জ্বালানি সংকট মোকাবিলা এবং নবায়নযোগ্য জ্বালানির ব্যবহার বাড়াতে তিনটি গুরুত্বপূর্ণ নির্দেশনা দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। সেগুলো হলোÑ দেশের গুরুত্বপূর্ণ সরকারি ভবনগুলোতে পর্যায়ক্রমে সৌর প্যানেল স্থাপন করা হবে, দেশে সোলার ইনভার্টার উৎপাদনে ব্যবহৃত কাঁচামাল আমদানিতে সরকারি সহায়তা দেয়া হবে এবং সাধারণ মানুষের জন্য সৌর বিদ্যুৎ সাশ্রয়ী ও সহজলভ্য এবং লাভজনক করে তুলতে একটি কার্যকর অর্থনৈতিক মডেল প্রণয়নের নির্দেশ দেন প্রধানমন্ত্রী। গতকাল সচিবালয়ে মন্ত্রিপরিষদ বিভাগের প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে সৌর বিদ্যুৎ সংক্রান্ত এক বৈঠকে তিনি নির্দেশনা দেন বলে জানিয়েছেন উপ-প্রেস সচিব হাসান শিপলু।
তিনি জানান, বৈঠকে সিদ্ধান্ত হয়েছেÑ প্রাথমিক পর্যায়ে বঙ্গভবন, তেজগাঁওয়ে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়, জাতীয় সংসদ ভবন, বাংলাদেশ সচিবালয়ে প্রধানমন্ত্রীর দপ্তর ও অর্থ মন্ত্রণালয়ের ভবন, পরিকল্পনা কমিশন ভবনসহ অন্যান্য গুরুত্বপূর্ণ সরকারি ভবনে পর্যায়ক্রমে সৌর প্যানেল স্থাপন করা হবে।
প্রধানমন্ত্রী বলেন, সরকারি ভবনে সৌর বিদ্যুতের ব্যবহার শুরু হলে সাধারণ মানুষের মধ্যে এ প্রযুক্তি ব্যবহারে আগ্রহ বাড়বে। এই কারণে তিনি বিভিন্ন সরকারি ভবনে সৌর প্যানেল স্থাপনের নির্দেশনা দেন।
এ সময় প্রাণ-আরএফএল গ্রুপ ও ওয়ালটন গ্রুপ পৃথক উপস্থাপনায় আবাসিক ভবনে সৌর প্যানেল স্থাপন এবং উৎপাদিত বিদ্যুৎ জাতীয় গ্রিডে যুক্ত করার বিভিন্ন দিক তুলে ধরে। তাদের উপস্থাপনায় বলা হয়, এ উদ্যোগ বাস্তবায়িত হলে বিদ্যুৎ ও জ্বালানির সাশ্রয়ের পাশাপাশি নতুন কর্মসংস্থানের সুযোগও সৃষ্টি হবে।
বৈঠকে অর্থ ও পরিকল্পনামন্ত্রী আমীর খসরু মাহমুদ চৌধুরী, প্রধানমন্ত্রীর অর্থ ও পরিকল্পনা উপদেষ্টা রাশেদ আল মাহমুদ তিতুমীর, স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় প্রতিমন্ত্রী মীর শাহে আলম, বাংলাদেশ বিনিয়োগ উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের (বিডা) নির্বাহী চেয়ারম্যান আশিক চৌধুরী, জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের (এনবিআর) ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান আহসান হাবিব, প্রাণ-আরএফএল গ্রুপের চেয়ারম্যান আহসান খান চৌধুরী এবং গ্রুপের সোলার ও নবায়নযোগ্য বিদ্যুৎ বিভাগের এজিএম তওহিদুল আহাদ, ওয়ালটন গ্রুপের ব্যবস্থাপনা পরিচালক এস এম মাহবুবুল আলমসহ বিভিন্ন মন্ত্রণালয়ের সচিব ও ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।
অর্থনৈতিক অঞ্চলকে সবুজ শিল্পাঞ্চল হিসেবে গড়ে তোলার আহ্বান প্রধানমন্ত্রীর: ওদিকে দেশের অর্থনৈতিক অঞ্চল সম্প্রসারণ, বিনিয়োগ বৃদ্ধি, কর্মসংস্থান সৃষ্টি ও পরিবেশ সুরক্ষায় গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত নিয়েছে বাংলাদেশ অর্থনৈতিক অঞ্চল কর্তৃপক্ষের (বেজা) গভর্নিং বোর্ড। গতকাল দুপুরে বাংলাদেশ সচিবালয়ের মন্ত্রিপরিষদ বিভাগের প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে এই বৈঠকে এ সিদ্ধান্ত নেয়া হয় বলে জানিয়েছে প্রেস উইং। এতে সভাপতিত্ব করেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান।
