ম্যাডোনার ‘ছিনিয়ে নেয়া’ বহু কমবয়সী প্রেমিক, যৌনজীবন নিয়ে নতুন দাবি এবং শন পেনের ঈর্ষার সেই রাত

ম্যাডোনার ‘ছিনিয়ে নেয়া’ বহু কমবয়সী প্রেমিক, যৌনজীবন নিয়ে নতুন দাবি এবং শন পেনের ঈর্ষার সেই রাত

ফন্ট সাইজ:

জুলাইয়ে অনুষ্ঠিত ফিফা বিশ্বকাপের হাফটাইম শোতে হাজারো দর্শকের সামনে মঞ্চের কেন্দ্রে ছিলেন ম্যাডোনা। গভীর নেকলাইনের করসেট ও হাঁটু পর্যন্ত লম্বা ধাতব রঙের বুট পরে তিনি নজর কাড়েন। দর্শকসারিতে উপস্থিত ছিলেন তার দুই বছরের প্রেমিক আকিম মরিস। তার বয়স ৩০ বছর। তিনি ৬৭ বছর বয়সী এই পপ তারকাকে উৎসাহ দিচ্ছিলেন। ম্যাডোনার সন্তানরাও সেখানে ছিলেন। তাদের বেশিরভাগের বয়স আকিমের কাছাকাছি। প্রেমিকের সঙ্গে ম্যাডোনার প্রায় ৪০ বছরের বয়সের ব্যবধান অনেকের কাছে বিস্ময়কর মনে হলেও, ম্যাডোনার জন্য এমন সম্পর্ক নতুন কিছু নয়। বরং বহু দশক ধরেই নিজের চেয়ে অনেক কমবয়সী সঙ্গী বেছে নেয়ার প্রবণতা তার রয়েছে। এ খবর দিয়েছে অনলাইন ডেইলি মেইল।

ম্যাডোনার প্রথম সন্তানের পিতা কার্লোস লিয়নেরও আগে ম্যাডোনার জীবনে ছিলেন ববি মার্টিনেজ। ম্যাডোনার সম্পর্কের ইতিহাসে ববি মার্টিনেজের নাম খুব বেশি আলোচিত নয়। তবে বিভিন্ন সূত্রের দাবি, তিনি ম্যাডোনার জীবনে গভীর প্রভাব ফেলেছিলেন।

প্রতিবেদন অনুযায়ী, ১৯৮০-এর দশকের শুরুতে নিউইয়র্কে আসার পর উদীয়মান পপ তারকা ম্যাডোনার পরিচয় হয় ববি মার্টিনেজের সঙ্গে। নিউইয়র্কের রাস্তায় বেড়ে ওঠা এই তরুণের সঙ্গে তিনি কয়েক বছর গোপনে সম্পর্ক বজায় রেখেছিলেন। ববি মার্টিনেজ ছিলেন পুয়ের্তো রিকান বংশোদ্ভূত এক সুদর্শন তরুণ। নিউইয়র্কের ম্যানহাটানের লোয়ার ইস্ট সাইড-এ সাধারণ পরিবারে তার বেড়ে ওঠা। কৈশোরে তিনি হলিউডের স্বাদ পান ‘মিক্সড ব্লাড’ নামের একটি চলচ্চিত্রে ছোট একটি চরিত্রে অভিনয়ের সুযোগ পেয়ে। নিউইয়র্ক শহরে শুটিংয়ের জন্য স্থানীয় তরুণদের নেয়া হয়েছিল ওই ছবিতে। ছবিটির কাস্টিং পরিচালক লিওনার্ড ফিঙ্গার ডেইলি মেইলকে বলেন, একজন নারী ফুড স্ট্যাম্পের ওপর নির্ভর করে চলা তরুণদের কাছে যেতেন এবং চলচ্চিত্রে অতিরিক্ত শিল্পী (এক্সট্রা) হিসেবে কাজ করে কিছু অর্থ উপার্জনের সুযোগ করে দিতেন।

