বিশ্বকাপের বাণিজ্যিক স্বত্বের একাংশ বেসরকারি বিনিয়োগকারীদের কাছে বিক্রির বিতর্কিত পরিকল্পনা নিয়ে তীব্র চাপের মুখে পড়েছেন ফিফা সভাপতি জিয়ান্নি ইনফান্তিনো। তার এই সংকটকালে পাশে দাঁড়িয়েছেন যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। নিজের সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ট্রুথ সোশ্যালে দেওয়া এক পোস্টে ট্রাম্প সতর্ক করে বলেছেন, ফিফা যদি ইনফান্তিনোকে সরানোর কথা ভাবে, তাহলে সেটি হবে বড় একটি ভুল সিদ্ধান্ত।
ইনফান্তিনোর প্রশংসায় ট্রাম্প বলেন, তিনি একজন দক্ষ মানুষ এবং সদ্য এমন এক বিশ্বকাপ আয়োজন করেছেন, যা আগের যেকোনো আসরের চেয়ে অনেক বেশি সফল বলে দাবি করেন তিনি। ইনফান্তিনো সরে গেলে টুর্নামেন্ট আর আগের মতো লাভজনক হবে না বলেও মন্তব্য করেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট।
এদিকে ইনফান্তিনোর বিরুদ্ধে চাপ ক্রমেই বাড়ছে সংগঠনের ভেতর থেকে। ইউরোপীয় ফুটবলের নিয়ন্ত্রক সংস্থা উয়েফা, এশিয়ান ফুটবল কনফেডারেশন (এএফসি) এবং উত্তর-মধ্য আমেরিকা ও ক্যারিবীয় অঞ্চলের নিয়ন্ত্রক সংস্থা কনকাকাফ যৌথভাবে একটি খোলা চিঠি প্রকাশ করেছে, যেখানে তারা ইনফান্তিনোকে সম্মানের সঙ্গে সরে দাঁড়ানোর এবং আগামী মার্চের নির্বাচনে প্রার্থী না হওয়ার আহ্বান জানিয়েছে। চিঠিতে সরাসরি নাম উল্লেখ না করলেও বলা হয়, নেতৃত্ব কারও ব্যক্তিগত সম্পত্তি নয়, বরং এটি একটি সেবার দায়িত্ব, আর প্রতারণার মাধ্যমে সেই আস্থা ভাঙলে দায়িত্ব থেকে সরে দাঁড়ানোই যুক্তিসঙ্গত।
তিন সংস্থার এই উদ্যোগের মূলে রয়েছে ফিফা ফরোয়ার্ড এন্টারপ্রাইজ (এফএফই) নামে একটি প্রস্তাব, যার মাধ্যমে ফিফার টুর্নামেন্টগুলোর বাণিজ্যিক ও পরিচালনাগত কার্যক্রম একটি নতুন কোম্পানির অধীনে আনার পরিকল্পনা করা হয়েছিল। সবচেয়ে বিতর্কিত ছিল এই কোম্পানির প্রায় ২০ শতাংশ অংশীদারিত্ব বেসরকারি বিনিয়োগকারীদের কাছে বিক্রির প্রস্তাব। ব্যাপক বিরোধিতার মুখে শেষ পর্যন্ত সেই পরিকল্পনা বাতিল করতে হয়েছে ফিফাকে। বিষয়টি নিয়ে ইতিমধ্যে ক্ষমাও চেয়েছেন ইনফান্তিনো। সংকট আরও গভীর হয় গত সপ্তাহে মরক্কোয় ফিফার ব্যবস্থাপনা কমিটির নির্বাচিত কিছু সদস্যকে নিয়ে ডাকা এক জরুরি বৈঠকের পর। পুরো কমিটিকে সুইজারল্যান্ডের জুরিখে ডাকার বদলে বাছাই করা সদস্যদের বিদেশে ডেকে পাঠানোর এই সিদ্ধান্ত নতুন করে উদ্বেগ বাড়িয়েছে বলে জানিয়েছে সংশ্লিষ্ট সূত্র। উয়েফা, এএফসি ও কনকাকাফ ফিফার কাছে ইনফান্তিনোর পরিকল্পনা নিয়ে একটি স্বাধীন তদন্ত পরিচালনার আহ্বান জানিয়েছে। একইসঙ্গে চলমান সংকট থেকে নিজেদের প্রতিযোগিতা ও সংগঠনকে সুরক্ষিত রাখার বিকল্প পথও খুঁজছে তারা। যুক্তরাষ্ট্র ফুটবল ফেডারেশনও ফিফার স্বচ্ছতা ও জবাবদিহি নিশ্চিতে পরিবর্তনের দাবিতে সহযোগী সংস্থাগুলোর সঙ্গে সংহতি প্রকাশ করেছে। তবে ইনফান্তিনো সমর্থনহীন নন। দক্ষিণ আমেরিকার ফুটবল নিয়ন্ত্রক সংস্থা কনমেবল সম্প্রতি তার প্রতি একাত্মতার কথা জানিয়েছে, পাশাপাশি আফ্রিকান ফুটবল কনফেডারেশনও (সিএএফ) তার পক্ষে অবস্থান নিয়েছে বলে জানা গেছে।
ফিফা সভাপতি পদে আগামী মার্চে অনুষ্ঠিত হবে নির্বাচন, যেখানে ইনফান্তিনো নতুন মেয়াদের জন্য প্রার্থী হওয়ার প্রস্তুতি নিচ্ছেন। ২০১৬ সাল থেকে দায়িত্বে থাকা ইনফান্তিনোর নেতৃত্বের প্রতি বিশ্ব ফুটবল প্রশাসনের একটি বড় অংশের আস্থা এখন প্রশ্নের মুখে। তবে ট্রাম্পের এই প্রকাশ্য সমর্থন তার অবস্থানকে নতুন করে আলোচনায় নিয়ে এসেছে, আর আগামী কয়েক মাস ফিফার ভবিষ্যৎ নেতৃত্ব নির্ধারণে গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠতে চলেছে।
