোনো বিবাহিত জীবনে বাইরের কেউ তখনই প্রবেশ করতে পারে, যখন সেই দাম্পত্যের ভেতর আগে থেকেই কোনো শূন্যতা তৈরি হয়।
তিনি বলেন, বিয়ের মধ্যে আপনার জীবনে যে মানুষটি প্রবেশ করে, বিষয়টি তাকে নিয়ে নয়। বরং বিষয়টি হলো, সেই দাম্পত্যে এমন একটি শূন্যতা ছিল, যেখানে অন্য কেউ প্রবেশ করার সুযোগ পেয়েছে। এটা কখনোই অন্য নারীর বিষয় নয়। সবসময় বিষয়টি ওই দম্পতিকে ঘিরে, কারণ একে অপরের প্রতি তাদের একটি অঙ্গীকার রয়েছে।
পূজা বলেন, তার বাবা-মা নিশ্চিত করেছিলেন যে তাদের বিবাহবিচ্ছেদের কারণে তিনি কখনো নিজেকে অবাঞ্ছিত বা তাদের সমস্যার জন্য দায়ী মনে না করেন। পরবর্তী সময়ে তার বাবা-মায়ের জীবনে আসা সঙ্গীদের সম্পর্কেও তিনি ইতিবাচকভাবে কথা বলেন। তিনি বলেন, আমি আমার সব সৎমাকে ভালোবাসতাম। কবীর বেদির ছেলে আদমকে তিনি সৎভাই হিসেবেও দেখেন না। তিনি বলেন, সে আমার ভাই। সে আমার পরিবার। আবার বিয়ে করতে চান না কেন- এ প্রশ্নের জবাবে পূজা বলেন, তিনি ‘ওপেন ম্যারেজ’-এ বিশ্বাস করেন না। তার কাছে বিয়ে এখনও বিশ্বস্ততা ও আনুগত্যের সঙ্গে যুক্ত। তবে বিয়ের প্রতিষ্ঠান সম্পর্কে তার দৃষ্টিভঙ্গি এখন কিছুটা বদলেছে।
ম্যানেক কনট্রাক্টরের সঙ্গে তার আট বছর ধরে বাগদান রয়েছে। তবে তাকে বিয়ে করার কোনো পরিকল্পনা নেই পূজার। তিনি বলেন, অঙ্গীকারটাই যথেষ্ট। একবার অঙ্গীকার করা হয়ে গেলে আসলে আপনি শুধু একটি কাগজে স্বাক্ষর করছেন এবং নিজের প্রেমের জীবনের মধ্যে সরকারকে জড়িয়ে ফেলছেন। পূজা জানান, তার বাবা-মায়ের বিচ্ছেদ পরবর্তীকালে তার নিজের বিবাহবিচ্ছেদের ক্ষেত্রেও প্রভাব ফেলেছিল। ফারহান ফার্নিচারওয়ালার সঙ্গে বিচ্ছেদের সময় তারা বিষয়টি ভিন্নভাবে সামলানোর চেষ্টা করেছিলেন। তিনি বলেন, আমি যখন আমার বাবা-মায়ের দিকে তাকাই, তখন এমন দু’জন মানুষকে দেখি, যারা ভালোভাবে বিয়ে করেছিলেন, ভালোভাবে সংসার করেছেন এবং ভালোভাবেই বিবাহবিচ্ছেদ করেছেন। আমার ও ফারহানের ক্ষেত্রেও আমরা ভালোভাবে বিয়ে করেছি, ভালোবেসেছি, সংসার করেছি এবং ভালোভাবেই বিবাহবিচ্ছেদ করেছি।
