আগামী ২০শে আগস্ট ২০২৬ দেশে ২৩তম রাষ্ট্রপতি নির্বাচন অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে। রাষ্ট্রপতি নির্বাচন নিঃসন্দেহে একটি গুরুত্বপূর্ণ সাংবিধানিক প্রক্রিয়া। কিন্তু এই নির্বাচনের সঙ্গে সরাসরি সম্পর্কিত আরেকটি মৌলিক সাংবিধানিক প্রশ্ন এখনো অনিরূপিতÑনির্বাচিত রাষ্ট্রপতির শপথ কে পরিচালনা করবেন এবং রাষ্ট্রপতির শপথ গ্রহণের ক্ষেত্রে বাংলাদেশের প্রধান বিচারপতির সাংবিধানিক ভূমিকা কী?
প্রশ্নটি নিছক আনুষ্ঠানিকতার নয়। রাষ্ট্রপতির শপথের সাংবিধানিক কর্তৃপক্ষ নির্ধারণের সঙ্গে রাষ্ট্রের ক্ষমতার পৃথক্করণ, বিচার বিভাগের স্বাধীনতা, সাংবিধানিক ভারসাম্য এবং সংবিধানের মৌলিক কাঠামোর প্রশ্ন সরাসরি জড়িত।
শপথ কি নিছক আনুষ্ঠানিকতা?
রাষ্ট্রপতির শপথকে কেবল একটি আনুষ্ঠানিক অনুষ্ঠান হিসেবে দেখার সুযোগ নেই। সংবিধানের অধীনে কোনো সাংবিধানিক পদে অধিষ্ঠিত হওয়ার ক্ষেত্রে শপথ একটি গুরুত্বপূর্ণ সাংবিধানিক প্রয়োজনীয়তা। অতএব, সেই শপথ কে পরিচালনা করবেনÑএটি কেবল প্রশাসনিক বা প্রটোকলগত বিষয় হতে পারে না।
১৯৭২ সালের মূল সংবিধানের ১৪৮ অনুচ্ছেদ এবং তৃতীয় তফসিল অনুযায়ী রাষ্ট্রপতি বাংলাদেশের প্রধান বিচারপতির সম্মুখে শপথ গ্রহণ করতেন। অর্থাৎ রাষ্ট্রের সর্বোচ্চ সাংবিধানিক পদে অধিষ্ঠানের পূর্বে রাষ্ট্রপতির শপথ গ্রহণের ক্ষেত্রে প্রধান বিচারপতির একটি প্রত্যক্ষ ও অপরিহার্য সাংবিধানিক ভূমিকা নির্ধারিত ছিল।
এই ব্যবস্থা নিছক একটি আনুষ্ঠানিকতা ছিল না। রাষ্ট্রপতির সাংবিধানিক ক্ষমতা গ্রহণের মুহূর্তকে প্রধান বিচারপতির সাংবিধানিক উপস্থিতির সঙ্গে যুক্ত করার মাধ্যমে মূল সংবিধান রাষ্ট্রের সর্বোচ্চ পদে অধিষ্ঠান, সাংবিধানিক বৈধতা এবং রাষ্ট্রের বিভিন্ন সাংবিধানিক প্রতিষ্ঠানের পারস্পরিক ভারসাম্যের একটি স্বতন্ত্র কাঠামো নির্ধারণ করেছিল।
শুধু রাষ্ট্রপতিই নন, ১৯৭২ সালের মূল সংবিধানে স্পিকার ও ডেপুটি স্পিকারের শপথ পরিচালনার ক্ষেত্রেও প্রধান বিচারপতির সাংবিধানিক ভূমিকা ছিল।