তাদের বাছাইয়ের দায়িত্বে ছিলেন লুপে গার্নিকা । তিনি চারাস/এল বোহিও নামের একটি অলাভজনক সাংস্কৃতিক ও কমিউনিটি সেন্টারের সঙ্গে যুক্ত ছিলেন। ওই সেন্টারের লক্ষ্য ছিল সুবিধাবঞ্চিত তরুণদের উন্নত জীবনের সুযোগ করে দেয়া। গ্রাফিতি শিল্পী হিসেবে ‘আরপি৩’ নামে পরিচিত মার্টিনেজ ওই ছবিতে সংলাপবিহীন একটি চরিত্রে অভিনয় করেন। লিওনার্ড ফিঙ্গারের ভাষ্য অনুযায়ী, ম্যাডোনা’কে কখনও ‘মিক্সড ব্লাড’ ছবির সেটে দেখা যায়নি। তবে তার দাবি, ওই সময় থেকেই মার্টিনেজের সঙ্গে ম্যাডোনার ঘনিষ্ঠতা বাড়তে শুরু করে।
প্রতিবেদন অনুযায়ী, ১৯৮৩ সালের দিকে ম্যাডোনার ঘনিষ্ঠ বন্ধু ও কিংবদন্তি শিল্পী কিথ হ্যারিং-এর মাধ্যমে মার্টিনেজের সঙ্গে ম্যাডোনার পরিচয় হয়। কিথ হ্যারিংয়ের দীর্ঘদিনের বন্ধু এবং ‘কিথ হ্যারিং ফাউন্ডেশন’-এর সাবেক নির্বাহী পরিচালক গিল ভাসকেজ ডেইলি মেইলকে বলেন, তখনকার সময়ে ববি ছিল কিথের আদর্শ সৌন্দর্যের প্রতীক। সেই সময় তরুণ পুরুষদের ক্ষেত্রে ম্যাডোনার পছন্দও অনেকটা কিথের মতোই ছিলÑ তরুণ, পুয়ের্তো রিকান এবং আকর্ষণীয় পুরুষ। গিল ভাসকেজ বলেন, তারপর কী হলো? ম্যাডোনা এই গল্পে এলেন। কিথ যেভাবে ঘটনাটি বলতেন, তাতে ম্যাডোনা নাকি কিথের কাছ থেকে ‘ববিকে ছিনিয়ে নিয়েছিলেন’। তিনি আরও বলেন, ববিকে দোষ দেয়া কঠিন। কারণ তিনি ছিলেন ম্যাডোনা-তখন বিশ্বের সবচেয়ে জনপ্রিয় পপ তারকাদের একজন।

প্রতিবেদন অনুযায়ী, সে সময় ম্যাডোনার বয়স ছিল প্রায় ২৫ বছর। বর্ডারলাইন এবং লাকি স্টার-এর মতো গান জনপ্রিয়তার শীর্ষে উঠছিল এবং তার তারকাখ্যাতি দ্রুত বাড়ছিল। তবে ববি মার্টিনেজের সঠিক বয়স নিয়ে বিভিন্ন সূত্রে মতভেদ রয়েছে। প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, একাধিক সূত্রের ধারণা অনুযায়ী তিনি তখন কিশোর বয়সে ছিলেন। ২০১৫ সালে দ্য এলেন ডিজেনারেস শো’তে সাক্ষাৎকারে ম্যাডোনা নিজের চেয়ে কমবয়সী পুরুষদের সঙ্গে সম্পর্ক নিয়ে কথা বলতে গিয়ে বলেন, আমি যখন নিউইয়র্কে এসেছিলাম, তখন ১৬ বছর বয়সী একজনের সঙ্গে সম্পর্কে ছিলাম। এরপর উপস্থাপক এলেন ডিজেনারেস হেসে মন্তব্য করেন, তখন তো তোমারও বয়স ছিল প্রায় ১৮, তাই না? জবাবে ম্যাডোনা বলেন, হ্যাঁ... আচ্ছা, যা-ই হোক।
