নয়া দিগন্ত
দৈনিক নয়া দিগন্তের প্রধান শিরোনাম ‘এবার দোভাল-গোর বৈঠক সমীকরণ নিয়ে নজর সবার’। প্রতিবেদনে বলা হয়, নয়াদিল্লিতে ভারতের জাতীয় নিরাপত্তা উপদেষ্টা অজিত দোভাল ও ভারতে নিযুক্ত মার্কিন রাষ্ট্রদূত সার্জিও গোরের বৈঠক ঘিরে দক্ষিণ এশিয়ার কূটনৈতিক অঙ্গনে নতুন করে আগ্রহ তৈরি হয়েছে। গতকাল মঙ্গলবার অনুষ্ঠিত বৈঠকের পর প্রকাশ্যে আসা তথ্যানুযায়ী, আলোচনার মূল বিষয় ছিল ভারত-যুক্তরাষ্ট্রের কৌশলগত সম্পর্ক এবং দুই দেশের সহযোগিতা আরো গভীর করা। তবে বৈঠকের নির্দিষ্ট এজেন্ডা বা কোনো গোপন সমঝোতার বিস্তারিত প্রকাশ করা হয়নি বলে জানিয়েছে টাইমস অব ইন্ডিয়া।
বৈঠকের তাৎপর্য অবশ্য শুধু দ্বিপক্ষীয় সম্পর্কের মধ্যে সীমাবদ্ধ নয়। এর সময়কাল বিশেষ গুরুত্বপূর্ণ। বাংলাদেশ ও ভারতের সম্পর্ক পুনর্গঠনের চেষ্টা, শেখ হাসিনার প্রত্যর্পণ নিয়ে ঢাকার চাপ এবং একই সময়ে দক্ষিণ এশিয়ায় চীন-ভারত-যুক্তরাষ্ট্রের কৌশলগত প্রতিযোগিতার প্রেক্ষাপটে দোভাল-গোর বৈঠকটি আঞ্চলিক পর্যবেক্ষকদের দৃষ্টি আকর্ষণ করেছে। এই বৈঠক অনুষ্ঠানের সময় বাংলাদেশে নিযুক্ত ভারতীয় হাইকমিশনার দীনেশ ত্রিবেদী দিল্লিতে ছিলেন। তবে তিনি এ বৈঠকে উপস্থিত ছিলেন কি না, তা জানা যায়নি।
এ দিকে ক্ষমতাচ্যুত প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে প্রত্যর্পণে বাংলাদেশের অনুরোধ ‘প্রতিষ্ঠিত প্রক্রিয়া’ অনুযায়ী পর্যালোচনা করছে বলে জানিয়েছে ভারত। গতকাল দেশটির পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র রণধীর জয়সওয়াল এ কথা জানান। একই সাথে ঢাকায় ইনকিলাব মঞ্চের মুখপাত্র শরিফ ওসমান হাদি হত্যা মামলার দুই প্রধান সন্দেহভাজনকে বাংলাদেশে ফেরত পাঠানোর বিষয়টিকে ‘আইনি বিষয়’ হিসেবে উল্লেখ করেছে নয়াদিল্লি।
ঘোষিত আলোচ্য: কৌশলগত সহযোগিতা
বৈঠকের পর মার্কিন রাষ্ট্রদূত সার্জিও গোর ভারত-যুক্তরাষ্ট্র কৌশলগত সহযোগিতা আরো শক্তিশালী করার ওপর গুরুত্ব দিয়েছেন। ভারতীয় নিরাপত্তা কাঠামোর সবচেয়ে প্রভাবশালী ব্যক্তিদের একজন দোভালের সাথে মার্কিন রাষ্ট্রদূতের এ ধরনের যোগাযোগ দুই দেশের নিরাপত্তা ও কৌশলগত সম্পর্কের ধারাবাহিকতারই অংশ বলে মনে করা হচ্ছে।
সাম্প্রতিক বছরগুলোতে ভারত-যুক্তরাষ্ট্র সম্পর্ক প্রতিরক্ষা, প্রযুক্তি, সরবরাহ-শৃঙ্খল, গুরুত্বপূর্ণ খনিজ, সামুদ্রিক নিরাপত্তা এবং ইন্দো-প্যাসিফিক কৌশলসহ বিভিন্ন ক্ষেত্রে বিস্তৃত হয়েছে। ফলে জাতীয় নিরাপত্তা উপদেষ্টা পর্যায়ের যোগাযোগকে কেবল আনুষ্ঠানিক কূটনৈতিক সৌজন্য হিসেবে দেখার সুযোগ কম। তবে এ বৈঠকে বাংলাদেশ বা শেখ হাসিনার প্রত্যর্পণ নিয়ে আলোচনা হয়েছে কি না, সেটি জানানো হয়নি।
বৈঠকের সময়টাই গুরুত্বপূর্ণ
দোভাল-গোর বৈঠকের এক দিন আগে ঢাকায় প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সাথে ভারতের হাইকমিশনার দীনেশ ত্রিবেদীর বৈঠক হয়। ওই আলোচনায় বাংলাদেশ-ভারত সম্পর্কের জন্য ‘অনুকূল পরিবেশ’ তৈরির প্রয়োজনীয়তার পাশাপাশি শেখ হাসিনার প্রত্যর্পণের বিষয়টি গুরুত্ব পায় বলে জানা গেছে। এ বৈঠকে বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানকে দ্বিপক্ষীয় সফরে ভারত যাওয়ার জন্য আমন্ত্রণ জানানো হয়। এই আমন্ত্রণ গ্রহণের বিষয়ে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয় বা পররাষ্ট্র্র মন্ত্রণালয় থেকে নিশ্চিতভাবে কোনো কিছু জানানো হয়নি। তবে দুই সপ্তাহের মধ্যে এ সফর অনুষ্ঠিত হতে পারে বলে একটি সূত্র জানিয়েছে। নয়াদিল্লির পক্ষ থেকে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানকে প্রথম বিদেশ সফর হিসেবে দিল্লিকে বেছে নেয়ার জন্য আমন্ত্রণ জানানোর কথা বিভিন্ন গণমাধ্যমে প্রকাশ হলেও তিনি প্রথম বিদেশ সফরে যান মালয়েশিয়ায় এবং এরপর চীনে।
প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান দিল্লি সফরে গেলে দুই দেশের সম্পর্কের নানা বিষয় নিয়ে আলোচনার পাশাপাশি শেখ হাসিনার প্রত্যর্পণের বিষয়টিও আসতে পারে। ভারতের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় জানায়, শেখ হাসিনাকে প্রত্যর্পণের জন্য বাংলাদেশের অনুরোধ ভারত ‘প্রতিষ্ঠিত প্রক্রিয়া’ অনুযায়ী পর্যালোচনা করছে; অর্থাৎ দিল্লি এখনো প্রত্যর্পণের বিষয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত ঘোষণা করেনি; বরং বিষয়টি আইনি ও প্রশাসনিক যাচাইয়ের পর্যায়ে রয়েছে।
পররাষ্ট্র দফতরের একই ব্রিফিংয়ে শরিফ ওসমান হাদি হত্যা মামলার ভারতে আটক দুই প্রধান সন্দেহভাজনকে বাংলাদেশে হস্তান্তরের বিষয়টিকেও ভারত ‘আইনি বিষয়’ হিসেবে বর্ণনা করেছে। ফলে একই সময়ে ঢাকা ও দিল্লির মধ্যে দু’টি সংবেদনশীল প্রত্যর্পণ ইস্যু আলোচনার কেন্দ্রে রয়েছে।
বাংলাদেশ কি আলোচনার আড়ালে?
এখানেই দোভাল-গোর বৈঠকের কৌশলগত গুরুত্ব নিয়ে প্রশ্ন তৈরি হয়। দক্ষিণ এশিয়ায় বাংলাদেশের অবস্থান এখন শুধু ঢাকা-দিল্লি সম্পর্কের বিষয় নয়; এর সাথে চীন, ভারত ও যুক্তরাষ্ট্রের বৃহত্তর ভূরাজনৈতিক স্বার্থও যুক্ত।
বাংলাদেশের সাথে ভারতের সম্পর্কের টানাপড়েনের সময়েই চীনের সাথে ঢাকার অর্থনৈতিক ও কৌশলগত যোগাযোগ বাড়ার সম্ভাবনা নিয়ে আন্তর্জাতিক পর্যায়ে আলোচনা চলছে। একই সাথে যুক্তরাষ্ট্র দক্ষিণ এশিয়ায় তার কৌশলগত উপস্থিতি এবং ভারতকে গুরুত্বপূর্ণ অংশীদার হিসেবে ধরে রাখার নীতি অব্যাহত রেখেছে।
তবে এর অর্থ এই নয় যে দোভাল-গোর বৈঠকে বাংলাদেশ নিয়ে কোনো সিদ্ধান্ত হয়েছে; বরং বলা যায়, বাংলাদেশসহ দক্ষিণ এশিয়ার পরিবর্তিত ভূরাজনৈতিক পরিবেশ এমন একটি বৃহত্তর কৌশলগত প্রেক্ষাপট তৈরি করেছে, যার মধ্যে ভারত-যুক্তরাষ্ট্রের নিরাপত্তা সংলাপকে পড়তে হবে।
দিল্লির জন্য তিনটি সমীকরণ
বিশ্লেষকদের মতে, বর্তমান পরিস্থিতিতে ভারতের সামনে অন্তত তিনটি সমীকরণ গুরুত্বপূর্ণ- বাংলাদেশের সাথে সম্পর্ক পুনর্গঠন, চীনের ক্রমবর্ধমান আঞ্চলিক প্রভাব মোকাবেলা এবং যুক্তরাষ্ট্রের সাথে কৌশলগত অংশীদারত্ব বজায় রাখা।
বাংলাদেশের সাথে সম্পর্ক স্বাভাবিক করতে হলে হাসিনার প্রত্যর্পণ ইস্যুতে ঢাকার অবস্থানকে বিবেচনায় নিতে হবে। আবার ভারতের দৃষ্টিকোণ থেকে বাংলাদেশের অভ্যন্তরীণ রাজনৈতিক পরিবর্তন এবং চীনের সম্ভাব্য প্রভাবও নিরাপত্তা হিসাবের অংশ।
অন্য দিকে ওয়াশিংটনের কাছে ভারত ইন্দো-প্যাসিফিক অঞ্চলের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ অংশীদার। ফলে ভারত-যুক্তরাষ্ট্র নিরাপত্তা সংলাপ যত গভীর হবে, দক্ষিণ এশিয়ার অন্য দেশগুলোর ওপর তার প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষ প্রভাবের সম্ভাবনাও তত বাড়বে।
এখন নজর ঢাকার দিকে