এই ব্যবস্থার অন্তর্নিহিত সাংবিধানিক দর্শনও অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। ১৯৭২ সালের মূল সংবিধানের অধীনে রাষ্ট্রপতি বাংলাদেশের প্রধান বিচারপতির নিকট শপথ গ্রহণ করতেন। একইভাবে প্রধান বিচারপতিও রাষ্ট্রপতির নিকট শপথ গ্রহণ করেন। অর্থাৎ রাষ্ট্রপতি ও প্রধান বিচারপতি সাংবিধানিকভাবে পরস্পরের নিকট শপথে আবদ্ধ। এই পারস্পরিক শপথ-সম্পর্ক প্রজাতন্ত্রের একটি গুরুত্বপূর্ণ বৈশিষ্ট্যকে প্রতিফলিত করেÑরাষ্ট্রপ্রধান ও বিচার বিভাগের সর্বোচ্চ পদাধিকারী উভয়েই সংবিধানের প্রতি আনুগত্যের শপথে আবদ্ধ এবং কেউই সংবিধানের ঊর্ধ্বে নন।
সুতরাং রাষ্ট্রপতির শপথ প্রধান বিচারপতির নিকট গ্রহণের বিধানটি নিছক আনুষ্ঠানিকতা নয়; এটি প্রজাতন্ত্রের সাংবিধানিক চরিত্র, ক্ষমতার পৃথক্করণ, বিচার বিভাগের স্বাধীনতা এবং রাষ্ট্রের পারস্পরিক সাংবিধানিক ভারসাম্যের একটি গুরুত্বপূর্ণ প্রতীকী ও প্রাতিষ্ঠানিক প্রকাশ।
কিন্তু ১৯৭৫ সালের চতুর্থ সংশোধনীর মাধ্যমে রাষ্ট্রব্যবস্থার চরিত্রে যে মৌলিক পরিবর্তন আনা হয়, তার সঙ্গে বিচার বিভাগের সাংবিধানিক অবস্থান ও ক্ষমতার ক্ষেত্রেও গুরুত্বপূর্ণ পরিবর্তন ঘটে। ক্ষমতার কেন্দ্রীভূত একদলীয় রাষ্ট্রব্যবস্থা প্রতিষ্ঠার সেই পর্যায়ে রাষ্ট্রপতি, স্পিকার ও ডেপুটি স্পিকারের শপথ পরিচালনায় প্রধান বিচারপতির পূর্ববর্তী সাংবিধানিক কর্তৃত্বও বিলুপ্ত করা হয়। ফলে রাষ্ট্রের সর্বোচ্চ সাংবিধানিক পদগুলোর সঙ্গে বিচার বিভাগের সর্বোচ্চ পদটির যে সাংবিধানিক ভারসাম্য ১৯৭২ সালের মূল সংবিধানে প্রতিষ্ঠিত হয়েছিল, সেই বিন্যাসেও একটি মৌলিক বিচ্যুতি ঘটে।
পরবর্তীতে চতুর্থ সংশোধনীর বিলুপ্তি ও সাংবিধানিক ব্যবস্থার পুনর্বিন্যাসের মধ্যদিয়ে ১৯৭২ সালের মূল সংবিধানের কিছু গুরুত্বপূর্ণ সাংবিধানিক বৈশিষ্ট্য পুনঃপ্রতিষ্ঠিত হয়। এর ফলে রাষ্ট্রের সাংবিধানিক প্রতিষ্ঠানগুলোর মধ্যে পূর্ববর্তী কিছু ভারসাম্যও ফিরে আসে।
কিন্তু পরবর্তীতে পঞ্চদশ সংশোধনীর মাধ্যমে চতুর্থ সংশোধনীর সময় পরিবর্তিত রাষ্ট্রপতি, স্পিকার ও ডেপুটি স্পিকারের শপথসংক্রান্ত ব্যবস্থার কিছু বৈশিষ্ট্য পুনর্বহাল করা হয়। বিশেষ করে রাষ্ট্রপতির শপথ পরিচালনার ক্ষেত্রে ১৯৭২ সালের মূল সংবিধানের পরিবর্তে প্রধান বিচারপতির স্থলে জাতীয় সংসদের স্পিকারকে শপথ পরিচালনার কর্তৃপক্ষ নির্ধারণ করা হয়।
এখানেই মূল সাংবিধানিক প্রশ্নটি তৈরি হয়Ñসংবিধান সংশোধনের ক্ষমতা থাকলেই কি সংবিধানের যেকোনো মৌলিক কাঠামো পরিবর্তন করা যায়?
