হাবুল মিয়া (৫২) একজন শারীরিক ও বাকপ্রতিবন্ধী। কিশোরগঞ্জের তাড়াইল উপজেলার বরুহা রাজঘাট গ্রামের মৃত মন্নাছ মিয়ার ছেলে। হুইলচেয়ারে করে ভিক্ষা করতেন তাড়াইল সিএনজি স্টেশনে। ভিক্ষা করে যা আয় হতো, তা দিয়েই চলতো তার জীবন। ভিক্ষা করে জমানো এই টাকাই এবার কেড়ে নিলো তার জীবন। রোববার দিবাগত রাত পৌনে ৩টার দিকে নিজ বাড়ির সামনে দুর্বৃত্তদের হাতে আক্রান্ত হন হাবুল মিয়া। অজ্ঞাত দুর্বৃত্তরা গাছের কাঠ দিয়ে তার মাথায় আঘাত করে তাকে গুরুতর রক্তাক্ত জখম করে। প্রতিবন্ধী হাবুল মাটিতে লুটিয়ে পড়লে তার সঙ্গে থাকা টাকা-পয়সা ছিনিয়ে নিয়ে পালিয়ে যায় দুর্বৃত্তরা।
আশঙ্কাজনক অবস্থায় হাবুল মিয়াকে উদ্ধার করে তাড়াইল উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে যান এলাকাবাসী। কিন্তু অবস্থা গুরুতর হওয়ায় তাকে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে রেফার্ড করেন কর্তব্যরত চিকিৎসক। ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নিয়ে যাওয়ার পর সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় সোমবার দুপুর ২টার দিকে মৃত্যুবরণ করেন হাবুল মিয়া। তার মৃত্যুর খবরটি জানাজানি হলে এ নিয়ে এলাকায় শোক, ক্ষোভ ও চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়। একজন প্রতিবন্ধী মানুষের কাছ থেকে তার ভিক্ষা করে জমানো টাকা ছিনিয়ে নিতে এমন হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় হতবাক সবাই।
স্থানীয়রা জানান, হাবুল মিয়া দীর্ঘদিন ধরে শারীরিক ও বাকপ্রতিবন্ধী অবস্থায় হুইলচেয়ারে চলাফেরা করতেন। তাড়াইল সিএনজি স্টেশনে ভিক্ষা করে যা আয় হতো, তা দিয়েই তিনি দিনাতিপাত করতেন। তার স্ত্রী, দুই মেয়ে ও এক ছেলে ঢাকায় বসবাস করেন। স্থানীয়রা জানিয়েছেন, রোববার দিবাগত রাত আনুমানিক ২টা ৪০মিনিটে বাড়ির সামনের কাঁচা রাস্তায় অবস্থানকালে অজ্ঞাত দুর্বৃত্তরা গাছের কাঠ দিয়ে তার মাথায় আঘাত করে গুরুতর রক্তাক্ত জখম করে। হামলার পর তার সঙ্গে থাকা টাকা-পয়সা ছিনিয়ে নিয়ে দুর্বৃত্তরা পালিয়ে যায়। বাকপ্রতিবন্ধী হওয়ায় হাবুল মিয়া সাহায্যের জন্য চিৎকার করতে পারেননি। তবে তার গোঙানির শব্দ শুনে আশপাশের লোকজন ঘটনাস্থলে ছুটে গিয়ে তাকে গুরুতর আহত অবস্থায় উদ্ধার করেন। কিন্তু চিকিৎসকদের সব প্রচেষ্টাকে ব্যর্থ করে দিয়ে হাবুল মিয়া চলে যান না ফেরার দেশে।
হাবুল মিয়ার মৃত্যুর খবর ছড়িয়ে পড়লে বরুহা রাজঘাট গ্রামসহ আশপাশের এলাকায় শোকের ছায়া নেমে আসে। একজন অসহায় শারীরিক ও বাকপ্রতিবন্ধী ব্যক্তিকে নৃশংসভাবে হত্যা করার ঘটনায় স্থানীয়দের মধ্যে তীব্র ক্ষোভ বিরাজ করছে। তারা দ্রুত হত্যাকাণ্ডের রহস্য উদ্ঘাটন, জড়িতদের শনাক্ত করে গ্রেপ্তার এবং দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানিয়েছেন। স্থানীয়দের ধারণা, হাবুল মিয়ার সঙ্গে থাকা টাকা-পয়সা ছিনিয়ে নেয়ার উদ্দেশ্যেই হামলাটি চালানো হয়ে থাকতে পারে। তবে ঘটনার প্রকৃত কারণ তদন্তের মাধ্যমে উদ্ঘাটন করা হবে বলে জানিয়েছে পুলিশ।
এদিকে হাবুল মিয়ার মৃত্যুর আগে সোমবার সকালে তার খালাতো ভাই আলমগীর হোসেন বাদী হয়ে ২/৩ জনকে অজ্ঞাত আসামি করে তাড়াইল থানায় সোমবার মামলা (নং-০৩, তারিখ: ৩রা আগস্ট ২০২৬, ধারা- দণ্ডবিধির ৩৯৪) দায়ের করেছিলেন। কিন্তু রহস্য উদ্ঘাটনের আগেই না ফেরার দেশে পাড়ি জমান হাবুল মিয়া। তাড়াইল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) শেখ আবু সালেহ মাসুদ করিম বলেন, ঘটনাটি গুরুত্বের সঙ্গে তদন্ত করা হচ্ছে। জড়িতদের শনাক্ত করে আইনের আওতায় আনতে অভিযান অব্যাহত রয়েছে।