দোভাল-গোর বৈঠক থেকে বাংলাদেশসংক্রান্ত কোনো প্রত্যক্ষ সিদ্ধান্তের তথ্য না থাকলেও এর রাজনৈতিক সময়কাল উপেক্ষা করার মতো নয়। এক দিকে ঢাকা হাসিনার প্রত্যর্পণে চাপ বাড়াচ্ছে, অন্য দিকে দিল্লি বিষয়টি ‘প্রতিষ্ঠিত প্রক্রিয়া’ অনুযায়ী পর্যালোচনার কথা বলছে। একই সময়ে ভারত-যুক্তরাষ্ট্রের নিরাপত্তা যোগাযোগও সক্রিয় রয়েছে।
তাই আপাতত সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্ন বৈঠকে কী গোপন সিদ্ধান্ত হয়েছে তা নয়; বরং ভারত তার বাংলাদেশ নীতি, যুক্তরাষ্ট্রের সাথে কৌশলগত অংশীদারত্ব এবং দক্ষিণ এশিয়ায় চীনের প্রভাব- এই তিনটি সমীকরণ কিভাবে একসাথে সামলায়।
এই সমীকরণে আগামী দিনগুলোতে ঢাকার প্রতি দিল্লির অবস্থান কতটা নমনীয় হয়, হাসিনার প্রত্যর্পণ প্রশ্নে ভারতের আইনি প্রক্রিয়া কোন দিকে এগোয় এবং বাংলাদেশ-ভারত সম্পর্ক পুনর্গঠনে ওয়াশিংটনের কোনো পরোক্ষ ভূমিকা তৈরি হয় কি না- সে দিকেই এখন নজর থাকবে।
বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রীকে দ্বিপক্ষীয় সফরে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছে
কূটনৈতিক প্রতিবেদক জানান, বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানকে ভারতে দ্বিপক্ষীয় সফর এবং বিমসটেকের চেয়ারপারসন হিসেবে আসন্ন ব্রিকস শীর্ষ সম্মেলনের আউটরিচ সেশনে অংশগ্রহণ- এই দুইভাবেই আমন্ত্রণ জানানো হয়েছে বলে জানিয়েছেন ভারতের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে মুখপাত্র রণধীর জয়সোয়াল।
গতকাল দিল্লিতে নিয়মিত ব্রিফিংয়ে একজন সাংবাদিক গত সোমবার বাংলাদেশে নিযুক্ত ভারতের হাইকমিশনার দীনেশ ত্রিবেদীর প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সাথে সাক্ষাতের প্রসঙ্গ তুলে সেখানে কী কী বিষয়ে আলোচনা হয়েছে এবং প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান ভারতে আসতে রাজি হয়েছেন কি না, তা জানতে চান।
জবাবে জয়সোয়াল বলেন, সোমবার বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রীর সাথে আমাদের হাইকমিশনারের সাক্ষাৎ হয়েছে। এতে দুই পক্ষই পারস্পরিক স্বার্থসংবলিত বিষয় নিয়ে কথা বলেছে।
প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানকে আমন্ত্রণ জানানো প্রসঙ্গে তিনি বলেন, দ্বিপক্ষীয় সফরের জন্য আমরা আমন্ত্রণ জানিয়েছি, সেই সাথে দিল্লিতে অনুষ্ঠেয় ব্রিকস আউটরিচ সেশনে অংশগ্রহণের জন্যও আমন্ত্রণ জানিয়েছি।
আগামী ১২ ও ১৩ সেপ্টেম্বর দিল্লিতে অষ্টাদশ ব্রিকস শীর্ষ সম্মেলন অনুষ্ঠিত হবে। ওই সম্মেলনের আউটরিচে যোগ দিতে বিমসটেকের চেয়ারপারসন হিসেবে বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানকে আমন্ত্রণ জানিয়েছেন ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি। এর আগে গত ফেব্রুয়ারিতে তারেক রহমান বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব গ্রহণ করার পর তাকে ভারতে দ্বিপক্ষীয় সফরের জন্য আমন্ত্রণ জানান নরেন্দ্র মোদি।
বণিক বার্তা
‘কিছুদিন স্থিতিশীল থাকলেও এখন বাড়ছে প্রধান প্রধান ভোগ্যপণ্যের দাম’-এটি দৈনিক বণিক বার্তার প্রধান শিরোনাম। খবরে বলা হয়, চলতি অর্থবছরের বাজেটে ৬০টি নিত্যপণ্যের আমদানিতে উৎসে কর ও অগ্রিম আয়কর কমানো হয়। এতে জুনের শেষার্ধ ও জুলাইয়ে দেশের পাইকারি বাজারে নিত্যপণ্যের দাম স্থিতিশীল ছিল।
তবে বিরূপ আবহাওয়া, জ্বালানি সংকটে পরিবহন ব্যয় বৃদ্ধি এবং বৈশ্বিক সরবরাহ ব্যবস্থার অস্থিরতায় আগস্টের শুরু থেকেই পাইকারিতে প্রধান প্রধান ভোগ্যপণ্যের দাম বাড়তে শুরু করেছে। পাইকারিতে দাম বাড়ার প্রভাব দেশব্যাপী খুচরা বাজারেও পড়ছে।
চলতি বছরের জুনে ২০২৬-২৭ অর্থবছরের বাজেট ঘোষণায় চাল, গম, আলু, পেঁয়াজ, রসুন, আদা, লবণ, চিনি ও ভোজ্যতেলের মতো প্রায় ৬০টি নিত্যপণ্যের উৎসে ও অগ্রিম কর সর্বোচ্চ ৫ থেকে কমিয়ে দশমিক ৫ শতাংশে নামিয়ে আনা হয়। অগ্রিম কর নিয়ম অনুযায়ী ব্যবসায়ীরা একপর্যায়ে ফেরত পান। কিন্তু দেশে বিদ্যমান ব্যবসায়িক চর্চার প্রেক্ষাপটে সেটি বাস্তবে পণ্য বিক্রি হওয়ার পর পরই ফেরত আসে না। বরং ব্যবসায়ীদের প্রদেয় বিভিন্ন শুল্ক-করের সঙ্গে সমন্বয় হয়।
ব্যাংক ঋণের ওপর নির্ভরশীল ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানগুলো অগ্রিম করকে (এআইটি) পণ্যের দামের সঙ্গে যুক্ত করে লাভ-লোকসান হিসাব করে। ফলে বাজেটে এআইটি কমানোর কারণে ব্যবসায়ীদের আর্থিক সাশ্রয় হওয়ায় পণ্যের দাম কমার কথা। যদিও সাম্প্রতিক সময়ে বৈশ্বিক বুকিংয়ে দর বৃদ্ধি, ইরান যুদ্ধ ও রাশিয়ার সঙ্গে ইউক্রেনের সংঘাত তীব্রতর হওয়ার পাশাপাশি হরমুজ প্রণালি কার্যকরভাবে সচল না থাকায় প্রভাব পড়েছে সরবরাহ ব্যবস্থায়। সংশ্লিষ্টরা বলছেন, জ্বালানি ঘাটতিতে দেশে অনেক পণ্যের উৎপাদন ও পরিবহন ব্যয়ও বেড়েছে। এমন পরিস্থিতিতে চলতি মাসে পাইকারি বাজারে ভোগ্যপণ্যের দাম বাড়তে শুরু করেছে।
দেশের শীর্ষ ভোগ্যপণ্য আমদানি ও বিপণনকারী বাজার খাতুনগঞ্জে গত ৮-১০ দিনে গম, ভোজ্যতেল, চিনি, ছোলা, মোটা মসুর, মসলা, রসুন, পেঁয়াজসহ বেশকিছু নিত্যপণ্যের দাম বেড়েছে। গম, চিনি ও ভোজ্যতেলের দাম বেড়ে যাওয়ায় আটা-ময়দাসহ খাদ্যপণ্যের বাজারে প্রভাব পড়েছে। আবার রফতানি অনুমতির কারণে বাজার থেকে সুগন্ধি চাল সংগ্রহ শুরু হয়েছে। এতে সুগন্ধি চালের দাম রেকর্ড পরিমাণ বেড়েছে। বর্ষা মৌসুমে দেশে শাকসবজি, মাছ ও পোলট্রিজাতীয় খাদ্যপণ্যের উৎপাদন খরচ বেড়ে যায়। এসব খাদ্যের দাম বাড়ায় সীমিত আয়ের ভোক্তারা প্রতিদিনের খাদ্যতালিকায় ডালের ব্যবহার বাড়ান। এতে ডালের বাজারেও ঊর্ধ্বমুখী প্রভাব পড়েছে বলে জানিয়েছেন ব্যবসায়ীরা।
বিভিন্ন ট্রেডিং প্রতিষ্ঠানের দেয়া তথ্যমতে, দেড় মাস আগেও পাইকারি পর্যায়ে মণপ্রতি (৩৭ দশমিক ৩২ কেজি) পাম অয়েলের দাম ছিল ৬ হাজার ২৫০ থেকে ৬ হাজার ৩০০ টাকা। বর্তমানে একই মানের খোলা পাম অয়েল বিক্রি হচ্ছে ৬ হাজার ৪০০ টাকায়। আবার সুপার পাম অয়েলে ১০০-১২০ টাকা বেড়ে লেনদেন হচ্ছে ৬ হাজার ৫৫০ থেকে ৬ হাজার ৬০০ টাকায়। সয়াবিনের দাম ১৫০ টাকা বেড়ে ৭ হাজার ৪০০ টাকায় লেনদেন হচ্ছে। সাম্প্রতিক সময়ে বিশ্ববাজারে বুকিং দর কিছুটা বেড়ে যাওয়ায় সরকারিভাবে ভোজ্যতেলের দাম বাড়ানো না হলেও পাইকারি বাজারে খোলা ভোজ্যতেলের দাম বাড়তে শুরু করেছে বলে জানিয়েছেন ব্যবসায়ীরা।
দীর্ঘদিন ধরে চাহিদা কমে চিনির দাম মণপ্রতি ৩ হাজার ৪৮০ থেকে ৩ হাজার ৪৫০ টাকায় নেমেছিল। বর্তমানে মণপ্রতি চিনি ৩ হাজার ৬৬০ টাকায় লেনদেন হচ্ছে। কয়েক সপ্তাহের ব্যবধানে পাইকারিতে চিনির দাম বেড়েছে ১৬০-১৮০ টাকা।
এদিকে কয়েক মাস ধরে দেশের পাইকারি বাজারে প্রতি মণ গমের দাম ছিল ১ হাজার ২৮০ থেকে ১ হাজার ৩০০ টাকা। দুই সপ্তাহ ধরে গমের দাম বেড়ে ১ হাজার ৪৫০ টাকায় উঠেছে। সর্বশেষ কয়েক দিনে এ দাম ১ হাজার ৪৩০ থেকে ১ হাজার ৪৩৫ টাকায় ওঠানামা করছে। গমের মূল্য বৃদ্ধিতে উৎপাদন খরচ বেড়ে যাওয়ায় ফ্লাওয়ার মিলগুলো আটা ও ময়দার দাম বাড়িয়ে দিয়েছে। এরই মধ্যে প্রতি কেজি খোলা ও প্যাকেটজাত আটা-ময়দার দাম ৪-৫ টাকা পর্যন্ত বেড়েছে।