প্রেস উইং জানায়, বৈঠকের সিদ্ধান্ত হয়েছে, সরকারের ২৫ কোটি বৃক্ষরোপণ কর্মসূচির অংশ হিসেবে দেশের প্রতিটি ইপিজেডে বৃক্ষরোপণ করা হবে। এ কর্মসূচির আওতায় বিভিন্ন ইপিজেডে মোট ১ লাখ ২৫ হাজার বৃক্ষরোপণের সিদ্ধান্ত নেয়া হয়েছে। শিল্পায়নের পাশাপাশি পরিবেশের ভারসাম্য রক্ষা, সবুজায়ন বৃদ্ধি এবং অর্থনৈতিক অঞ্চলগুলোকে পরিবেশবান্ধব হিসেবে গড়ে তুলতেই এ উদ্যোগ নেয়া হয়েছে।
বৈঠকে বেজার গভর্নিং বোর্ডের ৯ম সভার সিদ্ধান্তগুলোর বাস্তবায়ন অগ্রগতি পর্যালোচনা করা হয়। পাশাপাশি নতুন অর্থনৈতিক অঞ্চল প্রতিষ্ঠা, বেসরকারি অর্থনৈতিক অঞ্চলগুলোর মূল্যায়ন পর্যালোচনা এবং সরকারি মালিকানাধীন অব্যবহৃত শিল্প-সম্পদের সর্বোত্তম ব্যবহার নিয়ে আলোচনা হয়। অন্যদিকে নারায়ণগঞ্জের করিম জুট মিলস ও লতিফ বাওয়ানী জুট মিলসের জমি ও বিদ্যমান অবকাঠামোকে অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ডে ব্যবহারের সম্ভাবনা নিয়েও বৈঠকে পর্যালোচনা করা হয়।
বৈঠকে প্রধানমন্ত্রী শিল্পায়নের সঙ্গে পরিবেশ সুরক্ষার সমন্বয় ঘটিয়ে অর্থনৈতিক অঞ্চলগুলোকে সবুজ, আধুনিক ও বিনিয়োগবান্ধব শিল্পাঞ্চল হিসেবে গড়ে তোলার ওপর গুরুত্ব আরোপ করেন।
বৈঠকে অর্থমন্ত্রী আমীর খসরু মাহমুদ চৌধুরী, বাণিজ্যমন্ত্রী খন্দকার আব্দুল মুক্তাদির, পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তন বিষয়ক মন্ত্রী আবদুল আউয়াল মিন্টু, সড়ক পরিবহন ও সেতু, রেলপথ, প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রী আরিফুল হক চৌধুরী, নৌ-পরিবহন মন্ত্রী শেখ রবিউল আলম এবং বাংলাদেশ বিনিয়োগ উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ (বিডা)-এর বর্তমান নির্বাহী চেয়ারম্যান আশিক চৌধুরী উপস্থিত ছিলেন।
আবর্জনামুক্ত দেশ গড়ে তুলতে দেশবাসীর সহযোগিতা চাইলেন প্রধানমন্ত্রী: এদিকে আবর্জনামুক্ত বাংলাদেশ গড়ে তুলতে দেশবাসীর সহযোগিতা চেয়েছেন প্রধানমন্ত্রী। গতকাল প্রধানমন্ত্রীর তার ভেরিফাইড ফেসবুকে এক ভিডিও বার্তায় তিনি এ সহযোগিতা চান। ভিডিও বার্তায় প্রধানমন্ত্রী বলেন, আমরা যদি আজকে থেকে প্রত্যেকে সচেতন হই আমাদের হাতের আবর্জনা বা ব্যবহারকৃত আবর্জনা যদি নির্দিষ্ট জায়গায় সুন্দরভাবে গুছিয়ে ফেলি, তাহলে ধীরে ধীরে হয়তো আমরা আমাদের এই বাংলাদেশটাকে আবর্জনামুক্ত করতে পারবো, সুন্দর একটি পরিবেশ গড়ে তুলতে পারবো। দেশটা তো আমাদের সকলের। আমরা সকলে মিলে যদি চেষ্টা করি, সকলে মিলে যদি একটু একটু করে করি তাহলে আমরা বড় কিছু করতে সক্ষম হবো। প্রিয় দেশবাসী আপনাদের কাছে আজকে এই সহযোগিতাটা আমি চাইছি। আমরা সকলে মিলে আসুন, চেষ্টা করি আমাদের দেশটিকে পরিষ্কার সুন্দর রাখতে, আমরা সকলে মিলে চেষ্টা করি আমাদের পরিবেশটিকে সুন্দর পরিষ্কার রাখতে। যা নিশ্চিত করবে আমাদের আগামীদিনের বংশধরদের জন্য একটি সুস্থ দেশ এবং সুস্থ পরিবেশ।
প্রধানমন্ত্রী বলেন, ঢাকা শহরেও বিভিন্ন পার্ক আছে, বিভিন্ন জেলা শহরেও বিভিন্ন পার্ক আছে, আমরা পার্কগুলোতে যাচ্ছি বিকাল বেলায় পরিবার পরিজনকে সঙ্গে নিয়ে। কিন্তু গিয়ে যখন আমরা চীনাবাদাম খাচ্ছি অথবা চিপস খাচ্ছি অথবা বাচ্চারা লজেন্স খাচ্ছে- খেয়েই আমরা জিনিসটা সেখানে ফেলে দিচ্ছে। আমরা যখন যাই তখন হয়তো যারা পরিচ্ছন্ন কর্মী, তারা হয়তো পরিষ্কার করে রাখছে। কিন্তু আমরা যখন বেরিয়ে আসছি, তখন আর সেটি আগের মতো পরিষ্কার থাকছে না। কিন্তু যদি পরিষ্কার থাকতো, আপনি যদি পরিষ্কার করে রেখে আসেন, আপনার পরবর্তীতে যে যাবে, সেও কিন্তু সেই পরিচ্ছন্নতা সুন্দর পরিবেশটি উপভোগ করতে পারবে।