সংবিধান সংশোধন এবং সংবিধানের মৌলিক কাঠামো পরিবর্তনÑএই দু’টি বিষয় এক নয়। সংবিধানের সংশোধনক্ষমতা সংবিধানকে পরিবর্তন করার ক্ষমতা দেয়; কিন্তু সেই ক্ষমতার মাধ্যমে সংবিধানের মৌলিক কাঠামো বা তার মৌলিক সাংবিধানিক নীতিকে ধ্বংস, বিকৃত কিংবা এমনভাবে পরিবর্তন করা যায় কি নাÑসেটিই ইধংরপ ঝঃৎঁপঃঁৎব উড়পঃৎরহব-এর কেন্দ্রীয় প্রশ্ন।
ক্ষমতার পৃথক্করণ আধুনিক সাংবিধানিক রাষ্ট্রব্যবস্থার একটি মৌলিক নীতি। আইন বিভাগ, নির্বাহী বিভাগ এবং বিচার বিভাগের মধ্যে সাংবিধানিক ভারসাম্য রক্ষা কেবল প্রাতিষ্ঠানিক বিন্যাসের বিষয় নয়; এটি রাষ্ট্রক্ষমতার অপব্যবহার প্রতিরোধের অন্যতম সাংবিধানিক সুরক্ষা।
সুতরাং রাষ্ট্রপতির শপথ পরিচালনার সাংবিধানিক কর্তৃত্ব বিচার বিভাগের সর্বোচ্চ পদ থেকে সরিয়ে আইন বিভাগের একটি সাংবিধানিক পদে ন্যস্ত করার পরিবর্তনটি বৃহত্তর সাংবিধানিক কাঠামোর আলোকে বিচার করা প্রয়োজন।
যে ব্যক্তি রাষ্ট্রপতি নির্বাচিত হবেন, তার শপথ গ্রহণের সময় যদি শপথ পরিচালনার সাংবিধানিক কর্তৃপক্ষ নিয়েই একটি মৌলিক প্রশ্ন অনিষ্পন্ন থাকে, তাহলে রাষ্ট্রের সর্বোচ্চ সাংবিধানিক পদে অধিষ্ঠিত হওয়ার মুহূর্তটি একটি সাংবিধানিক অনিশ্চয়তার মধ্যে পড়তে পারে। রাষ্ট্রের সাংবিধানিক ধারাবাহিকতার স্বার্থে এমন পরিস্থিতি কাম্য নয়।
এখানে একটি বিষয় স্পষ্ট করা জরুরি। ২০শে আগস্টের রাষ্ট্রপতি নির্বাচন নিয়ে কোনো প্রশ্ন তোলা হচ্ছে না। নির্বাচন সাংবিধানিক প্রক্রিয়ার অংশ এবং তা যথাযথভাবে সম্পন্ন হওয়াই প্রত্যাশিত।
প্রশ্ন হচ্ছেÑনির্বাচিত রাষ্ট্রপতির শপথ গ্রহণের সাংবিধানিক বৈধতা নিয়ে মৌলিক প্রশ্নটি কেন নির্বাচনের আগেই নিরসন করা হবে না?
তাই নির্বাচনের আগেই এই প্রশ্নের নিষ্পত্তি হলে সাংবিধানিক প্রক্রিয়াটি অধিকতর স্বচ্ছ, নিশ্চিত ও প্রশ্নমুক্ত ভিত্তির ওপর এগোতে পারে।
সংসদের সাংবিধানিক দায়িত্ব:
রাষ্ট্রপতির শপথ পরিচালনার বর্তমান সাংবিধানিক বিধান নিয়ে যখন মৌলিক প্রশ্ন উঠেছে, তখন জাতীয় সংসদের ভূমিকাও অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।
সংবিধান সংশোধনের ক্ষমতা জাতীয় সংসদের রয়েছে। কিন্তু এখানে প্রশ্নটি নতুন করে সংবিধানের মৌলিক কাঠামো পরিবর্তনের নয়; বরং পঞ্চদশ সংশোধনীর মাধ্যমে যে পরিবর্তন আনা হয়েছে, তা যদি সংবিধানের মৌলিক কাঠামো, ক্ষমতার পৃথক্করণ এবং ১৯৭২ সালের মূল সংবিধানের সাংবিধানিক চেতনার সঙ্গে সাংঘর্ষিক হয়ে থাকে, তাহলে সেই সাংঘর্ষিক বিধান সংশোধন করে সাংবিধানিক সামঞ্জস্য পুনঃপ্রতিষ্ঠা করা সংসদের এখতিয়ার ও দায়িত্বের মধ্যেই পড়ে।