২০২২ সালের ফেব্রুয়ারিতে রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধ শুরু হলে বিশ্বব্যাপী খাদ্যশস্যের বাজার অস্থিতিশীল হয়ে ওঠে। সম্প্রতি রাশিয়া-ইউক্রেন সংঘাত নতুন করে তীব্র হওয়ায় কৃষ্ণসাগর দিয়ে শস্য রফতানিতে ঝুঁকি বেড়েছে। ফলে গমের আন্তর্জাতিক বাজার চড়া হতে শুরু করেছে। দুই বছরের মধ্যে সর্বোচ্চ দামে লেনদেন হচ্ছে গম। এর প্রভাবে দেশের বাজারে গত কয়েক দিনে গমের দাম বেড়েছে মণপ্রতি প্রায় ১৫০ টাকা।
রাশিয়া ও ইউক্রেন বিশ্বের মোট চাহিদার ২৮ শতাংশ গম সরবরাহ করে। সংঘাত অব্যাহত থাকলে গমের দাম আরো বাড়ার আশঙ্কা করছেন বাজারসংশ্লিষ্টরা। আমদানিকারকরা জানিয়েছেন, দীর্ঘ সময় ধরে চলা যুদ্ধের একটা পর্যায়ে উৎপাদন, বাণিজ্য ও সরবরাহ চেইন অলিখিত স্থিতিশীল অবস্থায় পৌঁছে যায়। কিন্তু বর্তমানে সংঘাত তীব্রতর হওয়ায় রফতানিতে অনিশ্চয়তা দেখা দিয়েছে। কৃষ্ণসাগর অঞ্চলে গম উত্তোলন মৌসুম শুরু হয়েছে। মৌসুমের সর্বোচ্চ সময়ে রফতানি ব্যাহত হওয়ার শঙ্কায় অনেক দেশই বিকল্প উৎস থেকে গমের বুকিং নিশ্চিত করতে চাইছে। এ কারণে গমের আন্তর্জাতিক বাজারে দ্রুত রেকর্ড মূল্য বৃদ্ধি বাংলাদেশের বাজারেও প্রভাব ফেলেছে বলে জানিয়েছেন তারা।
কনজিউমার অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশের (ক্যাব) কেন্দ্রীয় ভাইস প্রেসিডেন্ট এসএম নাজের হোসাইন বলেন, ‘বিশ্ববাজারে গমের দাম বেড়েছে এক মাসও হয়নি। দেশে গম আমদানি হতে কয়েক মাস সময় লাগে। এরই মধ্যে দেশের বাজারে গমের পাশাপাশি আটা-ময়দার দাম বেড়ে গেছে। বর্ষাকালীন মৌসুমে শাকসবজির জোগান কমলে ডালজাতীয় খাদ্যের চাহিদা বাড়ে। সরকার বাজেটে খাদ্যপণ্য আমদানিতে সুবিধা দিলে কিছুদিন বাজার স্থিতিশীল ছিল। এখন যুদ্ধ ও চাহিদার বৃদ্ধির সুযোগ নিয়ে আমদানিকারক ও পাইকারি পর্যায়ে ভোগ্যপণ্যের দাম বাড়ানোর চেষ্টা চলছে।’
ট্রেডিং করপোরেশন অব বাংলাদেশ (টিসিবি) সূত্রে জানা গেছে, গমের মূল্য বৃদ্ধিতে দেশের বাজারে বাড়তে শুরু করেছে আটা ও ময়দার দাম। এক মাসের ব্যবধানে আটা-ময়দার দাম বেড়েছে ৪ থেকে ৯ শতাংশ পর্যন্ত। বর্তমানে প্রতি কেজি খোলা সাদা আটা খুচরায় বিক্রি হচ্ছে ৪৫-৫০ টাকায়। এক মাসের মধ্যে খোলা সাদা আটার দাম বেড়েছে প্রায় ৪ দশমিক ৪ শতাংশ। প্যাকেটজাত আটার দাম এক মাসে কেজিপ্রতি ৮ দশমিক ৭ শতাংশ বেড়ে খুচরায় বিক্রি হচ্ছে ৬০-৬৫ টাকায়, খোলা ময়দা কেজিপ্রতি ৪ দশমিক ৩৫ শতাংশ বেড়ে লেনদেন হচ্ছে ৬০ টাকায় ও প্যাকেটজাত ময়দা ৩ দশমিক ৭ শতাংশ বেড়ে এক মাসের ব্যবধানে খুচরা বাজারে বিক্রি হচ্ছে ৬৫-৭৫ টাকায়।
টিসিবির প্রতিবেদন বিশ্লেষণে দেখা গেছে, এক বছরের ব্যবধানে দেশের আটা-ময়দার দাম উল্লেখযোগ্য পরিমাণ বেড়েছে। এর মধ্যে খোলা আটার দাম এক বছরের ব্যবধানে বেড়েছে ১১ দশমিক ৭৬ শতাংশ, প্যাকেট আটা ১৯ দশমিক শূন্য ৫, খোলা ময়দা ৯ দশমিক শূন্য ৯ ও প্যাকেটজাত ময়দার দাম বেড়েছে ৩ দশমিক ৭ শতাংশ।
টিসিবির সহকারী পরিচালক (মার্কেট ডেটা) শতদল মণ্ডল বণিক বার্তাকে বলেন, ‘টিসিবি নিয়মিত প্রধান প্রধান ভোগ্যপণ্যের বাজার মনিটর করে। দামের উত্থান-পতন হলে সেটি বিশেষ গুরুত্বের সঙ্গে প্রতিবেদনে যুক্ত করা হয়। সাম্প্রতিক সময়ে ভোগ্যপণ্যের মধ্যে যে কয়েকটির দাম বেড়েছে সে বিষয়ে বাণিজ্য মন্ত্রণালয়সহ সরকারি সংশ্লিষ্ট দপ্তরগুলোতে জানানো হয়েছে।’”
যুক্তরাষ্ট্রের শিকাগো বোর্ড অব ট্রেডে (সিবিওটি) লেনদেন হওয়া এসআরডব্লিউ গম ফিউচার ট্রেডের দাম বর্তমানে প্রতি বুশেল (২৭ দশমিক ২২ কেজি) ৬ দশমিক ৮১ মার্কিন ডলার। আগামী মাসগুলোর ফিউচার কার্যাদেশেও গমের দামে ঊর্ধ্বমুখী প্রবণতা দেখা যাচ্ছে। এর মধ্যে সেপ্টেম্বরে সরবরাহযোগ্য গম প্রতি বুশেল ৬ দশমিক ৫৯ ও ডিসেম্বরে ৬ দশমিক ৭৬ ডলারে উঠেছে। এছাড়া ২০২৭ সালের মার্চে সরবরাহ শর্তের গমের দাম ৬ দশমিক ৯১ ও মে মাসের জন্য ৬ দশমিক ৯৮ ডলার। বর্তমানে কৃষ্ণসাগরীয় অঞ্চলের গম উত্তোলন মৌসুমে রাশিয়া-ইউক্রেনসহ বৈশ্বিক গমের দাম নিম্নমুখী থাকার কথা থাকলেও উল্টো দাম বাড়ছে। এমনকি ফিউচার মার্কেটে গমের বাজার দুই বছরের মধ্যে সর্বোচ্চ থাকায় বাংলাদেশের বাজারেও এর নেতিবাচক প্রভাব পড়বে বলে আশঙ্কা করছেন আমদানিকারকসহ ব্যবসায়ীরা।
জানতে চাইলে খাদ্যশস্য আমদানিকারক প্রতিষ্ঠান বিএসএম গ্রুপের চেয়ারম্যান আবুল বশর চৌধুরী বণিক বার্তাকে বলেন, ‘রাশিয়া-ইউক্রেন অঞ্চলে উৎপাদিত গম বৈশ্বিক চাহিদার এক-চতুর্থাংশের বেশি সরবরাহ করে। দুটি দেশের যুদ্ধ শুরুর পর সময়ের সঙ্গে সঙ্গে বিভিন্ন কৌশলে সরবরাহ চেইন উন্মুক্ত হয়েছিল। এখন নতুন করে যুদ্ধ পরিস্থিতি তীব্র হওয়ায় কৃষ্ণসাগর দিয়ে শস্য রফতানি ঝুঁকিতে শিপিং চার্জ ও ইন্স্যুরেন্স প্রিমিয়াম বেড়ে যাবে। মধ্যপ্রাচ্যের যুদ্ধ পরিস্থিতির মধ্যে হুথিরা সরাসরি যুদ্ধে জড়িয়ে পড়ায় লোহিত সাগরকেন্দ্রিক সংকটেও শস্য সরবরাহ চেইনে ব্যাঘাত ঘটাবে। ক্রেতাপ্রতিষ্ঠানগুলো ঝামেলা এড়াতে বিকল্প উৎস খুঁজতে থাকায় বৈশ্বিক দাম বেড়ে গেছে।’
এমন বৈশ্বিক পরিস্থিতিতে গমের পাশাপাশি ভুট্টা ও ডালজাতীয় খাদ্যপণ্যের বাজারেও নেতিবাচক প্রভাব পড়বে বলে আশঙ্কা করছেন তিনি।
২০২৬ সালের প্রথম চার মাস গমের আন্তর্জাতিক বাজার তুলনামূলক স্থিতিশীল ছিল। জানুয়ারি-এপ্রিল পর্যন্ত প্রতি বুশেল গমের দাম ৫ দশমিক ২ থেকে ৫ দশমিক ৬ ডলারের মধ্যে ওঠানামা করে। তবে মে মাসে উৎপাদনকারী বেশ কয়েকটি দেশে উৎপাদন নিয়ে অনিশ্চয়তা, শুষ্ক আবহাওয়া ও যুদ্ধে কৃষ্ণসাগর অঞ্চলে রফতানি ঝুঁকির কারণে দাম বাড়তে শুরু করে। জুনেও এ মূল্য বৃদ্ধি অব্যাহত থাকে। জুলাইয়ে রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধ তীব্র আকার ধারণ করলে গমের বাজার দুই বছরের ব্যবধানে সর্বোচ্চ পর্যায়ে পৌঁছে যায়।
ডেল্টা এগ্রোফুড ইন্ডাস্ট্রিজের ব্যবস্থাপনা পরিচালক আমিরুল হক বণিক বার্তাকে বলেন, ‘বিশ্ববাজারে গমের দাম উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়েছে। প্রতি টন ২৬০ ডলারে যেটা আগে ক্রয় করেছিলাম সেটা এখন বেড়ে ২৯০ ডলারে ঠেকেছে। কৃষ্ণসাগর অঞ্চলে রাশিয়া ও ইউক্রেনের নতুন করে সামরিক উত্তেজনা এ মূল্য বৃদ্ধিতে ভূমিকা রেখেছে। আমদানিকারকদের জন্য ফ্রেইট খরচ অনেক বেড়ে গেছে। বিশ্বজুড়ে খাদ্যশস্য সরবরাহের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ রুট হওয়ায় এ অঞ্চলের সংঘাত পণ্যবাজারে অস্থিরতা তৈরি করেছে।’
প্রথম আলো
