গ্রীসেও দাবানল, পরিস্থিতির অবনতি ফ্রান্স-স্পেনে

ইউরোপে ভয়াবহ সংকট

গ্রীসেও দাবানল, পরিস্থিতির অবনতি ফ্রান্স-স্পেনে

ফন্ট সাইজ:

গ্রীসের রাজধানী এথেন্সের উত্তর-পশ্চিমে ছড়িয়ে পড়েছে ভয়াবহ দাবানল। আগুন নিয়ন্ত্রণে হিমশিম খাচ্ছে দেশটি। গ্রীসের আত্তিকা ও কফালোনিয়া দ্বীপে দাবানল তীব্র রূপ নেয়ায় ইউরোপীয় ইউনিয়ন (ইইউ) তাদের সিভিল প্রোটেকশন মেকানিজমের আওতায় অতিরিক্ত ফায়ারফাইটিং বিমান ও বিশেষ দল পাঠানোর ঘোষণা দিয়েছে। দেশটির আবহাওয়া দপ্তর জানিয়েছে, ঘণ্টায় ৮০ কিলোমিটার বেগে প্রবাহিত শুষ্ক বাতাস এবং উচ্চ তাপমাত্রা আগুনকে দ্রুত নতুন নতুন লোকালয়ে ছড়িয়ে দিচ্ছে। স্থানীয় কর্তৃপক্ষের উদ্ধৃতি দিয়ে বিবিসি ও আল জাজিরা জানায়, এখন পর্যন্ত পশ্চিম আত্তিকার প্রায় এক ডজনেরও বেশি গ্রাম ও শিল্পাঞ্চল থেকে কয়েক হাজার মানুষকে সরিয়ে নেয়া হয়েছে।

অগ্নিনির্বাপক বাহিনীর শতাধিক গাড়ি, বিমান ও সেনাবাহিনীর সদস্যরা নিরলস কাজ করছে। হেলিকপ্টার দিয়ে আগুন নেভানোর চেষ্টা করা হচ্ছে সেখানে। দেশটিতে আগুন নিয়ন্ত্রণে অংশ নেওয়ার সময় মাঝ আকাশে দুটি ফায়ারফাইটিং হেলিকপ্টারের মুখোমুখি সংঘর্ষে দুইজন নিহত হবার মর্মান্তিক দুর্ঘটনা ঘটে। এ খবর দিয়েছে বার্তা সংস্থা রয়টার্স। অগ্নিনির্বাপক বাহিনীর দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, নিহতদের একজন গ্রীক ও অপরজন ডেনিশ নাগরিক। গ্রীস ছাড়াও অনাবৃষ্টি ও তীব্র দাবদাহের কারণে ফ্রান্স ও স্পেনে দাবানল তীব্র আকার ধারণ করেছে। ইউরোপের বৃহত্তম নদী দানিয়ুবের পানি শুকিয়ে যাওয়ায় মধ্য ইউরোপে বিদ্যুৎ সংকট দেখা দিয়েছে।

পাওয়ার গ্রিডের ফুলকি থেকে দাবানল: এথেন্সের সংলগ্ন আত্তিকা অঞ্চলে প্রায় ১০০টিরও বেশি ঘরবাড়ি পুড়িয়ে দেওয়া এই দাবানলটি কীভাবে শুরু হয়েছিল, তা নিয়ে তদন্ত শুরু করেছে কর্তৃপক্ষ। প্রাথমিকভাবে জানা গেছে, উইন্ড টারবাইন থেকে বিদ্যুৎ সরবরাহ লাইনে স্পার্ক বা স্ফুলিঙ্গ থেকেই এই আগুনের সূত্রপাত ঘটে। অবহেলার অভিযোগে ইতোমধ্যে দুই গ্রীক নাগরিককে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। দাবানল নিয়ন্ত্রণে আনতে স্থানীয় ৩০ হাজার বাসিন্দার মেগারা শহর খালি করার নির্দেশ দিয়েছে কর্তৃপক্ষ।

ফ্রান্স ও স্পেনে বাতাসের দিক পরিবর্তনের প্রভাব: এদিকে দক্ষিণ ইউরোপজুড়ে তীব্র তাপপ্রবাহ ও খরার কারণে অন্যান্য দেশেও দাবানল ছড়িয়ে পড়েছে। ফ্রান্সে বাতাসের দিক পরিবর্তনের পর দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলীয় ভার অঞ্চলে আগুন নতুন বনাঞ্চলে প্রবেশ করেছে। এছাড়া কারকাসন শহরের কাছে একটি জ্বলন্ত গাড়ি থেকে মহাসড়কের পাশের বনে নতুন আগুনের সূত্রপাত হলে একটি প্রাণীদের জন্য সংরক্ষিত পার্ক খালি করা হয়। অন্যদিকে স্পেনের সাসেরেস প্রদেশে বনাঞ্চলের আগুনে ৮০০ মানুষকে নিরাপদ স্থানে সরিয়ে নেয়া হয়েছে। বর্তমানে সেখানের আগুন আংশিক নিয়ন্ত্রণে এসেছে।

দানিয়ুব নদীতে পানি কমে বিদ্যুৎ সংকট: ইউরোপজুড়ে অনাবৃষ্টি ও খরার কারণে রাইন ও দানিয়ুব নদীর পানির স্তর তলানিতে গিয়ে ঠেকেছে। দানিয়ুবের পানি আশঙ্কাজনকভাবে কমে যাওয়ায় গত চার দশকের মধ্যে প্রথমবারের মতো হাঙ্গেরির একমাত্র পারমাণবিক বিদ্যুৎ কেন্দ্রটি পুরোপুরি বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে। প্রধানমন্ত্রী পিটার ম্যাজিয়ের আগামী পাঁচ দিনকে চরম সংকটের বলে উল্লেখ করেছেন। এছাড়া সার্বিয়ার বৃহত্তম জলবিদ্যুৎ কেন্দ্রের দৈনন্দিন উৎপাদন নেমে এসেছে মাত্র ২০ ভাগে।

কোন মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্যকারী হোন!

মন্তব্য করুন