প্রতিবেদনটি আরও উল্লেখ করে যে, ১৯৮৩ সালের ফেব্রুয়ারিতে রেকর্ড মিরর’কে দেয়া এক সাক্ষাৎকারে ম্যাডোনা তরুণ পুরুষদের প্রতি নিজের আকর্ষণের কথা বলেন। ডেইলি মেইলের তথ্য অনুযায়ী, ম্যাডোনা ও ববি মার্টিনেজের বয়সের ব্যবধান সম্পর্কে গিল ভাসকেজ বলেন, সেই সময় কারও সঠিক বয়স কত ছিল, সে বিষয়ে আমি নিশ্চিতভাবে কিছু বলতে পারি না। গিল ভাসকেজ বলেন, আশির দশকে বাইরে ঘোরাঘুরির সংস্কৃতি আজকের দৃষ্টিভঙ্গি থেকে অনেক আলাদা ছিল। তখন অনেক কিশোরই নাইটক্লাবে যেত। তাদের অনেকেই তখনো মদ্যপানের আইনগত বয়সে পৌঁছায়নি। কিন্তু আশির দশকের নিউইয়র্কে এটি অস্বাভাবিক কিছু ছিল না। তবে তার মতে, একটি বিষয় নিশ্চিতÑ ববি মার্টিনেজের সঙ্গ খুবই উপভোগ করতেন ম্যাডোনা।
১৯৮৪ সালে ‘ডেসপারেটলি সিকিং সুসান’ চলচ্চিত্রের সেটে ধারণ করা সংরক্ষিত ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, ম্যাডোনা হাঁটছেন এবং তার ঠিক পেছনেই রয়েছেন মার্টিনেজ। সাদা আঁটসাঁট টি-শার্ট ও জিনস পরা মার্টিনেজকে সিগারেট টানতে এবং ম্যাডোনার সঙ্গে নিচু স্বরে কথা বলতে দেখা যায়। এক পর্যায়ে দু’জন ম্যাডোনার ট্রেলারে প্রবেশ করেন। পরে শুটিংয়ের বিরতিতে তারা একসঙ্গে নিউইয়র্কের রাস্তায় হাঁটাহাঁটি করেন। অপরাধভিত্তিক এই চলচ্চিত্রে মার্টিনেজের নামে কোনো অভিনয়-ক্রেডিট নেই। তাই প্রতিবেদনের ভাষ্য অনুযায়ী, তিনি সম্ভবত শুধু ম্যাডোনার সঙ্গী হিসেবেই সেটে উপস্থিত ছিলেন।

একই বছর ‘লাইক অ্যা ভার্জিন’ গানের সাফল্যে ম্যাডোনার জনপ্রিয়তা আরও বাড়তে থাকে। গানটির মিউজিক ভিডিওতে তিনি যে সাদা পোশাক পরেন, তার সঙ্গে ছিল একটি বেল্ট, যাতে লেখা ছিল ‘বয় টয়’। পরে এই বেল্টটি তার অন্যতম পরিচিত ফ্যাশন উপকরণে পরিণত হয়। নিউইয়র্কভিত্তিক গ্রাফিতি শিল্পী কস্ট ব্যক্তিগতভাবে মার্টিনেজকে চিনতেন। তিনি একসময় ভ্যান্ডালগ ব্লগকে বলেন, আপনি যদি ম্যাডোনার পুরোনো ভিডিওগুলো দেখেন, তাহলে দেখতে পাবেন তিনি কোমরে ‘বয় টয়’ লেখা একটি বেল্ট পরতেন। ‘বয় টয়’ ছিল ‘আরপি৩’-এর পরিচিত নাম। তিনি ‘বয় টয়’ এবং ‘আরপি৩’Ñদুই নামেই গ্রাফিতি লিখতেন। তখন তিনি ম্যাডোনার প্রেমিক ছিলেন।