‘গাফিলতি তাঁদের, হামে মৃত্যু শিশুদের’-এটি দৈনিক প্রথম আলোর প্রধান শিরোনাম। খবরে বলা হয়, বিয়ের ১১ বছর পর সন্তানের মা হয়েছিলেন ফারজানা ইসলাম। তা-ও বহু ব্যয় করে, আইভিএফ (বিশেষ প্রজনন চিকিৎসা) পদ্ধতিতে।
ফারজানা সন্তানের নাম রেখেছিলেন ফাইয়াজ হাসান তাজিম। ফেসবুক প্রোফাইলে নিজের নাম দিয়েছিলেন ‘তাজিমের আম্মু’। হামে আক্রান্ত হয়ে গত ২২ এপ্রিল মারা যায় তাজিম। বয়স হয়েছিল ৮ মাস ১৮ দিন। হাম ও হামের উপসর্গে গত ১৫ মার্চ থেকে গতকাল মঙ্গলবার পর্যন্ত তাজিমের মতো ৮৮০ জনের মৃত্যু হয়েছে, যাদের প্রায় সবাই শিশু।
দেশে বহু বছর ধরে হাম নিয়ন্ত্রণেই ছিল। হামে শিশু মৃত্যু হয়েছে, এমন খবর ছিল বিরল। এ বছর কেন বিপর্যয় তৈরি করল, দায় কাদের—তা নিয়ে তিন মাস ধরে অনুসন্ধান করেছে প্রথম আলো। সরকারের নথিপত্র সংগ্রহ, বিশ্লেষণ এবং বিভিন্ন পক্ষের সঙ্গে কথা বলে দেখা গেছে, হাম পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণের বাইরে গেছে গাফিলতির কারণে।
হামের ঝুঁকিকে অগ্রাধিকার না দেওয়া, টাইফয়েডের টিকাদান কর্মসূচির জন্য হাম-রুবেলার ক্যাম্পেইন বারবার পেছানো, কয়েক বছর ধরে প্রয়োজনের তুলনায় কম টিকা কেনা এবং ঝুঁকির তথ্য যথাসময়ে বিশ্লেষণ না করার মধ্য দিয়ে সংকটটি ধীরে ধীরে তৈরি হয়েছে।
এ ব্যর্থতার দায় কোনো একটি সরকার বা প্রতিষ্ঠানের মধ্যে সীমাবদ্ধ নয়। সরকারের সর্বোচ্চ নীতিনির্ধারণী পর্যায়, স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়, স্বাস্থ্য অধিদপ্তর ও সম্প্রসারিত টিকাদান কর্মসূচির (ইপিআই) পাশাপাশি বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা (ডব্লিউএইচও) ও ইউনিসেফের সমন্বয়হীনতা, ভুল অগ্রাধিকার এবং প্রশাসনিক জটিলতা পরিস্থিতিকে বিপর্যয়ের দিকে ঠেলে দিয়েছে।
হামের টিকাদানে পরে জাতীয় ক্যাম্পেইন হলেও অসম্পূর্ণ লক্ষ্যমাত্রা ও দুর্বল ব্যবস্থাপনার কারণে সংক্রমণ পুরোপুরি নিয়ন্ত্রণে আসেনি।
হাম, হামের প্রাদুর্ভাব ও হামের টিকা নিয়ে অনুসন্ধানের একটি পর্যায়ে তথ্য দিতে চায়নি ইপিআই, স্বাস্থ্য অধিদপ্তর ও স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়। পরে তথ্য অধিকার আইনে আবেদন করা হয়। তারপরও পূর্ণ তথ্য পাওয়া যায়নি। স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের তথ্য কর্মকর্তা কোনো তথ্য দেননি।
বিভিন্ন ধরনের বিশেষজ্ঞ কমিটির একাধিক সদস্যের কাছে তথ্য চেয়েও পাওয়া যায়নি। দুটি কমিটির সভার কার্যবিবরণী দিতে সদস্যরা অস্বীকৃতি জানিয়েছেন। অন্যদিকে একবার তথ্য দেওয়ার পর দ্বিতীয় পর্যায়ে তথ্য দিতে অস্বীকৃতি জানিয়েছে বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা ও ইউনিসেফ।
অবশ্য স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়, ইউনিসেফ এবং টিকা ক্রয় ও সরবরাহের বৈশ্বিক উদ্যোগ গ্যাভি সূত্রে বিভিন্ন তথ্য ও নথি পাওয়া গেছে। সেসব তথ্য ও নথি বিশ্লেষণ করে দেখা যায়, হামের বর্তমান প্রাদুর্ভাবের পেছনে পাঁচটি প্রধান কারণ রয়েছে।
এক. ২০২৫ সালের সেপ্টেম্বরে যে হাম-রুবেলা টিকাদান ক্যাম্পেইন হওয়ার কথা ছিল, সেটি বারবার পিছিয়ে ২০২৬ সালের এপ্রিলে শুরু হয়। অর্থাৎ যে ক্যাম্পেইনের মাধ্যমে সারা দেশের সব টিকাদানযোগ্য শিশুকে হামের টিকা দেওয়া হয়, সেই ক্যাম্পেইন পিছিয়ে যায় সাত মাস। এর আগে ক্যাম্পেইন হয়েছিল ২০২০ সালে। যথাসময়ে ক্যাম্পেইন না হওয়ার কারণ হামকে গুরুত্ব কম দেওয়া। টাইফয়েডের টিকাদানে বেশি জোর দেওয়া।
স্বাস্থ্য অধিদপ্তরও স্বীকার করেছে, টাইফয়েডের টিকাদান কর্মসূচিকে অগ্রাধিকার দেওয়ার কারণেই হামের ক্যাম্পেইন পিছিয়েছিল। দুই. ২০২৩ থেকে ২০২৫ সাল সময়ে নিয়মিত কর্মসূচির জন্য প্রয়োজনের তুলনায় হাম-রুবেলার টিকা ৪২ শতাংশ কম কেনা হয়েছে।
তিন. টিকা না পাওয়া শিশুর সংখ্যা বাড়তে থাকা, প্রকৃত টিকাদান হার সরকারি হিসাবের চেয়ে কম হওয়া এবং পরীক্ষাগারে হাম শনাক্তের সংখ্যা বেড়ে যাওয়ার তথ্য ছিল। কিন্তু ইপিআই, স্বাস্থ্য বিভাগ, জাতীয় পর্যায়ের বিশেষজ্ঞ কমিটি এবং আন্তর্জাতিক সহযোগী সংস্থাগুলো এসব তথ্য থেকে প্রাদুর্ভাবের ঝুঁকি চিহ্নিত করে সরকারের নীতিনির্ধারণী পর্যায়ে সতর্কবার্তা দেয়নি।
চার. অন্তর্বর্তী সরকার স্বাস্থ্য পরিচালনা ও ব্যবস্থাপনায় পরিবর্তন করে, টিকা ক্রয় নিয়ে পরীক্ষা-নিরীক্ষা করে এবং সে সময়ে ইউনিসেফের সঙ্গে স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের দূরত্ব তৈরি হয়। এতে টিকা কেনায় বিলম্ব হয়। পাশাপাশি ২০২৫ সালে স্বাস্থ্যকর্মীরা বিভিন্ন দাবিতে একাধিকবার কর্মবিরতি ও ধর্মঘটে যান। এতে নিয়মিত টিকা কার্যক্রম ব্যাহত হয় এবং টিকার ক্যাম্পেইনও পেছায়।
পাঁচ. প্রাদুর্ভাব শুরু হওয়ার পর চলতি বছরের এপ্রিলে জাতীয় ক্যাম্পেইন হলেও লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণে বড় ঘাটতি ছিল। বিপুলসংখ্যক শিশু শুরুতেই হিসাবের বাইরে থেকে যায়।
সব কিছুর ফল হলো শিশুমৃত্যু। হাম নির্মূল পরিস্থিতি সম্পর্কে বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার দক্ষিণ-পূর্ব অঞ্চলের একটি সভা গত জুনে শ্রীলঙ্কায় অনুষ্ঠিত হয়। এতে বলা হয়, বাংলাদেশে মারা যাওয়া শিশুদের ৯২ শতাংশ হামের কোনো টিকা পায়নি।
দেশের পাঁচজন রোগতত্ত্ববিদ, টিকাবিশেষজ্ঞ, ভাইরাস বিশেষজ্ঞ, শিশুস্বাস্থ্যবিশেষজ্ঞ ও বিজ্ঞানী প্রথম আলোকে বলেছেন, ছয় মাস বা তারও আগে হামের টিকার জাতীয় ক্যাম্পেইন শেষ করা সম্ভব হলে হয়তো হামের প্রাদুর্ভাব দেখা দিত না। দেখা যদি দিত, তাহলে তা এত ব্যাপক হতো না।
স্বাস্থ্য অধিদপ্তরে রোগনিয়ন্ত্রণ শাখার সাবেক পরিচালক অধ্যাপক বে-নজির আহমেদও মনে করেন, গত সেপ্টেম্বরের দিকে জাতীয় ক্যাম্পেইনের মাধ্যমে দেশের ৯৫ শতাংশ শিশুকে বা সব শিশুকে টিকার আওতায় আনলে হামের প্রাদুর্ভাব দেখা দিত না। তিনি প্রথম আলোকে বলেন, সব শিশু টিকা পেলে সংক্রমণ সারা দেশে ছড়িয়ে পড়ত না।
যুগান্তর
দৈনিক যুগান্তরের প্রধান শিরোনাম ‘সেই পুরোনো বৃত্তেই পুলিশ’। প্রতিবেদনে বলা হয়, আওয়ামী লীগের শাসনামলে পুলিশের নিয়োগ থেকে শুরু করে পদোন্নতি, বদলি ও মাঠপর্যায়ে দায়িত্ব পালন-সব ক্ষেত্রেই ছিল বিতর্ক। পুলিশের হাতে সাধারণ মানুষ ও বিরোধী দলের অসংখ্য নেতাকর্মী হয়রানির শিকার হওয়ার অভিযোগও ছিল অহরহ। বাহিনীর কিছু সদস্য ডাকাতি, ছিনতাই ও মাদক দিয়ে নির্দোষ মানুষকে ফাঁসানোসহ নানা অপরাধে জড়িয়ে পড়েছিল। সেসময় পুলিশের একটি বড় অংশ ক্ষমতাসীন দলের ক্যাডারের ভূমিকায় অবতীর্ণ হয়েছিল।
তবে ছাত্র-জনতার অভ্যুত্থানে আওয়ামী লীগ সরকারের পতনের পর ঢেলে সাজানো হয়েছে পুলিশকে, আনা হয়েছে নেতৃত্বে পরিবর্তন। অনেক পুলিশ কর্মকর্তাকে বিভিন্ন অপরাধে গ্রেফতারও করা হয়েছে। কিন্তু প্রশ্ন উঠেছে-এত কিছুর পরও কতটা বদলেছে পুলিশ?
