দুর্দান্ত ছন্দে থাকা তৌহিদ হৃদয় লঙ্কা প্রিমিয়ার লীগে (এলপিএল) তাণ্ডব চালিয়ে করলেন ফিফটি। জাফনা কিংসের জার্সিদে দেখালেন আরও একটি ‘হৃদয় শো’। প্রথম কোয়ালিফায়ারে আজ গল গ্যালান্টসের বিপক্ষে ২০ ওভারে ২ উইকেটে ২৪২ রানের পুঁজি গড়েছে জাফনা কিংস। শ্রীলঙ্কার এই ফ্র্যাঞ্চাইজি লীগে সর্বোচ্চ দলীয় সংগ্রহ এটিই। আগের সর্বোচ্চও ছিল জাফনা কিংসের, ২০২২ সালে ডাম্বুলা অরার বিপক্ষে ২৪০। ১০ চার ও সাত ছক্কায় ৫৫ বলে অপরাজিত ১০৮ রানের ইনিংস খেলেন ওপেনার মিশারা। চার নম্বরে পাঁচ ছক্কা ও তিন চারে ২৫৭ স্ট্রাইকরেটে ২১ বলে ৫৪ রানে অপরাজিত থাকেন হৃদয়। তিন নম্বরে খাওয়াজা নাফে তিন ছক্কা ও চারটি চারে ৩২ বলে করেন ৫৪।
মূলত তৌহিদ হৃদয়ের শেষ দিকের ঝড়েই বিশাল পুঁজি পায় জাফনা। ১৫ ওভার শেষে যেখানে তাদের ১ উইকেটে ১৭১। এরপর শেষ পাঁচ ওভারে ৭১ রান তোলে তারা। ১৬তম ওভারে ব্যাটিংয়ে নামেন হৃদয়। ১৭তম ওভারে থারিন্দু রাতনায়েকের প্রথম ডেলিভারিতেই অবশ্য এলবিড্লুউ হতে পারতেন ডানহাতি এই ব্যাটার। তবে আম্পায়ার্স বেঁচে যান তিনি। আর জীবন পেয়েই গল গ্যালান্টসের বোলারদের ছাতুপেটা করেন হৃদয়। ওই ওভারের পঞ্চম বলে প্রথম ছক্কা হাঁকান। ১৮ ওভারে একটি চার মারার পর পরের ওভারে ইশান মালিঙ্গার প্রথম দুই বলই গ্যালারিতে আছড়ে ফেলেন হৃদয়। শেষ ওভারের পুরোটাই খেলেন হৃদয়। সেঞ্চুরি করা মিশারাকে দর্শক বানিয়ে দুই চার ও দুই ছক্কায় ইনিংসের শেষ ওভার থেকে তোলেন ২২ রান। এ নিয়ে এলপিএলে এবারের আসরে তিনটি ম্যাচেই অপরাজিত থাকলেন হৃদয়। ৪ ইনিংসে তাঁর মোট রান দাঁড়াল ১৪১।
২৪৩ রানের লক্ষ্য দিয়ে জাফনা ইনিংসের চতুর্থ বলে গলের উইকেট তুলে নেয়। তারপর পাওয়ার প্লেতে ঘুরে দাঁড়ায় গল। ৬ ওভারে ৮১ রান তোলে তারা। এর মধ্যে চতুর্থ ওভারে বল হাতে নিয়ে সাকিব ১৭ রান দেন। স্যাম হার্পার ও চারিথ আসালাঙ্কার ৭৫ রানের জুটি ভাঙে ষষ্ঠ ওভারে। আসালাঙ্কা ২৭ রানে ফিরে যাওয়ার পর লিজাড উইলিয়ামস পরের ওভারে হার্পারকেও (৪৪) ফেরান। ১২তম ওভারে সাকিব বল হাতে নিয়ে ১১ রান দেন। বাঁহাতি স্পিনার পরের ওভারে ব্রেকথ্রু আনেন। নিজের তৃতীয় ওভারে ৮ রান দিয়ে চামিকা করুণারত্নেকে (৩৯) ফেরান তিনি। পরের ওভারে দাসুন শানাকা (৩৪) আউট হলে ম্যাচের গতিপথ পাল্টে যায়। তার ১৯ বলের ঝড়ো ইনিংসের অবসান ঘটে। শেষ দিকে কালুপাহানা ও কলমবাগে ঝড় তুললেও শুধু ব্যবধান কমেছে। শেষ দুই ওভারে ১৫ ও ২৩ রান তোলেন দুজনে। কিন্তু জেতার জন্যে তা যথেষ্ট ছিল না। ৮ উইকেটে ২২৮ রান করে গল। ৪৭০ রানের ম্যাচ জিতে ফাইনালে উঠে গেল জাফনা।
সাকিব ৩ ওভারে ৩৬ রান দিয়ে ১ উইকেট নেন। ৪ ওভারে ৩২ রান দিয়ে সর্বোচ্চ ৩ উইকেট নেন মোহামেদ সিরাজ। আগামী ৮ আগস্ট বাংলাদেশ সময় রাত ৮টায় ফাইনাল। জাফনার প্রতিপক্ষ নির্ধারণ হবে আরও দুটি ম্যাচের পর। দ্বিতীয় কোয়ালিফায়ারে গল খেলবে কলম্বো ক্যাপস ও ক্যান্ডি রয়্যালসের মধ্যকার এলিমিনেটর বিজয়ীর বিপক্ষে। ওই ম্যাচের জয়ী দল উঠবে ফাইনালে।