ম্যাডোনার ঘনিষ্ঠ বন্ধু, প্রয়াত শিল্পী অ্যান্ডি ওয়ারহল তার ডায়েরিতে ববি মার্টিনেজ-এর সঙ্গে ম্যাডোনার সাক্ষাতের কথাও উল্লেখ করেছেন। সেখানে তিনি ইঙ্গিত দেন যে, তাদের মধ্যে ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক ছিল বলে অভিযোগ রয়েছে। ‘দ্য অ্যান্ডি ওয়ারহল ডায়েরিজ’-এ তিনি লিখেছেন, ম্যাডোনা এলো। সে মাত্রই পল মরিসি’এর মিক্সড ব্লাড সিনেমাটি দেখে এসেছে, কারণ সেখানে তার বন্ধু ববি অভিনয় করেছে। তিনি আরও লিখেছেন, ম্যাডোনা বলেছিল, তার স্বামী শন পেন সঙ্গে না থাকায় সে খুব স্বস্তি বোধ করছে। কারণ এতে সে সত্যিই আনন্দ করতে পারবে।
ম্যাডোনা ও শন পেনের পরিচয় হয় ১৯৮৫ সালের জানুয়ারিতে ‘ম্যাটেরিয়াল গার্ল’ গানের মিউজিক ভিডিওর শুটিংয়ের সময়। কয়েক মাস পর, একই বছরের আগস্টে তারা বিয়ে করেন। আর মিক্সড ব্লাড চলচ্চিত্রটির প্রিমিয়ার হয় ওই বছরের অক্টোবরে। ১৯৯১ সালে প্রকাশিত সিয়াটল টাইমসের এক প্রতিবেদনে, লেখক ক্রিস্টোফার অ্যান্ডারসেনের ‘ম্যাডোনা আনঅথরাইজড’ বইয়ের উদ্ধৃতি দিয়ে দাবি করা হয়, ম্যাডোনার কথিত পরকীয়ার অভিযোগে শন পেন প্রায়ই ক্ষুব্ধ হয়ে উঠতেন। বইটিতে বলা হয়েছে, ম্যাডোনা তার পুরোনো বন্ধু ও সাবেক প্রেমিকদের সঙ্গে যোগাযোগ বন্ধ করেননি। প্রতিবেদনে আরও দাবি করা হয়, এক রাতে ঈর্ষান্বিত এবং মদ্যপ অবস্থায় শন পেন বন্দুক নিয়ে ম্যাডোনার সাবেক প্রেমিক ববি মার্টিনেজকে খুঁজতে বের হন।
বইটির জন্য দেয়া সাক্ষাৎকারে ববি মার্টিনেজের উদ্ধৃতি দিয়ে বলা হয়, আমি তখন প্যালাডিয়াম নাইটক্লাবে ছিলাম। শুনলাম, শন আমাকে খুঁজছে। ববি মার্টিনেজ বইটির জন্য দেয়া সাক্ষাৎকারে বলেন, সে (শন পেন) ডিজের কাছে গিয়ে দাঁড়িয়েছিল। আমি ঠিক তার পেছনেই ছিলাম, কিন্তু অন্ধকার আর ভিড়ের কারণে সে আমাকে দেখতে পায়নি। পরে সে জ্যাকেট সরাতেই দেখলাম তার কাছে একটি বন্দুক আছে। তাকে তখন সত্যিই খুব অস্বাভাবিক ও ক্ষুব্ধ মনে হচ্ছিল। তাই আমি দ্রুত সেখান থেকে চলে যাই।
