আন্তর্জাতিক যুব দিবস: যুবশক্তি বিকাশে জিয়াউর রহমানের শিক্ষা-ভাবনা

আন্তর্জাতিক যুব দিবস: যুবশক্তি বিকাশে জিয়াউর রহমানের শিক্ষা-ভাবনা

ফন্ট সাইজ:

প্রতিবছর ১২ আগস্ট আন্তর্জাতিক যুব দিবস পালিত হয়। যা বিশ্বজুড়ে তরুণদের সম্ভাবনা, চ্যালেঞ্জ এবং টেকসই উন্নয়নে তাদের ভূমিকা নিয়ে নতুন করে ভাবনার সুযোগ এনে দেয়। তবে কেবল সম্ভাবনার আলোচনা নয়, কীভাবে এই বিপুল যুবশক্তিকে দক্ষ, উৎপাদনশীল ও আত্মনির্ভর মানবসম্পদে রূপান্তর করা যায়, সেই কার্যকর কৌশল নির্ধারণই আজ সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ। বাংলাদেশের প্রেক্ষাপটে এ প্রশ্নের উত্তর খুঁজতে গেলে স্বাধীনোত্তর সময়ে রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের শিক্ষা ও যুব উন্নয়ন-ভাবনা বিশেষভাবে তাৎপর্যপূর্ণ। উৎপাদনমুখী শিক্ষা, দক্ষতা উন্নয়ন, আত্মকর্মসংস্থান এবং জাতীয় উন্নয়নে যুবসমাজের সক্রিয় অংশগ্রহণের ওপর তাঁর যে গুরুত্বারোপ ছিল, তা বর্তমান সময়ের বাস্তবতায়ও প্রাসঙ্গিক।

১৯৭৭ সালে রাষ্ট্রপতির দায়িত্ব গ্রহণের পর জিয়াউর রহমান উপলব্ধি করেন যে স্বাধীনোত্তর বাংলাদেশের টেকসই উন্নয়ন ও অর্থনৈতিক অগ্রগতির পূর্বশর্ত হলো উৎপাদনশীল, দক্ষ ও স্বাবলম্বী মানবসম্পদ গড়ে তোলা। এ কারণে তিনি শিক্ষাকে কেবল ডিগ্রি অর্জনের মাধ্যম হিসেবে নয়, বরং জাতীয় পুনর্গঠন, কর্মসংস্থান সৃষ্টি এবং অর্থনৈতিক উন্নয়নের অন্যতম চালিকাশক্তি হিসেবে বিবেচনা করেছিলেন। তাঁর মতে, তৎকালীন শিক্ষাব্যবস্থা ঔপনিবেশিক প্রশাসনিক কাঠামোর উত্তরাধিকার বহন করায় তা বাস্তব জীবনের চাহিদা ও জাতীয় উন্নয়নের সঙ্গে পর্যাপ্তভাবে সংযুক্ত ছিল না। তাই তিনি শিক্ষাকে উৎপাদনমুখী, কর্মমুখী এবং জাতীয় প্রয়োজনভিত্তিক করার ওপর গুরুত্বারোপ করেন, যাতে তরুণরা কেবল চাকরির প্রত্যাশী না হয়ে দক্ষ, উদ্যোগী ও আত্মনির্ভর নাগরিক হিসেবে গড়ে উঠতে পারে। তাঁর বিশ্বাস ছিল, শিক্ষা যদি ব্যক্তিকে কর্মদক্ষ, স্বাবলম্বী ও সামাজিকভাবে দায়িত্বশীল করে তুলতে না পারে, তবে তা দেশের মানবসম্পদ ও উন্নয়ন সম্ভাবনার পূর্ণ বিকাশ নিশ্চিত করতে সক্ষম হবে না।