অর্থাৎ সংসদ চাইলে বর্তমান বিধানটি পুনর্বিবেচনা করতে পারে এবং রাষ্ট্রপতির শপথ পরিচালনার ক্ষেত্রে ১৯৭২ সালের মূল সাংবিধানিক ব্যবস্থার সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ একটি বিধান পুনঃপ্রতিষ্ঠা করতে পারে।
কারণ কোনো সাংবিধানিক সংশোধনীকে কেবল ‘সংবিধান সংশোধন’ হিসেবে অভিহিত করলেই তার সাংবিধানিক বৈধতা চূড়ান্ত হয়ে যায় না। সংশোধনক্ষমতা সংবিধানকে পরিবর্তনের ক্ষমতা দেয়; কিন্তু সংবিধানের মৌলিক কাঠামো বিনষ্ট করার ক্ষমতা দেয় নাÑএটাই ইধংরপ ঝঃৎঁপঃঁৎব উড়পঃৎরহব-এর মৌলিক ধারণা।
সুতরাং বর্তমান সংসদের সামনে প্রশ্নটি কেবল নতুন কোনো বিধান প্রণয়নের নয়; বরং একটি বিতর্কিত এবং সম্ভাব্য সাংবিধানিকভাবে অসামঞ্জস্যপূর্ণ সংশোধনকে সংশোধন করে মূল সাংবিধানিক ভারসাম্য পুনঃপ্রতিষ্ঠার প্রশ্ন।
আর যদি সংসদ এ বিষয়ে কোনো পদক্ষেপ না নেয়, তাহলে বিদ্যমান বিধানের সাংবিধানিক বৈধতার প্রশ্নটি বিচারিক নিষ্পত্তির বিষয় হয়ে থাকে।
অতএব, এই সাংবিধানিক অনিশ্চয়তা নিরসনের জন্য সংসদের সামনে যেমন সাংবিধানিক সংশোধনের পথ খোলা আছে, তেমনি আদালতের সামনে রয়েছে বিচারিক নিষ্পত্তির পথ। সংসদ সংবিধান সংশোধনের মাধ্যমে অবস্থান স্পষ্ট করতে পারে; অথবা আদালত বিদ্যমান বিধানের সাংবিধানিক বৈধতা নির্ধারণ করতে পারেন।
জনগুরুত্বসম্পন্ন সাংবিধানিক প্রশ্ন: রাষ্ট্রপতির শপথ পরিচালনার সাংবিধানিক কর্তৃপক্ষ কেÑএই প্রশ্ন কোনো ব্যক্তিগত স্বার্থের প্রশ্ন নয়। এর সঙ্গে রাষ্ট্রের সর্বোচ্চ সাংবিধানিক পদ, বিচার বিভাগের স্বাধীনতা, ক্ষমতার পৃথক্করণ, সাংবিধানিক ভারসাম্য এবং সংবিধানের মৌলিক কাঠামোর প্রশ্ন জড়িত।
আজকের প্রশ্ন শুধু একজন রাষ্ট্রপতির শপথের প্রশ্ন নয়। প্রশ্ন হচ্ছেÑরাষ্ট্রের সাংবিধানিক প্রতিষ্ঠানগুলোর মধ্যে ক্ষমতার সীমারেখা কীভাবে নির্ধারিত হবে এবং সংবিধানের মৌলিক কাঠামো কতোটুকু পর্যন্ত সংশোধনযোগ্য।
রাষ্ট্রপতির শপথ গ্রহণের সাংবিধানিক বৈধতা এবং এ ক্ষেত্রে প্রধান বিচারপতির ভূমিকা নিয়ে আমি বহু বছর ধরে বিভিন্ন পত্রপত্রিকায় ধারাবাহিকভাবে লেখালেখি ও জনমত গঠনের চেষ্টা করে আসছি। কিন্তু অত্যন্ত দুঃখের বিষয়, রাষ্ট্রের কোনো সাংবিধানিক প্রতিষ্ঠান বা সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ এতদিন পর্যন্ত স্বপ্রণোদিত হয়ে এই গুরুত্বপূর্ণ সাংবিধানিক প্রশ্নটির কোনো কার্যকর ও চূড়ান্ত নিষ্পত্তির উদ্যোগ গ্রহণ করেনি।