প্রতিবেদন অনুযায়ী, অভিযোগগুলো প্রথম প্রকাশিত হওয়ার সময় শন পেন এ বিষয়ে প্রকাশ্যে কোনো মন্তব্য করেননি। ডেইলি মেইলের মন্তব্য চাওয়ার অনুরোধেরও তার প্রতিনিধি কোনো জবাব দেননি। তবে ২০১৫ সালে পরিচালক লি ড্যানিয়েলসের বিরুদ্ধে দায়ের করা মানহানির মামলার শুনানিতে ম্যাডোনা আদালতে সাক্ষ্য দিয়ে বলেন, তার সাবেক স্বামী শন পেন কখনও তাকে শারীরিকভাবে নির্যাতন করেননি। এর ফলে শন পেনকে সহিংস ব্যক্তি হিসেবে যে অভিযোগ প্রচলিত ছিল, তা নিয়ে নতুন আলোচনা শুরু হয়। ম্যাডোনা ও শন পেনের আলোচিত দাম্পত্য জীবনের ইতি ঘটে ১৯৮৭ সালে, যখন ম্যাডোনা বিবাহবিচ্ছেদের আবেদন করেন। ১৯৮৯ সালে তাদের বিচ্ছেদ আনুষ্ঠানিকভাবে সম্পন্ন হয়।
এরপর ১৯৮৯ সালে ‘ডিক ট্রেসি’ চলচ্চিত্রের সেটে পরিচয় হওয়া সহ-অভিনেতা ওয়ারেন বিটি’র সঙ্গে সম্পর্কে জড়ান ম্যাডোনা। তবে ডেইলি মেইলের প্রতিবেদনে দাবি করা হয়েছে, ববি মার্টিনেজ তার জীবন থেকে পুরোপুরি হারিয়ে যাননি। গিল ভাসকেজ ডেইলি মেইলকে বলেন, আমি যখন ১৯৮৮ বা ১৯৮৯ সালের দিকে আবার ববি ও ম্যাডোনাকে একসঙ্গে দেখি, তখন ম্যাডোনার সঙ্গে ওয়ারেন বিটি’র সম্পর্ক বেশ গভীর ছিল। তিনি জানান, এক সন্ধ্যায় তারা সবাই একসঙ্গে নৈশভোজে মিলিত হয়েছিলেন। সেখানে উপস্থিত ছিলেন কিথ হ্যারিং এবং স্টাইলিস্ট ম্যারিপল। সেই স্মৃতিচারণ করে ভাসকেজ বলেন, ওদের আচরণ ছিল খুবই ঘনিষ্ঠ। দু’জনের শরীরী ভাষা দেখে মনে হচ্ছিল তারা দীর্ঘদিনের অন্তরঙ্গ সম্পর্কের মানুষ। তারা একে অপরের খুব কাছাকাছি ছিল এবং অত্যন্ত স্বাভাবিকভাবে মিশছিল। ওয়ারেন বিটির প্রতিনিধিও ডেইলি মেইলের মন্তব্যের অনুরোধে কোনো সাড়া দেননি।
লেখক ক্রিস্টোফার অ্যান্ডারসেনের বইয়ের জন্য দেয়া সাক্ষাৎকারে ম্যাডোনার সঙ্গে তার সম্পর্ককে স্বতঃস্ফূর্ত ও অন্তরঙ্গ বলে বর্ণনা করেন ববি মার্টিনেজ। তিনি বলেন, আমরা কখনও ক্লাবে দেখা করতাম, কখনও হোটেলে যেতাম। যখন ম্যাডোনা অন্তরঙ্গ হতে চাইতেন, তখন তিনি সরাসরি বলতেন, ‘চলো যাই’। এরপর আমরা একসঙ্গে চলে যেতাম। তবে গিল ভাসকেজ ডেইলি মেইলকে বলেন, পরবর্তী সময়ে মার্টিনেজ আর সেই সুদর্শন তরুণ ছিলেন না, যাকে নিয়ে আশির দশকের শুরুতে নিউইয়র্কের সামাজিক পরিমণ্ডলে এত আলোচনা হতো। তিনি বলেন, তাকে দেখে মনে হতো জীবনে অনেক কঠিন অভিজ্ঞতার মধ্য দিয়ে গেছে। আগের তুলনায় তাকে অনেক ক্লান্ত ও বিধ্বস্ত লাগছিল। আমি নিশ্চিত নই তিনি মাদক বা অ্যালকোহল-সংক্রান্ত কোনো সমস্যায় ভুগেছিলেন কি না। তবে তাকে দেখে আমার এমনটাই মনে হয়েছিল। তাকে তখন খুব সাধারণ একজন মানুষ বলে মনে হতো।