অপরাধ বিশ্লেষকরা বলছেন, পুলিশে রাজনৈতিক সংস্কৃতির জায়গাটা আগের মতোই রয়ে গেছে। ফলে সবকিছু হচ্ছে ক্ষমতাসীনদের ইচ্ছায়। অভ্যন্তরীণ প্রশাসনিক বিষয়গুলোতেও কোনো পরিবর্তন আসেনি। এখনো অনেক সদস্যের মধ্যে অপরাধমূলক মানসিকতা রয়ে গেছে। পুলিশ নিজে নিজে পরিবর্তিত হবে না উল্লেখ করে বিশ্লেষকরা বলছেন, একটি বাহিনী তার কিছু কর্মকর্তা বা সদস্যের জন্য দীর্ঘ সময় ধরে বিতর্কিত হয়েছে। তারা ক্ষমতা ও পরিচয় ব্যবহার করে লাভবান হয়েছে এবং বাহিনীকে রাজনীতিকরণ করেছে। এই অবস্থা থেকে তারা নিজে নিজে ভালো হয়ে যাবে এমন প্রত্যাশা টেকসই নয়; বরং পুলিশকে ভালো করতে হলে প্রয়োজনীয় নীতিগত ও আইনি সংস্কার করতে হবে। কাঠামোগত পরিবর্তনের মধ্য দিয়েই তাদের কর্মকাণ্ডে স্বচ্ছতা ও জবাবদিহি আসবে।
মাওলানা ভাসানী বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের ক্রিমিনোলজি বিভাগের অধ্যাপক মো. ওমর ফারুক যুগান্তরকে বলেন, রাজনীতিকরণের জায়গা থেকে পুলিশ ন্যূনতম বদলায়নি। এ বাহিনীতে এখনো কোনো মৌলিক পরিবর্তন দেখতে পাচ্ছি না এবং এ বিষয়ে দৃশ্যমান কোনো উদ্যোগও নেই। তিনি আরও বলেন, মামলা ও জিডি নেওয়ার ক্ষেত্রে কিছু কিছু জায়গায় এখনো কিছুটা কঠোর মনোভাব আছে। তবে জনগণের প্রতি তাদের দৃষ্টিভঙ্গি আগের কলোনিয়াল বা ঔপনিবেশিক মানসিকতার চেয়ে কিছুটা নমনীয় হয়েছে। কিন্তু ভেতরের প্রশাসনিক ব্যবস্থাপনা আগের মতোই চলছে।
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সমাজকল্যাণ ও গবেষণা ইনস্টিটিউটের সহযোগী অধ্যাপক এবং অপরাধ বিশেষজ্ঞ ড. তৌহিদুল হক যুগান্তরকে বলেন, পুলিশ এখনো পুরোনো ধাঁচে চলার মানসিকতায় রয়েছে। জুলাই আন্দোলনের প্রেক্ষাপটে তাদের কাছ থেকে যে পরিবর্তন বা সংস্কারের প্রত্যাশা ছিল, তা তারা পরিপূর্ণ মাত্রায় দৃশ্যমান করতে পারেনি। তিনি বলেন, যে আইন বা বিধিমালার মাধ্যমে পুলিশ পরিচালিত হয়, সেটির পরিবর্তন সবার আগে জরুরি। পুলিশ এখনো ১৮৬১ সালের পুরোনো আইন দিয়ে পরিচালিত হচ্ছে। আমরা বারবার বলছি, একটি স্বাধীন আইন প্রয়োজন। একটি পেশাদার বাহিনী গড়ে তোলার জন্য যেসব ব্যবস্থা থাকা দরকার-যেমন তার চাকরির ধরন, স্বচ্ছতা ও জবাবদিহি নিশ্চিত করতে হবে। পুলিশ কখনো সরকারের অন্ধ নির্দেশে কাজ করবে না; বরং সরকারের সঙ্গে সমন্বয় করে কাজ করবে। এসব বিষয় নিশ্চিত না করে পুলিশ নিজে নিজে বদলে যাবে এমন প্রত্যাশা করা ভুল।
সূত্র জানায়, আওয়ামী লীগ সরকারের আমলে ছাত্রজীবনে ছাত্রলীগের রাজনীতির সঙ্গে যুক্ত থাকা পুলিশ কর্মকর্তারা বাড়তি সুবিধা পেতেন। পক্ষান্তরে বিএনপি-জামায়াত সমর্থক কর্মকর্তাদের ডাম্পিং পোস্টিং, বছরের পর বছর পদোন্নতি আটকে রাখা কিংবা বাধ্যতামূলক অবসরে পাঠানোর মতো বিতর্কিত কর্মকাণ্ড ছিল ওপেনসিক্রেট। পুলিশের গুরুত্বপূর্ণ পদে পদায়নে চলত ঘুসবাণিজ্য; দলীয় সমর্থক ছাড়া গুরুত্বপূর্ণ ইউনিটে পদায়ন দেওয়া হতো না।
কালের কণ্ঠ
‘ফখরুলই রাষ্ট্রপতি হচ্ছেন, ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব রিজভী’-এটি দৈনিক কালের কণ্ঠের প্রধান শিরোনাম। খবরে বলা হয়, রাষ্ট্রপতি পদে বিএনপির প্রার্থী হিসেবে মহাসচিব ও স্থানীয় সরকার মন্ত্রী মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরের নামই শেষ পর্যন্ত চূড়ান্ত হওয়ার পথে। একই সঙ্গে দলটির পরবর্তী মহাসচিব হিসেবে সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবীর রিজভীর নামও আলোচনার কেন্দ্রে রয়েছে।
সরকার এবং দলের উচ্চ পর্যায় থেকে কালের কণ্ঠকে বিষয়টি নিশ্চিত করা হয়েছে। তবে রাষ্ট্রপতি পদে মির্জা ফখরুলের মনোনয়ন এবং মহাসচিব হিসেবে রিজভীর দায়িত্ব নেওয়ার বিষয়টি দল থেকে আনুষ্ঠানিকভাবে এখনো ঘোষণা করা হয়নি।
মো. সাহাবুদ্দিনের পদত্যাগের পর ২৩তম রাষ্ট্রপতি কে হচ্ছেন, এ নিয়ে আলোচনা শুরু হয়। জাতীয় সংসদে সংখ্যাগরিষ্ঠ দল বিএনপি।
সে ক্ষেত্রে ক্ষমতাসীন দল বিএনপি থেকে যিনি মনোনয়ন পাবেন তিনিই হবেন পরবর্তী রাষ্ট্রপতি এটা নিশ্চিত। বিএনপিও দলীয় ফোরামে আলোচনা করে রাষ্ট্রপতি পদে চূড়ান্ত মনোনয়নের বিষয়টি দলের চেয়ারম্যান ও প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের ওপর ন্যস্ত করেছে। এ ছাড়া দলের গণতন্ত্র অনুযায়ী মহাসচিব পদে নিয়োগ দেওয়ার সর্বোচ্চ এখতিয়ারও দলের চেয়ারম্যানের রয়েছে। গতকাল মঙ্গলবার সচিবালয়ে স্থানীয় সরকার মন্ত্রী মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরের কার্যালয়ে তাঁর শুভাকাঙ্ক্ষীদের ভিড় দেখা যায়।
এরপর তিনি বেইলি রোডের সরকারি বাসভবনে যান। তাঁর বাসভবনেও সন্ধ্যার পর থেকে রাত পর্যন্ত শুভাকাঙ্ক্ষীরা ভিড় করেন। বিএনপির প্রার্থী হিসেবে আনুষ্ঠানিকভাবে আজ বুধবার অথবা আগামীকাল বৃহস্পতিবার মনোনয়নপত্র জমা দেওয়ার সময় রাষ্ট্রপতি পদে প্রার্থী হিসেবে তাঁর নাম ঘোষণা করা হতে পারে বলে দলীয় সূত্রে জানা গেছে। নির্বাচন কমিশন ঘোষিত তফসিল অনুযায়ী, ১৩ আগস্ট পর্যন্ত রাষ্ট্রপতি পদে মনোনয়ন দাখিলের সময় নির্ধারিত আছে।
রাষ্ট্রপতি নির্বাচন সামনে রেখে কয়েক দিন ধরে বিএনপির নীতিনির্ধারণী পর্যায় থেকে শুরু করে দলটির বিভিন্ন স্তরে সম্ভাব্য প্রার্থী নিয়ে আলোচনা চলছিল। দলের অভ্যন্তরে মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরের পাশাপাশি বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য নজরুল ইসলাম খানের নাম বেশ জোরেশোরেই আলোচনা হয়। এ ছাড়া স্থায়ী কমিটির সদস্য ড. খন্দকার মোশাররফ হোসেন ও ড. আব্দুল মঈন খানের নাম নিয়েও দলের শীর্ষ পর্যায়ে আলোচনা হয়।
গত ১ আগস্ট বিএনপির স্থায়ী কমিটির বৈঠকে রাষ্ট্রপতি নির্বাচনের বিষয়ে প্রয়োজনীয় সিদ্ধান্ত গ্রহণ এবং দলীয় প্রার্থী চূড়ান্ত করার দায়িত্ব দলের চেয়ারম্যান ও প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের ওপর ন্যস্ত করা হয়। বৈঠক শেষে মির্জা ফখরুল নিজেই সাংবাদিকদের এ তথ্য জানান।
বিএনপির নেতাকর্মীরা মনে করেন, মির্জা ফখরুলকে রাষ্ট্রপতি পদে বিবেচনার ক্ষেত্রে তাঁর দীর্ঘ রাজনৈতিক অভিজ্ঞতা, বিএনপির মহাসচিব হিসেবে এক দশকের বেশি সময়ের দায়িত্ব পালন, জাতীয় রাজনীতিতে পরিচিতি এবং সরকারের গুরুত্বপূর্ণ পদে দায়িত্ব পালনের অভিজ্ঞতাকে গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে। এ ছাড়া বাংলাদেশপন্থী রাজনীতিক হিসেবে গণতান্ত্রিক আন্দোলনে দীর্ঘ সময় রাজপথে সামনে থেকে নেতৃত্ব দিয়েছেন তিনি। বিএনপি চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়ার নেতৃত্বে দলের নানা সংকটে নেতাকর্মীদের আগলে রেখেছেন মির্জা ফখরুল। দেশনেত্রী খালেদা জিয়ার অবর্তমানে দলের চেয়ারম্যান তারেক রহমানের নেতৃত্বেও বিএনপির হাল ধরেন তিনি। সজ্জন রাজনীতিক হিসেবে খ্যাতি রয়েছে মির্জা ফখরুলের। ২০১১ সালে তিনি দলের ভারপ্রাপ্ত মহাসচিবের দায়িত্ব পান এবং ২০১৬ সালের জাতীয় কাউন্সিলের পর থেকে মহাসচিব হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন।
স্থানীয় সরকার মন্ত্রী ও বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর গতকাল বিকেলে কালের কণ্ঠকে বলেন, ‘রাষ্ট্রপতি ইস্যুতে এই মুহূর্তে কিছুই বলার নেই। ১৩ আগস্টের পর দলীয় মনোনয়নের বিষয়টি সমাধান হয়ে যাবে।’
তিনি বলেন, ‘বিষয়টি একটি প্রক্রিয়ার মধ্য দিয়ে যেতে হয়। লুকোচুরির বিষয় নেই। আমরা দলের সর্বোচ্চ ফোরাম থেকে আগেই জানিয়েছি যে রাষ্ট্রপতি পদে দলীয় প্রার্থী মনোনয়ন চূড়ান্ত করবেন আমাদের চেয়ারম্যান তারেক রহমান।’
