যুক্তরাষ্ট্রের রাজনৈতিক অঙ্গনে বড় ধরনের চমক দেখিয়েছেন আব্দুল এল-সায়েদ। মিশিগানের বহুল আলোচিত ডেমোক্রেটিক সিনেট প্রাইমারিতে দলের প্রভাবশালী নেতাদের সমর্থন পাওয়া কংগ্রেসওম্যান হেইলি স্টিভেন্সকে পরাজিত করে মনোনয়ন নিশ্চিত করেছেন তিনি। স্থানীয় সময় ৫ আগস্টের ফলাফলে মুসলিম প্রার্থী এল-সায়েদের এই জয় নিশ্চিত হওয়ার পরই ডেমোক্র্যাটদের প্রগতিশীল শিবিরে উচ্ছ্বাস ছড়িয়ে পড়ে।
মিশিগানের এই প্রাইমারিকে এবারের মধ্যবর্তী নির্বাচনের সবচেয়ে ব্যয়বহুল ও প্রতিদ্বন্দ্বিতাপূর্ণ লড়াইগুলোর একটি হিসেবে বিবেচনা করা হচ্ছে। বিভিন্ন সুপার প্যাক ও বাইরের সংগঠনের অর্থায়নে প্রায় ৬ কোটি ৫০ লাখ ডলার ব্যয় হয়েছে প্রচারণায়। দলের শীর্ষ নেতাদের বড় অংশ এবং অঙ্গরাজ্যের জনপ্রিয় গভর্নর গ্রেচেন হুইটমার শেষ মুহূর্তে হেইলি স্টিভেন্সের পক্ষে অবস্থান নিলেও ভোটারদের রায় শেষ পর্যন্ত যায় এল-সায়েদের পক্ষেই।
জনস্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞ হিসেবে পরিচিত আব্দুল এল-সায়েদ এখন নভেম্বরের সাধারণ নির্বাচনে মুখোমুখি হবেন রিপাবলিকান প্রার্থী ও সাবেক কংগ্রেসম্যান মাইক রজার্সের। রিপাবলিকান প্রাইমারিতে কোনো প্রতিদ্বন্দ্বী না থাকায় রজার্স সহজেই দলের মনোনয়ন নিশ্চিত করেছেন।
রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, মিশিগানের এই সিনেট নির্বাচন শুধু একটি অঙ্গরাজ্যের লড়াই নয়, বরং ওয়াশিংটনে ক্ষমতার ভারসাম্য নির্ধারণের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ নির্বাচন। আগামী নভেম্বরে এই আসনের ফলাফলের ওপর নির্ভর করতে পারে মার্কিন সিনেটে কোন দল সংখ্যাগরিষ্ঠতা ধরে রাখবে।
বর্তমান ডেমোক্র্যাট সিনেটর গ্যারি পিটার্স তৃতীয় মেয়াদে নির্বাচন না করার সিদ্ধান্ত নেওয়ায় আসনটি এবার উন্মুক্ত হয়েছে। তিনি প্রাইমারিতে হেইলি স্টিভেন্সকে সমর্থন দিয়েছিলেন।
বর্তমানে মার্কিন সিনেটে রিপাবলিকানদের দখলে রয়েছে ৫৩টি আসন। সংখ্যাগরিষ্ঠতা পুনরুদ্ধারে ডেমোক্র্যাটদের কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ অঙ্গরাজ্যে জয় প্রয়োজন। একই সঙ্গে মিশিগান ও জর্জিয়ার মতো ব্যাটলগ্রাউন্ড রাজ্যগুলোতে নিজেদের আসন ধরে রাখার চ্যালেঞ্জও রয়েছে তাদের সামনে।
অন্যদিকে, প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের সমর্থন পাওয়া মাইক রজার্স রিপাবলিকান শিবিরে শক্ত অবস্থান নিয়ে সাধারণ নির্বাচনে মাঠে নামছেন। ট্রাম্প ২০১৬ ও ২০২৪ সালের প্রেসিডেন্ট নির্বাচনে মিশিগানে জয়ী হলেও ২০২০ সালে জো বাইডেনের কাছে পরাজিত হয়েছিলেন। ফলে এবারের সিনেট নির্বাচনেও মিশিগান আবারও জাতীয় রাজনীতির কেন্দ্রবিন্দুতে উঠে এসেছে।
বিশ্লেষকদের ধারণা, ডেমোক্র্যাটদের প্রগতিশীল ভোটব্যাংক এবং রিপাবলিকানদের ঐক্যবদ্ধ সমর্থনের মধ্যে অনুষ্ঠিত হতে যাওয়া এই লড়াই হবে ২০২৬ সালের মধ্যবর্তী নির্বাচনের সবচেয়ে উত্তেজনাপূর্ণ সিনেট প্রতিদ্বন্দ্বিতাগুলোর একটি।