ভাসকেজ আরও বলেন, ১৯৮৩ বা ১৯৮৪ সালের মতো তখন আর তিনি দারুণ আকর্ষণীয় ছিলেন না। তাকে এতটাই সাধারণ লাগত যে, ম্যাডোনার মতো একজন তারকার সঙ্গে তাকে মানিয়ে নেয়া কঠিন মনে হতো। জনসমক্ষে প্রদর্শনের মতো সঙ্গী তিনি ছিলেন না। প্রতিবেদন অনুযায়ী, বছরের পর বছর মার্টিনেজকে আড়ালে থেকে যেতে সাহায্য করেছিল একটি বিষয়Ñ তাকে কখনও ম্যাডোনার সঙ্গে পুরস্কার বিতরণী অনুষ্ঠান বা লালগালিচায় একসঙ্গে দেখা যায়নি। তবে গিল ভাসকেজের দাবি, ব্যক্তিগত পরিসরে তারা একটি দম্পতির মতোই আচরণ করতেন।
তিনি আরও বলেন, যে নৈশভোজে তিনি উপস্থিত ছিলেন, সেখানে ম্যাডোনা ও মার্টিনেজ নিজেদের স্নেহ ও ঘনিষ্ঠতা প্রকাশে স্বাচ্ছন্দ্যবোধ করেছিলেন, কারণ সেখানে শুধুই বিশ্বস্ত বন্ধুরা ছিলেন। ভাসকেজের ভাষায়, ম্যাডোনা সেখানে নিজেকে নিরাপদ মনে করতেন। নিউইয়র্কে তিনি কিছুটা আড়ালে থাকতে পারতেন। রাস্তায় হাঁটলেও মানুষ তাকে ঘিরে ধরত না। এটি ছিল খুবই ঘনিষ্ঠ বন্ধুদের একটি পরিমণ্ডল। ভাসকেজ জানান, ওই নৈশভোজই ছিল শেষবারের মতো তার ম্যাডোনা ও মার্টিনেজকে একসঙ্গে দেখা।
এর কিছুদিন পর, ১৯৯০ সালের ফেব্রুয়ারিতে এই দু’জনের ঘনিষ্ঠ বন্ধু কিথ হ্যারিং এইডসজনিত জটিলতায় মারা যান। এরপর থেকেই মার্টিনেজের জীবন অনেকটাই রহস্যে ঢেকে যায়। আশির দশকে বিভিন্ন পার্টিতে মার্টিনেজের সঙ্গে নিয়মিত দেখা হতোÑ এমন এক নিউইয়র্কবাসী ডেইলি মেইলকে বলেন, কিথের পরিচিতদের অনেকেই তখন অসুস্থ হয়ে পড়ছিলেন এবং মারা যাচ্ছিলেন। অনেকে হঠাৎ করেই হারিয়ে গিয়েছিলেন, কেউ অসুস্থ হয়ে পড়েছিলেন। ববি বিখ্যাত ছিলেন না, তাই তার সঙ্গেও কী ঘটেছিল, তা নিশ্চিত করে বলা কঠিন।
তবে নিউইয়র্কভিত্তিক গ্রাফিতি শিল্পী কস্ট ২০১২ সালে নিজের একটি ব্লগ সাক্ষাৎকারে দাবি করেন, ববি মার্টিনেজ পরবর্তীকালে মারা গেছেন। গ্রাফিতি শিল্পী কস্ট দাবি করেন, মাদকের অতিরিক্ত মাত্রা নেয়ার কারণে ববি মারা গিয়েছিলেন। অনেক বছর আগেই তার মৃত্যু হয়েছে। ম্যাডোনা তার সাবেক প্রেমিককে শেষ বিদায় জানাতে পেরেছিলেন কি না, তা স্পষ্ট নয়।
