জাপান আন্তর্জাতিক সহযোগিতা সংস্থা (জাইকা)-এর অর্থায়নে পরিচালিত আরবান ডেভেলপমেন্ট অ্যান্ড সিটি গভর্নেন্স প্রজেক্টের (টউঈএচ) পারফরমেন্স বেইজড অ্যাপ্রোচ মূল্যায়নে দেশের অংশগ্রহণ কারী সিটি করপোরেশন ও পৌরসভাগুলোর মধ্যে প্রথম স্থান অর্জন করেছে নারায়ণগঞ্জ সিটি করপোরেশন (নাসিক)।
২০২৫ সালের মে থেকে ২০২৬ সালের এপ্রিল পর্যন্ত সময়ের কার্যক্রম মূল্যায়নের ভিত্তিতে প্রশাসনিক ব্যবস্থাপনা, কঠিন বর্জ্য ব্যবস্থাপনা এবং অবকাঠামো উন্নয়ন ও প্রকল্প বাস্তবায়ন এই তিনটি ক্যাটাগরিতে নারায়ণগঞ্জ সিটি করপোরেশন সর্বোচ্চ ৮৩ শতাংশ নম্বর অর্জন করে শীর্ষস্থান লাভ করে। মূল্যায়নে দ্বিতীয় স্থান অধিকার করে গাজীপুর সিটি করপোরেশন, তৃতীয় হয় কুমিল্লা সিটি করপোরেশন এবং চতুর্থ স্থান পায় কক্সবাজার পৌরসভা।
রোববার রাতে কক্সবাজারের সি-গাল হোটেলে জাইকার উদ্যোগে আয়োজিত অনুষ্ঠানে বিজয়ীদের হাতে সম্মাননা তুলে দেয়া হয়। অনুষ্ঠানে নারায়ণগঞ্জ সিটি করপোরেশনের প্রশাসক এডভোকেট সাখাওয়াত হোসেন খান প্রথম স্থান অর্জনের স্বীকৃতি হিসেবে অ্যাওয়ার্ড গ্রহণ করেন। অ্যাওয়ার্ড গ্রহণের পর গণমাধ্যমকর্মীদের সঙ্গে আলাপকালে এডভোকেট সাখাওয়াত হোসেন খান বলেন, এই অর্জন শুধু নারায়ণগঞ্জ সিটি করপোরেশনের নয়। এই প্রকল্পে অংশগ্রহণকারী গাজীপুর, কুমিল্লা ও কক্সবাজারও সমানভাবে এই স্বীকৃতির অংশীদার। সবার সম্মিলিত প্রচেষ্টায় স্থানীয় সরকার ব্যবস্থার উন্নয়ন সম্ভব হয়েছে। তিনি বলেন, জাপান বাংলাদেশের অকৃত্রিম বন্ধু। তাদের সহযোগিতা বাংলাদেশের নগর উন্নয়নে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখে চলেছে। বর্তমান প্রধানমন্ত্রীর আন্তরিক প্রচেষ্টা ও সার্বিক সহযোগিতার কারণে নারায়ণগঞ্জ সিটি করপোরেশনসহ দেশের বিভিন্ন সিটি করপোরেশন বিদেশি সহায়তায় উন্নয়ন প্রকল্প সফলভাবে বাস্তবায়ন করতে সক্ষম হয়েছে।
তিনি আশা প্রকাশ করে বলেন, অতীতে যেমন জাপান বাংলাদেশের প্রকৃত বন্ধু ছিল, তেমনি বর্তমান প্রধানমন্ত্রীর নেতৃত্বে এই বন্ধুত্ব আরও সুদৃঢ় ও শক্তিশালী হবে। জাপানসহ অন্যান্য উন্নয়ন সহযোগী দেশ ভবিষ্যতেও বাংলাদেশের টেকসই নগর উন্নয়নে গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখবে। জাইকার এই মূল্যায়নে প্রথম স্থান অর্জনকে নারায়ণগঞ্জ সিটি করপোরেশনের প্রশাসনিক দক্ষতা, সুশাসন এবং উন্নয়ন কার্যক্রমের একটি গুরুত্বপূর্ণ আন্তর্জাতিক স্বীকৃতি হিসেবে দেখছেন সংশ্লিষ্টরা।
অ্যাওয়ার্ড প্রদান অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন জাইকার প্রকল্প পরিচালক এ. এইচ. এম. রাশেদুর রহমান, উপ-প্রকল্প পরিচালক মো. শরিফুল ইসলাম, পরামর্শক দলের টিম লিডার রেমন গার্সিয়াগো, অ্যাডিশনাল টিম লিডার আকিও ইয়োমাশিতা, ডেপুটি টিম লিডার আব্দুর রউফ, ডেপুটি টিম লিডার (অবকাঠামো) মো. শফিউল আলমসহ নারায়ণগঞ্জ, গাজীপুর ও কুমিল্লা সিটি করপোরেশন এবং কক্সবাজার পৌরসভার ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা ও সংশ্লিষ্ট প্রকল্পের প্রতিনিধিরা।