এই চিন্তার প্রতিফলন দেখা যায় তাঁর ঘোষিত ঐতিহাসিক ১৯ দফা কর্মসূচিতে, যেখানে নিরক্ষরতা দূরীকরণ এবং যুবসমাজকে জাতি গঠনের কাজে সম্পৃক্ত করার ওপর বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হয়। মানবসম্পদকে জাতীয় উন্নয়নের প্রধান চালিকাশক্তিতে পরিণত করাই ছিল এই কর্মসূচির মূল লক্ষ্য। ১৯৭৮ সালে জাতীয় শিক্ষা উপদেষ্টা পরিষদ গঠনের মাধ্যমে তিনি শিক্ষাক্ষেত্রে প্রাতিষ্ঠানিক সংস্কারের উদ্যোগ নেন। পরিষদের সুপারিশ অনুযায়ী প্রাথমিক শিক্ষার সম্প্রসারণ, গ্রামীণ এলাকায় বিদ্যালয় স্থাপন এবং শিক্ষার অবকাঠামোগত উন্নয়নে পদক্ষেপ গ্রহণ করা হয়। একই সঙ্গে সাধারণ শিক্ষার সঙ্গে কারিগরি শিক্ষা, আধুনিক বিজ্ঞান ও নৈতিক মূল্যবোধের সমন্বয়ের ওপর গুরুত্বারোপ করা হয়। উচ্চশিক্ষা ও বিজ্ঞানভিত্তিক জ্ঞানচর্চার প্রসারে ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠার উদ্যোগ এবং বিজ্ঞান-প্রযুক্তি শিক্ষার বিকাশে নীতিগত পদক্ষেপ গ্রহণ করা হয়। অন্যদিকে, শিশুদের সৃজনশীল বিকাশ, সংস্কৃতিচর্চা ও মূল্যবোধ গঠনে বাংলাদেশ শিশু একাডেমির কার্যক্রমকে আরও সক্রিয় করা হয়, যা তাঁর সমন্বিত শিক্ষা-ভাবনার গুরুত্বপূর্ণ দৃষ্টান্ত।
জিয়াউর রহমানের উন্নয়ন-দর্শনের কেন্দ্রবিন্দু ছিল বাংলাদেশের গ্রাম, যাকে তিনি জাতীয় অর্থনীতির মূল ভিত্তি হিসেবে বিবেচনা করতেন। তাঁর বিশ্বাস ছিল, গ্রামীণ জনগোষ্ঠীকে নিরক্ষর রেখে টেকসই জাতীয় উন্নয়ন সম্ভব নয়। নিরক্ষরতা শুধু ব্যক্তিগত অগ্রগতির অন্তরায় নয়; কৃষি প্রযুক্তির প্রসার, সামাজিক সচেতনতা বৃদ্ধি এবং জনস্বাস্থ্য ও জনসংখ্যা ব্যবস্থাপনাতেও এটি বড় বাধা। এই উপলব্ধি থেকেই ১৯৮০ সালের ২১শে ফেব্রুয়ারি দেশব্যাপী গণসাক্ষরতা কর্মসূচি চালু করা হয়। নৈশবিদ্যালয়, স্থানীয় শিক্ষিত যুবকদের স্বেচ্ছাসেবী হিসেবে সম্পৃক্তকরণ এবং কার্যভিত্তিক শিক্ষাপদ্ধতির মাধ্যমে অল্প সময়ে প্রায় ৪০ লাখ মানুষ সাক্ষরতার আওতায় আসে, যা সে সময়ের অন্যতম উল্লেখযোগ্য সামাজিক উদ্যোগ হিসেবে বিবেচিত হয়।