প্রতিবেদন অনুযায়ী, পরবর্তী বছরগুলোতে ম্যাডোনা এমন কয়েকজনের সঙ্গে সম্পর্কে জড়িয়েছেন, যাদের চেহারা ও ব্যক্তিত্বের সঙ্গে ববি মার্টিনেজের কিছুটা মিল ছিল। তার সম্পর্কের তালিকায় রয়েছেন কার্লোস লিয়ন। তিনি ম্যাডোনার চেয়ে আট বছরের ছোট। আরও আছেন জিসাস লুজ, ব্রাহিম জাইবাত, আহলামালিক উইলিয়ামস, জশ পপার এবং সর্বশেষ আকিম মরিস।
নিউইয়র্কের আরেকটি সূত্র ডেইলি মেইলকে বলেন, দীর্ঘদিন ধরেই ম্যাডোনার সঙ্গীরা তার চেয়ে অনেক কমবয়সী এবং অত্যন্ত আকর্ষণীয়। তাদের অনেকেই মডেলের মতো দেখতে। আমি যা শুনেছি, তারা সবাই ম্যাডোনাকে খুব পছন্দ করে এবং তাকে ভীষণ সম্মান ও প্রশংসা করে। একই সূত্র আরও দাবি করেন, তিনি এমন সঙ্গী পছন্দ করেন, যারা তার প্রতি খুব যত্নশীল থাকে, প্রতিদিন ফুল এনে দেয় এবং তার সঙ্গে নিয়মিত ঘনিষ্ঠ সময় কাটাতে চায়। ‘সেক্স’ শিরোনামের একটি বইয়ের লেখক এবং ‘ইরোটিকা’ অ্যালবামের শিল্পী ম্যাডোনা ২০১৫ সালে ডেইলি নিউজ’কে দেয়া এক সাক্ষাৎকারে বলেন, নিজের সমবয়সী পুরুষদের সঙ্গে সম্পর্কে জড়ানো তার কাছে আকর্ষণীয় মনে হয় না।
তিনি বলেন, আমি খুবই সাহসী ও নতুন অভিজ্ঞতা নিতে ভালোবাসি। আমার জীবনও বেশ ব্যতিক্রমধর্মী। তিনি আরও বলেন, আমার জীবনের অংশ হতে হলে খুব খোলামনের এবং দুঃসাহসী হতে হবে। বয়সে বড় মানুষরা সাধারণত নিজেদের অভ্যাসে বেশি স্থির থাকেন। তাই তারা তরুণদের মতো নতুন অভিজ্ঞতা নিতে সব সময় আগ্রহী নাও হতে পারেন। গিল ভাসকেজ বলেন, অনেকের সমালোচনা সত্ত্বেও তিনি ম্যাডোনার নিজের চেয়ে কমবয়সী সঙ্গী বেছে নেয়ার সিদ্ধান্তকে ভিন্নভাবে দেখেন। তার ভাষায়, ম্যাডোনা এমন অনেক কাজই করেছেন, যা বহু বছর ধরে পুরুষদের ক্ষেত্রে সমাজ স্বাভাবিকভাবে মেনে এসেছে। একজন ৬০ বছর বয়সী ধনী ও ক্ষমতাবান পুরুষ যদি ২৪ বছর বয়সী একজন নারীর সঙ্গে সম্পর্কে জড়ান, সেটিকে সাধারণ ঘটনা হিসেবে দেখা হয়। কিন্তু একজন নারী একই কাজ করলে সেটিকে এখনও অনেকেই ভিন্ন চোখে দেখেন।
ডেইলি মেইল জানিয়েছে, এ বিষয়ে মন্তব্যের জন্য ম্যাডোনার প্রতিনিধিদের সঙ্গে যোগাযোগ করা হলেও তাৎক্ষণিকভাবে কোনো প্রতিক্রিয়া পাওয়া যায়নি।

কোন মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্যকারী হোন!

মন্তব্য করুন