ফলে বিষয়টি এখন কেবল একজন ব্যক্তির শপথ গ্রহণের আনুষ্ঠানিকতার প্রশ্নে সীমাবদ্ধ নেই; এটি সংবিধানের মৌলিক কাঠামো, ক্ষমতার পৃথক্করণ, বিচার বিভাগের স্বাধীনতা এবং রাষ্ট্রের সাংবিধানিক শৃঙ্খলার প্রশ্নে পরিণত হয়েছে।
এমন একটি মৌলিক সাংবিধানিক প্রশ্ন অনিষ্পন্ন রেখে রাষ্ট্রের সর্বোচ্চ সাংবিধানিক পদে নতুন শপথ গ্রহণের দিকে অগ্রসর হওয়া ভবিষ্যতে আরও জটিল সাংবিধানিক অনিশ্চয়তার জন্ম দিতে পারে।
অতএব, বর্তমান পরিস্থিতিতে এর বিচারিক নিষ্পত্তি শুধু ন্যায়বিচারের স্বার্থেই নয়, রাষ্ট্রের সাংবিধানিক ধারাবাহিকতা এবং ভবিষ্যৎ সাংবিধানিক শাসনের স্বার্থেও অত্যন্ত জরুরি।
এই পর্যায়ে একটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয় সামনে আসে। ১০ই মার্চ ২০২৫ আমি বাংলাদেশ সুপ্রিম কোর্টের হাইকোর্ট বিভাগে ডৎরঃ চবঃরঃরড়হ ঘড়. ৪৭৭৯ ড়ভ ২০২৫ (ঈড়ঁৎঃ গধরহ-১২) দায়ের করেছি। রাষ্ট্রপতির শপথ পরিচালনার সাংবিধানিক কর্তৃপক্ষ, প্রধান বিচারপতির সাংবিধানিক ভূমিকা এবং সংশ্লিষ্ট সাংবিধানিক বিধানের বৈধতার প্রশ্ন এই রিটের সঙ্গে প্রত্যক্ষভাবে সম্পর্কিত। মামলাটি বর্তমানে বিচারাধীন।
রিটটি দায়েরের সময় বিষয়টি ছিল একটি গুরুত্বপূর্ণ সাংবিধানিক প্রশ্ন। কিন্তু ২০শে আগস্ট ২০২৬ রাষ্ট্রপতি নির্বাচন সামনে আসায় সেই প্রশ্নটি এখন সময়সংবেদনশীল ও জনগুরুত্বসম্পন্ন সাংবিধানিক প্রশ্নে পরিণত হয়েছে।
বিচারাধীন কোনো মামলার ফলাফল সম্পর্কে আগাম কোনো সিদ্ধান্ত প্রত্যাশা করা যায় না। আদালত স্বাধীনভাবে সংবিধান ও আইনের আলোকে বিষয়টি বিচার করবেনÑএটাই সাংবিধানিক শাসনের স্বাভাবিক প্রত্যাশা।
তাই ২০শে আগস্ট ২০২৬ রাষ্ট্রপতি নির্বাচন অনুষ্ঠিত হওয়ার পূর্বেই ডৎরঃ চবঃরঃরড়হ ঘড়. ৪৭৭৯ ড়ভ ২০২৫-এর অগ্রাধিকার ভিত্তিতে শুনানি ও দ্রুত নিষ্পত্তির মাধ্যমে রাষ্ট্রপতির শপথের সাংবিধানিক বৈধতা নিয়ে বিদ্যমান অনিশ্চয়তার অবসান ঘটানো জরুরি।
রাষ্ট্রের সর্বোচ্চ সাংবিধানিক পদে অধিষ্ঠিত হওয়ার মুহূর্তটি কোনো অনিষ্পন্ন সাংবিধানিক প্রশ্নের ওপর দাঁড়িয়ে থাকা উচিত নয়। কারণ আজ যে প্রশ্নটি একজন রাষ্ট্রপতির শপথকে ঘিরে উত্থাপিত হয়েছে, তার উত্তর আগামী দিনের রাষ্ট্রব্যবস্থায় সংবিধানের সীমা, ক্ষমতার পৃথক্করণ এবং সাংবিধানিক প্রতিষ্ঠানগুলোর পারস্পরিক ভারসাম্যের ওপর দীর্ঘস্থায়ী প্রভাব ফেলতে পারে।
২০শে আগস্টের রাষ্ট্রপতি নির্বাচনের পূর্বেই তাই রাষ্ট্রপতির শপথের সাংবিধানিক বৈধতার প্রশ্নটির নিষ্পত্তি হওয়া সময়ের দাবি।
লেখক: গীতিকবি ও রাজনৈতিক বিশ্লেষক। [email protected]