গণসাক্ষরতা, প্রাথমিক শিক্ষা সম্প্রসারণ এবং গ্রামীণ জনগোষ্ঠীর দক্ষতা উন্নয়নের মাধ্যমে মানবসম্পদ গড়ে তোলার ওপর জিয়াউর রহমান গুরুত্বারোপ করেন। তাঁর উন্নয়ন দর্শনে শিক্ষা ছিল উৎপাদনশীলতা বৃদ্ধি, আত্মকর্মসংস্থান এবং গ্রামীণ উন্নয়নের অন্যতম ভিত্তি। তাই শিক্ষা, কারিগরি প্রশিক্ষণ ও স্বনির্ভরতা এই তিনটিকে তিনি জাতীয় উন্নয়নের পরস্পর-সম্পূরক উপাদান হিসেবে বিবেচনা করেন। খাদ্যে আত্মনির্ভরতা অর্জনের লক্ষ্যে প্রায় ১,৫০০টি খাল পুনঃখনন, সেচব্যবস্থার সম্প্রসারণ, গ্রাম প্রতিরক্ষা দল (VDP) এবং গ্রাম সরকার ব্যবস্থা চালু করা হয়। একই সঙ্গে সাক্ষরতা ও কৃষি সম্প্রসারণ কার্যক্রমের সমন্বয়ে কৃষকেরা আধুনিক প্রযুক্তি গ্রহণে অধিক সক্ষম হয়ে ওঠেন। এর ফলে কৃষি উৎপাদন বৃদ্ধি পায়, গ্রামীণ অর্থনীতি শক্তিশালী হয় এবং স্থানীয় জনগণের অংশগ্রহণভিত্তিক উন্নয়নের একটি কার্যকর ভিত্তি তৈরি হয়।

জিয়াউর রহমানের রাষ্ট্রচিন্তার অন্যতম আধুনিক দিক ছিল যুবশক্তিকে জাতীয় উন্নয়নের প্রধান চালিকাশক্তি হিসেবে গড়ে তোলা। তিনি উপলব্ধি করেছিলেন যে, বিপুল তরুণ জনগোষ্ঠী যদি বেকার ও অনুৎপাদনশীল অবস্থায় থাকে, তবে তা সামাজিক ও রাজনৈতিক অস্থিরতার কারণ হতে পারে; বিপরীতে, উপযুক্ত শিক্ষা, দক্ষতা উন্নয়ন ও কর্মসংস্থানের সুযোগ পেলে তারাই অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি ও জাতীয় পুনর্গঠনের অগ্রদূত হয়ে উঠতে পারে। এই দৃষ্টিভঙ্গির বাস্তব প্রতিফলন ঘটে ১৯৭৮ সালে যুব উন্নয়ন মন্ত্রণালয় প্রতিষ্ঠার মাধ্যমে। এর অধীনে জেলা ও থানা পর্যায়ে যুব প্রশিক্ষণ কেন্দ্র ও যুব কমপ্লেক্স গড়ে তোলা হয়, যেখানে কৃষি, মৎস্য, পশুপালন, ইলেকট্রনিক্স এবং বিভিন্ন কারিগরি বিষয়ে বৃত্তিমূলক প্রশিক্ষণ প্রদান করা হতো।

যুব উন্নয়নের পাশাপাশি তিনি অর্থনৈতিক উদারীকরণ ও উদ্যোক্তা সৃষ্টির ওপরও গুরুত্বারোপ করেন। বিনিয়োগের সীমাবদ্ধতা শিথিল করা, ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জ পুনরায় চালু করা এবং বেসরকারি খাতের বিকাশের মাধ্যমে নতুন কর্মসংস্থান ও উদ্যোক্তা তৈরির সুযোগ সৃষ্টি হয়। একই সময়ে মধ্যপ্রাচ্যের শ্রমবাজারে বাংলাদেশের জনশক্তি রপ্তানির পথ উন্মুক্ত হওয়ায় লাখো তরুণ বিদেশে কর্মসংস্থানের সুযোগ লাভ করে, যা রেমিট্যান্স প্রবাহ ও গ্রামীণ অর্থনীতিকে শক্তিশালী করে। দক্ষিণ কোরিয়ার ‘স্যামাউল উন্দং’ এবং জাপানের দক্ষতানির্ভর উন্নয়ন মডেলের সঙ্গে তুলনা করলে দেখা যায়, জিয়াউর রহমানের উন্নয়ন-দর্শনের কেন্দ্রেও ছিল মানবসম্পদ উন্নয়ন, উদ্যোক্তা সৃষ্টি, উৎপাদনশীলতা এবং স্থানীয় জনগণের সক্রিয় অংশগ্রহণ। এই দৃষ্টিভঙ্গি প্রমাণ করে যে, আত্মনির্ভর উন্নয়নের ভিত্তি হিসেবে দক্ষ যুবশক্তিকে গড়ে তোলার ধারণা তিনি আন্তর্জাতিকভাবে স্বীকৃত উন্নয়ন মডেলগুলোর সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণভাবেই গুরুত্ব দিয়েছিলেন।