মনোনয়নপত্রে স্বাক্ষর বা সম্মতি দিয়েছেন কি না—এমন প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, ‘মনোনয়ন ফরম তুলতে হলে স্বাক্ষর বা সম্মতির কিছু নেই। স্বাক্ষরের বিষয় আছে মনোনয়ন ফরম জমা দেওয়া ক্ষেত্রে। এখানে গণমাধ্যম অতি উৎসাহী হয়ে অনেক কিছুই লিখেছে। এটা কোনো স্ট্যান্ডার্ড লেভেলের মধ্যে পড়ে না।’
সমকাল
দৈনিক সমকালের প্রধান শিরোনাম ‘জিপিএ ৩-এর নিচে অর্ধেক শিক্ষার্থী, বৈষম্যের ইঙ্গিত’। প্রতিবেদনে বলা হয়, চলতি বছরের এসএসসি ও সমমান পরীক্ষায় পাস করা শিক্ষার্থীদের অর্ধেক জিপিএ ৩-এর নিচে পেয়েছে। এমন খারাপ ফলের পেছনে শিক্ষাক্ষেত্রে চলমান বৈষম্যের বড় প্রভাব আছে বলে মনে করছেন শিক্ষা বোর্ডের কর্মকর্তা এবং শিক্ষাবিদরা। ফলে বিপুল সংখ্যক শিক্ষার্থী খারাপ ফল নিয়ে উচ্চ মাধ্যমিকে যাচ্ছে।
গত সোমবার প্রকাশিত ফলের তথ্য অনুযায়ী, এবার ১৮ লাখ ২৯ হাজার ৪৮৫ জন শিক্ষার্থী পরীক্ষায় অংশ নিয়েছে। এর মধ্যে ১১ লাখ ৩৮ হাজার ৮৭৭ জন পাস করেছে। ফল বিশ্লেষণ করে দেখা গেছে, পরীক্ষার্থীদের ৫০.৩৪ শতাংশ জিপিএ ৩-এর কম পেয়েছে।
বিশ্লেষণে দেখা যায়, জিপিএ ৪-এর নিচে পেয়েছে এমন শিক্ষার্থীর সংখ্যা ছয় লাখ ৭৮ হাজার ৫২৩ জন, যা মোট পাসের প্রায় ৬০ শতাংশ। আর জিপিএ ৪ বা এর বেশি পেয়েছে চার লাখ ৬০ হাজার ৩৫৪ শিক্ষার্থী। অর্থাৎ প্রায় ৪০ শতাংশ।
শিক্ষা-সংশ্লিষ্টরা বলছেন, পাস করা শিক্ষার্থীদের বড় অংশের প্রাপ্ত জিপিএ তুলনামূলক কম হওয়া শিক্ষার গুণগত মানের দিকে ইঙ্গিত করছে। ইংরেজি ও গণিতে খারাপ করা এর একটা উদাহরণ।
এবার শুধু পাসের হারই কমেনি; টানা চতুর্থ বছরের মতো কমেছে জিপিএ ৫ প্রাপ্ত শিক্ষার্থীর সংখ্যাও। এর মধ্যে মানবিক বিভাগে অর্ধেকেরও বেশি শিক্ষার্থী অকৃতকার্য হয়েছে। একই সঙ্গে শতভাগ ফেল করা শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের সংখ্যা এক বছরে দ্বিগুণের বেশি হয়ে ৩১২-তে পৌঁছেছে।
বিশ্লেষকরা বলছেন, এ কেবল পরীক্ষার ফল নয়; এটি শিক্ষার মান, ভালো শিক্ষকের সংকট, শিক্ষায় গ্রাম-শহরের মধ্যে বৈষম্য, দারিদ্র্য বৃদ্ধিসহ বিদ্যমান সামাজিক সংকটেরও নির্দেশক। ৯টি সাধারণ শিক্ষা বোর্ডে জিপিএ ৫ পেয়েছে এক লাখ ছয় হাজার ৯ জন। এর মধ্যে ঢাকা বোর্ডে সর্বোচ্চ ৩৩ হাজার ২৫৩, রাজশাহীতে ১৬ হাজার ১১৩ এবং দিনাজপুরে ১৩ হাজার ৬৩৯ জন। মাদ্রাসা বোর্ডে জিপিএ ৫ পেয়েছে ছয় হাজার ৭১৬ এবং কারিগরি বোর্ডে তিন হাজার ৯৫১ জন।
টানা চতুর্থ বছর কমলো জিপিএ ৫
এ বছর জিপিএ ৫ পেয়েছে এক লাখ ১৬ হাজার ৬৭৬ শিক্ষার্থী। গত বছর এ সংখ্যা ছিল এক লাখ ৩৯ হাজার ৩২। অর্থাৎ এক বছরে কমেছে ২২ হাজার ৩৫৬ জন। চার বছরের ধারাবাহিক চিত্র আরও উদ্বেগজনক। ২০২২ সালে জিপিএ ৫ পেয়েছিল দুই লাখ ৬৯ হাজার ৬০২ জন। ২০২৩ সালে তা কমে দাঁড়ায় এক লাখ ৮৩ হাজার ৫৭৮; ২০২৪ সালে এক লাখ ৮২ হাজার ১২৯; ২০২৫ সালে এক লাখ ৩৯ হাজার ৩২ এবং ২০২৬ সালে নেমে এসেছে এক লাখ ১৬ হাজার ৬৭৬-এ।
এবার মোট পরীক্ষার্থীর মাত্র ৬ দশমিক ৩৮ শতাংশ জিপিএ ৫ পেয়েছে। জিপিএ ৫ প্রাপ্তদের মধ্যে ছাত্রীর সংখ্যা ৬৩ হাজার ৮৯৬ এবং ছাত্র ৫২ হাজার ৭৮০। অর্থাৎ মেয়েরা এগিয়ে রয়েছে।
বড় বিপর্যয় মানবিক বিভাগে
ফল বিশ্লেষণে দেখা গেছে, সবচেয়ে বেশি বিপর্যস্ত হয়েছে মানবিক বিভাগের শিক্ষার্থীরা। ৯টি সাধারণ শিক্ষা বোর্ডে যেখানে বিজ্ঞান বিভাগে এবার পাসের হার ৮০ দশমিক ৬৪ শতাংশ এবং ব্যবসায় শিক্ষা বিভাগে ৬৪ দশমিক ২৯ শতাংশ, সেখানে মানবিক বিভাগে পাসের হার মাত্র ৪৮ দশমিক ৭৪ শতাংশ। অর্থাৎ অর্ধেকেরও বেশি শিক্ষার্থী ফেল করেছে। মানবিক বিভাগে সর্বোচ্চ পাসের হার ঢাকা বোর্ডে ৫৫ দশমিক ৬২ শতাংশ এবং সর্বনিম্ন দিনাজপুর বোর্ডে ৩৮ দশমিক ৭৫ শতাংশ।
জানতে চাইলে যশোর শিক্ষা বোর্ডের চেয়ারম্যান অধ্যাপক ফারুখে আযম মু. আব্দুস ছালাম সমকালকে বলেন, ‘শিক্ষার্থীদের খাতার যথার্থ মূল্যায়ন হয়েছে এ বছর। পাস বেশি দেখানোর প্রবণতা থেকে আমরা বেরিয়ে এসেছি। ইংরেজি ও গণিতে দুর্বলতার কারণে পাসের হার কমলেও ফল সন্তোষজনক। তিনি বলেন, ‘তবে মোবাইল ফোন শিক্ষার্থীদের পড়াশোনার প্রতি আগ্রহ কমিয়ে দিচ্ছে।’
দরিদ্র ঘরের শিক্ষার্থীরা সবচেয়ে পিছিয়ে
শিক্ষা বোর্ডগুলোর সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা বলছেন, এ বছর জিপিএ ২ থেকে ৩ কিংবা ন্যূনতম জিপিএ নিয়ে যারা পাস করেছে, তাদের বড় অংশ গ্রামের। এর মধ্যে দরিদ্র এলাকায় এমন ফল বেশি দাবি করে তারা এ বিষয়ে আরও বিশ্লেষণের পক্ষে মত দিয়েছেন।
রাজধানীর মতিঝিল আইডিয়াল স্কুল অ্যান্ড কলেজের সিনিয়র শিক্ষক আজমল হোসেন আজিম সমকালকে বলন, গ্রামীণ দরিদ্র পরিবারের অধিকাংশ শিক্ষার্থী ভালো মানের বিদ্যালয়, গণিত ও ইংরেজির দক্ষ শিক্ষক কিংবা কোচিংয়ের সুযোগ পায় না। পারিবারিক দারিদ্র্য, বাল্যবিবাহ, শিশুশ্রম এবং বিদ্যালয়ে অনিয়মিত উপস্থিতি তাদের শিক্ষাজীবনকে ঝুঁকির মুখে ঠেলে দেয়। পরীক্ষার ফলে তার প্রভাব পড়ছে।
শতভাগ ফেল করা ৩১২টি প্রতিষ্ঠানের অনেকটাতেই পরীক্ষার্থীর তুলনায় শিক্ষক বেশি থাকলেও একজন শিক্ষার্থীও পাস করতে পারেনি। এর মধ্যে ২২৬টি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান মাদ্রাসা বোর্ডের অধীন। কুমিল্লার নাঙ্গলকোট উপজেলার শ্যামপুর এখলাছিয়া মহিলা দাখিল মাদ্রাসায় ১৫ শিক্ষক থাকলেও ১০ পরীক্ষার্থীর কেউ পাস করেনি। যশোরের মনিরামপুর উপজেলার হেলাঞ্চি কৃষ্ণবাটি বালিকা বিদ্যালয়ে ৯ জন শিক্ষক থাকলেও একমাত্র পরীক্ষার্থী ফেল করেছে। কুড়িগ্রামের তালতলা উচ্চ বিদ্যালয়ে ১২ শিক্ষক ও ১২ পরীক্ষার্থী থাকলেও পাস করেনি কেউ। জামালপুরের কদমতলী কারিপাড়া উচ্চ বিদ্যালয়ে ১১ শিক্ষক থাকলেও প্রথমবার এসএসসি পরীক্ষায় অংশ নেওয়া তিন শিক্ষার্থীই অকৃতকার্য হয়েছে।
প্রতিষ্ঠানগুলোর একাধিক প্রধান শিক্ষক বলেছেন, গণিত শিক্ষকের সংকট, শিক্ষার্থীদের অনিয়মিত উপস্থিতি, দারিদ্র্য, বাল্যবিবাহ ও মোবাইল ফোনের অতিরিক্ত ব্যবহারের কারণে শিক্ষার্থীরা খারাপ ফল করেছে।
জানতে চাইলে গণসাক্ষরতা অভিযানের নির্বাহী পরিচালক ও সাবেক তত্ত্বাবধায়ক সরকারের উপদেষ্টা রাশেদা কে. চৌধুরী বলেন, শিক্ষক সংকট দূর করা এবং গ্রাম-শহরের শিক্ষাবৈষম্য কমাতে কার্যকর পদক্ষেপ নিতে হবে। তিনি বলেন, যে ৩১২ প্রতিষ্ঠানে একজন শিক্ষার্থীও পাস করেনি তাদের নিয়ে গবেষণা করে কারণ চিহ্নিত করতে হবে। সমাধানের পথে এটা ভালো পদক্ষেপ হতে পারে।
ইত্তেফাক
‘জ্বালানিসংকটে দেশে রেকর্ড লোডশেডিং’-এটি দৈনিক ইত্তেফাকের প্রধান শিরোনাম। খবরে বলা হয়, দেশে আমদানিসহ স্থাপিত বিদ্যুেকন্দ্রগুলোর উত্পাদন সক্ষমতা প্রায় ২৯ হাজার মেগাওয়াট। কিন্তু সক্ষমতার অর্ধেক চাহিদা উঠলেই সামাল দিতে পারছে না বিদ্যুত্ খাত। মূলত গ্যাস ঘাটতি, পায়রা ও আদানির কেন্দ্র থেকে উত্পাদন কমে যাওয়া এবং ব্যয়বহুল তেলচালিত কেন্দ্র পর্যাপ্ত পরিমাণে চালানোর মতো আর্থিক সক্ষমতার অভাব থাকায় বিদ্যুতের উত্পাদন ও সরবরাহে বড় ঘাটতি তৈরি হয়েছে। এর ফলে সারা দেশেই লোডশেডিং চলছে। সবচেয়ে বেশি লোডশেডিং হচ্ছে গ্রামাঞ্চলে। বিভিন্ন এলাকায় বৃষ্টি হওয়ার কারণে বিদ্যুতের চাহিদা কিছু কম। গরম বাড়লে বিদ্যুত্ সরবরাহ পরিস্থিতি আরো নাজুক হতে পারে বলে আশঙ্কা করছেন সংশ্লিষ্টরা।
