নারায়ণগঞ্জের রূপগঞ্জে খাল দখল করে জলাবদ্ধতা তৈরির সুযোগ কাউকে দেয়া হবে না বলে হুঁশিয়ারি দিয়েছেন পানিসম্পদ প্রতিমন্ত্রী ফরহাদ হোসেন আজাদ। তিনি বলেন, ব্যক্তি কিংবা গোষ্ঠী যত ক্ষমতাবানই হোক, কিংবা যে রাজনৈতিক দলেরই হোক খালের জমি দখল করে জলাবদ্ধতা সৃষ্টি করতে দেয়া হবে না। প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশে জনগণকে সঙ্গে নিয়ে সব অবৈধ দখল উচ্ছেদ করা হবে। সরকারের প্রতিশ্রুতি ২০ হাজার কিলোমিটার খাল পুনঃখনন কর্মসূচির অংশ হিসেবে নারায়ণগঞ্জ-নরসিংদী অগ্রণী সেচ প্রকল্প ও রূপগঞ্জের ব্লক এ-১ সহ বিভিন্ন এলাকায় দখল ও অবৈধ স্থাপনা উচ্ছেদে প্রশাসন মাঠে নেমেছে বলেও জানান তিনি।
মঙ্গলবার রূপগঞ্জের পানি উন্নয়ন বোর্ডের আওতাধীন অগ্রণী সেচ প্রকল্পের যাত্রামুড়া পাম্প হাউজ ও প্রধান নিষ্কাশন খাল এবং রূপসী, ভুলতা ও গোলাকান্দাইল এলাকার বিভিন্ন পয়েন্টের নিষ্কাশন খাল পরিদর্শন করেন পানিসম্পদ প্রতিমন্ত্রী। পরিদর্শন শেষে সাংবাদিকদের তিনি বলেন, ১৯৭৬ সালে শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমান নারায়ণগঞ্জ-নরসিংদী অগ্রণী সেচ প্রকল্পের কাজ শুরু করেন। পরে ১৯৮৪ সালে জাপানি প্রযুক্তি ও জাইকার সহায়তায় প্রকল্পটি পূর্ণাঙ্গ রূপ পায়। তবে সময়ের সঙ্গে নগরায়ন ও শিল্পায়নের কারণে প্রকল্পের অনেক জমি ও খাল অবৈধ দখলের কবলে পড়েছে। রূপগঞ্জে প্রায় ৭৪১টি শিল্পকারখানা গড়ে ওঠায় পানি নিষ্কাশন ব্যবস্থা বাধাগ্রস্ত হচ্ছে। এতে সৃষ্টি হচ্ছে জলাবদ্ধতা ও পরিবেশগত সংকট। তিনি বলেন, কোনো ব্যক্তি বা গোষ্ঠী যত ক্ষমতাবান কিংবা যে দলেরই হোক না কেন, নদী ও খালের জমি দখল করে জলাবদ্ধতা তৈরি করতে দেয়া হবে না। আমরা জনগণকে সঙ্গে নিয়ে সব অবৈধ দখল উচ্ছেদ করবো।
পানিসম্পদ প্রতিমন্ত্রী বলেন, প্রকল্পগুলো বাস্তবায়ন হলে রূপগঞ্জে সড়কপথের পাশাপাশি আধুনিক নৌপথও চালু হবে। এতে সড়কে যানবাহনের চাপ ও যানজট কমার পাশাপাশি কম সময়ে মানুষের যাতায়াত নিশ্চিত হবে বলে আশা প্রকাশ করেন তিনি। পরিদর্শনকালে উপস্থিত ছিলেন নারায়ণগঞ্জ-১ আসনের সংসদ সদস্য মুস্তাফিজুর রহমান ভূঁইয়া দিপু, পানি উন্নয়ন বোর্ডের মহাপরিচালক প্রকৌশলী মো. রুহুল আমিন, বিএনপি নেতা মোফাজ্জল হোসেন স্বপন, আফজাল কবিরসহ সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তা ও নেতৃবৃন্দ।