স্বাধীনতার অর্ধশতক পর বাংলাদেশ বর্তমানে একটি গুরুত্বপূর্ণ ‘ডেমোগ্রাফিক ডিভিডেন্ড’-এর সুযোগ ভোগ করছে, যেখানে মোট জনসংখ্যার ৬৫ শতাংশেরও বেশি কর্মক্ষম বয়সসীমার অন্তর্ভুক্ত। কিন্তু এই সম্ভাবনাকে অর্থনৈতিক শক্তিতে রূপান্তরের পথে প্রধান বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে শিক্ষাব্যবস্থা ও শ্রমবাজারের মধ্যে বিদ্যমান দক্ষতার অসামঞ্জস্য। বাংলাদেশ পরিসংখ্যান ব্যুরোর (BBS) শ্রমশক্তি জরিপ ২০২৩ অনুযায়ী, ১৫-২৯ বছর বয়সী যুব শ্রমশক্তির সংখ্যা প্রায় ২ কোটি ৬৭ লাখ ৬০ হাজার, যার মধ্যে প্রায় ১৯ লাখ ৪০ হাজার বেকার। এর মধ্যে ৩১.৫ শতাংশই বিশ্ববিদ্যালয় স্নাতক এবং উচ্চশিক্ষিতদের বেকারত্বের হার ২০১৩ সালের ৯.৭ শতাংশ থেকে বেড়ে ২০২৩-২৪ সালে ২৭.৮ শতাংশে পৌঁছেছে। পাশাপাশি উল্লেখযোগ্যসংখ্যক তরুণ দীর্ঘমেয়াদি বেকারত্বের শিকার এবং NEET (Not in Education, Employment or Training) জনগোষ্ঠীর হারও উদ্বেগজনক। এসব তথ্য প্রমাণ করে যে, প্রতিবছর বিপুলসংখ্যক সাধারণ স্নাতক কর্মবাজারে প্রবেশ করলেও তথ্যপ্রযুক্তি, প্রকৌশল, আধুনিক উৎপাদন, স্বাস্থ্যসেবা ও কারিগরি খাতে দক্ষ জনবলের ঘাটতি রয়ে গেছে। বিশেষ করে নারী-প্রাধান্যসম্পন্ন NEET জনগোষ্ঠীর উচ্চ হার দক্ষতাভিত্তিক শিক্ষা, শিল্পের চাহিদার সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ পাঠ্যক্রম এবং অন্তর্ভুক্তিমূলক কর্মসংস্থান নীতির জরুরি প্রয়োজনীয়তা তুলে ধরে। অন্যথায় দেশের জনমিতিক সম্ভাবনাকে টেকসই অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধিতে রূপান্তর করা কঠিন হয়ে পড়বে।