পাওয়ার গ্রিড কোম্পানির (পিজিসিবি) তথ্যমতে, সোমবার দিবাগত রাত ১টায় দেশে সর্বোচ্চ ৩ হাজার ৭৫৭ মেগাওয়াট লোডশেডিং হয়। ঐ সময় ১৬ হাজার ২৬২ মেগাওয়াট চাহিদার বিপরীতে ১২ হাজার ৫০৫ মেগাওয়াট সরবরাহ করা হয়েছিল। অর্থাত্ চাহিদার প্রায় ২৩ শতাংশ বিদ্যুত্ সরবরাহ করা যায়নি। আর বিদ্যুত্ উন্নয়ন বোর্ডের (পিডিবি) তথ্যমতে, সোমবার ২৪ ঘণ্টায় বিদ্যুতের গড় চাহিদা ছিল ১৭ হাজার ৪০৩ মেগাওয়াট। এর বিপরীতে লোডশেডিং হয় ২৭২২ মেগাওয়াট। সবচেয়ে বেশি পরিমাণে (৫৪৭ মেগাওয়াট) লোডশেড হয় ঢাকা অঞ্চলে। আর চট্টগ্রাম অঞ্চলে কোনো লোডশেডিং হয়নি। তবে ঘণ্টার বিচারে সবচেয়ে বেশি লোডশেডিং হয়েছে সিলেট, ময়মনসিংহ ও খুলনা অঞ্চলে। অথচ দেশে স্থাপিত উত্পাদন সক্ষমতা চাহিদার তুলনায় অনেক বেশি।
এর আগের দিন সর্বোচ্চ লোডশেডিং ছিল ৩ হাজার ৬৭১ মেগাওয়াট। ৩ আগস্ট সর্বোচ্চ লোডশেডিং হয়েছিল ৩ হাজার ৫১২ মেগাওয়াট। অর্থাত্ আগস্টের শুরু থেকেই পরিস্থিতি ক্রমে খারাপ হচ্ছে। গতকাল মঙ্গলবার দুপুর ১২টায় ৩ হাজার মেগাওয়াটের বেশি লোডশেড হয়েছে। তিন সপ্তাহ আগেও পরিস্থিতি এতটা নাজুক ছিল না। ২১ জুলাই মহেশখালীর ভাসমান এলএনজি টার্মিনালে দুর্ঘটনার দিন সর্বোচ্চ লোডশেডিং ছিল ৪৮৮ মেগাওয়াট। সেই হিসেবে সর্বশেষ সর্বোচ্চ লোডশেডিং সাত গুণেরও বেশি হয়েছে।
বিদ্যুত্ খাতসংশ্লিষ্ট বলছেন, বর্তমান সংকটের মূলে রয়েছে জ্বালানি এবং টাকা ও ডলারের ঘাটতি। উত্পাদনকেন্দ্র আছে, কিন্তু সেগুলো চালানোর মতো পর্যাপ্ত গ্যাস, কয়লা ও তেল নেই। আবার ব্যয়বহুল তেলচালিত কেন্দ্র বেশি সময় চালালে পিডিবির লোকসান ও সরকারের ভর্তুকি আরো বাড়বে। দীর্ঘদিনের পুরোনো বকেয়ার কারণে বেসরকারি কেন্দ্রগুলোর জ্বালানি কেনার সক্ষমতাও চাপে পড়েছে। এর মধ্যেই গত জুনে পাইকারি পর্যায়ে বিদ্যুতের দাম গড়ে ১৯.৮৫ শতাংশ এবং গ্রাহক পর্যায়ে গড়ে ১৬.৬৮ শতাংশ বাড়ানো হয়েছে। তারপরও বিদ্যুেকন্দ্রগুলোর বিপুল বকেয়া পরিশোধ করতে পারছে না বিদ্যুত্ উন্নয়ন বোর্ড (পিডিবি)।
ঘাটতির কারণ : বিদ্যুৎ বিভাগের হিসাবে দেশে বিদ্যুৎ উত্পাদন সক্ষমতা প্রায় ২৯ হাজার মেগাওয়াট। বর্তমান চাহিদা সাধারণত ১৬ থেকে ১৭ হাজার মেগাওয়াটের মধ্যে ওঠানামা করছে। এর মধ্যেই চলছে লোডশেড। দেশের বিদ্যুত্ উত্পাদনের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ জ্বালানি এখনো গ্যাস। গ্যাসভিত্তিক কেন্দ্রগুলোর উত্পাদন সক্ষমতা ১২ হাজার মেগাওয়াটের বেশি। কিন্তু পর্যাপ্ত গ্যাস না থাকায় এর সামান্য অংশ ব্যবহার করা যাচ্ছে। কিছুদিন আগেও গ্যাস থেকে সাড়ে ৫ হাজার মেগাওয়াটের কাছাকাছি বিদ্যুত্ পাওয়া যেত। এখন তা কমে প্রায় ৩ হাজার ৮০০ থেকে ৪ হাজার মেগাওয়াটে নেমেছে। ২১ জুলাই কক্সবাজারের মহেশখালীতে মার্কিন কোম্পানি এক্সিলারেট এনার্জির পরিচালিত ভাসমান এলএনজি টার্মিনালে অগ্নিকাণ্ডের পর গ্যাস সরবরাহ মারাত্মকভাবে কমে যায়। দুর্ঘটনার আগে দেশে দৈনিক মোট গ্যাস সরবরাহ ছিল প্রায় ২৬৫ কোটি ঘনফুট। টার্মিনাল বন্ধ হওয়ার পর তা প্রায় ২১৪ কোটি ঘনফুটে নেমে আসে। পরে টার্মিনালটি আংশিক চালু হওয়ায় সরবরাহ কিছুটা বেড়েছে, তবে এখনো আগের পর্যায়ে ফেরেনি। দৈনিক প্রায় ৫০ কোটি ঘনফুট এলএনজি রিগ্যাসিফিকেশন সক্ষমতার টার্মিনালটি পূর্ণ সক্ষমতায় ফেরাতে মেরামত কাজ চলছে। বিদ্যুেকন্দ্রগুলো দুর্ঘটনার আগে দৈনিক প্রায় ১০০ কোটি ঘনফুট গ্যাস পেলেও সংকটের মধ্যে তা ৭০ কোটি ঘনফুটের আশপাশে নেমে আসে। ফলে সবচেয়ে সাশ্রয়ী গ্যাসভিত্তিক বিদ্যুেকন্দ্রগুলোর বড় অংশ অলস রাখতে হচ্ছে।
পেট্রোবাংলার টার্মিনালটি পুরোপুরি সচল হওয়ার আগেই নতুন করে চাপ তৈরি হয়েছে অন্য এলএনজি টার্মিনালে। বৈরী আবহাওয়ার কারণে আমদানি করা একটি এলএনজি কার্গো সামিটের ভাসমান টার্মিনালে নির্ধারিত সময়ে যুক্ত হতে পারেনি। ফলে জাতীয় গ্রিডে গ্যাস সরবরাহ আবার কমেছে। কয়েক দিন ধরে দৈনিক প্রায় ২৩৫ কোটি ঘনফুট গ্যাস সরবরাহ করা হলেও তা আবার প্রায় ২১০ কোটি ঘনফুটে নেমে এসেছে। তবে কার্গো টার্মিনালে যুক্ত হওয়ার পর পরিস্থিতির উন্নতি হওয়ার কথা।
গ্যাসভিত্তিক উত্পাদন কমে যাওয়ায় বিদ্যুত্ সরবরাহ ধরে রাখার প্রধান ভরসা হয়ে উঠেছে কয়লাভিত্তিক কেন্দ্রগুলো। দেশে কয়লাভিত্তিক বিদ্যুত্ উত্পাদনের সক্ষমতা প্রায় ৭ হাজার ৯৪৫ মেগাওয়াট। কিন্তু উত্পাদন হচ্ছে প্রায় সাড়ে ৫ হাজার মেগাওয়াট। এর মধ্যেও পটুয়াখালীর পায়রা বিদ্যুেকন্দ্রের একটি ইউনিট ২ আগস্ট থেকে রক্ষণাবেক্ষণে যাওয়ায় উত্পাদন অর্ধেকে নেমেছিল। পরে ইউনিটটি চালু করে ধীরে ধীরে উত্পাদন বাড়ানো হয়েছে। তবে কেন্দ্রটির বিপুল বকেয়া রয়েছে। সময়মতো বিল পরিশোধ না হলে ভবিষ্যতে কয়লা সরবরাহেও ঝুঁকি তৈরির আশঙ্কা আছে। পটুয়াখালীর আরেকটি কয়লাভিত্তিক বিদ্যুেকন্দ্রে বৈরী আবহাওয়ার কারণে কয়লা খালাস ও পরিবহনে সমস্যা হচ্ছে। সমুদ্রে বড় জাহাজ থেকে ছোট জাহাজে কয়লা স্থানান্তরে বিলম্ব হওয়ায় উত্পাদন কমেছে।
ভারতের ঝাড়খণ্ডে আদানি পাওয়ারের কেন্দ্র থেকে কয়েক দিন ধরে সরবরাহ কমেছে। সাধারণত কেন্দ্রটি বাংলাদেশকে প্রায় ১ হাজার ৪০০ থেকে ১ হাজার ৫০০ মেগাওয়াট পর্যন্ত বিদ্যুত্ সরবরাহ করতে পারে। কিন্তু ঝাড়খণ্ডে প্রতিকূল আবহাওয়া ও কয়লা সরবরাহের সমস্যায় তা ৮০০ থেকে ১ হাজার মেগাওয়াটের মধ্যে নেমে আসে। আদানি কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, কয়লা সরবরাহ স্বাভাবিক হলে উত্পাদন আবার বাড়ানো সম্ভব হবে। রামপালেও উত্পাদন কমেছে। বড়পুকুরিয়া কয়লাভিত্তিক কেন্দ্রের তিনটি ইউনিটের মধ্যে দুটি কারিগরি সমস্যায় বন্ধ। ফলে গ্যাসের ঘাটতি সামাল দিতে যে কয়লার ওপর নির্ভরতা বাড়ানোর কথা, সেখানেও প্রত্যাশিত বিদ্যুত্ পাওয়া যাচ্ছে না।
আজকের পত্রিকা
দৈনিক আজকের পত্রিকার প্রধান শিরোনাম ‘বেসরকারি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে নিয়োগ: চাকরিপ্রত্যাশীরা উদ্বিগ্ন’। প্রতিবেদনে বলা হয়, বেসরকারি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে শিক্ষক নিয়োগের ক্ষমতা আবারও পরিচালনা পর্ষদের হাতে দেওয়ার আলোচনায় উদ্বেগের মধ্যে পড়েছেন চাকরিপ্রত্যাশীরা। তাঁরা বলছেন, এটা হলে নিয়োগে দুর্নীতি হবে এবং তাঁরা ক্ষতিগ্রস্ত হবেন। তাই প্রতিবাদ জানিয়ে গত সোমবার এবং গতকাল মঙ্গলবার কয়েকটি বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসে বিক্ষোভ করেছেন চাকরিপ্রত্যাশীরা।
এমন প্রেক্ষাপটে বিশেষজ্ঞ ও পর্যবেক্ষকেরা এনটিআরসিএর মাধ্যমে শিক্ষক নিয়োগ ব্যবস্থার পক্ষে মত দিয়ে একে আরও কার্যকর করার পরামর্শ দিয়েছেন। অন্যদিকে শিক্ষামন্ত্রী আ ন ম এহছানুল হক মিলন পরিচালনা পর্ষদের মাধ্যমে শিক্ষক নিয়োগ দেওয়ার সিদ্ধান্ত হয়নি বলে জানিয়ে এ বিষয়ে অপপ্রচার চালানো হচ্ছে বলে অভিযোগ করেছেন।
৩ আগস্ট শিক্ষা মন্ত্রণালয়ে অনুষ্ঠিত এক বৈঠকে বেসরকারি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে পরিচালনা পর্ষদের মাধ্যমে শিক্ষক নিয়োগ দেওয়ার সিদ্ধান্ত বা এ নিয়ে আলোচনা হয়েছে—মিডিয়ায় এ রকম খবর ছড়িয়ে পড়লে চাকরিপ্রত্যাশীসহ বিভিন্ন মহল উদ্বেগ প্রকাশ করে। সোমবার রাত এবং গতকাল মঙ্গলবার ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়, ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয় (ইবি), রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় ও বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয়ে এর প্রতিবাদে কর্মসূচি পালন করেন শিক্ষার্থী এবং চাকরিপ্রত্যাশী অনেকে।
