সিলেট-ঢাকা রেলপথের একাংশ সিলেট-আখাউড়া পর্যন্ত রেলপথ নিয়ে অনেক ক্ষোভ সিলেটে। মান্ধাতা আমলের রেললাইন। লক্কড়ঝক্কড় পৃষ্ঠা ২০ কলাম ১
ট্রেনের বগি। বৃটিশ আমলে যা ছিল, এখনো তাই। চলমান ঢাকা-সিলেট মহাসড়কের কাজে ধীরগতি হওয়ার কারণে ২-৩ বছর ধরে রেলপথে নির্ভরশীল বেশির ভাগ যাত্রী।
তবে সিলেটবাসীর দীর্ঘদিনের দাবি- দুর্ভোগ লাঘবে বিদ্যমান রেললাইনকে ব্রডগেজ নয়, ডাবল লাইন করতে হবে। সেটি বিগত জাতীয় নির্বাচনের সময় নিজেদের ইশতেহারে তুলে ধরেছিলেন বর্তমান মন্ত্রী ও এমপিরা। খুশীর খবর হচ্ছেÑ শ্রম, প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থানমন্ত্রী আরিফুল হক চৌধুরী পর্যটন এলাকা জাফলং পর্যন্ত রেললাইন নিতে চাইছেন। সেটি ছিল তার নির্বাচনী প্রতিশ্রতিও। সেই প্রতিশ্রুতি পূরণে তিনি কাজ করছেন। শনিবার তিনি রেলসচিব সহ সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়ের অনেক কর্মকর্তাকে নিয়ে জাফলং সফর করেছেন। দিনভর এই সফরে সবার চোখ ছিল জাফলংয়ে। ইতিবাচক সাড়া মিলেছে সংশ্লিষ্টদের কাছ থেকে। আরিফুল হক চৌধুরী জানিয়েছেন- আগামী এক মাসের মধ্যে সিলেট-তামাবিল মহাসড়ক চার লেনে উন্নীতকরণ প্রকল্পের দৃশ্যমান অগ্রগতি দেখা যাবে। একই সঙ্গে সিলেট থেকে জাফলং পর্যন্ত রেললাইন নির্মাণ প্রকল্পের কাজও দৃশ্যমানভাবে শুরু হবে।
সিলেট-জাফলং রেললাইন চালু হলে এ অঞ্চলের পর্যটন শিল্পে নতুন গতি সৃষ্টি হবে। পর্যটন নির্ভর অর্থনীতি সম্প্রসারিত হওয়ার পাশাপাশি স্থানীয় শ্রমজীবী ও প্রান্তিক মানুষের কর্মসংস্থানের নতুন সুযোগ তৈরি হবে। সফরে মন্ত্রীর সঙ্গে থাকা রেলওয়ে মন্ত্রণালয়ের সচিব মো. ফাহিমুল ইসলাম ঢাকা-সিলেট রেলপথ নিয়ে কথা বলেন। সেখানে তিনি সাংবাদিকদের জানান- সিলেট থেকে আখাউড়া রেলপথকে ডাবল করার প্রয়োজন নেই। সেটি ব্রডগেজ লাইন হবে। এবং ওই লাইনে চলবে। ব্রডগেজ করা লাগবে না। এ সময় তার সঙ্গে আরও কয়েকজন কর্মকর্তাও উপস্থিত ছিলেন। তারাও তার কথায় সায় দেন।
এদিকে মন্ত্রী সহ রেল সচিব সিলেট থেকে ফিরে যাওয়ার পর থেকে তার বক্তব্য নিয়ে সিলেটে তোলপাড় চলছে। কেউ কেউ জানাচ্ছেন প্রতিক্রিয়া। তারা জানিয়েছেন- রাজনৈতিক সরকারের পক্ষ থেকে রেললাইনকে ডাবল করার ইতিবাচক সাড়া রয়েছে। এজন্য সিলেটবাসী বিষয়টির চূড়ান্ত সিদ্ধান্তের অপেক্ষায় রয়েছেন। সেখানে রেল সচিবের বক্তব্যে সিলেটের মানুষ হতাশ হয়েছেন। রেল সচিব তার মন্ত্রণালয়ের সত্যিকার মনোভাব সিলেটবাসীর কাছে প্রকাশ করেছেন। বর্তমান পরিস্থিতি তুলে ধরে তারা বলেন- ঢাকা থেকে রেলপথে সিলেট আসতে সময় লাগে ৮ থেকে ৯ ঘণ্টা। ঢাকা থেকে আখাউড়া আসতে সময় লাগে ২ ঘণ্টা। আর বাকি সময়টা আখাউড়া থেকে সিলেট লাগে। সিলেট বিভাগ গণদাবি ফোরামের সভাপতি এডভোকেট আতাউর রহমান আজাদ মানবজমিনকে জানিয়েছেন- ১৯৯০ সাল থেকে আমরা সিলেট থেকে আখাউড়া রেলপথকে ডাবল লাইন করার দাবি জানিয়ে আসছি। বিগত সরকারের সময় সেটিকে ব্রডগেজ করার কথা বলা হয়েছিলো। আমাদের তীব্র প্রতিবাদের মুখে সেটি হয়নি। ব্রডগেজ করে কোনো লাভ নেই। তিনি বলেন- সিলেটের মানুষ সব সময় ডাবল লাইন চায়। এ দাবির প্রতি আমরা একাত্ম।
সচিব যে বক্তব্য দিয়েছেন, সেখানে আমাদের অন্তরে আঘাত করেছেন। তিনি সিলেটের মানুষের যৌক্তিক দাবির প্রতি শ্রদ্ধা প্রদর্শন করেননি। এজন্য তার বক্তব্যের তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানাই আমরা। জালালাবাদ প্রবাসী কল্যাণ পরিষদ কেন্দ্রীয় কমিটির সভাপতি এডভোকেট আব্দুর রহমান জানিয়েছেন- মিটার থেকে ব্রডগেজ করে কোনো লাভ নেই। ডাবল লাইন করতে হবে। ভবিষ্যতে এ লাইন সুনামগঞ্জ, জাফলং, সহ আরও কয়েকটি এলাকায় যাবে। তখন দেখা যাবে রেল ক্রসিংয়েই ঘণ্টার পর ঘণ্টা দাঁড়িয়ে থাকতে হবে। এছাড়া সিলেটে ফ্ল্যাশ ফ্লাড হয়, সার্বিক দিক বিবেচনা করে নতুন করে আরেকটি লাইন নির্মাণ করতে হবে। ঢাকা থেকে আখাউড়া পর্যন্ত ডাবল আছে। এটি এখন আখাউড়া থেকে সিলেট পর্যন্ত নিয়ে আসতে হবে। এটি হলে আগামী ৫০ বছর আর এ পথের উন্নয়ন লাগবে না বলে জানান।