বিশ্ব এখন চতুর্থ শিল্পবিপ্লবের (৪ওজ) যুগে প্রবেশ করেছে, যেখানে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, রোবোটিক্স, মেশিন লার্নিং, বিগ ডেটা, ইন্টারনেট অব থিংস এবং ক্লাউড কম্পিউটিং শ্রমবাজারের কাঠামো দ্রুত পরিবর্তন করছে। এ বাস্তবতায় ভবিষ্যতের কর্মসংস্থানের জন্য প্রযুক্তিগত দক্ষতা, উদ্ভাবনী সক্ষমতা এবং উদ্যোক্তা মানসিকতা অপরিহার্য হয়ে উঠেছে। এই প্রেক্ষাপটে জিয়াউর রহমানের শিক্ষা-ভাবনা নতুন তাৎপর্য লাভ করে। তিনি প্রথাগত সনদনির্ভর শিক্ষার পরিবর্তে উৎপাদনমুখী, দক্ষতাভিত্তিক ও আত্মনির্ভরশীল শিক্ষা ব্যবস্থার ওপর গুরুত্বারোপ করেছিলেন, যা বর্তমান জ্ঞানভিত্তিক অর্থনীতির চাহিদার সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ। তাঁর দৃষ্টিভঙ্গি ছিল এমন শিক্ষাব্যবস্থা গড়ে তোলা, যেখানে তরুণরা শুধু চাকরিপ্রার্থী নয়, বরং উদ্যোক্তা ও কর্মসংস্থান সৃষ্টিকারী হিসেবে আত্মপ্রকাশ করবে। আজকের ফ্রিল্যান্সিং, স্টার্টআপ ও গিগ ইকোনমির ধারণার সঙ্গে এ দর্শনের সুস্পষ্ট মিল রয়েছে। একই সঙ্গে তিনি দেশপ্রেম, নৈতিকতা, সামাজিক দায়বদ্ধতা এবং সমালোচনামূলক চিন্তার বিকাশকে শিক্ষার অবিচ্ছেদ্য অংশ হিসেবে বিবেচনা করেছিলেন। প্রযুক্তিনির্ভর ভবিষ্যতে দক্ষতার পাশাপাশি মানবিক মূল্যবোধসম্পন্ন নাগরিক গড়ে তোলার এই সমন্বিত শিক্ষা-দর্শন আজও সমানভাবে প্রাসঙ্গিক। এই বাস্তবতায় সময়োপযোগী শিক্ষা সংস্কার ও দক্ষ মানবসম্পদ উন্নয়নের লক্ষ্যে তাঁর দর্শন থেকে প্রয়োজনীয় নীতিগত শিক্ষা গ্রহণ করা সময়ের দাবি।

বর্তমান বাস্তবতায় রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের শিক্ষা ও যুব উন্নয়ন-ভাবনা থেকে কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ নীতিগত শিক্ষা গ্রহণ করা যেতে পারে। শিক্ষাব্যবস্থাকে শ্রমবাজারের চাহিদার সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ করতে কারিগরি ও বৃত্তিমূলক শিক্ষা সম্প্রসারণ, শিল্প-উপযোগী পাঠ্যক্রম প্রণয়ন এবং দক্ষতাভিত্তিক প্রশিক্ষণকে আরও শক্তিশালী করা প্রয়োজন। একই সঙ্গে তরুণ উদ্যোক্তাদের জন্য সহজ অর্থায়ন, ইনকিউবেশন সুবিধা এবং উদ্ভাবন-সহায়ক পরিবেশ নিশ্চিত করতে হবে, যাতে তারা কর্মসংস্থান সৃষ্টিকারী হিসেবে আত্মপ্রকাশ করতে পারে। প্রথাগত গণসাক্ষরতাকে ডিজিটাল ও কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তাভিত্তিক সাক্ষরতায় রূপান্তর, জেলা ও উপজেলা পর্যায়ে আধুনিক প্রযুক্তিনির্ভর প্রশিক্ষণ কেন্দ্র গড়ে তোলা এবং শিক্ষায় নৈতিকতা, দেশপ্রেম ও সামাজিক দায়বোধের চর্চা জোরদার করাও সমান গুরুত্বপূর্ণ। সার্বিকভাবে দক্ষ, উদ্ভাবনী ও দায়িত্বশীল মানবসম্পদ গড়ে তোলাই আত্মনির্ভর ও টেকসই বাংলাদেশ বিনির্মাণের অন্যতম পূর্বশর্ত; আর এ লক্ষ্য অর্জনে জিয়াউর রহমানের শিক্ষা-ভাবনা বর্তমান সময়েও একটি প্রাসঙ্গিক নীতিগত অনুপ্রেরণা হিসেবে বিবেচিত হতে পারে।

লেখক: অধ্যাপক, ভূগোল ও পরিবেশ বিভাগ, ঢাকা বিশ্বদ্যিালয় এবং চেয়ারম্যান, ফাউন্ডেশন ফর জিওইন্টেলিজেন্স পলিসি সাপোর্ট।

কোন মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্যকারী হোন!

মন্তব্য করুন