গতকাল বিকেলে এই আলোচনাকে কেন্দ্র করে ছাত্র জমায়েত কর্মসূচি পালন করে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদ (ডাকসু)। কেন্দ্রীয় গ্রন্থাগারের সামনে থেকে মিছিল শুরু হয়ে ক্যাম্পাসের গুরুত্বপূর্ণ সড়ক প্রদক্ষিণ করে ডাকসু ভবনের সামনে গিয়ে সংক্ষিপ্ত সমাবেশের মাধ্যমে শেষ হয়।
এ সময় শিক্ষার্থীরা ‘কমিটি না মেধা, মেধা, মেধা’; ‘এসো ভাই এসো বোন, গড়ে তুলি আন্দোলন’; ‘কোটা গেলো যেই পথে, কমিটি যাবে সেই পথে’ এবং ‘বাণিজ্য না শিক্ষা, শিক্ষা, শিক্ষা’সহ বিভিন্ন স্লোগান দেন।
সমাবেশে ডাকসুর সমাজসেবা সম্পাদক এবি জুবায়ের বলেন, ‘হাসিনা যেমন মেধার সামনে এক কোটার দেয়াল দাঁড় করিয়ে দিয়েছিল, আপনারা আবার দুই বছরের মাথায় শিক্ষার্থীদের মেধার সামনে পুনরায় কমিটি নামক দুর্নীতির দেয়াল দাঁড় করিয়ে দিচ্ছেন।’
ডাকসুর পরিবহন সম্পাদক আসিফ আব্দুল্লাহ বলেন, ‘একজন অযোগ্য শিক্ষক নিয়োগ হলে একজন যোগ্য প্রার্থী অধিকারবঞ্চিত হন। একই সঙ্গে ওই শিক্ষকের কাছে পড়া শিক্ষার্থীদের ভবিষ্যৎও ক্ষতিগ্রস্ত হয়।’
একই দাবিতে গতকাল ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ে বিক্ষোভ মিছিল ও মানববন্ধন করে শিক্ষার্থীদের একাংশ। বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রধান ফটক থেকে মিছিলটি শুরু হয়ে ক্যাম্পাসের বিভিন্ন সড়ক প্রদক্ষিণ করে। পরে প্রধান ফটকের সামনে মানববন্ধন অনুষ্ঠিত হয়।
মানববন্ধনে মানবাধিকার সংগঠন সোচ্চার স্টুডেন্টস নেটওয়ার্কের ইবি শাখার সভাপতি আব্দুল্লাহ আল রাহাতের সঞ্চালনায় বক্তব্য দেন বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের ইবি শাখার আহ্বায়ক এস এম সুইট, ইবি শাখা ছাত্রশিবিরের সেক্রেটারি রাশিদুল ইসলাম রাফি, ছাত্র ইউনিয়নের সাংগঠনিক সম্পাদক তাহমিদ হাসান, ছাত্রশক্তির আহ্বায়ক ফুয়াদ হাসান, ইসলামী ছাত্র আন্দোলনের সভাপতি ইসমাইল হোসেন রাহাত এবং জমিয়তে তালাবায়ে আরাবিয়ার সভাপতি এস এম শামীম। মানববন্ধনে বিশ্ববিদ্যালয়ের বিভিন্ন বিভাগের শিক্ষার্থীরা অংশ নেন।
সোমবার রাতে রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ে বিক্ষোভ মিছিল করেন ইসলামী ছাত্রশিবিরের নেতা-কর্মীরা। পরে কেন্দ্রীয় লাইব্রেরির সামনে সংক্ষিপ্ত সমাবেশে মিলিত হন তাঁরা। সমাবেশে শাখা ছাত্রশিবিরের সভাপতি মুজাহিদ ফয়সাল বলেন, ‘আজকে শিক্ষামন্ত্রী অতীতের মতো দুর্নীতি, স্বজনপ্রীতির নতুন অধ্যায় চালুর পাঁয়তারা করছেন। চব্বিশ-পরবর্তী বাংলাদেশে মেধাকে অবমূল্যায়ন করে দুর্নীতি, স্বজনপ্রীতির কোনো স্থান দেওয়া হবে না।’
দেশ রূপান্তর
‘কেন এত ফেল, দায়ী কে’-এটি দৈনিক দেশ রূপান্তরের প্রধান শিরোনাম। খবরে বলা হয়, গত সোমবার এসএসসি ও সমমানের ফল প্রকাশ হয়েছে। এতে পাসের হার ৬২ দশমিক ২৫ শতাংশ, যা ১৯ বছরের মধ্যে সর্বনিম্ন। এবার ১৮ লাখ ২৯ হাজার ৪৮৫ জন শিক্ষার্থী পরীক্ষায় অংশ নেয়। তাদের মধ্যে ১১ লাখ ৩৮ হাজার ৮৭৭ জন উত্তীর্ণ হয়েছে, অকৃতকার্য হয়েছে ৬ লাখ ৯০ হাজার ৬০৮ জন। এত বিপুলসংখ্যক পরীক্ষার্থী কেন ফেল করল, এর জন্য কে দায়ী সে প্রশ্ন উঠেছে।
জানা যায়, এসএসসির একই শিক্ষাক্রম, একই সিলেবাস, একই পাবলিক পরীক্ষা। অথচ ফলের ভিন্ন চিত্র। প্রতি বছর এসএসসি পরীক্ষার ফলের পর বিষয়টি সামনে আসে। এসএসসিতে বোর্ড ভেদে প্রশ্নপত্র আলাদা। প্রশ্নপত্রের সামান্য পার্থক্যও বিপুলসংখ্যক শিক্ষার্থীর ফলে প্রভাব ফেলতে পারে। তবে শুধু প্রশ্নপত্রের পার্থক্য দিয়েই বোর্ডভিত্তিক ফলের ব্যবধান ব্যাখ্যা করা যাবে না। এর পেছনে আরও বেশ কিছু কাঠামোগত কারণ রয়েছে। বিভিন্ন অঞ্চল ও এলাকাভেদে আমাদের জীবনমান, অভিভাবকদের সচেতনতা, নাগরিক সুযোগ-সুবিধায় বৈষম্য স্পষ্ট। একইভাবে দেশের সব অঞ্চলের বিদ্যালয়ে শিক্ষক সংখ্যা, বিষয়ভিত্তিক শিক্ষক, শিক্ষকের প্রশিক্ষণ, অবকাঠামো ও শিক্ষার পরিবেশ এক নয়। রাজধানী ও বড় শহরগুলোর অনেক প্রতিষ্ঠানে বিষয়ভিত্তিক শিক্ষক, ল্যাব, লাইব্রেরি, প্রযুক্তিগত সুবিধা এবং অতিরিক্ত অ্যাকাডেমিক সহায়তা তুলনামূলক বেশি। অন্যদিকে প্রত্যন্ত এলাকার অনেক প্রতিষ্ঠানে শিক্ষক সংকট, বিষয়ভিত্তিক শিক্ষকের অভাব এবং অবকাঠামোগত সীমাবদ্ধতা রয়েছে।
গত সোমবার প্রকাশিত ফল বিশ্লেষণে দেখা যায়, এবার ৯টি সাধারণ শিক্ষা বোর্ডের মধ্যে ঢাকায় সর্বোচ্চ ৭১.৬৩ শতাংশ শিক্ষার্থী পাস করেছে। সর্বনিম্ন পাসের তালিকায় রয়েছে ময়মনসিংহ বোর্ড ৫৭.৩৯। উভয় বোর্ডের ফলের পার্থক্য ১৪.৩৯ শতাংশ। একইভাবে এবার ঢাকা বোর্ড থেকে জিপিএ-৫ পেয়েছে ৩৩ হাজার ২৫৩ জন, সবচেয়ে কম পেয়েছে বরিশাল বোর্ড, ২ হাজার ৭৭৮ জন। ঢাকা থেকে বরিশাল বোর্ডে ৩০ হাজার ৪৭৫ জন শিক্ষার্থী জিপিএ-৫ কম পেয়েছে। অপরদিকে মাদ্রাসা শিক্ষা বোর্ডে এবার পাসের হার ৫৫ দশমিক ৪৯ শতাংশ, কারিগরি শিক্ষা বোর্ডে পাসের হার ৫৮ দশমিক ২০ শতাংশে; যা আরও ভয়াবহ পার্থক্যের জানান দিচ্ছে।
শিক্ষাসংশ্লিষ্টরা বলছেন, ঢাকা বোর্ডের সাফল্য বেশি হওয়ার প্রধান কারণ হলো এখানে দেশের শীর্ষস্থানীয় স্কুলগুলোর অবস্থান ও প্রস্তুতি নেওয়ার সুযোগ-সুবিধা বেশি। ঢাকার অভিভাবকরা অনেক বেশি সচেতন। আর ময়মনসিংহ বোর্ড হাওর এলাকা হিসেবে পরিচিত। ময়মনসিংহ শহর ও অন্যান্য জেলা শহর বাদ দিলে বেশির ভাগ এলাকাতেই স্কুলগুলোর শোচনীয় অবস্থা। অপরদিকে সিলেটের মানুষের আর্থিক সামর্থ্য থাকলেও ঐতিহাসিকভাবে এই অঞ্চলের মানুষের মধ্যে পড়াশোনার চেয়ে বিদেশযাত্রাকে অগ্রাধিকার দেওয়া হয়। এখানকার মানুষ পড়াশোনার পেছনে বিনিয়োগ করতে আগ্রহী না হয়ে বিদেশ পাঠাতে ছেলেমেয়েদের পেছনে বিনিয়োগ করেন।
অন্যদিকে আর্থিক ও নাগরিক সুযোগ-সুবিধায় পিছিয়ে থাকলেও রংপুরের মানুষ পড়াশোনায় গুরুত্ব দেয়। ফলে এই অঞ্চলে শিক্ষার হার বাড়ছে। এই অঞ্চলের শিক্ষার্থীদের মধ্যে সরকারি চাকরির প্রতি ঝোঁক ও কঠোর পরিশ্রমের মানসিকতা বেশি। এদিকে আমাদের মাদ্রাসা ও কারিগরি শিক্ষার মান নিয়ে দীর্ঘদিন ধরে যে প্রশ্ন চলছে তার কোনো উন্নয়ন হচ্ছে না। তাছাড়া এই দুই বোর্ডের শিক্ষার্থীরা তুলনামূলকভাবে পিছিয়ে পড়া জনগোষ্ঠীর।
এ বিষয়ে আন্তঃশিক্ষা বোর্ড সমন্বয় কমিটির সভাপতি ও ঢাকা শিক্ষা বোর্ডের চেয়ারম্যান প্রফেসর সৈয়দ আক্তারুজ্জামান দেশ রূপান্তরকে বলেন, কেবল শিক্ষাক্ষেত্রে নয়, আমাদের জাতীয় জীবনেও অঞ্চলভিত্তিক ফারাক স্পষ্ট। আর এটা একদিনে হয়নি। ঢাকার শিক্ষার্থীরা যে মানের শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান ও শিক্ষক পায় তা অন্য কোথাও নেই। বছরের পর বছর কয়েকটি বোর্ড ভালো ফল করে আসছে। ফলে এসব বোর্ডের অধীনে মানসম্মত শিক্ষক পাওয়া যায়, অন্যদিকে পিছিয়ে থাকা বোর্ডের শিক্ষকরা কিছুটা মানের দিক থেকে পিছিয়ে থাকবেন। ভিন্ন প্রশ্নপত্র পার্থক্য গড়ে দেয় কি না এমন প্রশ্নের জবাবে তিনি জানান, আগামী বছর থেকে অভিন্ন প্রশ্নে এসএসসি পরীক্ষা নেওয়ার বিষয়ে চিন্তা করছে সরকার।
কেন বরিশাল ফলে ঢাকার চেয়ে পিছিয়ে এমন প্রশ্নের জবাবে বরিশাল বোর্ডের চেয়ারম্যান প্রফেসর আবু তাহের মোহাম্মদ রাশেদুল ইসলাম দেশ রূপান্তরকে বলেন, সুযোগ-সুবিধার দিক থেকে বরাবরই আমরা পিছিয়ে আছি। আমাদের মানসম্মত স্কুলের সংখ্যা ঢাকার তুলনায় সামান্য, স্কুলে ভালো ল্যাব নেই, সরঞ্জাম নেই, অনেক শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে প্রয়োজনীয় শিক্ষকও নেই।
